বৃটেনে এশীয়রা পুলিশী তল্লাশির শিকার হচ্ছে বেশি

বৃটেনে এশীয়রা পুলিশী তল্লাশির শিকার হচ্ছে বেশি

বৃটেনের রাস্তাঘাটে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূতরা অধিকহারে পুলিশী তল্লাশির শিকার হচ্ছেন। পুলিশী তল্লাশির এই হার শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেশি। আর কৃষ্ণাঙ্গদের তল্লাশির শিকার হওয়ার হার ২৬ গুণ বেশি। এশীয় বংশোদ্ভূতরা সাদাদের চেয়ে ছয় গুণেরও বেশি তল্লাশির মুখোমুখি হন। বৃটেনের সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশী আচরণের বৈষম্যের এ চিত্র তুলে ধরেছে গার্ডিয়ান পত্রিকা।
গবেষকরা একে বৃটেনের ‘বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’র জ্বলজ্বলে উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস এবং ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে ওই গবেষণা চালানো হয়। এর ফলাফল বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রচারকর্মীদের দাবিকেই সমর্থন করছে। প্রচারকর্মীদের দাবি, ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ ক্ষমতাবলে পুলিশ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করছে।
বৃটেনে অপরাধ সম্পর্কিত বিচার ও সরকারি অধ্যাদেশ আইন ১৯৯৪-এর ৬০ ধারার অধীনে ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ ক্ষমতা ব্যবহারের অধিকার দেয়া হয়েছে পুলিশকে। দাঙ্গাবাজ ফুটবল দর্শক ও মারাত্মক অপরাধ দমনের লক্ষ্যে আইনটি করা হয়। এই আইনের বলে পুলিশ যেকোনো এলাকায় যেকোনো ব্যক্তিকে যেকোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ ছাড়াই তল্লাশি করার অধিকার রাখে।

বিচার মন্ত্রণালয়ের ২০০৮-০৯ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশটির তল্লাশির শিকার প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের তল্লাশির হার ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গরা ২৬ গুণ বেশি তল্লাশির শিকার হয়েছে। একই সময়ে শ্বেতাঙ্গদের অনুপাতে এশীয় বংশোদ্ভূতদের তল্লাশি চালানো হয় ৬ দশমিক ৩ গুণ বেশি। পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর পুলিশী তল্লাশির ক্রমবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছর কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর তল্লাশি চালানো হয়েছে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ১০ দশমিক ৭ গুণ বেশি। আর এশীয় বংশোদ্ভূতদের তল্লাশি চালানো হয়েছে ২ দশমিক ২ গুণ বেশি।
লন্ডনের কিংস কলেজের অপরাধসংক্রান্ত বিচার বিষয়ের অধ্যাপক বেন বোলিং বলেন, ‘যে ক্ষমতা শুধু বিশেষ অবস্থায় প্রয়োগের কথা, পুলিশ সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ফলে আইনের এ অস্ত্রটি একটি কার্যকর রক্ষাকবচ হয়ে উঠছে না। তল্লাশির গৎবাঁধা এই প্রবণতায় যেসব জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে।’
ওপেন সোসাইটি জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের গবেষকরা জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ‘স্টপ অ্যান্ড সার্চ’ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৃটেনকে বিশ্বের সবচেয়ে বর্ণবাদী রাষ্ট্র বলা যায়। জাতিগত জনগোষ্ঠীর ওপর এ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে এর আগের রেকর্ডটি ছিল রাশিয়ার। মস্কোতে স্নাভ জনগোষ্ঠীর তুলনায় অস্লাভদের তল্লাশি চালানো হয় ২১ দশমিক ৮ গুণ বেশি। প্যারিসে আরবীয় চেহারার লোকজনকে তল্লাশি চালানো হয় সাত গুণ বেশি। নিউইয়র্কে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিম্পানিকরা ৯ গুণ বেশি তল্লাশির শিকার হয়। -ইন্টারনেট

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: