বন্ধ হচ্ছে না প্রিমিয়াম বাণিজ্য – মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ

বন্ধ হচ্ছে না প্রিমিয়াম বাণিজ্য

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ

ঃপুঁজিবাজারে প্রিমিয়াম বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না বরং প্রতিনিয়ত এর পরিমাণ বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাজার সংশিস্নষ্টসহ অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রিমিয়ামের নামে কোম্পানিগুলো বাণিজ্য করে চলেছে।

বাজারে আসার প্রক্রিয়াধীন মবিল যমুনার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ টাকা। বাজার সংশিস্নষ্টদের মতে এটি যৌক্তিক মূল্য হলেও বিনিয়োগকারীরা বলছেন কোম্পানিটির প্রিমিয়াম অতিরিক্ত ধরা হয়েছে। অপর কোম্পানি জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারে ১৫০ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে তালিকাভুক্তির জন্য এসইসির কাছে আবেদন করেছে।

বাজারে আসার অপেড়্গায় থাকা জনতা ব্যাংকও ৯০০ টাকা প্রিমিয়াম চেয়ে এসইসির কাছে আবেদন করেছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারম্নল কবির ভুঁইয়া বলেন, এক একটি কোম্পানি তার আর্থিক অবস্থানুসারে প্রিমিয়াম নিতে পারে। সে অনুযায়ী কোম্পানিগুলো

তাদের শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়ে থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের অন্য এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রিমিয়ামের নামে বাণিজ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের এ অভিযোগ ঠিক নয়। তবে কোম্পানিগুলো কিছু সুযোগ গ্রহণ করে থাকে এ কথা সত্যি। তবে আমরা আইনের বাইরে যেতে পারি না।

এসইসির আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি তার ক্যাটাগরি অনুসারে প্রিমিয়াম নিতে পারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের দাবি এসইসির উচিত প্রিমিয়ামের একটি নির্দিষ্ট ছক বেঁধে দেয়া। যাতে করে কোম্পানিগুলো ইচ্ছা মতো প্রিমিয়াম না নিতে পারে। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, কোনো নীতিমালা না থাকায় কোম্পানির পরিচালনা পরিষদ ইচ্ছা মতো প্রিমিয়াম আদায় করার সুযোগ নিচ্ছে। তারা জানান, এসব কোম্পানির সামগ্রিক সম্পত্তি ও আয়ের চেয়ে শেয়ারপ্রতি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেয়ার ফলে বিনিয়োগকারীরা লোকসানে পড়ে। পড়্গান্তôরে কোম্পানি কর্তৃপড়্গ মোটা অঙ্কের টাকা লুটে নিয়ে চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকে। কোনো কারণে কোম্পানি লোকসানে পড়লেও কর্তৃপড়্গের কিছু যায় আসে না। কারণ তারা যে হারে প্রিমিয়াম নিয়ে রাখে তাতে তাদের কয়েক বছরের লোকসান আগে থেকেই পোষানো থাকে। বিনিয়োগকারীরা বলেন, প্রিমিয়াম বাণিজ্য ঠেকাতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালু করা হলেও তা সব কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যে কারণে কোনো কোম্পানি ইচ্ছা করলে বুক বিল্ডিংয়ে না এসেও প্রিমিয়াম নিচ্ছে। আবার এ পদ্ধতিতে (বুক বিল্ডিং) বাজারে এলেও থেকে যাচ্ছে নানা প্রশ্ন।

বিনিয়োগকারীরা জানান, তাদের স্বার্থে এসইসির উচিত সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম নেয়ার নীতিমালা বেঁধে দেয়া। এর আগে পুঁজিবাজারে আসা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মালেক স্পিনিং বিনিযোগকারীদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিয়েছে ১৫ টাকা। অর্থাৎ এ কোম্পানিটি ১৫০ শতাংশ প্রিমিয়াম নিয়েছে। ম্যারিকো এবং গ্রামীণফোন বাজার থেকে অযৌক্তিকভাবে প্রিমিয়াম নিয়েছে। এদিকে সহায়-সম্পত্তি কম এবং উপার্জন নিম্নমানের থাকার পরও অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়েছে ম্যারিকো ও গ্রামীণফোন কোম্পানি। গ্রামীণফোনের ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে ৬০ টাকা প্রিমিয়াম নেয়া হয়েছে। যা অভিহিত মূল্যের ৬০০ শতাংশ। আর ম্যারিকো শেয়ার প্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ৮০ টাকা। অর্থাৎ তারা ৮০০ শতাংশ প্রিমিয়াম নিয়েছে। এসব কোম্পানির সামগ্রিক সম্পত্তি ও আয়ের চেয়ে শেয়ারপ্রতি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেয়ার ফলে বিনিয়োগকারী দীর্ঘস্থায়ী লোকসানে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বাজার বিশেস্নষকরা। তারা বলছেন, বর্তমান বাজারে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে আইপিওর মাধ্যমে আসা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলেও হয়তো এতে সাময়িকের জন্যই লাভবান হওয়া যাবে, তবে দীর্ঘস্থায়ী লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এ ধরনের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে শেয়ারে বিনিয়োগ করায় বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছিলেন। একারণে এবার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসা কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে প্রিমিয়াম নিয়ে তালিকাভুক্তির সময় ডিএসইর পরিচালনা পরিষদে অনুমোদন নিয়েও লিস্টিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। লিস্টিং কমিটির সদস্যদের একটি গ্রম্নপ কোম্পানির পড়্গে থাকে আবার অন্য একটি গ্রম্নপ কোম্পানির তালিকাভুক্ত হওয়ার বিরম্নদ্ধে থাকেন। শেষ পর্যন্তô যে কোনো উপায়ে কোম্পানি তাদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। উলেস্নখ্য, গ্রামীণফোন এবং ম্যারিকোর তালিকাভুক্তি নিয়েও লিস্টিং কমিটির মধ্যে বিরোধ ছিল।

এ ব্যাপারে কয়েক জন বাজার বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ম্যারিকো ও গ্রামীণফোণ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি যে পরিমাণে প্রিমিয়ার নিয়েছে তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর যেসব কর্তৃপড়্গ এর অনুমোদন দিয়েছে তারাও কোনো না কোনোভাবে কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কোম্পানির সঙ্গে জড়িতরা লাভবান হলেও বিনিয়োগকারীরা ড়্গতিগ্রস্তô হবেন।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: