শেয়ারবাজারে ১৩ ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ বিতরণে অনিয়ম

শেয়ারবাজারে ১৩ ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ বিতরণে অনিয়ম

মনির হোসেন
শেয়ারবাজারে ১৩টি ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ বিতরণে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো সীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণ করেছে। নিয়ম অনুসারে ব্রোকারেজ হাউজগুলো তাদের নিট ক্যাপিটেলের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করতে পারে। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানেনি। এসইসির মনিটরিং বিভাগ প্রাথমিকভাবে এ তথ্য পেয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্তের স্বার্থে আপাতত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাই অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।
জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর ঋণ-বহিভূêত কোম্পনিগুলোর শেয়ার গ্রাহকদের পোর্টফোলিও চায় এসইসি। এজন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। পাশাপাশি গত ৪ মাসের নিট ক্যাপিটেলের হিসাবও জমা দিতে বলা হয়। স্টক এক্সচেঞ্জের দেয়া এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ করে এসইসি। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ১৩টি ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ প্রদানে অনিয়ম ধরা পড়েছে। সাধারণত ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের নিট ক্যাপিটেলের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করতে পারে। অর্থাৎ একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রকৃত মূলধন ১ কোটি টাকা হলে ওই প্রতিষ্ঠান ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানগুলো সীমার ওপরে ঋণ প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। রোববার মনিটরিং বিভাগ এ অনিয়মের আবার যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এসইসির ইনফোর্সমেন্ট বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হবে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন, শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ হাউসগুলো এসইসির আইন লংঘন করে চার্জ নিচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠান বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিরাপত্তা তহবিলের নামের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ঋণ বিতরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি। একটি প্রতিষ্ঠান একজন বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে না বলে নিয়ম করে দেয়া হয়। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ দেয়ার ক্ষমতা এ পর্যন্ত কয়েক দফা পরিবর্তন করেছে এসইসি। চলতি বছরের ১৮ মার্চ ঋণ দেয়ার ক্ষমতা ১ঃ১ থেকে বাড়িয়ে ১ঃ১·৫ করা হয়েছিল। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি ঋণ দেয়ার ক্ষমতা ১ঃ২ থেকে ১ঃ১·৫ নিয়ে আসা হয়। মাত্র ৩ দিন পরেই ৩ ফেব্রুয়ারি এ সীমা ১ঃ১ নিয়ে আসা হয়। যা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির বাজার মূল্যের সঙ্গে সম্পদ মূল্য বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানির নিট এসেট ভ্যালুর (এনএভি) সঙ্গে কোম্পানির বাজার মূল্য যোগ করে তার ৫০ শতাংশ ভিত্তি ধরে ১ঃ১ অনুপাতে ঋণ দিতে হবে। এছাড়াও যেসব কোম্পানির মূল্য আয়ের অনুপাত ৪০ এর ওপরে ওইসব কোম্পানির শেয়ারে ঋণ বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউস এই সীমা লংঘন করে ঋণ বিতরণ করেছে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: