সংস্কৃতির এ জগৎটা একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি। তাই সবার উচিত, তাদের আয়ের সঠিক তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয় জরিপ শেষ

এইচ মামুন

প্রথমবারের মতো দেশের জাতীয় আয় ও প্রবৃদ্ধি হারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয়। এ জন্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয় জরিপের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি নাগাদ এ জরিপের চূড়ান্ত ফল জানা যাবে। অন্যদিকে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয়ের পরিমাণ জানতে সংস্কৃতি ও বিনোদনমূলক কর্মকা ৈবিষয়ক স্টাডি শীর্ষক এ জরিপ কাজ শুরু হয় ২০ অক্টোবর এবং শেষ হয় ২৬ অক্টোবর। দেশের ৫৮টি জেলা ও ৬টি সিটি করপোরেশনে জরিপ চালানো হচ্ছে। নাট্যদল ও নাট্যশিল্পী, নাচের দল ও নৃত্যশিল্পী, সার্কাস দল ও শিল্পী, ব্যান্ড দল ও ব্যান্ডশিল্পী, লেখক, অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী, চলচ্চিত্র পরিচালক, নির্মাতা, বাদক, প্রযোজক, উপস্থাপক, সেট নির্মাতা এবং চিত্রশিল্পীর আয় জরিপের আওতায় আসবে। এ কাজে ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে গিয়ে তাদের আয়ের জরিপ করছেন। এছাড়া ৬ জন বিভাগীয় ও ২৫ জন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জরিপ তদারকির কাজে নিয়োজিত।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস বিভাগের যুগ্ম পরিচালক এবং জাতীয় হিসাব মূল্য ও পরিসংখ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) লুৎফন নাহার যায়যায়দিনকে জানান, জাতীয় আয়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয় যুক্ত করার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে আয় জরিপ। এরপর অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে। ধাপগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তথ্য সংগ্রহের পর ডাটা এডিটিং, তারপর ডাটা প্রোগ্রাম তৈরি, ডাটা এন্ট্রি, তারপর টেবিল পস্ন্যানের পর ডাটা অ্যানালাইসিস রিপোর্ট তৈরি হলে টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং এবং ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হবে। এতগুলো ধাপ পার হতে অনেক সময় লাগবে। আশা করছেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারির দিকে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া সম্্‌ভব। তিনি আরো বলেন, এ জরিপের ফলাফল পাওয়া গেলে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান কতটুকু, তা নির্ণয় করা যাবে।

বিশিষ্ট অভিনেতা ও ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের (আইটিআই) বিশ্ব সভাপতি রামেন্দু মজুমদার যায়যায়দিনকে জানান, দেরিতে হলেও সরকারের এটি ভালো উদ্যোগ। কেননা এটি তো আয়ই। অনেক আগেই জাতীয় আয়ের সঙ্গে তাদের আয় যুক্ত হওয়া উচিত ছিল। কারণ, সাংস্কৃতিক কর্মীরা জিডিপিতে যে অবদান রেখে চলছে, তার কোনো হিসাব এতদিন ছিল না। এটি ঠিক নয়। সংস্কৃতির এ জগৎটা একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি। তাই সবার উচিত, তাদের আয়ের সঠিক তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত যা কিছু অর্থনৈতিকভাবে বিনিময় হয়, তার সবকিছু ধরেই। সেদিক থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের যেগুলো অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো অবশ্যই জিডিপিতে আসা উচিত। যেগুলো বিনা পয়সায় শুধু বিনোদনের জন্য করা হয়, সেগুলো এমনিতেই বাদ পড়বে। তবে সরকার সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয় জরিপের যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি আরো আগে করা দরকার ছিল। যাহোক এখন শুরু হয়েছে, সেটিই বড় কথা।

বিশিষ্ট নাট্যপরিচালক মান্নান হীরা বলেন, নিঃসন্দেহে সরকারের এটি ভালো উদ্যোগ। এতদিন দেশে সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয়ের কোনো হিসাব ছিল না। এ জরিপের ফলে একটি রেকর্ড থাকবে সরকারের হাতে। তাছাড়া অনেকেই রয়েছেন ঠিকমতো আয়কর দেন না, তাদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। পাশাপাশি অনেক শিল্পী রয়েছেন, যাদের আয় যোগ্যতার চেয়েও অনেক বেশি। সুতরাং এ বিষয়েও একটি পরিমাপের মধ্যে আসা উচিত। এ ধরনের জরিপের মাধ্যমে এটি সম্্‌ভব হবে।

বিশিষ্ট অভিনেতা ও বৈশাখী টেলিভিশনের সাবেক অনুষ্ঠান প্রধান মজিবুর রহমান দিলু এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তবে মনে করেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আটকে আছে। অশিল্পী বহু লোক কাজ করতে এসে অনেক টাকা আয় করছেন। জিডিপিতে এ খাতের অবদান কতটুকু, তা বের করা দরকার। তাই আয় জরিপ হওয়া উচিত।

রাজধানীর লোকনাট্য দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুলস্নাহ আল হারুন বলেন, এ উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা সবাই যে আয় করেন তা নয়। কেননা যারা নাট্যদল চালান বা মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত, তারা মূলত ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান। সবারই অন্য পেশা আছে। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে নাটক তৈরি ও প্রদর্শন করেন। সেখানে আয় কী হিসাব করা হবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না। নাট্যদলগুলো চলে এর সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের পকেটের টাকা চাঁদা দিয়ে। বিদেশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে সাহায্য-সহযোগিতা দেয়া হয়। এ দেশে তো তার কোনো বালাই নেই।
জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য bangla desh Share Market

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s