পৃথক কোম্পানি গঠনের বাধ্যবাধকতায় থাকা ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪টি কোম্পানি স্টক ডিলার কোম্পানি হিসেবে আলাদা কার্যক্রম শুরু করেছে

পৃথক্‌করণ নীতিমালা মানতে গড়িমসি

আমিরুল ইসলাম নয়নঃ ২ দফা সময় বাড়ানোর পরও পৃথক কোম্পানি হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার কার্যক্রম নিয়ে গড়িমসিভাব প্রদর্শন করে চলেছে অধিকাংশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইন্সুøরেন্স কোম্পানি। পৃথক কোম্পানি গঠনের বাধ্যবাধকতায় থাকা ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪টি কোম্পানি স্টক ডিলার কোম্পানি হিসেবে আলাদা কার্যক্রম শুরম্ন করেছে। আর ৩১ মার্চেন্ট ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্তô আলাদা কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম শুরম্ন করেছে মাত্র ৫টি প্রতিষ্ঠান। তবে স্টক ডিলার হিসেবে এসইসিতে আবেদন জমা দিয়েছে আরো ৩টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৪টি প্রতিষ্ঠান সংশিস্নষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। প্রস্তুতি শুরম্ন করার কথা জানালেও এখন পর্যন্তô বাস্তôবায়ন প্রক্রিয়া শুরম্ন করতে পারেনি বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের পড়্গ থেকে এসইসির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। ইতিমধ্যেই তৃতীয় দফায় সময় বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার কার্যক্রমের জন্য পৃথক কোম্পানির কার্যক্রম শুরম্নর নির্দেশ দিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি)। সূত্র জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্তô বেঁধে দেয়া সময় শেষ হওয়ার আগে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো এসইসির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। এর মধ্যে শাহজালাল ব্যাংক ৩০ অক্টোবর পর্যন্তô সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। ঢাকা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইস্টার্ন ইন্সুøরেন্স, পপুলার লাইফ ইন্সুøরেন্স এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্তô সময় বাড়ানোর আবেদন করে। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং শিল্প ঋণ সংস্থার ২টি ব্রোকারেজ হাউজ পৃথক করার জন্য আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্তô সময় চেয়েছে, ২ প্রতিষ্ঠানের একীভূত কোম্পানি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। তবে এসইসির পড়্গ থেকে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্তô সময় বাড়ানো হয়েছে। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীন ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪টি।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক সহযোগী কোম্পানি গঠন বাধ্যতামূলক করে এসইসি। পৃথক কোম্পানি গঠনের জন্য ৩০ মার্চ পর্যন্তô সময় বেঁধে দেয়া হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের মার্চেন্ট ব্যাংক পৃথক করতে না পারায় প্রথমে ৩০ জুন এবং পরে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্তô সময় বাড়ানো হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যেও অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজকে আলাদা কোম্পানি করতে ব্যর্থ হলে এসইসির পড়্গ থেকে পৃথক কোম্পানি করার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্তô বাড়ানো হয়েছে।

সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং মিউচুøয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক তাদের ব্রোকারেজ বিভাগকে মূল ব্যাংক থেকে পৃথক করতে সড়্গম হয়েছে। গ্রিন ডেল্টা ইন্সুøরেন্স কোম্পানি এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ব্রোকারেজ হাউজের পৃথক কার্যক্রমের অনুমোদন চেয়ে এসইসিতে আবেদন করেছে। সিআইবি রিপোর্ট পাওয়ার পর এসব কোম্পানির কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয়া হবে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে সহযোগী কোম্পানি গঠন করে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য পদ হস্তôান্তôরের জন্য পূবালী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক ও আইআইডিএফসি ডিএসইতে এবং ওমান বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সিএসইতে কাগজপত্র জমা দিয়েছে। সদস্যপদ হস্তôান্তôরের অনুমোদন পেলে এসব প্রতিষ্ঠান এসইসির অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে এসইসির অনুমোদন পাওয়া ৬টি বাদে দেশে বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১টি। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৯টি। এর মধ্যে এবি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মিউচুøয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক তাদের মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে মূল ব্যাংক থেকে পৃথক করার সব প্রক্রিয়া শেষ করেছে।

এদিকে এসইসির সিদ্ধান্তেôর আলোকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের চূড়ান্তô সীমারেখার মধ্যে (৩০ নভেম্বর) কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূল প্রতিষ্ঠান থেকে মার্চেন্ট ব্যাংকিং ইউনিট বা স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার আলাদা না করলে ১ ডিসেম্বর থেকে ল্যান্ডি কার্যক্রম অর্থাৎ লোন সংক্রান্তô কোনো কর্মকা ৈপরিচালনা করতে পারবে না। উলেস্নখ্য, গত বছরের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক কোম্পানি গঠন বাধ্যতামূলক করে। যেসব ব্যাংক আগে থেকেই আলাদা বিভাগের মাধ্যমে মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেসব ব্যাংককে ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আলাদা কোম্পানি গঠনের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের মার্চেন্ট ব্যাংক পৃথক করতে না পারায় প্রথমে ৩০ মার্চ এবং পরে ৩০ জুন পর্যন্তô সময় বাড়ানো হয়।

তবে ওই সময়ের মধ্যেও অধিকাংশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজকে আলাদা কোম্পানি করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পড়্গ থেকে পৃথক কোম্পানি করার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর পর্যন্তô বাড়ানো হয়। এ বিষয়ে এসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হলেও প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই স্টক ব্রোকার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি এসইসিতে প্রক্রিয়াধীন। আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই সব প্রতিষ্ঠান পৃথক কোম্পানি গঠনের কাজ শেষ করবে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: