প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বাজারে আসছে ২৬ কম্পানির শেয়ার

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বাজারে আসছে ২৬ কম্পানির শেয়ার

আবদুর রহিম হারমাছি ও সুজয় মহাজন
সরবরাহ বাড়াতে বহুল আলোচিত ২৬ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আনতে এবার উদ্যোগী হয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। যত দ্রুত যাতে এই ২৬ কম্পানির শেয়ার বাজারে আসে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ারবাজার বিষয়ে আলোচনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে থাকার সময়ই প্রধানমন্ত্রী নিজেই সরকারি ২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন। তাতে আমি খুবই খুশি। দেশে ফিরে আসার দিনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বিদেশ যাওয়ার আগেই এ বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম।’
অর্থমন্ত্রী আরো জানান, ‘সুনির্দিষ্ট করে দিনক্ষণ বলতে না পারলেও আমি এখন এটুকু বলতে পারি, এ বছরের মধ্যেই এসব কম্পানির শেয়ার বাজারে আনার সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিসেম্বরের আগেই তালিকাভুক্ত সরকারি চার কম্পানির আরো কিছু শেয়ার বাজারে আসবে।’ শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথাও জানান আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২৬ কম্পানির শেয়ার বাজারে আনতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। আমরা (অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ বা সংস্থা) সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেব।’
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার মধ্য দিয়ে বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকারি ২৬ কম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে এ ব্যাপারে দাবি তোলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সম্প্রতি বাজারের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ বাড়ানোর জোর দাবি তোলেন দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের নেতারা। দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, চাহিদা আর সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
সূত্র জানায়, দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের এমন বক্তব্যে সরকারের শীর্ষ মহল শেয়ারবাজার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। এমনকি বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও ভাবিয়ে তোলে। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগী হন। এ জন্য তিনি গত ১৩ অক্টোবর এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারকে তাঁর দপ্তরে ডেকে পাঠান। বাজারের সার্বিক অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর সঙ্গে আলাপ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে এসইসি চেয়ারম্যান বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলেন। বিশেষ করে সরকারি ২৬ কম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন বলে এসইসি চেয়ারম্যানকে জানান।
এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ২৬ সরকারি কম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গেও আলোচনা করেন। ২০ অক্টোবর সকালে দেশে ফেরেন অর্থমন্ত্রী। ওইদিন রাতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে (গণভবনে) এ ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী ২৬ কম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে ত্বরিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
এর আগে ১৮ অক্টোবর রাতে প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জানতে চাইলে রকিবুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী বাজারের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। অনলাইন ট্রেডিং সুবিধার কারণে সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন_এমন উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এ অবস্থায় বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাতে একমত পোষণ করেন। ২৬ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তিনি নিজেই ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।’
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরে গতকাল কালের কণ্ঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে শেয়ারবাজার আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মূল্যে বাজারে সরবরাহ বাড়াতেই হবে। কোনো অবস্থাতেই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। তাই সরবরাহ বাড়াতে ২৬ কম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে শিগগির সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসব।’
আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে ২৬ কম্পানির শেয়ার বাজারে আসার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে ৩০ জুনের মধ্যে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে ৩০ জুনের মধ্যেই ২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।’ তবে এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন।
শেয়ারবাজারে আনার প্রক্রিয়ায় থাকা আলোচিত ২৬ কম্পানির মধ্যে রয়েছে_প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চিটাগাং ড্রাইডক, ছাতক সিমেন্ট কম্পানি, কর্ণফুলী পেপার মিলস, বাংলাদেশ ইনস্যুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কম্পানি, টেলিফোন শিল্প সংস্থা, টেলিটক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ক্যাবলস শিল্প লিমিটেড, অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কম্পানি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, লিক্যুইডিফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস, গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানি ও রুরাল পাওয়ার কম্পানি। এসব কম্পানির মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন নতুন করে আইসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: