ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির জন্য রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার- এই তিন চক্রকে দায়ী করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

তদবির নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা ব্যাংকে দুর্নীতির কারণ রাজনৈতিক প্রভাব

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ১৭-১০-২০১০
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর দুর্নীতির বড় কারণ রাজনৈতিক প্রভাব। মূলত, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের যোগসাজশেই ব্যাংক খাতে দুর্নীতির সৃষ্টি হয়। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চাপ সৃষ্টি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেন এবং ওই ঋণ আর ফেরত দেন না। আর এসব ক্ষেত্রে ইউনিয়নের নেতারা রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর দুর্নীতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়। এ সময় অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার বজলুল হক বলেন, খেলাপি ঋণের জন্য বেশি দায়ী সরকার। সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন খাতে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণ আর পরিশোধ করা হয় না, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বাড়ে। আরও রয়েছে সুদ মওকুফের নির্দেশ।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) উদ্যোগে গতকাল শনিবার ‘শিল্পঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতি: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই সেমিনার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সাংবাদিক জাহিদুজ্জামান ফারুকের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। সভাপতিত্ব করেন আইবিএফবির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

তদবিরের নানা অভিজ্ঞতা: খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মূল নিবন্ধে তদবির ও রাজনৈতিক চাপের একাধিক উদাহরণ দেন। যেমন, রাষ্ট্রপতি থাকার সময় এরশাদ নিজেই একজন ব্যবসায়ীকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ দিতে এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ঋণ-প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে ঋণ না দেওয়ার সুপারিশ করলে তাঁকে ওএসডি করা হয়। এরপর ওই জিএমের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু তদন্তে তা-ও মিথ্যা প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রপতি নতুন করে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এর পরই গণ-আন্দোলনের মুখে এরশাদ পদ ছাড়তে বাধ্য হলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই জিএমকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, জিয়ার সময় সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী হয়ে তাঁকে শিল্প ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সে সময় শিল্প ব্যাংকে তাঁর কোনো কার্যালয় বা গাড়ির সুবিধা ছিল না। কেবল বোর্ডসভা হলে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। তিনি ১২টি সভা করে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিলেন। কেননা, প্রতিটি ঋণ-প্রস্তাব বেশ সময় নিয়ে ভালোভাবে দেখতেন, গরমিল থাকায় অনেক প্রস্তাবের অনুমোদন দেননি। এরপর এরশাদ ক্ষমতায় এলে চেম্বারের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলে আসে, মোজাফ্ফর আহমদ থাকলে দেশে শিল্পায়ন হবে না। এরপর তাঁকে অপসারণ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সৎ ও সাহসী হলে অনেক অনিয়ম আটকানো সম্ভব। দলের হয়ে গেলে আর কাজ হবে না।
এক ঋণ-প্রস্তাবে ৫১টি ফোন: সেমিনারে বর্তমান সময়ের উদাহরণ দিয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, তাঁর ব্যাংকে আসা একটি ঋণ-প্রস্তাবের জন্য প্রথমে টেলিফোনে তদবির করেন একজন বর্তমান মন্ত্রী। কিন্তু প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য না হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তদবিরের পালা। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে ঋণটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য ৫১টি ফোন আসে। সর্বশেষ ফোন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রীর তদবির সত্ত্বেও কেন ঋণ দেওয়া হলো না জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত জানান। সব শুনে অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপনি বের করে দিলেন না কেন?’

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক খোন্দকার বজলুল হক নিজেকে একজন প্রান্তিক ব্যাংকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, খেলাপি ঋণের জন্য বেশি দায়ী সরকার নিজেই। সত্তরের দশকে পাটশিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে। আশির দশকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির নামে মাত্র ২০ শতাংশ ইক্যুইটিতে ঋণ দেওয়া হয়। এরপর তৈরি পোশাক খাতকে অগ্রাধিকার বানিয়ে আবার ঋণ দেওয়া হয়। এর বেশির ভাগ অর্থেরই অপচয় হয়েছে। এতে কিছু ব্যক্তির লাভ হয়েছে, দেশেরও হয়তো কিছু লাভ হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাংক নিজেই। তিনি বলেন, এখন আবার পাট খাতের পুনর্জাগরণের কথা বলা হচ্ছে। সরকার অগ্রণী ব্যাংককে বলেছে, ১০০ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করতে হবে। এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন ১৯ শতাংশ। এভাবে সুদ মওকুফ করলে তা ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখন আর তেমন প্রকৃত ব্যবসায়ী দেখা যায় না। হয় রাজনীতি করে এখন ব্যবসায়ী, অথবা ব্যবসা করে এখন রাজনীতিবিদ হয়েছেন। এ ধরনের প্রভাবশালীরা চাপ সৃষ্টি করে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেন না।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরও বলেন, চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে এবং পত্রিকায় লিখে লিখে এই খাতে ঋণ দেওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়। তারপর চাপ আসে ঋণ দেওয়ার জন্য। সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর এপেক্স, বে ট্যানারিসহ কিছু প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়। আর বেশির ভাগই, যাঁরা বড় ব্যবসায়ী নামে পরিচিত, তাঁরা আর অর্থ ফেরত দেন না। এসব ব্যক্তিকে ১৫ দিন ব্যাংকে দেখা যায়, বাকি ১১ মাস ১৫ দিন চেহারাই দেখা যায় না। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, ব্যাংক থেকে চামড়া কেনার নামে ঋণ নিয়ে জমি কিনে রেখেছেন বা অন্য খাতে ব্যয় করেছেন।

ট্রেড ইউনিয়নের দৌরাত্ম্য: খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, দুর্নীতির বড় কারণ ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা। এ জন্য প্রয়োজন ট্রেড ইউনিয়নকে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠন হিসেবে আর না রাখা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একবার একজন এমডিকে নাজেহাল করায় তিনি সে সময়ের রাষ্ট্রপতি এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। গিয়ে দেখেন, সেই ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সেখানেই আছেন এবং এরশাদ তার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। আরেকবার সোনালী ব্যাংকের ইউনিয়ন নেতা জামালউদ্দিনের বিরুদ্ধে নালিশ করার পর এরশাদ শাপলা চত্বরে জনসভা করে তাঁকে ছোট ভাই বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স নানা ধরনের সুপারিশ করলেও মন্ত্রিসভা তা গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, ব্যাংকে কর্মচারী নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। বেসরকারি ব্যাংকে এ ধরনের পদ আর নেই।

পরিচালনা পরিষদে কারা: খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে সামগ্রিকভাবেই দুর্নীতি হয়ে থাকে। এসব ব্যাংকের বড় দুর্বলতা হলো, এগুলোর মালিক সরকার। সরকার কিছু ব্যক্তিকে মনোনীত করে পরিষদে নিয়োগ দেয়। এদের বড় অংশ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। যেমন, কৃষি ব্যাংকেই আছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা। এ কারণে কৃষি ব্যাংককে অনেকে এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারিত শাখা হিসেবে ঠাট্টা করেন। ব্যবসায়ী মহল থেকেও সরকার কাউকে কাউকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে। সরকার নিয়োগ দিতেই পারে। কিন্তু আপত্তি হচ্ছে, এমন কিছু লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁরা বিভিন্ন সরকারের মুরিদ হিসেবে পরিচিত। তাঁরা কতটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবেন, তা চিন্তার বিষয়।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সুপারিশ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করে দেবে। সেখান থেকে নিয়োগ দেবে সরকার। আর ঠিক করে দেওয়া প্রয়োজন, পরিষদে একজন বিশেষজ্ঞ থাকবেন, একজন সাবেক ব্যাংকার থাকবেন, একজন প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকবেন—এভাবে। তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো হবে।

তদবিরকারীর তালিকা প্রকাশ: সাবেক সচিব ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ চৌধুরী বলেন, সরকারি ব্যাংকে দুর্নীতির মূল কারণ তদবির। এসব ব্যাংকে শুধু ট্রেড ইউনিয়ন নয়, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও অনিয়ম, দুর্নীতি করেন।
খোন্দকার ইব্রাহিম প্রস্তাব দিয়ে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে যে, লিখিত বা মৌখিক যেকোনো ধরনের তদবির এলে ঋণ-প্রস্তাবকে অযোগ্য বিবেচনা করতে হবে। ব্যাংক এসব তদবিরের তালিকা সংরক্ষণ করবে বা ডায়েরিতে লিখে রাখবে। এসব তালিকা পত্রিকায় প্রকাশও করা যেতে পারে।

তবে সোহেল আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, এভাবে হয়তো সম্ভব হবে না। এর পরিবর্তে তিনি প্রতি দুই মাস পর ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদকে সংবাদ সম্মেলন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনে কাকে কাকে ঋণ দেওয়া হলো এবং কাদের দেওয়া হলো না, তা প্রকাশ করতে হবে।
তবে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই তার গ্রাহক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে সভা করতে হবে।

দুর্নীতি বেসরকারি ব্যাংকেও: সেমিনারে সব বক্তাই বলেন, সামগ্রিক ব্যাংক খাতের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। সোহেল আহমেদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি ব্যাংকেও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি হচ্ছে। আরও আছে পারস্পরিক সমর্থন দিয়ে সুবিধা নেওয়া। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি গ্রুপ বড় ঋণ-প্রস্তাব নিয়ে এলে দেখা যায়, বিপক্ষ গ্রুপ বাধা দেয় না। এরপর বিপক্ষ গ্রুপ আবার প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং তখন অন্যরা বাধা দেয় না।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, শুধু সরকারি খাতে নয়, বেসরকারি খাতেও অনেক দুর্নীতি হয়। সরকারি ব্যাংকের ‘স্পনসরড ক্যাপিটালিস্টরা’ অনেকেই পরে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা বনে গেছেন। এঁদের সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। ব্যাংকিং খাতে সুদ মওকুফ এবং অবলোপনের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ত্রিমুখী যোগসাজশ: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ত্রিমুখী যোগসাজশে দুর্নীতি হয়। যেমন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকে দুর্নীতি হচ্ছে এখন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক, নিউজ টুডে-এর সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদও এই ত্রিমুখী যোগসাজশের কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সংসদের দিকে তাকালে আর প্রকৃত রাজনীতিবিদ পাওয়া যায় না। ৯০ শতাংশই ব্যবসায়ী। এ ছাড়া উপায়ও নেই। কারণ মনোনয়ন কিনতে হয়। আর এখান থেকে বাণিজ্য ও দুর্নীতি শুরু হয়।

সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান শেলী বলেন, দুর্নীতি দূর করতে হলে সেটা ওপর থেকে শুরু করতে হবে। চিকিৎসককে আগে নিজের চিকিৎসা করতে হবে। তা না হলে দুর্নীতি কমবে না।

কারা প্রশিক্ষণ পান: মোজাফ্ফর আহমদ ব্যাংকে গবেষণা কর্মকাণ্ড বাড়ানো ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ সময় উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং বিষয়ে একবার যুক্তরাজ্যে নয় মাসের প্রশিক্ষণে ব্যাংকারদের বাদ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ডেস্কের সেকশন অফিসারকে। কেন তিনি যাবেন, জানতে চাইলে সেই কর্মকর্তা বলেছিলেন, তিনি একাই ছয়টি ব্যাংক চালান, আর ব্যাংকার চালান একটি ব্যাংক। সুতরাং তাঁরই যোগ্যতা বেশি।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের এমডির বেতন আট লাখ টাকা করার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শুধু একজনের বেতন বাড়ালে সমস্যা আরও বাড়ে। এতে করে ব্যাংকের অন্যরা তাঁর বিপক্ষে চলে গিয়েছিলেন। এখন অবশ্য এই বেতন কমানো হয়েছে।

প্রথম আলোর সেই ছবি: রিয়াজউদ্দিন আহমেদ প্রশ্ন করে বলেন, কিছুদিন আগে প্রথম আলোয় একটি ছবি ছাপা হয়। তাতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এক ব্যাংকের একজন এমডি গ্রাহকের দেওয়া হেলিকপ্টারে করে ঋণ-প্রকল্প মূল্যায়ন করতে গেছেন। এটা এমডি করতে পারেন কি না—এর জবাব দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘আমি হলে ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। সরকার কেন কিছু করল না, আমি জানি না।’

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

One Response to ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির জন্য রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার- এই তিন চক্রকে দায়ী করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

  1. Manzur chowdhury says:

    Very informative. Thank you

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s