ইনসাইডার ট্রেডিং এসইসিকে আরো কঠোর হওয়া উচিত


ইনসাইডার ট্রেডিং এসইসিকে আরো কঠোর হওয়া উচিত

ইনসাইডার ট্রেডিং (আগাম তথ্য ফাঁস) বন্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আইন থাকলেও বাস্তôবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। ১৯৯৩ সালে প্রণীত আইন ১৯৯৫ সালে সংশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয় এবং ২০০৪ সালে এটি অধিকতর ব্যবহারের জন্য পুনঃসংশোধন করা হয়। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় গত ১৭ বছরে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে এসইসির এবং ডিএসইর জ্ঞাতসারে, আবার অনেক সময় অজ্ঞাতসারে হাজার হাজার বার ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। অথচ এ পর্যন্তô একজন ব্যক্তি কিংবা একটি প্রতিষ্ঠানকেও ওই আইনের আওতায় ফেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা শাস্তিô দিতে পারেনি বা দেয়নি। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ৯৬ গেল, ২০০৪ গেল, এখন ২০১০ যাচ্ছে। এ কারণে ২০১০ বলা হচ্ছে যে, গত ১৫ দিনের বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায় প্রায় ২০টির অধিক কোম্পানির লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার দেয়ার তথ্য এ সময় বাজারে আগাম ফাঁস হয়ে গেছে। আর এতে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী অতি মুনাফার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, এসব আগাম তথ্যের মধ্যে কোনোটা সত্য আবার কোনোটা শুধুই গুজব।

আমরা নিশ্চিত যেগুলো সত্য হয়েছে সেগুলোর তথ্য পাচারের সঙ্গে অবশ্যই কোম্পানি বা নিরীড়্গক অথবা তাদের সংশিস্নষ্ট কোনো পড়্গ জড়িত ছিল। কিন্তু এত বড় একটি বিষয়ের ব্যাপারে এসইসি একেবারে নির্বিকার। সংস্থাটি একজনের ব্যাপারেও যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে পরে এজন্য আরো অনেকেই সতর্ক হতে পারতো। অথচ বাজার সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে এ কাজটি ছিল এখন তাদের জন্য অতি জরম্নরি। আমরা দৈনিক শেয়ার বিজ্‌ কড়চা পত্রিকার পড়্গ থেকে এসইসিকে এতটুকু আশ্বস্তô করতে চাই আগামীতে যদি তারা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিরম্নদ্ধে কোনো শাস্তিôমূলক ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা শুধু এ দেশের লাখ লাখ ড়্গুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থে প্রথম পৃষ্ঠায় ব্যানার হেডলাইন দিয়ে লিড নিউজ করার ব্যবস্থা করবো ইনশাআলস্নাহ। কারণ এ অপরাধটি যে কত ভয়াবহ তা এ দেশের মানুষের জানা না থাকলেও আমরা জানি, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর সাজা কত কঠোর এবং নির্মম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অপরাধে একজন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্‌ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারীর ১৭ বছর জেল হয়েছিল। মাত্র একটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির ব্যাপারে এজেন্টের কাছে শুধু ইয়েস (হ্যা) শব্দটি উচ্চারণ করায় আমেরিকার স্বনামধন্য মহিলা বিনিয়োগকারী মারথা স্টুয়ার্ডকে ৬০ দিন হাজতবাস করতে হয়েছে।

উলেস্নখ্য, অভিযুক্ত ওই মহিলা মাত্র ৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে শেয়ারটি বিক্রি করেছিলেন। এ ২টি ঘটনার উদাহরণ সামনে রেখে এসইসিকে এগোতে হবে। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের অনৈতিক লেনদেনের ড়্গেত্রে সংস্থাটি আরো কঠোর হবে বলে আমরা আশা করি। আমাদের বিশ্বাস এতে বরং ড়্গুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরো বেশি সংরড়্গিত হবে।
শেয়ার বিজ কড়চা সম্পাদকীয়ঃ ১১.০১.১০

কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে বাজার!


কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে বাজার!

আমিরম্নল ইসলাম নয়নঃ কোটি টাকার আড়াইশ বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণে পুঁজিবাজার। আর এদের সঙ্গে আছেন শত কোটি টাকার ৫০ জন বিনিয়োগকারী। এসইসির তথ্যানুযায়ী ডিএসইতে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী আছেন ১০-এর অধিক। যারা সবাই কোটি টাকার বিনিয়োগকারীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কারণ এসইসির সিদ্ধান্তô অনুযায়ী একদিনে কোনো বিনিয়োগকারী ১ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ক্রয় করলে কমিশনে তার প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগে জমাকৃত গত ১৫ কার্যদিবসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আড়াইশ বিনিয়োগকারী প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করছেন।

পঁুজিবাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, যারা এক প্রকার অলিখিতভাবে স্টক মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের একটি ব্যাবসায়িক গ্রম্নপ শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছে গুজব রয়েছে। যে কারণে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এ গুজবকে আমলে নিতে নারাজ ডিএসই ও এসইসির কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দেশের বিনিয়োগকারীরাই অন্য ব্যবসা বন্ধ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন। তারা বলেন, বাজার অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের যে কোনো অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। আর সেল প্রেসার বাড়াকে গতকাল সর্বকালের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশিস্নষ্টরা।

স্টক মার্কেট গুটিকয়েক বিনিয়োগকারীর কাছে জিম্মি বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসইসির কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, এসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আছেন কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তা। যারা অর্থের লোভে এ চক্রকে গুজব ছড়িয়ে এসইসির বিপড়্গে মামলা করতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে থাকে। এনএভি ফর্মুলা নিয়ে এসইসির সিদ্ধান্তেôর বিপড়্গে একটি প্রথম শ্রেণীর মার্চেন্ট ব্যাংক ২ জন বিনিয়োগকারীকে দিয়ে মামলা করান বলে শেয়ারবাজারে গুজব রয়েছে। এ মার্চেন্ট ব্যাংকটি মামলা চালাতে যাবতীয় অর্থ খরচ করে। বিনিময়ে ওই সময়ে বাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখে মামলার খরচের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি আয় করে বলে জানা গেছে। এসইসি এ চক্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেও নিজেদের দুর্বলতার কারণে এদের ব্যাপারে তেমন কোনো পদড়্গেপ নিতে পারছে না বলে জানা গেছে। ফলে গুটিকয়েক বিনিয়োগকারী ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এসব বিনিয়োগকারী ফান্ডামেন্টাল শেয়ার বাদ দিয়ে এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অতিমূল্যায়িত কোম্পানি ও দুর্বল শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করছে। এসবের মধ্যেও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী গুজব নির্ভর না হয়ে ফান্ডামেন্টাল দেখে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করছেন।

বিনিয়োগকারী ও বাজারের স্বার্থে গুটিকয়েক বিগ ইনভেস্টর যাতে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে দিকে এসইসির নজর রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, বিগ ইনভেস্টরদের গেম্বলিং বন্ধ করে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করার জন্য এসইসকে পথ বাতলে দিতে হবে। নতুবা এসব বিনিয়োগকারী বাজারের পরিবেশ আরো ঘোলাটে করে তুলবে। আর এজন্য প্রাথমিকভাবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো টার্গেট করে এ ব্যাপারে পদড়্গেপ নিতে আলোচনায় বসতে হবে। এ ব্যাপারে বাাজার বিশেস্নষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক তরফদার জামান শেয়ার বিজ্‌ কড়চাকে বলেন, বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারের একটা বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে। এ শ্রেণী ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এ শ্রেণী যাতে ফান্ডামেন্টাল গুজব না ছড়ায় সে দিকে এসইসিকে নজর রাখতে হবে।

বিদেশে কৃষি জমি লিজ : দেরিতে হলেও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ


বিদেশে কৃষি জমি লিজ : দেরিতে হলেও মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ

০০ শফিকুর রহমান রয়েল

সম্প্রতি সাপ্তাহিক ২০০০-এ প্রকাশিত বিশেষ একটি প্রতিবেদন পড়লাম মনোযোগ দিয়ে। জানতে পারলাম, গত ২৪ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’-এ ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। উদ্দেশ্য ছিল- বাজার অনুসন্ধান, জনশক্তি রফতানি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। দেশে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের শুনিয়েছেন আশাব্যঞ্জক কথাবার্তা। ঘানা, সেনেগাল ও আইভোরিকোস্টকে কৃষি জমি লিজ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাব গৃহীত হলে উৎপাদিত ফসল বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবে দেশগুলো। তার মানে কৃষি কাজ করতে বাংলাদেশের কৃষকদের পশ্চিম আফ্রিকায় যাওয়ার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর তথ্য অনুসারে, লাইবেরিয়ায় মাত্র এক মার্কিন সেন্টের বিনিময়ে এক একর জমি লিজ নেয়া যায় এক বছরের জন্য। এ তো রীতিমতো পানির দাম!

মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ বিদেশে কৃষি জমি লিজ নেয়ার যে চিন্তা এখন করছে, অনেক দেশই তা শুরু করে দিয়েছে অনেক আগে। পুঁজি রফতানি করে, অথচ খাদ্য আমদানি করে, এমন দেশগুলো এই উদ্যোগের অগ্রপথিক। বিশ্ববাজার থেকে খাদ্য কেনার চেয়ে এই কৌশল বেশি কার্যকরী। সরকারী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো বিদেশে কৃষি জমি লিজ নিয়ে ফসল ফলায়। তারপর যৎসামান্য দিয়ে বাকিটা জাহাজ ভরে নিয়ে আসে নিজেদের দেশে। তারা অবশ্য নিজেদের কৃষক পাঠায় না। চুক্তিভিত্তিক ওখানকার কৃষক দিয়েই উৎপাদন করে। অনেকেই এটিকে বলছে, নয়া সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। তবে লিজ নেয়া দেশগুলোর দাবি- বীজ, প্রযুক্তি পুঁজি সরবরাহের বদৌলতে মুনাফা ভোগ করছে তারা।

বিদেশে কৃষি জমি লিজ নেয়ার ফলশ্রুতিতে গেলো বছরের সূচনায় সৌদি আরব প্রথম গমের চালানটি গ্রহণ করে। বাদশাহ আব্দুলস্নাহ এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। করবেনই বা না কোনো, সবে তো শুরু। এখন থেকে প্রতিবছর ইথিওপিয়া থেকে আসবে বিশাল পরিমাণের খাদ্য শস্য। বাদশাহ সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগেই জমি লিজ নেয়ার চুক্তি করেন দরিদ্র দেশটির সঙ্গে। প্রথম কয়েক বছর করের কোন ঝামেলা নেই। বিনিয়োগকারী সুযোগ পাচ্ছে উৎপাদিত সমস্ত খাদ্য শস্যই দেশে নিয়ে যাওয়ার। সৌদি আরব ইথিওপিয়াতে বিনিয়োগ করেছে ১১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডবস্ন- এফপি) ঠিক একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে ইথিওপিয়াতে গত ৪ বছরে। তবে তাদের লক্ষ্য ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা।

বিদেশে কৃষি জমিতে বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও যৌথ খামারগুলো লিজ নেয়ার জন্য ভিড় করেছিলো বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতাকে একটু ভিন্ন বলেই মন হচ্ছে, বিশেষত চুক্তির পরিসরের কারণে। ১ লাখ হেক্টরের (২৪ হাজার একর) চুক্তি হলেই সেটিকে বলা হয় বড় চুক্তি। বর্তমানে চুক্তি হচ্ছে তারচে’ অনেক বড় আকারে। কেবলমাত্র সুদানেই ৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমি লিজ নেয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও মিশর নিয়েছে ৪ লাখ হেক্টর করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুদানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোট কর্ষিত জমির এক-পঞ্চমাংশ তারা ছেড়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কাছে। আফ্রিকার সর্ববৃহৎ এ দেশটি ঐতিহ্যগতভাবে আরব বিশ্বের রুটির ঝুড়ি নামে পরিচিত। তবে লিজ সেই সব দেশই দিচ্ছে, যাদের রয়েছে কর্ষিত-অকৃর্ষিত প্রচুর জমি, অথচ ঘাটতি রয়েছে পুঁজির।

বিদেশে জমি লিজ নেয়ার দৌড়ে ইতোমধ্যে সামিল হয়েছে ভারত ও চীন। জৈব জ্বালানির জন্য পামওয়েল উৎপাদনের লক্ষ্যে চীন কঙ্গোর কাছ থেকে লিজ নিয়েছে ২.৮ মিলিয়ন হেক্টর জমি। সেখানে তারা গড়ে তুলছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পামওয়েল পস্নানটেশন। এরই মধ্যে সেখানে পেঁৗছে গিয়েছে চীনা কৃষি শ্রমিক। আরো ২ মিলিয়ন হেক্টরের জন্য তারা কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে কঙ্গোর সঙ্গে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) জানিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোর প্রায় ২০ মিলিয়ন হেক্টর জমি লিজ হিসেবে বিনিময় হয়েছে। এ জন্য অর্থ চুক্তির পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনেকেই এ বিষয়টিকে দেখছে ইতিবাচক দৃষ্টিতে। কারণ, প্রতি হেক্টর জমিতে যদি ২ টন খাদ্য শস্যও হয়, তবে তা হবে আফ্রিকায় গড় উৎপাদনের দ্বিগুণ। এতে করে পৃথিবীর খাদ্য সমস্যা কমানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

আগে ভিন দেশের কৃষিতে বিনিয়োগ হতো কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কিন্তু এখন চলছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। তবে বেসরকারী পর্যায়ে বিনিয়োগও টিকে রয়েছে। গত বছর সুইডেনের আলপো এগ্রো কোম্পানি রাশিয়ার কাছ থেকে লিজ নেয় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমি। প্রায় সমপরিমাণ জমি কম্বোডিয়ার কাছ থেকে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি।

বৃহৎ পরিসরে জমি লিজ নেয়ার চিন্তাটা হয়তো বাংলাদেশ এখনই করছে না, কিন্তু স্বল্প পরিসরে হলেও এখনই শুরু করা উচিত। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা তৎপর। ভবিষ্যতে সস্তা বিনিময় মূল্য নাও থাকতে পারে। তবে আশার কথা- চাষাবাদ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। অদূর ভবিষ্যতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা ফসল ফলাচ্ছে আফ্রিকায়, আর উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক চলে আসছে বাংলাদেশে।

– দ্যা ইকোনোমিস্ট অনুসরণে

আইপিওর শর্ত শিথিল : শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো, না বিশেষ সুবিধা দেয়ার কৌশল


আইপিওর শর্ত শিথিল : শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো, না বিশেষ সুবিধা দেয়ার কৌশল
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
অবশেষে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আইপিওর শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটির পরিবর্তে ৩০ কোটি টাকায় কমিয়ে আনাসহ শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত শিথিল করছে কমিশন। এ সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামোগত খাতের কোম্পানিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য শর্ত শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন। আইপিও শর্ত শিথিল করায় বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়তে ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি হবে বলে মনে করেন বাজারবিশ্লেষকরা। তবে একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে না বিশেষ কাউকে সুযোগ দেয়ার জন্য আইপিও’র শর্ত শিথিল করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারে ক্রমেই চাহিদা বাড়তে থাকলেও শেয়ার সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং শেয়ারবাজারে ফেসভ্যালু পরিবর্তনের মতো নন-ইস্যুকে সামনে আনা হয়। ফেসভ্যালু পরিবর্তনের কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন না হলেও কোম্পানির পরিচালকরা এ বিষয়ে বেশ তত্পর হয়ে ওঠেন। আর এতে অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও এসইসির অতিউত্সাহী মনোভাব নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কিন্তু এসইসির জনবল বৃদ্ধি, শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো, শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলা নিষ্পত্তি, শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা বিরোধে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের বিষয়গুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি খুব একটা নজর নেই। উপরন্তু গত মার্চে হঠাত্ করেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে আইপিওর ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত আরোপ করে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। যদিও এ ধরনের চিঠি ইস্যুর ক্ষেত্রে এসইসির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই করেনি মন্ত্রণালয়। অথচ এসইসির আইন অনুযায়ী, বাজারসংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এসইসির মতামত নেয়ার কথা। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশগুলোকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে এসইসি। গত ১১ তারিখে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা হিসেবে কোম্পানির কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। একইসঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকার নিচে হলে ওই কোম্পানির জন্য ৪০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া বাধ্যবাধক করা হয়। এছাড়া পরিশোধিত মূলধন ৭৫ থেকে ১৫০ কোটি টাকা হলে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অথবা ৩০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে সে পরিমাণ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। আর ১৫০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। তবে বাজারে ছাড়া শেয়ারের মূল্য ৪০ কোটি টাকার কম হতে পারবে না। এসইসির এ সিদ্ধান্তের কারণে শেয়ার সরবরাহে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হবে এবং বাজারে শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে কোম্পানিগুলো আগ্রহ হারাবে বলে মত প্রকাশ করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। কিন্তু এ ধরনের সমালোচনার মুখেও এসইসি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আবার প্রশ্নও ওঠে, কমিশনের মতামত ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে? কমিশন সরকারের আজ্ঞাবাহী কোনো সংস্থা না হলেও এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির ফলে কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

নানা সমালোচনার মুখে অবশেষে ৯ আগস্ট কমিশন বাজার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে পরিশোধিত মূলধন কমানোর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে পরিশোধিত মূলধন ২৫ কোটি টাকা করার বিষয়ে সুপারিশ করা হলেও অবশেষে কমিশনের বৈঠকে তা ৩০ কোটি টাকা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তাদের মূলধন ১৮ কোটি টাকা হলেই কোম্পানিটি ১২ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে তার পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা করতে পারবে। এছাড়া শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে আরও বেশকিছু শর্ত শিথিল করা হয়। তবে কমিশন বৈঠকের এ সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর হয়নি। কারণ এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে কমিশন। কমিশনের একজন নির্বাহী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইপিও শর্ত শিথিল করা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু ১১ মার্চের প্রজ্ঞাপনটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নেয়ার কারণে এখন তা পরিবর্তনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি হওয়া উচিত ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে কমিশনের আইপিও শর্ত শিথিল করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৪০ কোটি টাকার আইপিও শর্ত এবং ৪০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কমিশন তা পরিবর্তন না করার ব্যাপারে অনড় ছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই কমিশনের পর্যালোচনা কমিটির সভায় এবং কমিশনের সভায় আইপিও শর্ত শিথিল করার পেছনে শুধু শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো মূল উদ্দেশ্য কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ করছেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুযায়ী ওয়েস্টিন হোটেলের আইপিওতে ন্যূনতম ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়ার কথা থাকলেও তারা সে শর্ত পূরণ না করেই এসইসির অনুমোদনে প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছিল। শর্ত পূরণ করে আবার আইপিও আবেদন করতে বলেছে এসইসি। অ্যাপোলো হাসপাতালের আইপিও একই কারণে অনুমোদন দেয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্যই শর্ত শিথিল করা হচ্ছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—কোম্পানি দুটি যখন আইপিওর জন্য আবেদন করেছিল তখন শর্ত অনুযায়ী তাদের ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়া ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখন আইপিওর শর্ত শিথিল করা হলে তারা এ সুবিধা পাবে কিনা? তিনি বলেন, যদি শর্ত শিথিল করা হয় তাহলে তারা অবশ্য সে সুবিধা পাবে। এজন্য তাদের শর্তগুলো কমপ্লাইন্স করে আবেদন করতে হবে। কিন্তু তারা তো আগেই আবেদন করেছিল যখন ৪০ কোটি টাকার শর্ত ছিল—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কিন্তু ততক্ষণে শর্ত পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথচ এর আগে বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধ করা হলেও শুধু নিষিদ্ধের আগে আবেদন করায় বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক দুটি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এখন আবার কোম্পানিগুলোকে শর্ত শিথিলের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে কমিশনের ইতিবাচক মনোভাব অনেক প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছে।

অপরদিকে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো খাতের নতুন কোম্পানির (গ্রিনফিল্ড) জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব বিবেচনা করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর কমিশনের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের জন্য বিএপিএলসি’র পক্ষ থেকে এসইসিতে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো খাতের নতুন প্রকল্পগুলোকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসার জন্য তিনটি শর্ত থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করে বিএপিএলসি। তবে এ ধরনের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন। কারণ শেয়ারবাজারে বর্তমানে চাহিদা সঙ্কটের কারণে অনেকেই তার সুযোগ নিতে তত্পর হয়ে উঠেছেন। নানাভাবে বাজার থেকে টাকা ওঠানোর হিড়িক পড়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে এমনিতেই রয়েছে নানা প্রশ্ন। এরপর আবার শর্ত শিথিল করে বিশেষ কোনো কোম্পানিকে সুযোগ দেয়ার জন্য আইপিও শর্ত শিথিল করা কতটুকু যৌক্তিক হবে তা বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে বাজারে চাহিদার কারণে ১৯৯৬-৯৭ সালে অনেক নামসর্বস্ব কোম্পানি বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়েছে বলে গত ৯ অক্টোবর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই এবং সিএসই প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছিলেন। এসব কোম্পানি যারা বাজারে নিয়ে এসেছিল সেসব মার্চেন্ট ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। ওই সময় বাজারে আসা কোম্পানিগুলো ওটিসি মার্কেটে স্থান পেয়েছে।

এখন আবার বাজারে চাহিদার কারণে যাতে যেনতেন কোম্পানিকে বাজারে আসার অনুমোদন না দেয়া হয়, সে বিষয়ে এসইসিকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। অপরদিকে বাজারবিশ্লেষকরা বলেন, চাহিদার কারণে যাতে কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিতে না পারে তাতেও এসইসির দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষার বিষয়ে এসইসির ভূমিকা সবার কাম্য।

আইপিওতে এনআরবি কোটা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন


আইপিওতে এনআরবি কোটা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন

মনির হোসেন
শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অনিবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) কোটা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন মনে করছে, প্রবাসীদের পাঠানো অথের্র (রেমিট্যান্স) বিশাল একটি অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ফলে রেমিট্যান্স উৎপাদনশীল খাতের এ ব্যবহারের জন্য এ সুপারিশ করেছে কমিশন। সম্প্রতি সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন এ সুপারিশ করেছে। কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী মনে করেন, বড় পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের এ সুপারিশের সঙ্গে একেবারেই এক মত নন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ। তার মতে, আইপিওতে কারও কোটা বাড়ানো নয়, বরং সিস্টেম তুলে দেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, এনআরবিদের বিনিয়োগ একান্তই বাড়ানো জরুরি হলে মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা কমিয়ে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। অপরদিকে শেয়ারবাজারের ব্যাপারে সুপারিশ করা পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বের বাইরে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, আইপিও বিধিমালা অনুসারে বর্তমানে একটি কোম্পানি যে পরিমাণ শেয়ার বাজার ছাড়ে তার ১০ শতাংশ এনআরবিদের জন্য, ১০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ড এবং বাকি ৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং প্রাইভেট প্লেসমেন্টে বরাদ্দ দেয়া হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক শেয়ারের জন্য লটারির মাধ্যমে আবেদন করেন এবং প্লেসমেন্টের শেয়ার কোম্পানির ইচ্ছা অনুসারে ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয়। এক্ষেত্রে এনআরবিদের ১০ শতাংশ কোটাও লটারির মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে এনআরবিদের কোটা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করে বাকি ৮০ শতাংশ অন্যান্য খাতে বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি যেভাবে বাড়ছে, তার অন্যতম কারণ হল রেমিট্যান্স। কারণ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ তাদের স্বজনদের হাতে চলে যাচ্ছে। এতে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। কিন্তু আইপিওর মাধ্যমে এনআরবিদের এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হলে তা উৎপাদনশীল খাতে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ কমবে।

অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রেমিট্যান্সের টাকা জমি এবং স্বর্ণ ক্রয়ে চলে যাচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে রেমিট্যান্সের অর্থ শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইনসেনটিভ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ৮৩ কোটি ডলার মূল্যমানের রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেমিট্যান্সের অধিকাংশ বিলাসী সামগ্রী ক্রয়ে ব্যয় হচ্ছে।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের এ সুপারিশকে তাদের দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান যুগান্তরকে বলেন, পরিকল্পনা কমিশনও এখন শেয়ারবাজারের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে কি ঘটবে এ ব্যাপারে মাথা ঘামানো পরিকল্পনা কমিশনের কাজ নয়। এখানে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নামে স্বাধীন একটি কমিশন আছে।

অপরদিকে এর আগে গত বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাঠানো এক সুপারিশে আইপিওতে এনআরবিদের কোটা পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী যুগান্তরকে বলেন, এনআরবিরা শেয়ারবাজারে এলে ফরেন কারেন্সি বাড়বে। তার মতে, ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি এলেই কেবল এই কোটা বাড়ানো যেতে পারে। কারণ ছোট কোম্পানিগুলো এমনিতেই ওভার সাবসক্রিপশন হয়। তাই ছোট ইসুøতে কোটা বাড়ানোর দরকার নেই।

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিদুøৎ ও জ্বালানি সেক্টরে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো দরকার। কারণ এ দুই খাতেই ফরেন কারেন্সি দরকার। এনআরবিদের অংশগ্রহণ বাড়লে ফরেন কারেন্সির সরবরাহ বাড়বে। তিনি বলেন, আইপিওতে কোটা বাড়ানো হলে একদিকে এনআরবিদের দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, অপরদিকে সরকারও ব্যাপক লাভবান হবে।

তবে এ মতের একেবারেই বিরোধিতা করেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ। তার মতে, আইপিওতে কোটা সিস্টেমই বাদ করে দেয়া উচিত। কারণ যেখানে দেশের মানুষের হাতে প্রচুর টাকা রয়েছে। বর্তমানে একটি কোম্পানির আইপিও ছাড়লে তার ২০ থেকে ২৫ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। এখানে কারো জন্য কোটা বাড়ানোর প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন যেখানে এখন তারল্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে এনআরবিদের টাকা এনে তারল্য বাড়িয়ে লাভ কী? তাই তিনি মনে করেন, কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে শেয়ার বিতরণ করা উচিত। তবে তিনি মনে করেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য এনআরবিদের কোটা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা কমিয়ে এনআরবিদের কোটা বাড়ানো যেতে পারে। কারণ মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা কোথায় যাচ্ছে, তারা কী করছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার স্বচ্ছতা নেই। কিন্তু কোনভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ কমানো যাবে না।

টনি ব্লেয়ারঃ একজন সম্ভাবনাময় ব্রিটিশ নেতার করুণ পরিণতি অন্তর্দর্শন


টনি ব্লেয়ারঃ একজন সম্ভাবনাময় ব্রিটিশ নেতার করুণ পরিণতি অন্তর্দর্শন
এম. আবদুল হাফিজ
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সংবাদ শিরোনামে থাকতে ভালোবাসেন। সংবাদ শিরোনামের জন্য ব্লেয়ারের এই অবসেসন (obsession) তার স্মৃতিকথার (Memoir) প্রকাশনার সাথেও যুক্ত হয়ে আছে। তার প্রকাশিত বইয়ের নাম A Journey, যাতে তিনি নিজেকে কোনো মাইথোলজির নায়ক রূপে উপস্থাপিত করেছেন। কেউ ইচ্ছে করলেই এই বহুরূপীর এক বা একাধিক ডাইমেনশন ‘দ্য জার্নি’ থেকে আবিষ্কার করতে পারেন। তার প্রকাশিত মেমোয়েরের সত্যিই কোনো গতানুগতিক রিভিউ হয় না। যেটা হওয়া সম্ভব তা হলো­ লেবার রাজনীতিক হিসেবে তার একটি একান্ত ব্যক্তিগত মূল্যায়ন এবং লেবার পার্টির ওপর তার স্থায়ী প্রভাব, যদি তা সত্যিই পড়ে থাকে।

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ব্লেয়ারকে খ্যাতির পাদপ্রদীপের নিচে নিয়ে আসে ব্রিটিশরা। একটি দীর্ঘ টোরি শাসনের অবসানে তারা টনি ব্লেয়ারকে একটি ভূমিধস বিজয়ের নায়ক হিসেবে তার সমগ্র কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে নিজেদের ভাবতে শুরু করেছিল। তার উত্তেজক বিভা ও প্রতিভা ব্রিটিশদের মুগ্ধ করেছিল। ব্রিটিশ জনগণের পুরনো সুদিনের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে ভেবে লেবার সমর্থকরা উল্লসিত হয়েছিল। ব্রিটিশদের জন্য বিশ্বকে সম্ভাবনায় ভরপুর মনে হয়েছিল। দীর্ঘ টোরিশাসনের গতানুগতিকতার পর তাদের মনে হয়েছিল যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি ইতিবাচক রূপান্তর নাগালের মধ্যে।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্জিত বিপর্যস্ত লেবার ক্ষমতার অঙ্গন থেকে দীর্ঘ নির্বাসনের পর সেখানে পুনঃপ্রবেশের আনন্দে আপ্লুত। তবু তারা একটি অনাগত আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত না হয়ে পারেনি। বিশেষ করে ঐতিহ্যপ্রিয় লেবার সমর্থকরা ব্লেয়ারের মতাদর্শগত দৃঢ়তার অভাবে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতে পারেনি। সমর্থকের আরো ভয় ছিল যে, সেই ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার পার্টির মৌলিক আদর্শ ও মূল্যবোধগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত হবে কি না। লেবারের নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকদের এই আশঙ্কা সত্যে পরিণত হলো, যখন ব্লেয়ার দলের বিশুদ্ধ ও পবিত্র বিবেচিত নীতিগুলোকে এক এক করে বর্জন করতে থাকলেন।

ক্ষমতা গ্রহণের অব্যবহিত পর ব্লেয়ার অবশ্য লেবারদের ট্রেডমার্ক হিসেবে বিবেচিত কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানে মোটা করারোপ, যা লেবার অনুসৃত নীতিমালার অন্যতম­ এমন কিছু পদক্ষেপ ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় নেয়ার পরই ব্লেয়ার অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে লেবার পার্টিকে তার নিজস্ব বিশ্বাস এবং সুবিধা অর্জনে সম্পূর্ণ নতুন ছাঁচে ঢেলে নতুন করে সাজালেন। তার পুনর্গঠিত লেবার পার্টিতে থাকল শুধু ক্ষমতা লাভের চুম্বক।

ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্লেয়ার সর্বপ্রথম যে কাজটি করলেন তা ছিল তার অর্থনীতিতে বহু বিতর্কিত থ্যাচারিজমের অভিষেক। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী টোরি দলের মার্গারেট থ্যাচারকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন, যা ছিল তার অর্থনীতিতে থ্যাচারিজমের প্রতীকী অনুমোদন। অবশ্য মার্গারেট থ্যাচারের অর্থনীতিতে ব্রিটেনে অনেক উন্নতি হয়েছিল, কিন্তু সাধারণ নি্নবিত্ত মানুষদেরকেই তার মাশুল দিতে হয়েছিল। ব্লেয়ারের এহেন পদক্ষেপ দলের প্রগতিশীল বামপন্থী অংশকে স্বাভাবিকভাবে শঙ্কিত করেছিল।

ব্লেয়ারের সৌভাগ্য যে, তার ক্ষমতায়নের সময়ে ব্রিটেনে টোরিবিরোধী একটি প্রবণতা ছিল। এর ফায়দা দু’হাতে লুটলেও ব্লেয়ার তার নিজস্ব বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে লেবার পার্টিকে আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আধুনিকায়নের অজুহাতে তিনি লেবার পার্টিকে দু’টি স্বতন্ত্র শ্রেণীতে বিভক্ত করেন­ ওল্ড লেবার ও নিউ লেবার। বলা বাহুল্য, তিনি নিউ লেবারের নেতৃত্বে আসীন হন। ব্লেয়ার পার্টিকে দু’ভাগে বিভাজনের খেলা যেভাবে খেলেছেন, তা পার্টির জন্য সামগ্রিকভাবে ছিল অত্যন্ত ক্ষতিকর। এরই অংশ হিসেবে ব্লেয়ার পার্টিকে তার ‘অতীত’ ও ‘আত্মা’কে বর্জন করতে বাধ্য করেন। উদ্দেশ্য ছিল দলকে একটি নতুন আবরণী দেয়া, যাতে শ্রমিক শ্রেণী নয়, ব্রিটেনের মধ্যবিত্তরা দলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু ব্লেয়ারের ঐতিহ্যবাহী শ্রমিক শ্রেণী যারা লেবার পার্টির মেরুদণ্ড বলে বিবেচিত তাদের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হয়, যখন তার প্ররোচনায় দলীয় সংবিধানের চার নম্বর অনুচ্ছেদের কর্তন অনিবার্য হয়। এই অনুচ্ছেদটিই লেবার পার্টির দীর্ঘ দিনের কমিটমেন্ট­ শ্রমিকদের উৎপাদনের সব উপায়ের অভিন্ন মালিকানা সংরক্ষণ। ব্লেয়ার এখানেই থামলেন না, তিনি পার্টিকে এমন এক ছাঁচে ঢাললেন, যেন এখন থেকে নিউ লেবার শুধু একটি জনসংযোগের প্লাটফর্ম।

তা ছাড়া পার্টিকে দু’ভাগে বিভাজনের যৌক্তিক কারণই ছিল ভোটারদেরকে এই ধোঁকা দেয়া যে, নিউ লেবার একটি ভেজালমুক্ত সমর্থকদের পার্টি, যেখানে ওল্ড লেবার এখনো অনাধুনিক বামপন্থীতে ঠাসা। এমনই একটি ধুয়া তোলার ফলে মিডিয়া ম্যানেজাররা ব্লেয়ারকে লুফে নিল। লুফে নিল ইমেজ বানানেওয়ালারা। তারা ব্লেয়ারকে এ জন্য একজন আদর্শ শিকার হিসেবে পেল, যাকে জনসংযোগের (Pablic Relation Machine) মেশিনে ফেলে বিপণনযোগ্য ব্র্যান্ডে পরিণত করা যাবে, যদিও এককালের লেবার পার্টি সম্প্রসারিত অর্থে সামাজিক আন্দোলনই ছিল। সেখানে পার্টির বার্ষিক সম্মেলন হতো­ নীতি ও আদর্শ নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের জন্য। এখন থেকে সেসব আর হওয়ার সুযোগ থাকল না। সম্ভবত এখন আর থাকবে না কোনো ভিন্ন মতাবলম্বী। অবশ্য এমন পরিবর্তনে ব্লেয়ারের হারানোরও কিছু ছিল না। তার কখনো কোনো ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন বা ঐতিহ্য বহনের বালাই ছিল না।

টনি ব্লেয়ার আসলে নতুন প্রজন্মের এমপিদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, যাতে তার রাজনীতিতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য ছিল। এই প্রজন্ম কখনো শ্রমিক আন্দোলন করেনি এবং তার স্বরূপ সম্বন্ধেও তাদের ধারণা ছিল না। এই সহজে প্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিত্বের ফলে যারা এমপি হয়েছিলেন, তারা কোনোভাবেই লেবার পার্টির ইতিহাস বা ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত ছিলেন না। ব্লেয়ারের আবির্ভাবের সময় নাগাদ লেবার পার্টির প্রবাদ পুরুষরা আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না। তাদের স্থানে ক্রমে ক্রমে অধিষ্ঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক আনাড়িরা, যারা পার্টিতেও ছিল নিয়মশৃঙ্খলাহীন। লেবার পার্টিতে এদের অধিষ্ঠানের ফলে একসময়ের ভয়ঙ্কর জনসম্পৃক্ত পার্টি হয়ে ওঠে ভুঁইফোড়দের আখড়া। এমনই একটি পরিবর্তনের ধারায় টনি ব্লেয়ারের ভাগ্য খুলেছিল, যিনি শুধু নির্বাচন জিততে চান, পার্লামেন্টে আসন চান। নীতি বা আদর্শকে সমুন্নত রাখা তার কাজ নয়।

এদিকে ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে চমক এনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু কোনো পর্যায়েই তার ওয়ার্ল্ড ভিউ বদলায়নি। ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারাভিযান থেকে কিছু কিছু সবক নিয়ে ব্রিটেনেও ব্লেয়ার লেবার পার্টিকে আনকোরা নতুন অবয়ব দেন। তার রাজনীতিকে ঐশ্বর্যময় করতে ব্লেয়ার যুক্তরাষ্ট্র ও সে দেশের নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত অনুকরণে প্রবৃত্ত হন। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্লেয়ারের প্রতীক্ষিত রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক একটি মান অর্জনের সুযোগটি আসে যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেন ঘটনার পর। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ অভিযানে টনি ব্লেয়ার বাহবাদানের দায়িত্বটি নিজ ঘাড়ে তুলে নেন। মার্কিন নব্যরক্ষণশীলদের কদর্য অনুকরণে ব্লেয়ার এই কুখ্যাত যুদ্ধের যথার্থতা প্রমাণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার মতো সম্ভাবনাময় একজন ব্রিটিশ নেতা বুশ নেতৃত্বাধীন ক্রুসেড বাহিনীতে যোগ দেন।

পার্লামেন্টে যদিও তার সুদক্ষ বাগ্মীতায় তার অনৈতিক চাতুর্য ঢাকা পড়ে যায়, তাকে হাউস অব কমনসের বাইরে যুদ্ধবিরোধী প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এবং তিনি জনমত যাচাইয়ে দ্রুত তার গ্রহণযোগ্যতা হারাতে থাকেন। ১৯৬০-এর দশকে লেবার প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসন ভিয়েতনামে ব্রিটিশ সৈন্য পাঠানোর জন্য মার্কিন সরকারের অনুরোধে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তারও আগে ক্লিমেন্ট এটলি, ব্রিটেনের যুদ্ধ-উত্তর প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি লেবার পার্টিরই ছিলেন, অবলীলায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থাপত্যকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন­ সেই একই পার্টির অন্য এক সংস্করণের নেতা টনি ব্লেয়ার আজ বিবেকদংশিত হলেও কারোর কোনো সহানুভূতি তার জন্য নেই। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের জোগানদাতা হিসেবে প্রাক-ইরাকযুদ্ধ এবং যুদ্ধকালীন ইরাককে ঘিরে তার অনৈতিক ওকালতি তাকে আমৃতুø তাড়া করতে থাকবে এবং লিগ্যাসিকে কলঙ্ক লেপন করবে। তবু ইরাক আক্রমণের জন্য তিনি যেভাবে বুশ ও তার লিওকনদের উৎসাহ জুগিয়েছিলেন, সম্ভবত তারই পুরস্কারস্বরূপ এক যুদ্ধবাজ ব্লেয়ারকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিদূতের পদ প্রদান করা হয়েছিল।

ব্লেয়ারের স্মৃতিকথা A Journey, পাঠক আসলে এক রক্ষণশীলের জার্নির (ভ্রমণ) কথাই পড়বে যিনি লেবারের নাম ভাঙিয়ে উচ্চাসনে আরোহণ করেছিলেন এবং তারপর শুধু সেই লেবার পার্টিই নয়, ব্রিটেনের ঐতিহ্যমণ্ডিত লেবার আন্দোলনকেই ধ্বংস করেছেন। পাঠকরা আরো জানবেন যে, কী করে একজন প্রতিভাবান রাজনীতিক এক মহান সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ধ্বংস করে নিওকন এলিটদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং একজন কুখ্যাত যুদ্ধবাজে রূপান্তরিত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তিনি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যকে উসকে দিয়েছেন।

আমি নিশ্চিত যে, ব্লেয়ারের ‘জার্নির’ সাথে যে কারো সহগমন হবে আসলেই একটি ‘মোহভঙ্গের’ যাত্রা, যার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের একজন প্রতিভাবান রাজনীতিকের পরিণতি হয়েছে বড়জোর একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুডলে (Poodle) অথবা তার এক নিকৃষ্ট ভাঁড়ে (cheer Leader). ব্লেয়ারের A Journey,-তে একটা রূপরেখা হয়তো আছে, কিন্তু কোনো সারবস্তু নেই।

এম. আবদুল হাফিজ
লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার এবং নিরাপত্তা, রাজনীতি, বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ : আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার ১৫ বছরে সর্বোচ্চ


আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার ১৫ বছরে সর্বোচ্চ
রয়টার্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার ১৫ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতাধর দেশটিতে এখন দারিদ্র্যের হার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, যা একটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ১৯৬০ সালের পর দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দারিদ্র্যের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। বারাক ওবামা প্রশাসনের প্রথম বছর অর্থাত্ ২০০৯-এ মার্কিন পরিবারগুলো কী সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে তার ভিত্তিতে রিপোর্টটি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ সময়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করে এবং হাজার হাজার কর্মী কাজ হারায়। রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।
২০০৮-এর গড় দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ২ থেকে বেড়ে ২০০৯-এ ১৪ দশমকি ৩-এ উন্নীত হয়েছে। আর এ সময়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৯৮ লাখ থেকে বেড়ে ৪ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। এ বিশাল সংখ্যা নির্দেশ করে ২০০৯ সালের দারিদ্র্যের হার ১৯৯৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালকে কর্মজীবী পরিবারের জন্য কঠিন বছর বলে অভিহিত করেছিলেন। ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, মন্দা মোকাবিলায় কর অব্যাহতিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে অনেক কর্মজীবী পরিবার দারিদ্র্যের সীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিমাপে চার সদস্যবিশিষ্ট পরিবারপিছু বার্ষিক আয় যদি ২২ হাজার মার্কিন ডলারের কম হয় তবে তাদের দরিদ্র বলে ধরা হয়। এদিকে দারিদ্র্যের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে চিকিত্সাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাত্ যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি ৭ লাখ মানুষ চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত। মূলত চাকরিচ্যুতের কারণে বীমা সুবিধা না পাওয়ায় চিকিত্সাসেবা পায়নি এসব মানুষ। যদিও মার্কিন কংগ্রেস স্বাস্থ্য সুবিধাবঞ্চিত জনসংখ্যা হ্রাসের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিল পাস করেছে। তবে তা ২০১৪ সালের আগে তেমন কাজে লাগবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ একটি সময়ে এ পরিসংখ্যানটি প্রকাশিত হলো। কেননা আগামী ২ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচন।

আর এ প্রেক্ষাপটে ব্যাপক হারে বেকারত্বের শিকার ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মুখে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদে ক্ষমতায় তারা কাকে রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ
সংগ্রাম ডেস্ক :
২ নবেম্বরের নির্বাচনে অর্ধ লক্ষাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোট দেবেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত: দুই বাংলাদেশি লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে। এর একজন হলেন হেনসেন ক্লার্ক। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হওয়ায় তার বিজয় নিশ্চিত বলে জানা গেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হেনসেন ক্লার্ক কংগ্রেসম্যান হবার মাধ্যমে এ ইতিহাসের যাত্রা শুরু হবে।

তিনি মিশিগান স্টেটের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিদ্বনিদ্বতা করছেন। আরেকজন রয়েছেন মিশিগান স্টেট সিনেটে। তার নাম ড. দেবাশীষ মৃধা। তিনি লড়ছেন ৩২ নম্বর সিনেট আসন থেকে। এছাড়া পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন মেট্রো, আটলান্টা, নিউজার্সী, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া থেকেও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বিভিন্ন সিটি কাউন্সিলে লড়ছেন।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সিটিজেনশিপ গ্রহণের হার দ্রুত বাড়লেও ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তির হার ততটা সন্তোষজনক নয়। যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন তার বিরাট একটি অংশ আগেকার নির্বাচনগুলোতে কেন্দ্রে যাননি। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে এস্টোরিয়া, জ্যাকসন হাইটস এবং উডসাইড, সানিসাইড এলাকার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যাপারে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে জাগরণ এসেছে। উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রদূত হিসেবেও নয়া ইতিহাসের অধিনায়ক হয়ে রয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান ওসমান সিদ্দিক। তাকে নিয়োগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

বাংলাদেশে কোন হালায় নিয়ম মাইন্যা চলে?


বাংলাদেশে কোন হালায় নিয়ম মাইন্যা চলে?
মোহাম্মদ শাহজাহান

Published: 2010-10-23

ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক জ্যাম

Traffic JAM in Dhaka


বেশ ক’বছর আগের ঘটনা। ঢাকার রাস্তাঘাটের চালচিত্রের উপর একটি টিভি প্রতিবেদনের রিপোর্ট দেখছিলাম। রিপোর্টার জনৈক রিকশাওয়ালাকে তিনি কেন ট্রাফিক নিয়ম ভেঙ্গে বেপরোয়া গতিতে তার রিক্সা চালিয়ে নিয়ে গেলেন এ প্রশ্ন করলে, রিক্সাওয়ালা মহোদয় বুক চিতিয়ে দুর্বিনীত ভংগীতে তাকে যে জবাবটি দিয়েছিলো, তার সে জবাবেরই অংশ উপরে উদ্বৃত এ লেখাটির শিরোনাম।

বাংলাদেশে কে নিয়ম মেনে চলে? একটি অতি স্বাভাবিক কিন্তু পীড়াদায়ক প্রশ্ন বটে। এক কথায় এর জবাব হতে পারে, না, কেউই এখানে নিয়ম মেনে চলেনা। কারণ নিয়ম ভাংগাটাই যেন এখন এখানে রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরো বিশদভাবে বললে বলতে হয়, নিয়ম কানুন যা আছে বাংলাদেশে সব কিতাব আছে, বাস্তবে ঐসব নিয়ম পালনের প্রয়োজনীয়তা কোথায়ও পরিলক্ষিত হয়না।

রিক্সাচালকের উপরোক্ত বাক্যের মাধ্যমে আমাদের দেশের বর্তমান সমাজের একটি অতি সত্য কিন্তু তিক্ততম অবস্থার কথাই প্রতিফলিত হয়েছে। সোজা কথায় বলতে হয় সমাজের একেবারে উপরতলা হতে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নিয়মনীতি ভাংগার এ প্রতিযোগিতা চলছে, অবিরাম গতিতে। আর সেকারণেই একজন রিক্সাচালক হয়েও লোকটি অত্যন্ত নির্বিকার ও দৃঢ় ভংগীতে কথাগুলো উচ্চারণ করে গেছে। রিক্সাচালক হয়েও দেশের ভেঙ্গে পড়া আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তার এ প্রতীতি জম্মেছে যে তার এমন অপ্রিয় সত্য ভাষন শুনে কেউ একথা বলবেনা, ‘বলে কি লোকটা, চুরি তো চুরি, আবার সিনাজুরি’। প্রকৃতপক্ষে তার এই অপ্রিয় সত্য ও বেপরোয়া মন্তব্যের মাঝেই প্রোথিত আছে, আমাদের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় এবং ধ্বসে পড়া রাজনৈতিক অবস্থার একটি বাস্তব চিত্র।

এখন যদি প্রশ্ন করা হয় নিয়ম কেন ভাঙ্গা হয়, নিয়ম ভাঙ্গার সাহস কোথা থেকে আসে, তখন এর জবাবে বলা যায়, ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তা, স্বার্থপরতা এবং দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত লোভ এবং লালসা চরিতার্থ করার বাসনা হতে, সর্বোপরি মানুষের মধ্যে পরকাল ও সর্বশক্তিমানের প্রতি ভয়ডরের অভাবেই সাধারণতঃ মানুষ নিয়ম ভাংগে, নিয়ম ভেংগে অবৈধ উপায়ে অপরের স্বার্থের হানি ঘটিয়ে বিভিন্ন সুবিধাদি হাতিয়ে নেয়। ছোট ছোট নিয়ম বা আইন ভাংতে ভাংতে একদিন সে অতি বড় ক্রিমিনাল (গডফাদার) হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তার ভয়ে কম্পমান থাকে এলাকার জনগন। সরকারের আইন কানুনের ভয়ের চাইতেও বেশী প্রভাবশালী ও ক্ষমতাময় প্রভাব বিস্তার করে এসব গডফাদারগন নিজ নিজ এলাকায়। এ মহাযজ্ঞে শক্তি ও সাহস যুগিয়ে চলে আমাদের বর্তমান সমাজের অস্থিরতা, নৈতিকতাহীন রাজনৈতিক পটভূমি, সরকারের কোন কোন মন্ত্রী-উপদেষ্টা কর্তৃক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্বন্ধে অসত্য ও বিরূপ মন্তব্য করে অন্যায়কারীদেরকে আস্কারা দেয়া, ভগ্নপ্রায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি। আজ যারা সমাজের উচ্চাসনে বসে আছেন, অলংকৃত করে আছেন দেশের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বড় বড় পদ, অথবা বড় বড় ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি, তাঁরা কেউই (হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া) দেশের পবিত্র সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতি ভাংগার ক্ষেত্রে অপর কারো থেকে পিছেয়ে নেই।

নিয়ম ভাংগার এ ম্যারাথন দৌড়ে সবাই চায় তার সামনের ব্যক্তিটিকে কিভাবে ল্যাং মেরে পিছিয়ে দেয়া যায়, কিভাবে তার প্রতিবেশীকে টাকা পয়সায়, অর্থ-সম্পদে, সামাজিক প্রতিপত্তিতে, দৈনন্দিন আদান প্রদানে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া যায়, কিভাবে এমন ক্ষমতাধর হওয়া যায় যে, সমাজের অন্য সবাইকে তার পেছনে জ্বি হুজুর, জ্বি হুজুর বোল বলিয়ে নিজেকে একজন কেউকেটা জাতীয় কিছু হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায়। নিয়ম ভাংগার এই দৌড়ে তার দ্বারা সমাজে কি কি সব অনাচার ও অপরাধ ছড়াচ্ছে,বা দেশ ও জাতির জন্য তা কি ভয়াবহ পরিনাম ডেকে আনছে, তা সে ভাবতেও চায়না, বরং সত্যি কথা বলতে কি, দেশের চাইতেও সে এখানে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থটাকেই বড় করে দেখছে। তার এই স্বার্থপর নীতি চরিতার্থ করার পথে সে যাকেই পাবে তাকেই কুচলে দিতে তার বিবেকে এতটুকু বাঁধবেনা, হোক না সে আপন রক্ত সম্পর্কেরই কেউ, নিজের মায়ের পেটের ভাই, স্বামী (মহিলার ক্ষেত্রে), কিংবা স্বয়ং তার জম্মদাতা অথবা জম্মদাত্রী মা।

যারা শুধুমাত্র নিজ স্বার্থ চরিতার্থের জন্য, নিজের ভবিষ্যৎ আরাম আয়েশের পথ সুগম করার লক্ষ্যে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অবৈধভাবে অর্থের পাহাড় গড়ে, এবং অন্যদিকে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বে অবহেলা করে সরকার তথা দেশের জনগনের অর্থ এবং সম্পত্তির সীমাহীন অপচয় করে চলে, তারা কোনভাবেই রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্রের বড় বড় পদ দখল করে রাখার যোগ্য হতে পারেনা। বরং তাদের স্থান হওয়া উচিৎ পুরান ঢাকার লোহার গেট দেয়া লাল ইটের তৈরী বড় দালান। তাদের প্রথম অপরাধ, তারা জনগনের খেদমতের প্রতিজ্ঞা করে ক্ষমতায় বসে জনগনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতায় লিপ্ত হয়। তাদের দ্বিতীয় অপরাধ, তারা অসৎ উপায়ে দেশের খেটে খাওয়া জনগনের ট্যাক্সে গঠিত সরকারের তহবিল তসরূপ করে দেশকে আরো গরীব হবার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, এবং তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ, তারা উচ্চপদস্থ কর্মচারী হয়েও অসৎ পন্থা অবলম্বন করেন বলে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য সব কর্মচারীগনও অনিয়মের গলিঘুপচিতে চলতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের বসদের পদাংক অনুসরণ করে গোটা সিস্টেম এর মধ্যেই অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, এবং অসততার সয়লাব ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে দিয়ে, দেশের সার্বিক প্রশাসন ব্যবস্থাকে একেবারে পংগু করে ছাড়ে।

এটাতো একটি সহজ সরল বিষয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তা যদি নিজে ঘুষ খেতে অভ্যস্ত হন, তবে ক্রমে ক্রমে তার অধীনস্থ সব কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরাই ঘুষ খাওয়াটাকে জায়েজ মনে করে নির্বিবাদে সে অপকর্মটিকে নিজেদের দৈনন্দিন অফিসিয়াল কর্মসূচীর একটি অংগ বানিয়ে নিবে। ঠিক যেমন একজন পিতা যদি নিজে নামাজী না হন তাহলে তার সন্তান সন্ততি কেউই নামাজী হতে পারেনা। দু’টি ক্ষেত্রেই পরবর্তীদের চাইতে পূর্ববর্তীদের পাপ দ্বিগুন হবে, কারণ প্রথমতঃ বড় হিসাবে তাদের দায়িত্ব ছিল অন্যায় অনিয়মকে প্রশ্রয় না দেয়া, কোথাও কোন অন্যায় ঘটতে দেখলে তা রোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া। তাতো তিনি করেনই নি, বরং উল্টো নিজেই অনিয়মের পঙ্কে নিমজ্জিত হয়েছেন, এবং এভাবে তার অধীনস্থদেরও এর প্রতি আহবান করেছেন। ফলে তারাও তাকে অনুসরণ করেছে। ফলশ্রুতিতে নিজের পাপের বোঝা যেমন তাঁরা কাঁধে নিচ্ছেন তেমনি অপরের করা পাপেরও সমান অংশীদার হচ্ছেন। পবিত্র হাদিস শরীফেও আছে, মানুষের একাধারে করতে থাকা ছোট ছোট অন্যায় বা ভূলগুলোই ক্রমান্বয়ে তাকে বড় অন্যায়ের প্রতি টেনে নিয়ে যায়। আর তার দ্বারা সংঘটিত অন্যায় কাজ তার উত্তরসূরীদের মাঝে সংক্রমনে যেহেতু তারই অবদান বেশী, তাই পরবর্তিদের অন্যায় কর্মের পাপের বোঝা অন্যায়কারীর সাথে সাথে তাদের উপরও সমান ভাবে বর্তাবে।

রিক্সাওয়ালার উচ্চারিত সে কথাটুকুতে ফিরে যাই। একমাত্র ট্রাফিক নিয়মকানুন ভাংগার ক্ষেত্রেই যদি একটু তীক্ষ্ণ নজর দেয়া যায় তো দেখা যাবে, এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ নিয়ম ভাংগার ক্ষেত্রে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জিতে নিয়েছে। দূর্নীতিতে বিশ্বসেরা হওয়ার রেকর্ড তো কাগজে কলমে বেশ কয়েকবারই হতভাগা এ দেশের কপালে জুটেছে। ৫/৬ বছর পুরনো এক সমীক্ষা মতে ঢাকা শহরে প্রায় চার লক্ষ রিকশার কোন বৈধ লাইসেন্সই নেই। এভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে অন্যান্য যানবাহনেরও বহু সংখ্যকের বৈধ লাইসেন্স ও জরুরী কাগজপত্রে ভীষন ঘাটতি রয়েছে। কাগজপত্র থাকলেও সেসব কতটুকু খাঁটিঁ সে ব্যাপারটিও আবার বিবেচনার দাবী রাখে। অসহ্য ট্রাফিক জ্যামের কারণে বাসে করে মিরপুর হতে গুলিস্তানের দূরত্ব পাড়ি দিতে আপনার কম পক্ষে দেড় থেকে দু’ ঘন্টা সময় লাগবেই। অথচ জ্যামবিহীন রাস্তায় এ দূরত্ব অতিক্রম করতে আধা ঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা নয়। আবার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এ দেড় দু’ ঘন্টা সময়ে একজন বাসযাত্রীকে কি কি ভোগান্তির সম্মূখীন হতে হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নীচে দেয়া গেলঃ

বাস, কার বা সি.এন.জি-গুলোর যথাস্থানে না দাঁড়িয়ে প্রায় সিকি কি.মি. জুড়ে এলোমেলোভাবে দাঁড়ানো, সি.এন.জি/ট্যাক্সি ক্যাবগুলো মিটার ব্যবহার না করা ও মিটারের চাইতে দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া হাঁকা, ট্রাফিক রুলের তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গাড়ী চালানো, সামনের গাড়ীকে ওভারটেক করতে গিয়ে মারাত্মক সব দুর্ঘটনার জম্ম দেয়া (কদিন আগের সাভারের আমিনবাজারের দুর্ঘটনাটি ছিল এ ওভারটেকেরই করুণ পরিণতি), নির্দিষ্ট স্টপেজে না দাঁড়িয়ে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, বিরতিহীন লেবেল এঁটে দিয়ে যাত্রীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নিয়ে প্রায় সবক্ষেত্রেই সবিরাম গাড়ি চালানো, অফ-পিক আওয়ারে স্টপেজগুলোতে দু’মিনিটের বিরতিস্থলে দশ-পনের মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ানো, মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বাস চালানো, পুরুষ যাত্রী কিংবা বাস চালক নির্বিশেষে মহিলা সীটের প্রতি কোন সম্মান না দেখিয়ে, নারী-পুরুষের ঠেলাঠেলিতে আর গাদাগাদিতে গাড়ীতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি, কোন স্টপে যাত্রীদের অবতরন শেষ না হতেই গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে দেয়া যাতে করে নারী ও শিশু যাত্রীরা অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়, মা-বোনদের হাত ধরে হেলপারদের অযথা টানাহেঁচড়া করার অশোভনীয় দৃশ্য।

আরো আছ। মটরযানের সাথে পাল্লা দিয়ে রিক্সাগুলোর মাঝরাস্তা বরাবর অথবা রাস্তার প্রায় সবটুকুই দখল করে চলাচল করা, যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদেরকেই দু’কথা শুনিয়ে দেয়া, কে কার আগে গন্তব্যে পৌঁছাবে এ প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সিগন্যালের মোড়ে চতুমূর্খী রিক্সা, বাস ও কারের জট পাকিয়ে দিয়ে ত্রাহি মধূসুদন অবস্থার সৃষ্টি, আর কতো বলবো? একবিংশ শতাব্দিতে এসেও ঢাকা শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যে এখনো মান্ধাতা আমলেরই প্রতিনিধিত্ব করে চলছে, সে ব্যাপারটি দেখার ও যেন কেউ নেই। রাস্তাঘাটের হতদরিদ্র অবস্থার কথা এখানে আর বলছিনা, মনে হয় সময় এসেছে, নাগরিকদের নাগরিক সুবিধার অবর্তমানে সরকারকে ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করার জোর প্রচারণা চালানোর। সেদিন বেশী দূর নয়।

মহানগরীর রাজপথে চলাকালীন যাত্রীসাধারণের দূর্ভোগের একটি খন্ডচিত্র আমি আমার স্বল্পজ্ঞানের পরিধিতে সবার জন্য তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। ফিরিস্তিখানা আর বেশী দীর্ঘ করে ট্রাফিকের যন্ত্রনায় এমনিতেই কাতর নগরবাসীর মনের জ্বালা আর বাড়াতে চাইনা। ‘কোন হালায় নিয়ম মাইন্যা চলে’, জনৈক রিক্সাচালকের এ উক্তির সূত্র ধরে আগামীতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আরো কিছু অনিয়ম তথা নিয়ম ভাংগার ইতিকথা সহৃদয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দের সাথে সমভাবে ভাগাভাগি করে নেয়ার ইচ্ছা রেখে শেষ করছি।
জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য Jahan Hassan Ekush bangla desh Share Market

অর্থনীতি : উদীয়মান শক্তি আফ্রিকা


অর্থনীতি : উদীয়মান শক্তি আফ্রিকা

আইএমএফের ভবিষ্যদ্বাণী মতে উলিস্নখিত সময়ে আফ্রিকার দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ যা এশিয়ার বাইরের কোন অঞ্চলের চেয়ে সর্বাধিক
০০ জাকিরুল ইসলাম

মহামন্দার ধাক্কায় ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় ধনী রাষ্ট্র যেখানে ধরাশায়ী সেখানে কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগাণ্ডায় প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার ২ শতাংশ যা তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চেয়েও বেশি। চলতি এবং আগামী ২০১১ সালে এ হার আরো বেশি হবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতি বিশেস্নষকরা। আইএমএফের ভবিষ্যদ্বাণী মতে উলিস্নখিত সময়ে আফ্রিকার দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ যা এশিয়ার বাইরের কোন অঞ্চলের চেয়ে সর্বাধিক। এমনকি ব্রাজিল, রাশিয়া, মেক্সিকো ও ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর চেয়েও বর্ধিত অংকের।

এ প্রসঙ্গে আইএমএফ যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছে তা হলো মাথাপিছু আয়। দেখা গেছে, আফ্রিকানদের মাথাপিছু গড় আয় ভারতীয়দের চেয়ে বেশি। আফ্রিকা ডজনখানেক দেশে জাতীয় মাথাপিছু গড় আয় চীনের চেয়েও বেশি। আরো আশ্চর্যের বিষয় আফ্রিকার দেশগুলোতে লোভনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের নেই তেল ও হীরার মতো কাঁচামালের বিকিকিনি। গত চার বছরে আফ্রিকার দেশগুলোতে যে জিডিপি অর্জিত হয়েছে তার দুই তৃতীয়াংশের মূলে ছিল ব্যক্তি পর্যায়ের পণ্য উৎপাদন এবং সেবাখাত।

গত বছর বিশ্বজুড়ে মহামন্দা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্ব মিডিয়ার নজর কেড়েছে এশিয়ার দুই দেশ চীন ও ভারত কিন্তু আফ্রিকার কোন কোন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয় হারে অর্জিত হলেও তা থেকে গেছে সবার অগোচরে। দুনর্ীতির রাহুগ্রাস সত্ত্বেও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ঘটে গেছে অর্থনৈতিক বিপস্নব আর তাতে মূল ভূমিকা রেখেছে বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো। তাই কেনিয়া ও বোতসোয়ানার মতো দেশে বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বিশ্বমানের স্কুল ও হাসপাতাল। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সংশোধিত রিপোর্ট যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা রীতিমতো হতবাক করার মতো। রিপোর্টে উলেস্নখ করা হয়েছে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রেট লেকের পাশর্্ববতর্ী বিশেষ করে কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডায় এমনকি হর্ন অব আফ্রিকা (আফ্রিকার সৃঙ্গ) নামে পরিচিত খরাপীড়িত অঞ্চলে তাক লাগানো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এদেশের অর্জিত প্রবৃদ্ধি এশিয়ার শক্তিধর দুই দেশ চীন ও ভারতকেও চমকে দিয়েছে।

আইএমএফ রিপোর্টে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী তাতে আফ্রিকার একশ কোটির মধ্যে ৩০ কোটি লোক ইতিমধ্যে পেঁৗছে গেছে মধ্য আয়ের সারিতে। অবাক করার মতো বিষয়, মধ্য আয়ের শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে এমন লোকের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষক, ট্যাক্সিচালক, গৃহপরিচারিকা এমনকি রাস্তার ধারে অস্থায়ী অবকাঠামোতে বসে ব্যবসা করে এমন ক্ষুদে দোকানীর সংখ্যাও অনেক।

আফ্রিকা রাইজিং গ্রন্থের লেখক বিজয় মাজাবান তার ব্যাখ্যায় উলেস্নখ করেছেন, দুনর্ীতি ও অপশাসনের জন্য বদনাম থাকলেও তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে আফ্রিকায় ঘটে গেছে অর্থনৈতিক বিপস্নব। আর তার সাথে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো। ফলে কেনিয়া ও বোতসোয়ানার মতো দেশে বিশ্বমানের স্কুল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ‘আফ্রিকা ইনফ্রাস্টাকচার কান্ট্রি ডায়াগনস্টিক’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর মাধ্যমে আফ্রিকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশ। তাছাড়া এয়ারলাইন্স ও স্থলপথে পণ্য পরিবহন এবং টেলিযোগাযোগ খাতের শেয়ার বাজারে ছাড়ায় দ্রুত পরিবর্তন এসেছে সংশিস্নষ্ট খাতগুলোতে। যেমনটি হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকে চীনে এবং ভারতে। আরো একটি বিষয় উলেস্নখ্য ঐ সমীক্ষায় বলা হয়েছে বুরুন্ডি ও মালাউয়ে দক্ষ জনশক্তির বড়ই অভাব। তবে ঘানা, বোতসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থা ভিন্ন। উলিস্নখিত দেশ তিনটিতেই শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। কয়েকটি রিপোর্টে এ ব্যাপারে মিলেছে অভূতপূর্ব তথ্য। জানা গেছে, শুধু গত বছরই বিদেশে শিক্ষা সমাপনী শেষে নাইজেরিয়ায় ফিরেছে ১০ হাজার দক্ষ ভোক্তাজীবী। এঙ্গোলায় প্রতি বছর ফিরছে উলেস্নখযোগ্য দক্ষ পেশাজীবী, যারা দেশে ফিরে স্থানীয় শ্রমবাজারে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। এসব পারিপাশ্বর্িক অবস্থায় বিশ্বের কোন কোন বিশেষজ্ঞের ধারণা, ভারতের পরই দক্ষ জনশক্তির অঞ্চল হবে আফ্রিকার দেশগুলো। যার পথ বেয়ে দ্রুতই আরো বিকশিত হবে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো। অক্সফোর্ডের অর্থনীতিবিদ পল কোলিয়ারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা রিপোর্টে বিশেষজ্ঞদের ধারণাকে আরো পাকাপোক্ত করেছে।

কেননা তার রিপোর্টে উলেস্নখ করা হয়েছে ২০০০ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৯৫৪টি আফ্রিকান কোম্পানী অর্জিত মুনাফা গড়ে ১১ শতাংশ। একই সময়ে সমান সংখ্যক চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশীয় কোম্পানীর চেয়ে যা বেশি। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, এশিয়ার তুলনায় সহজলভ্য ও কম খরচে শ্রমিক নিয়োগ। এর মধ্যে আফ্রিকান মোবাইল অপারেটরদের মুনাফার হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। একইভাবে ইউনিলিভার, নেসলে ও সুইসপোর্ট ইন্টারন্যাশনালের মতো বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর মুনাফার পরিমাণও ঈর্ষণীয়। তাই ২০০৮ সালে সারাবিশ্বে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ২০ শতাংশ কমে গেলেও আফ্রিকায় এ চিত্র উল্টো। ঐ বছর আফ্রিকার দেশগুলোতে বরং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। অর্থের অংকে যা ৬১ দশমিক ৯ বিলিয়ন (৬ হাজার ১৯০ কোটি) ডলার। সর্বশেষ শিল্প ও বাণিজ্য বান্ধব আফ্রিকা দুনর্ীতির বেড়াজাল থেকে বের হয়ে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিধর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য Jahan Hassan Ekush bangla desh Share Market

বড় হলে দুরারোগ্য রোগের কারণ হবে ক্ষুধামান্দ্য : একটি শিশুকে লেখাপড়ায় ‘ফার্স্ট’ করানোর পেছনে না ছুটে তাকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিমান মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার পেছনে সবার দৃষ্টি দেয়া উচিত


বড় হলে দুরারোগ্য রোগের কারণ হবে ক্ষুধামান্দ্য

নগর শিশু

Nogor Sishu নগর শিশু

নগর শিশুর প্রতিদিন- ৪

০০ আসিফুর রহমান সাগর

ব্যস্ত শহর জীবনে মা-বাবার সবচেয়ে বড় সমস্যা কি? সবাই একবাক্যে বলবেন, ‘আমার সন্তান কিছুই খেতে চায় না। ডাক্তার দেখিয়েও কোন লাভ হয় না। কি যে করি?’

শিশু খেতে চায় না,- এ অভিযোগ বোধকরি শহরের প্রতিটি মা-বাবার। আলাপকালে এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মনজুর হোসেন বললেন, ‘শিশুরা খেতে চায় না পিতা-মাতার এ অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু কেন শিশু খেতে চায় না সেটা কি তারা ভাবেন? খেলাধুলা করলে, ছুটোছুটি করলে শিশুদের খাওয়ার চাহিদা বাড়ে, কিন্তু শহরের শিশুদের খেলাধুলা আর ছুটোছুটি করার সে সুযোগ কই? শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন-যাপনের অভাবে শিশুরাও অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। প্রতিদিন দৌড়াদৌড়ি, হুটোপুটি না করলে শরীরের কোন পরিশ্রম হয় না। ফলে তাদের খিদেও পায় না। খিদে না পাওয়া, কম খাওয়া আর খেলাধুলার অভাবে এই শিশুদের মধ্যে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। ফলে মায়েরা দিনরাত দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এ সমস্যা বড়দের তৈরি করে দেয়া তার জীবন-যাপন পদ্ধতির। বেশিরভাগ বাবা-মাই জানেন না যে, শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণেই শিশুর মধ্যে এ ধরনের ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। শিশু বয়সের এই সমস্যা বড় হওয়ার পর গুরুতর অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং যারা একটি শিশুর বৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত অর্থাৎ মা-বাবা, স্কুল কতর্ৃপক্ষ তাদের আরো বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। একটি শিশুকে লেখাপড়ায় ‘ফার্স্ট’ করানোর পেছনে না ছুটে তাকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিমান মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার পেছনে সবার দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে মত দেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, ক্ষুধামান্দ্যর পাশাপাশি স্কুলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ‘ওবেসিটি’ বা ওজন বেড়ে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। শিশুদের মধ্যে স্বাভাবিক খাবার না খেয়ে ‘ফাস্ট ফুড’ আসক্তির ফলেই ‘ওবেসিটি’ হচ্ছে। তিনি জানান, এর ফলে শিশুদের মাঝে দেখা দিচ্ছে পুষ্টিহীনতা। তারা দিন দিন নির্জীব হয়ে পড়ছে। যেকোন কাজে বা খেলাধুলায় আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। এর ফলে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, এজমার সমস্যা দেখা দেবে। এই শিশুরা বড় হলে তাদের মাঝে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি হবে। যার কারণে উচ্চ রক্তচাপসহ হার্টের নানা রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ভবিষ্যৎকে এই রোগভোগের দিকে ঠেলে না দিয়ে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। একটি শিশু তার স্কুলেই দিনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটায়। ফলে স্কুলে শিশুটির জন্য প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এ ধরনের খেলার ব্যবস্থা রাখতে হবে। খোলা মাঠ না থাকলে ইনডোর খেলা যেমন টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল প্রভৃতি খেলার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। এতে তাদের শারীরিক পরিশ্রম হবে।

ডা. মনজুর বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত স্কুলে খেলাধুলার পাশাপাশি ক্যাম্পিং ও আউটিং-এর ব্যবস্থা রাখা। এতে শুধু নির্দিষ্ট সময় নয়, একটা দীর্ঘ সময় ধরে কাজের অভিজ্ঞতা হবে শিশুদের। এটা তার মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির সহায়ক। এতে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে উঠবে।
——————————————————————————————————————————

Nogor Sishu নগর শিশু

Nogor Sishu নগর শিশু

রাজধানীর শিশুপার্ক ও শিশুদের বিনোদন

পবিত্র দুই ঈদ ও জাতীয় উৎসব উদযাপনের সময় রাজধানীর শিশুপার্কগুলিতে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। এই পার্কগুলিই তাহাদের চিত্ত-বিনোদনের প্রধান ভরসা হইয়া ওঠে। এক রিপোর্টে দেখা যায় যে, শাহবাগস্থ শহীদ জিয়া শিশুপার্কে সাধারণ কর্মদিবসে নিম্নে ১০ হাজার এবং ছুটি বা উৎসবের দিনগুলিতে দুই লক্ষ টাকারও বেশি আয় হয়। কিন্তু আয় অনুযায়ী বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা তো বাড়েই না, বরং দিন দিন তাহা আরও সংকুচিত হয়। অভিভাবকদের এ সংক্রান্ত অভিযোগের অন্ত নাই। আলোচ্য শিশুপার্কটি অত্যন্ত সুপরিচিত হইলেও জরাজীর্ণ রাইডগুলির কারণে এখন অনেকের কণ্ঠে ধ্বনিত হইতেছে হতাশার সুর। অধিকাংশ রাইড মেয়াদোত্তীর্ণ, অনাকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক। মেরামত বা জোড়াতালি দিয়া আর কতদিনই বা চালানো যায়! টগবগ টগবগ ঘোড়ার ভাঙ্গা হাতল, লম্ফঝম্পের ছিঁড়িয়া যাওয়া ক্যানভাস, রেলগাড়ির শতচ্ছিন্ন আসন, সন্ধ্যায় অপর্যাপ্ত আলো ইত্যাদি সমস্যা যেন দেখার কেহ নাই। নূতন রাইড সংযোজন দূরের কথা, বেবিসাইকেল চালনা ও চাকা পায়ে চলা খেলা দুইটির কোন অস্তিত্বই এখন নাই। অন্যান্য রাইডেও আছে পর্যাপ্ত খেলনার অভাব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরিয়া শিশুপার্কের প্রকৃত সংস্কার ও উন্নয়ন না থাকায় আসলে অনেক সমস্যারই সমাধান হইতেছে না।

শুধু শহীদ জিয়া শিশুপার্কই নহে, অপরাপর শিশুপার্কের অবস্থাও তথৈবচ। অনেক শিশুপার্ক খাতা-কলমে থাকিলেও বাস্তবে তাহার অস্তিত্ব নাই বা থাকিলেও দুর্দশাগ্রস্ত। অযত্ন ও অবহেলায় প্রায় পরিত্যক্ত। রাজধানীর বিলুপ্ত শিশুপার্কগুলির একটা ছোট্ট তালিকা দেওয়া যাইতে পারে। যেমন- লালমাটিয়া নিউ কলোনি শিশুপার্ক, বকশীবাজার শিশুপার্ক, মতিঝিল বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শিশুপার্ক, সায়েদাবাদ শিশুপার্ক, টিকাটুলি শিশুপার্ক, আজিমপুর শিশুপার্ক, উত্তরা ১ নং সেক্টরের শিশুপার্ক এবং মিরপুর ২ ও ৬ নং সেক্টরের শিশুপার্ক। এসব শিশুপার্ক রক্ষায় সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদেরও ব্যর্থতা সীমাহীন। ঈদ আসিলেই শিশুপার্কের প্রয়োজনীয়তা অধিক হারে অনুভূত হয়। ঈদ চলিয়া গেলে সারা বৎসর ইহা লইয়া কেহ তেমন আর উচ্চবাচ্য করেন না। তবে আশার কথা এই যে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঢাকা শহরে অনেক চিত্তাকর্ষক ও মনোরম শিশুপার্ক বা বিনোদন কেন্দ গড়িয়া উঠিয়াছে। কিন্তু সেইসব স্থানে শিশু-কিশোরদের লইয়া আনন্দ-উৎসব করা ব্যয়বহুল বলিয়া বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য তাহা সাধ্যাতীত। এমতাবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা সরকারি পার্কগুলিকে শিশু-কিশোরদের জন্য অধিকতর বিনোদন উপযোগী করিয়া গড়িয়া তোলা একান্ত প্রয়োজন।

এই উপলক্ষে সর্বাগ্রে পার্কগুলিকে বেদখলমুক্ত করিতে হইবে। অতঃপর তাহা সুরক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণপূর্বক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়িয়া তুলিতে হইবে। ঢাকা শহরে ৯০টিরও বেশি পার্ক রহিয়াছে। ইহার তত্ত্বাবধায়ক সিটি করপোরেশন, রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ একেক সংস্থা। পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত পার্ক বা মাঠ-ঘাটের অভাবে রাজধানীর শিশু-কিশোররা দিন দিন ইট-পাথরের এই শহরে গৃহবন্দী হইয়া পড়িতেছে। ইহাতে তাহাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হইতেছে মারাত্মকভাবে যাহা দেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দুঃসংবাদবহ। গভীরভাবে ভাবিয়া দেখিলে ইহা জাতীয় উন্নয়নেরও প্রতিবন্ধক। তাই এ ব্যাপারে সরকার ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের সঠিক উপলব্ধি ও পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত দরকার। সেই সঙ্গে সর্বসাধারণের সচেতনতা ও নাগরিক আন্দোলনও জরুরি।
জাহান হাসান একুশ অর্থ বাণিজ্য Jahan Hassan Ekush bangla desh Share Market