সৌদি ফান্ডের ৩১১ কোটি টাকায় হবে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু : আগামী মাসে চুক্তি

সৌদি ফান্ডের ৩১১ কোটি টাকায় হবে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু

আগামী মাসে চুক্তি
রুহুল আমিন রানা
শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর তৃতীয় একটি সেতু নির্মাণে সৌদি ফান্ড বাংলাদেশকে ৩১১ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনার পর গত সপ্তাহে সৌদি ফান্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবের এই দাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।
শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ৩৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সৌদি ফান্ড ঋণ সহায়তা হিসেবে ৩১১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৮০ কোটি টাকা জোগান দেবে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে বন্দর থানার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে সরকার গত বছর এক দশমিক ২৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর এটির অর্থায়নের জন্য সৌদি ফান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ইআরডি।

সৌদি ফান্ড অর্থায়নের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের অর্থ সহায়তায় এ সেতু নির্মাণের বিষয়টি গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর ইআরডি গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফররত সৌদি ফান্ডের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে সমঝোতায় পেঁৗছে। সে সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি খসড়াও স্বাক্ষর হয়।

ইআরডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি ফান্ড ২ শতাংশ সুদে এ ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ কিস্তিতে ২৫ বছরে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে এ দাতা সংস্থার অর্থ সহায়তায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শেষপর্যায়ে এবং মহাখালীতে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে। অর্থায়নের বিষয়ে ইআরডির উদ্যোগের পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কাঁচপুর ও সুলতানা কামাল সেতুর (দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা) পর তৃতীয় শীতলক্ষ্যা নামের এ সেতু নির্মাণে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিকল্পনা কমিশনও। কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রাক মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ইতিমধ্যে গত ২৪ জুন ও ২২ জুলাই সেতু নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম ফারুক হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, শীতলক্ষ্যার ওপর নারায়ণগঞ্জ শহরের মদনপুর এবং বন্দর উপজেলার সৈয়দপুর নামক স্থানে এ সেতু নির্মাণ করা হবে। দেশি ও বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এ পয়েন্টে সেতুটি নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একনেকের অনুমোদন পেলে ২২ মিটার প্রশস্ত দুই লেন বিশিষ্ট এক দশমিক ২৯ কিলোমিটার দের্ঘৈ্যর এ সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ এ বছরই শুরু করে আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে বন্দর উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মকর্তারা জানান, পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিনটি জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে এ সেতুর মাধ্যমে সংযোগ তৈরি হবে। দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ এ সেতু ব্যবহার করে সহজে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম যেতে পারবে। এ বিকল্প সড়ক চালু হলে এতে ঢাকা শহরের ওপর বাড়তি যানবাহনের চাপ কমবে। তা ছাড়া যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও অনেক সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হবে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: