দেশে El Toro এল তোরোঃ মেক্সিকান রেস্তোরাঁ

দেশে El Toro এল তোরোঃ মেক্সিকান রেস্তোরাঁ

el toro


কাওছার শাকিল | তারিখ: ১৭-১০-২০১০
স্প্যানিশ ভাষায় ‘এল তোরো’ মানে হলো ষাঁড়। সে কারণেই হয়তো এল তোরো রেস্তোরাঁর দরজা খুলতেই মাথার ওপর চোখে পড়ল একটা ষাঁড়ের মাথা। অবশ্য দেখতে একটু কষ্টই হবে, কারণ ভেতরের আলোর পরিমাণ খুব কম। সে জন্য ভেতরে ঢুকে প্রথমে একটু উশখুশ করতে হয়। খানিকক্ষণ বসলে যেই আঁধারটা চোখে সয়ে আসে, আর তখন বেশ ভালোই লাগে।

বেশ সুন্দর করে সাজানো রেস্টুরেন্টটা। দেয়ালে অদ্ভুত অদ্ভুত পেইন্টিং ঝোলানো। বসার চেয়ারে মেক্সিকান মোটা সুতোর কাপড়। দেয়ালে মরিচা মরিচা রং। জায়গাটা অবশ্য খুব বেশি বড় নয়। গুলশান-১-এর ১৩৮ নম্বর রোডের এ রেস্টুরেন্টে সব মিলিয়ে ৮০ জন বসতে পারে একসঙ্গে।

খাবারের অর্ডার দিতে মেনু হাতে নিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হলো। জীবনভর বাংলা খাবার খাওয়া মানুষ, বড়জোর দু-চারটে চায়নিজ খাবারের নাম মুখে আসে। কিন্তু এ মেনু দেখে আন্দাজ করার উপায় নেই কোনটা কী বস্তু। তাই রেস্তোরাঁর লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করতে হলো পদ বাছতে।

প্রথম যেটা টেবিলে এল তার নাম নাচোস স্পেশাল। মানে হলো ‘বিশেষ নাচো’। কিন্তু নাচো জিনিসটা কী? নাচো হলো ময়দায় তৈরি মচমচে এক ধরনের চিপস। তার সঙ্গে থাকে ‘পিন্টো বিনস’-এর ভর্তা। খুবই সুস্বাদু এই শিম আনা হয় আমেরিকা থেকে। নাচোর প্লেটের মাঝখানে গোল করে বসানো থাকে সাওয়ার ক্রিম গার্নিস। মুড়মুড়ে চিপসে ভরিয়ে ভরিয়ে টক-নোনতা স্বাদের এই জিনিসটাও খেতে বেশ মজা। তার সঙ্গে থাকে পেঁয়াজের কচিপাতা কুচি আর নানা রকম মসলা।

পরের অ্যাপেটাইজার পদটির বেশ রাশভারি নাম, চাঙ্কি চিকেন ক্যাসাদিয়া। ময়দায় দিয়ে এক ধরনের রুটি তৈরি করা হয়, মেক্সিকান ভাষায় যার নাম হলো তরতিয়া। তার মাঝখানে নানা মসলায় রান্না করা মুরগির কিমা আর পনিরের পুর দেওয়া থাকে। খেতে বেশ স্বাদ।

মুখের রুচি বাড়ানোর পদ দুটির পর ‘বুরিতো দে ব্লাংকা’র স্বাদটা নিতে পারেন। কেননা এটি বেশ মুখরোচক একটা পদ। বুরিতো হলো ফ্লাওয়ার তরতিয়ায় তৈরি অনেকটা সরমা টাইপের একটা খাবার। ভেতরে মুরগির মাংস, টমেটো, ক্যাপসিকাম আর পনির থাকে। সঙ্গে খানিকটা করে মেক্সিকান রাইস আর পিন্টো বিনের ভর্তাও থাকবে।

তবে এল তোরো রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে তাদের গ্রিলড ফাহিতা সিজলিং চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন। খাবারের সাজগোজ আর পরিবেশনের ঢং দুটিই দারুণ! মসলা মাখা মুরগির বুকের হাড় ছাড়া মাংস কয়লায় পুড়িয়ে নেওয়া হয় প্রথমে। তারপর পাউরুটির মতো পাতলা পাতলা ফালি করে গরম লোহার তাওয়ার ওপর পেঁয়াজ আর ক্যাপসিকামের টুকরোর মাঝখানে সাজিয়ে টেবিলে রাখা হয় বাঁশের সুন্দর ঝুড়িতে করে। মাংসের টুকরো পাতে নেওয়ার সময়ও দেখবেন গরম ভাপ উঠছে তখনো। এর সঙ্গে থাকে তিনখানা বাটার তরতিয়া, মেক্সিকান রাইস আর স্ম্যাশড বিন। সব মিলিয়ে মাখিয়েজুখিয়ে খেতে খুবই ভালো লাগে।

কাচের মগের মাঝখানে ছাতা আর চারধারে চিনি ছিটিয়ে ভারি সুন্দর করে সাজিয়েগুছিয়ে শরবত পরিবেশন করা হয় এখানে। মেক্সিকান খাবারের টক ঝাল মসলা থেকে যদি একটু বিরতি নিতেই হয়, তাহলে এক ফাঁকে চুমুক লাগাতে পারেন পিনা কোলাদা অথবা পিচ মেলবায়।

দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় দুজন মিলে পেট পুরে খাওয়া যাবে এখানে। গুলশানের মতো অভিজাত জায়গায় বনেদি এই মেক্সিকান রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে খাবারের পরিমাণের তুলনায় দামটা একটু চড়া লাগতে পারে আপনার কাছে। তবে এল তোরোর খাবারের স্বাদের কাছে সে ভাবনা আপনার উড়ে যাবে নিমিষেই।
জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য jahan hassan bangla desh Share Market

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s