মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার দাবি – সজীব হোমরায়

মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার দাবি

-সজীব হোমরায়
পুঁজিবাজারের উত্থান-পতনের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো! যে কারণে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু কঠোর আইনও রয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি)। কিন্তু মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যথাযথভাবে আইন মেনে চলছে কি না তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ! ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন বাজার সংশিষ্টরা।

এসইসির আইন অনুযায়ী কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকার বা তার কোনো পরিচালক, অংশীদার বা ব্যবস্থাপক বা প্রধান নির্বাহী যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, তার পেশাদারি দায়িত্ব পালনকালে মক্কেল বা অন্য কোনো সূত্রে প্রাপ্ত কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের  ভিত্তিতে, নিজ হিসাবে বা সহযোগী বা আত্মীয়ের দ্বারা কোনো শেয়ার অর্জন করতে বা কোনো লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারবে না। কিন্তু সেই আইন ভেঙে অনেকের বিরম্নদ্ধেই বেনামে শেয়ার কেনাসহ মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও আগাম ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বর্তমানে তালিকাভুক্ত মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৩১টি। আর এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে এসইসি। তবে লোকবলের ঘাটতির কারণে এসইসিকে বাজার নিয়ন্ত্রণেই হিমশিম খেতে হয়। এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড· সালাহ উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, এসইসির সড়্গমতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তারাই নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে শুধু পোর্টফোলিও দেখভাল করায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে। তাই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা প্রমাণে তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা উচিত। তারা যদি সঠিকভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করে তো ভালো। কারণ এসইসি তাদের কার্যক্রম গভীরভাবে খতিয়ে দেখলে অনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকলে তাও বের হয়ে আসবে। এতে করে লাভবান হবেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে বর্তমানে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউজ, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, অসৎ বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতেই বেসামাল হয়ে পড়ে। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় এসইসির লোকবল নেই। এর ওপরে আবার মার্চেন্ট ব্যাংকের তদারকির দায়িত্ব। মাসে একবার মার্চেন্ট ব্যাংক পরিদর্শন করতে পারে কি না সন্দেহ। সুতরাং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অনিয়মে জড়িয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তাদের মতে, পুঁজিবাজারের সার্বিক স্বার্থে এসইসির লোকবল বাড়ানো জরম্নরি। পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংক তদারকি কার্যক্রমে সমস্যা হলে বিকল্পভাবে সমাধানে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারের অস্থিরতা, অনিয়ম রোধে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে যথাযথভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে তাহলে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। তবেই বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করতে পারে। তা না হলে কাগজ-কলমে আইনই রয়ে যাবে, পালস্না দিয়ে বেড়ে যাবে অনৈতিক কর্মকান্ড।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: