এনাহেইমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন

এনাহেইমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন


ছবিঃ জাহান হাসান, একুশ

লস এঞ্জেলেস, মে ২৫, ২০১২। আজ ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এন আর বি ইউ এস এ, মেড ইন বাংলাদেশ ও বাংলার বিজয় বহর ২০১২’র যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিজনীল্যান্ড-এর জন্মস্থান ক্যালিফোর্ণিয়ার এনাহেইম শহরের এক মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান ড প্রফেসর রফিকুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আলোচনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সৃজনকর্ম সম্পর্কে নানা দিক তুলে ধরা হয়। কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় প্রবাসী চলচ্চিত্র অভিনেতা মিঠুন ও তাস হক নজরুলের গান পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ভাষা সৈনিক ও চিকিৎসাবিদ ডাঃ মোঃ সিরাজুল্লাহ, সাউথ এশিয়ান বিজনেস নেটওয়ার্কের (সাবান) প্রধান মোহাম্মদ ইসলাম, ইউ এস বি বি এফ এর ডিরেক্টর সাংবাদিক মোঃ জাফরুল্লাহ, মূলধারার পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক মোঃ ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেসের (বাফলা) প্রেসিডেন্ট শামসুদ্দিন মানিক, আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার প্রেসিডেন্ট সোহেল রহমান বাদল, সামাজিক সংগঠন বনফুল ও বাংলাদেশ ফিজিশিয়ান অর্গানাইজেশন অব ক্যালিফোর্ণিয়ার কো-ফাউন্ডার ডাঃ মোয়াজ্জেম ও ডাঃ রুবী হোসেন, ঢাকা হোটেলিয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাফি আহমেদ, লিটল বাংলাদেশ ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাষ্ট লিঃ এর পরিচালক মুজিব সিদ্দিকী, অরেঞ্জ কাউন্টি গ্রীষ্মমেলা ২০১২ আহবায়ক নেতৃবৃন্দ মামুন, রেজা, রাজু, রবি, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কে এম জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব ইয়াহিয়া, সৈয়দ দিলির হোসেন দিলির, সাংবাদিক জাহান হাসান, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, কুদ্দুস খান, কবি ফারহা সাঈদ, অভিনেত্রী নিপা মোনালিসা প্রমুখ। এছাড়া লস এঞ্জেলেস, ইংল্যান্ড অ্যাম্পায়ার, রেডল্যান্ড, ল্যাংকাষ্টার থেকে বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্ব পালন করেন এন আর বি ইউ এস এ, মেড ইন বাংলাদেশের পরিচালক তারিক বাবু ও ফারহানা টিনা। অনুষ্ঠানের শেষে তারিক বাবু ও ফারহানা টিনার বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের স্বুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে টেস্ট অব বাংলাদেশ।

ছবিঃ সৈয়দ এম হোসেন বাবু

ছবি লিংকঃ ক্লিক করুনঃ

Watch “Friends Club Tournament 2012 -Register Now!!” on YouTube

ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালী’র ২০১২ সনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তারিখ ঘোষণা

লস এঞ্জেলেসে ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালী’র ২০১২ সনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তারিখ ঘোষণা

লস এঞ্জেলেস, মে ২০, ২০১২। লস এঞ্জেলেসের স্বনামধন্য স্পোর্টস ক্লাব ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালী ২০১২ সনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। গত ২০ মে লস এঞ্জেলেসের স্থানীয় এক রেষ্টুরেন্টে ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর নব-নির্বাচিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেন্ড বাবু ইভেন্টের প্রতিযোগীতার তারিখ ও সম্ভাব্য স্পন্সরদের নাম ঘোষণা করেন। এই বছরের ৬টি ইভেন্ট লস এঞ্জেলেস ও ভ্যালীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ইভেন্টগুলি হলো, ব্যাডমিন্টন, ক্যারাম, দাবা, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল ১ (আন্ডার ১২) ও বাস্কেটবল ২ (আন্ডার ২০)। জুন মাসের মাঝামাঝি এই ইভেন্টগুলি শুরু হয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হবে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহান্তে পুরষ্কার বিতরনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এই অনুষ্ঠানকে আকর্ষনীয় ও জমজমাট করতে সবাইকে সাহায্য সহযোগীতা আহবান জানান ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক এম কে জামান। ২০১১ সালের পুরষ্কার বিতরনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদের সহ সমগ্র কমিউনিটিকে তিনি ধন্যবাদ জানান। গত বছরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রবাস ও বাংলাদেশের খ্যাতনামা ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে প্রবাস ও দেশের সেতুবন্ধনের যে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে তার উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তী সালাহউদ্দীন তার এই সম্মাননা সারা জীবন লালন করবেন। তাকে দেওয়া এই সম্মানকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েব সাইটে হাইলাইট করেছে, এতে ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর কর্মকান্ড দেশে ও বিদেশে ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়ামোদীদের নজরে এসেছে। তার ধারাবাহিকটায় এই বছরেও দেশ-প্রবাসের গুনী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। স্থানীয় সমাজসেবী, সংগঠক লস এঞ্জেলেসের সুপরিচিত আলী ভাইকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করারও সিদ্বান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বছরে লস এঞ্জেলেসে একটি ক্রিকেট একাডেমী গঠন করার প্রস্তাব নেওয়া হয়। গ্র্যান্ড স্পন্সর হিসাবে এমিরাটস ও টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সম্পৃক্ততা সমাপনী অনুষ্ঠানকে আরো সাবলীল করে তুলবে বলে মন্তব্য করেন কে এম জামান।

২০১২ সালের সমাপনী অনুষ্ঠানের সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যার পরিচালক খাজা এরশাদ মইনউদ্দীন পপসি গত বছরে আগত পূর্নাংগ ব্যান্ড ফিডব্যাক ও স্থানীয় স্পন্দন শিল্পী নাসির আহমেদ অপু’র পারফরমেন্সের প্রশংসা করে বলেন, এই বছরও ফিডব্যাক ইউ এস এ’র প্রায় সব শিল্পীদের তিনি জড়ো করবেন এবং শিল্পী নাসির আহমেদ অপু সহ স্থানীয় ব্যান্ড শিল্পীদের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেবার পরিকল্পনা করছেন। উল্লেখ্য যে, গত দুই বছর ধরে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সাথে জলমলে সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করছে ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালী।

ফ্রেন্ড বাবু স্পন্সরদের অবিরাম সহযোগীতার জন্য ধন্যবাদ জানান ও বলেন, প্রতি বছরের মতো এইবার ও ইভেন্ট স্পন্সরদের দিয়ে খেলা উদ্বোধন ও বিজয়ী খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের সাথে সাথে পৃষ্ঠপোষকদের যথাযথ সম্মানের ব্যবস্থা করা হবে। ইভেন্ট সময়সূচীর জন্য ৮১৮ ৬৩৩ ২১৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন ফ্রেন্ড বাবু।

স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পপ সিঙ্গার নাসির আহমেদ অপু আগামী সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যার সাফল্য কামনা করে বলেন, অনুষ্ঠান হল, সাবলীল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও শিশুদের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করার অনুরোধ জানান।

ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর নব-নির্বাচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রেন্ড ফেরদৌস কমিউনিটির সবার সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করে ফ্রেন্ডস ক্লাবের সকল সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহনের উপর গুরত্ব আরোপ করেন। তিনি ক্রীড়া প্রতিযোগীতাগুলিতে সবাইকে উপস্থিত হয়ে আনন্দ ও অনুপ্রেরণার অংশীদার হতে আহ্বান জানান।

ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর নব-নির্বাচিত বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফ্রেন্ড হিল্টন পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সারা বছর সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাত বছর আগে ভ্যালীর একটি গ্যারাজে প্রতিযোগীটায় অংশ নিয়ে ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাথে তার যাত্রা শুরু, আজ এখন ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালী হলিউডের অভিজাত রেস্টুরেন্টে এই বছরের অনুষ্ঠানসূচী ঘোষণা করছে। এই উত্তরণের পিছনে ফ্রেন্ডসদের সহযোগিতা সহ কে এম জামানকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যৎতে আরো ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়ামোদীরা ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীকে সাহায্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।

সভায় বাংলাদেশের জাতীয় বাস্কেটবল লিজেন্ড ডাঃ আকা নেওয়াজ, বাংলাদেশের জাতীয় বক্সার আকতার, স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, রিয়েলটার আমিনুল ইসলাম, ওম্যান অ্যাসোসিয়েশান এর ড্যানী তৈয়ব স্পন্সরশীপ সহ সর্বাত্মক সহুযোগীতার আশ্বাস দেন।

সভায় ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর ফ্রেন্ড শহীদ, হেলাল, মিসেস আমিনুল ইসলাম সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালীর কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য লস এঞ্জেলেসের মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জাহান হাসান’কে ধন্যবাদ জানানো হয়। নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহময়তা

স্নেহময় অভিভাবকত্ব যৌন-রসাত্মক টাইম
তরুণীর বুকের দুধ শিশুকে খাওয়ানো নিয়ে তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া ওই ছবিটি নিয়ে। বিষয়টি স্নেহময় অভিভাবকত্ব হিসেবে ধরে নিলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যত দোষ নন্দ ঘোষ হলে সমস্যা। আর সমস্যাটা হয়েছে প্রকাশ্যে পত্রিকার পাতায় দুধ খাওয়ানের দৃশ্য নিয়ে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে সাহসী স্নেহময় অভিভাবকত্বধারী সেই নারীর নাম লিন গ্রুমেট। বিতর্ক উঠেছে এটা যৌন-রসাত্মক কৌতুকের বলে। কথা উঠেছে বাল্যকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়াটা ঠিক কি না।

তিন বছর বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এক তরুণী। এটাই ছিল এ সপ্তাহের টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ। ‘স্নেহময় অভিভাবকত্ব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির জন্য তোলা হয়েছিল ছবিটি। আর এটা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা এ ম্যাগাজিনটি। অনেকেই উৎসাহিত করেছেন সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহময়তাকে। আবার অনেকেই প্রকাশ করেছেন ভীত ও সন্দেহমূলক অভিব্যক্তি।

তবে লস অ্যাঞ্জেলেস নিবাসী গ্রুমেট তার তিন বছর বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিক ও জৈবিক ব্যাপার বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি তার মা তাকে ছয় বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাইয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, মানুষকে বুঝতে হবে যে এটা জৈবিকভাবে খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। মানুষ এটা যত বেশি দেখবে, ততই আমাদের সংস্কৃতিতে এটা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে। আমি এখন তেমনটাই আশা করছি। আমি চাই মানুষ এটা দেখুক।

তবে টাইম ম্যাগাজিনের এ প্রচ্ছদ নিয়ে জোর সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে। এটা যৌন-রসাত্মক কৌতুকের উদ্রেক করবে বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুটি যখন বড় হবে, তখন তাকে অনেক বিদ্রƒপের মুখে পড়তে হবে। বাল্যকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়াটা ঠিক কি না, এসব বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আরকানসাস নিবাসী ছয় সন্তানের জননী ববি মিলার বলেছেন, এমনকি একটা গরুও জানে কখন তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করা দরকার। আর প্রচ্ছদটি সম্পর্কে তার অভিমত, ‘এটাকে কেন এখানে আনতে হবে? এটা হাস্যকর।বিপরীতে টাইম ম্যাগাজিনের পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন শিশুযতœবিষয়ক কিছু সংগঠন। বেস্ট ফর বেবিস নামের একটি সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেটিনা ফোর্বস বলেছেন, এ প্রচ্ছদটা মূলধারার আমেরিকানদের কিছুটা কম রোগে ভুগতে সাহায্য করবে। নারীরা তাদের যে কোনো বয়সী সন্তানকেই বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। আর এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় এটাই।

সারাদেশে যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পাতা হাজার হাজার হারবাল ও হোমিও প্রতিষ্ঠান

হারবাল প্রতারণা

খোন্দকার তাজউদ্দিন

মানুষ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে গল্প বলতে এবং শুনতে। আর সেটা যদি কিংবদন্তি হয় তাহলে তো কথাই নেই। এ রকমই একটি গল্প শোনাই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত জাদুকর হাওয়ার্ড থর্সটনকে নিয়ে এই গল্পটি প্রথম চালু হয়। থর্সটনের জাদুর অনুষ্ঠান। দর্শকভর্তি হলরুম। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও জাদুকরের দেখা নেই। ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছেন দর্শক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা। এমন সময় মঞ্চে হাজির হলেন জাদুকর। উত্তেজিত দর্শক দেরি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করতেই জাদুকর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন ‘কই’ আমি তো এক মিনিটও দেরি করিনি’। দর্শকরাও নিজেদের হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন, একটু আগে দেখা সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে! বিস্ময়কর এই ম্যাজিকে হলভর্তি দর্শক তুমুল হাততালি দিয়ে স্বাগত জানালেন জাদুকরকে। পরবর্তী সময়ে এই গল্পটি অনেক খ্যাত-অখ্যাত জাদুকরকে নিয়েও শোনা যায়। জুয়েল আইচ বা ডেভিড কপারফিল্ডের জাদু আমাদের বিস্ময়কর জগতে নিয়ে যায়। তাদের জাদু দেখে আমরা মুগ্ধ হই, হই শিহরিত। ধরে নিই এবং বিশ্বাস করি জাদু দিয়ে যে কোনো কিছুই করা সম্ভব।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, উপরে যে জাদুটির কথা বলা হলো, তার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত কোনো দিনই ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দেওয়ার এই জাদু দেখানো হয়নি। তারপরও পিসি সরকারের এমন জাদু নিজে দেখেছেন এমন প্রত্যক্ষদর্শীও এ দেশে আছেন। এটা কী করে সম্ভব? যে জাদু কখনো দেখানো হয়নি সে জাদু দেখেছেন কীভাবে? ওই যে বললাম গল্প বলা এবং শোনা মানুষের সবচেয়ে প্রিয় অভ্যেসÑ তা সে সত্যি-মিথ্যা যা-ই হোক। আসলে আমরা একটি গল্প শোনা বা বলার আগে যুক্তি দিয়ে ভাবি না। একটু শুনে তার সঙ্গে আর একটু যোগ করে গল্পটিকে আকর্ষণীয় করতে ভালবাসি। গল্প বলে সবাইকে চমকে দিয়ে আড্ডার মধ্যমণি হতে চাই। মধ্যমণি হতে গিয়ে কিছু মিথ্যা কুসংস্কারকে সত্যে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করি। অন্যের মুখের শোনা ঘটনাকে নিজের দেখা বলে গর্বের সঙ্গে গল্প করি। এভাবেই তৈরি হয় অতিরঞ্জিত কাহিনী, যা এক পর্যায়ে রূপ নেয় কিংবদন্তির। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে। এক পর্যায়ে অনেক মানুষের মনে করে নেয় বিশ্বাসের আসন।

এক সময় পাহাড়, সমুদ্র, আগুন, নদী, ঝড় সব কিছুকেই মানুষ বসিয়েছিল দেবতার আসনে। চন্দ্র, সূর্য, পৃথিবী, বৃহস্পতি, শনি প্রভৃতি নক্ষত্র এবং গ্রহগুলোকে মানুষ পূজা করত দেবতা হিসাবে। মানুষের জানা ছিল না জীবাণুর অস্তিত্ব সম্পর্কে। অসুখকে মানুষ মেনে নিয়েছে নিয়তি হিসেবে। ভেবে নিয়েছে পাপের ফলই অসুখ। তন্ত্র-মন্ত্র, তেলপড়া, পানিপড়া ঝাড়ফুঁক ¯^প্নে পাওয়া ওষুধের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু এ তো অনেক অনেক যুগ আগের কথা। এখন তো অলৌকিক অনেক কিছুই মানুষের নাগালের মধ্যে। পৃথিবী জয় করে মানুষ এখন বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছে মঙ্গল গ্রহে। এত কিছুর পরও কিছু মানুষ এখনো রয়ে গেছে সেই তন্ত্র-মন্ত্রের যুগে। সে মানুষগুলো যুক্তি নয়, সব কিছু বিচার করে কুসংস্কার আর প্রচলিত ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে। সেই মানুষগুলো আমরা। বিনোদনের জন্য জাদুকর জাদুর খেলা দেখায়। এটা তার পেশা। সেই খেলা দেখে আমরা বিস্মিত হই। আনন্দ পাই। আধুনিক জাদুকরাও বলেন, এগুলো বিশেষ ধরনের কৌশল। চেষ্টা করলে অনেকের পক্ষেই অনেক কিছু আয়ত্ত করা সম্ভব। এর মধ্যে অলৌকিক শক্তির কোনো বিষয় নেই। কিন্তু আমাদের সমাজে একশ্রেণীর মানুষ আছেন, যারা এই স্বাভাবিক লৌকিক ঘটনাগুলোকে অলৌকিক কর্মকাণ্ড হিসাবে আখ্যা দেয়। অল্প শিক্ষিত, শিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করে ধর্মকে। লৌকিক ঘটনাকে বানিয়ে ফেলে পারলৌকিক। নিম্নশ্রেণীর কিছু জাদু দেখিয়ে নিজেরা আয় করে লাখ লাখ টাকা। অসহায় মানুষ তাদের এই অলৌকিক প্রচারণায় মুগ্ধ হয়ে তুলে দেয় তার শেষ সম্বল। হয়ে যায় নিঃস্ব।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য রাজধানী শহর ঢাকায় চলছে লৌকিক-পারলৌকিক এমন অনেক বাণিজ্য। গোপনে নয়, প্রকাশ্যে। এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সাপের মণি। অথচ ‘সাপের মণি’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্বই নেই পৃথিবীতে! আপনার কী বিশ্বাস হয় মানুষ জারজ সন্তানের হাড়ের তাবিজ কেনে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে?!! ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় কালো কুত্তার দাঁতের তাবিজ?!

ঘটনার ভেতরে প্রবেশ করা যাক। যার কথা বলছি তার আসল নাম বলছি না। বলছি না এই কারণে যে, তিনি নাম প্রকাশ করতে চান না। ধরে নিই তার নাম আবদুস সালাম। তিনি একটি স্টেশনারি দোকানের মালিক। শ্বশুরবাড়ির টাকায় এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এক বছরের মধ্যে লোকসান হয়েছে ২ লাখ টাকা। একজনের মাধ্যমে শুনেছেন সাপের মণির আংটি ব্যবহার করলে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে তার সব ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। কেটে যাবে আর্থিক অনটন। ব্যবসায় শুধু থাকবে লাভ আর লাভ। সালাম সাহেবের অবস্থা তখন খুবই খারাপ। শ্বশুরবাড়িতে মুখ দেখাতে পারছেন না। এ অবস্থায় তিনি গেলেন ‘খানকায়ে শেফায়’। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনলেন সাপের মণি। এই সাপের মণি কিনে আনার কাহিনী তার কাছ থেকে শুনলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, বিষয়টি নিজেরই জানতে হবে। পত্রিকায় দেওয়া খানকায়ে শেফার বিজ্ঞাপনটি ভালো করে পড়লাম। এই খানকায়ে শেফার সাধক সুফিয়া বেগম। তিনি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছেন এশিয়া মহাদেশের ভেতরে একমাত্র আধ্যাত্মিক তান্ত্রিক মহিলা। যে কোনো সমস্যা সে যত কঠিনই হোক না কেন তিনি আধ্যাত্মিক ঘটনা ও ক্ষমতার বলে সমাধান দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞাপনে যে সমস্যাগুলোর কথা লিখেছেন সেগুলোর কয়েকটি এমন স্বামী স্ত্রীর অমিল, প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা, যে কোনো লোককে বশ করা, শত্রুকে পরাস্ত করা, মনের মানুষকে কাছে পাওয়া, বিয়ে হয় না, বিয়েতে বাধা, ব্যবসায়ে লোকসান, বানমারা, বান ফেরানো ইত্যাদি। পৃথিবীতে এমন কোনো সমস্যা নেই যে তিনি সমাধান করতে পারেন না। সালাম সাহেবের কল্যাণে বিজ্ঞাপনটি পড়লাম এবং যারপরনাই চমকিত হলাম।

খানকায়ে শেফার অবস্থান মগবাজার রেল ক্রসিংয়ের পাশে। গত ১৬ ফেব্রæয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে হাজির হলাম সুফিয়া বেগমের দরবারে। গ্লাসের দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে, সোফায় সাদা পাঞ্জাবি লুঙ্গি পরিহিত একটি লোক বসা। বললেন, মা’র সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। সিরিয়ালে নাম লেখালাম। সিরিয়াল নম্বর ৯। অর্থাৎ আমার আগে আজকে আরো ৮ জন এসেছে। পাশ থেকে এক যুবক ধমকের সুরে বললেন ২৫ টাকা দেন। কিসের টাকা? যার সঙ্গে দেখা করার ফি বাবদ ২০০ টাকা। এটা নাম লেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়ার নিয়ম। না দিলে মা কষ্ট পাবে। এতে ক্ষতি হবে। একসময় ডাক এলো। বসলাম সুফিয়া বেগমের সামনে। গদিওয়ালা চেয়ারে বসে আছেন মাথায় ঘোমটা। চোখ বন্ধ, মাথা নিচু করে আছেন। প্রায় এক মিনিট পরে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন আপনার সমস্যা কী বলেন বাবা?

তেমন কোনো সমস্যা নয়। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না।

‘কিসের ব্যবসা’?

বিজ্ঞাপনী সংস্থার।

কী ব্যবসা করেন?

বোঝা গেল তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। বুঝিয়ে বলার পর বললেন, ঠিক আছে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা নেই।

চোখ বন্ধ করে একনাগাড়ে বলে গেলেন আমি আপনার ইমান দেখেছি। আপনি সত্যবাদী ও ইমানদার মানুষ। ইমান শক্তিশালী করার জন্য আমার কাছে এসেছেন। যান এক বোতল পানি নিয়ে আসেন।

বললাম, আমার নিজের যেতে হবে না টাকা দিলে অন্য কেউ কিনে আনতে পারবে?

‘না আপনার নিজেরই যেতে হবে, যান।’ বললেন ধমকের সুরে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ১০ টাকা দিয়ে এক বোতল পানি কিনে আনলাম।

বোতল খুলে ডান হাতের তালুতে একটু পানি নেন।

ডান হাতের তালুতে পানি নিলাম। পানিতে তিনি দুই আঙুল ডুবিয়ে কিছু একটা ঘষতে থাকলেন। মুখে বিড়বিড় করে কিছু একটা পড়ে যাচ্ছেন। বিসমিল্লাহ আল্লাহ, আবদুল কাদের জিলানী খাজাবাবা, মা কালী ইত্যাদি শব্দ বোঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম, ইসলাম ধর্ম মিলিয়ে দোয়া পড়ছেন।

আপনার এই পানি যদি তিতা বা টক হয়, তাহলে আপনার মুশকিল আসান আমি করব না। আর যদি আপনার পানিতে কোনো আল্লাহ হুজুরপাক মা কালীর আশীর্বাদে কোনো কুদরত এসে থাকে তাহলে আপনার মুশকিল আসান আমার মাধ্যমে হবেই হবে। পানিটা এক চুমুকে খেয়ে ফেলুন।’

সুফিয়া বেগম তার ময়লা দুটি আঙুল পানিতে ডুবিয়েছেন। আঙুলে কিছু একটা নিয়ে অনেকক্ষণ ঘষেছেন। ফলে পানিটা ঘোলা হয়ে গেছে। না খেয়ে ইতস্তত করছি। তিনি বলে উঠলেন, তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলেন। না খেলে আপনার অমঙ্গল হবে।

আরো অনেক কিছু জানতে হবে, এ কারণে তীব্র অরুচি এবং অনিচ্ছা সত্তে¡ও পানিটা খেলাম। খেতে গিয়ে অবশ্য ইচ্ছে করে বেশি অংশ ফেলে দিলাম। এতে তিনি কিছুটা বিরক্ত হলেন। ‘পানির স্বাদ কেমন বাবা?’ প্রশ্ন করলেন সুফিয়া বেগম।

মিষ্টি স্যাকারিন দিলে যেমন হয় তেমন মনে হলো।

তওবা আস্তাক ফেরউল্লাহ। এ কথা বলবেন না। আপনার ওপর আল্লাহর রহমত নেমে এসেছে। তাই পানির স্বাদে পরিবর্তন এসেছে। সুস্বাদু হয়েছে।

এরপর প্রায় এক মিনিট বিরতি। কাগজে কিছু একটা আঁকাআঁকি করছেন। কথা বলতে নিলে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলেন। গম্ভীর কণ্ঠে বলতে শুরু করলেন, আপনার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবই আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। আপনি এখন কী ভাবছেন সেটাও দেখতে পাচ্ছি। আপনার ব্যবসার শুরুটা তো খুবই ভালো হয়েছিল। খুবই ভালো। আপনার কাজের শুরুটা ভালো, শেষটা ভালো না, আপনি খুব বড় মনের মানুষ। আপনি সবাইকে দিয়ে খুশি হতে চান। কিন্তু আপনাকে কেউ বুঝতে পারে না। সামনে যে আপনার বন্ধু, পেছনে সেই আপনার পিঠে ছুরি মারতে চায়। কিন্তু আপনি সেটা বুঝতে পারেন না। আপনার ওপর রাহু এবং শনির প্রভাব আছে। এ কারণে বৃহস্পতি দূরে সরে যাচ্ছে। এখনই বৃহস্পতিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাড়াতে হবে রাহু আর শনিকে।

রুমে ঢুকলেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা লোকটি। বসলেন আমার পাশের চেয়ারে। রাহু ও শনি তাড়ানো বিষয়ে আরো অনেক কথা বললেন। আমার সম্পর্কে বললেন আরো অনেক ভালো ভালো কথা। যা শুনতে বেশ ভালোই লাগে। এত ভালো কথা নিজের সম্পর্কে জীবনে শুনিনি। আমাকে প্রায় ফেরেশতার পর্যায়ে নিয়ে গেলেন। আবার কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে গম্ভীরভাবে বলে উঠলেন, ‘দুই হাত মাথার ওপরে উঁচু করে ধরুন। এক হাতে সুখ আর এক হাতে দুঃখ নিয়ে মুঠ করে ধরুন।’

হাত মুঠ করে বসে আছি। সুফিয়া বেগম কাগজে দাগ কাটছেন। স্বাভাবিকভাবে যেটা করার কথা সেটা না করে সুখ-দুঃখ ধরার ক্ষেত্রে আমি উল্টোটা করেছি। বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছেন, বুঝতে পারছি না। জোরে বলে উঠলেন, ‘আপনি ডান হাতে সুখ আর বাম হাতে দুঃখ ধরেছেন। ঠিক বলেছি? বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।’

মানুষের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার রহস্যটা বুঝতে পারছি। স্বাভাবিক বিশ্বাসে যারা সুফিয়া বেগমের কাছে যাবেন তাদের প্রায় সবাই ‘সুখ’ ডান হাতেই ধরবেন, বাম হাতে নয়। সুফিয়া বেগমের কথার সঙ্গে মিলে যাবে। ফলে তার প্রতি বিশ্বাস আরো দৃঢ় হবে।

আপনি কী সাপের মণি নিতে পারবেন?

সাপের মণি কোথায় পাব কীভাবে নেব? বললাম আমি।

এবার তিনি গর্জন করে উঠলেন, এত কথা বলবেন না। আর বেশিক্ষণ সময় নেই। সাপের মণির ব্যবস্থা আমি করব। আপনার সাহস হবে ব্যবসায় উন্নতি হবে। শত্রু আপনার সামনে এসে পা জড়িয়ে ধরে মাফ চাইবে। বড় সাপের মণি নিতে চাইলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগবে।

সাপের মণি কি এখন দেখা যাবে?

না না না। এই জিনিস বাইরে রাখা যায় না। এটা আছে সাপের মাথার ভেতরে। আপনি এখন কিছু টাকা অ্যাডভান্স করে যাবেন। যাদের কাছে মণিওয়ালা সাপ আছে তাদের খবর দিলে সাপ নিয়ে আসবে। আপনি ব্লেড দিয়ে কেটে সাপের মণি বের করে নেবেন। একজন বিভিন্ন সাইজের আংটি নিয়ে এসে আমার হাতের মাপ নিলেন।

‘তা এখন কত টাকা অ্যাডভান্স করবেন বাবা?’

‘এখন আমার কাছে টাকা নেই। কালকে এসে নিয়ে যাব।’

‘আমার কাছে মিথ্যা বলবেন না বাবা। আপনার মানিব্যাগে ৫শ টাকার নোট দেখতে পাচ্ছি।’

ম্যানিব্যাগ আমার আর উনি ৫শ টাকার নোট দেখতে পাচ্ছেন। আসলে আমি যখন ২শ টাকা ফি দিচ্ছিলাম তখন একজন আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার মাধ্যমে খবরটা চলে গেছে সুফিয়া বেগমের কাছে। বললাম, ‘এটা আমার টাকা নয়, অন্যজনের। টাকাটা আজই দিতে হবে। আমি কালকে টাকা নিয়ে আসব।’

‘আজকে কিছু অ্যাডভান্স করে গেলে আপনার মঙ্গল হতো। আচ্ছা ঠিক আছে কালকে আসেন। আপনার মোবাইল নম্বরটা লিখে দিয়ে যান।

বললাম, সাপের মণি নিলে আমার বিদেশ যাওয়া হবে কি না? তিনি বললেন আপনি অনেকবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতি আপনার সঙ্গে ছিল না। আপনি সাপের মণি ব্যবহার করলে একুশ দিনের মধ্যে বিদেশ যেতে পারবেন।

প্রায় ৩০ মিনিট পরে বেরিয়ে এলাম খানকায়ে শেফা থেকে। আমার ক্ষেত্রে যে ঘটনাগুলো ঘটল প্রায় হুবহু গল্প শুনেছিলাম সালাম সাহেবের কাছ থেকে।

সুফিয়া বেগম কতটা আধ্যাত্মিক, কতটা ক্ষমতাবান তা তার কথার মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।

মানুষের নানা কিসিমের গোপন রোগের বিদ্যুৎগতিতে সমাধান দেয়া ও ভাগ্য ফিরিয়ে দেয়ার নামে গড়ে উঠেছে দাওয়াখানা, হারবাল চিকিৎসা ও হোমিও চিকিৎসালয়। এ চিকিৎসায় বিতরণ করা হয় লিফলেট, যা অশ্লীল ও অশ্রাব্য। এসব লিফলেটের নিচে লেখা থাকে বিভিন্ন দাওয়াখানা হারবাল ও হোমিও চিকিৎসালয়ের ঠিকানা। ভাগ্য ফেরানোর কারিগরদের নামের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে অদ্ভুত ধরনের ডিগ্রি ও মেডেল প্রাপ্তির ইতিহাস, যৌন রোগ ও ভাগ্যবদল করার ব্যানারেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো। প্রশাসনের সামনেই এসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তারা নির্বিকার। মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এরা ব্যবসা করে যাচ্ছে দেদার।

ওষুধ প্রশাসনের হেঁয়ালি ও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে এবং মানুষের গোপনীয় ও ব্যক্তিগত দুর্বলতা পুঁজি করে সারাদেশে ভেজাল, অকার্যকর ও মানহীন ওষুধের রমরমা বাণিজ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, ভাগ্য ফেরানোর নামে গড়ে ওঠা দাওয়াখানা, হারবাল ও হোমিও চিকিৎসালয়ের অধিকাংশের ট্রেড লাইসেন্স নেই। তারপরও ওষুধ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

ধর্মকে ব্যবহার করে বাণিজ্য করার প্রবণতা প্রাচীনকাল থেকে। এক দল ধর্মব্যবসায়ী ধর্মের ব্যানারে মানুষের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতা পুঁজি করে ধান্ধাবাজি করে। ভণ্ড পীর-ফকিরের ব্যানারে তারা নিয়মিত প্রতারণা করছে। গ্রামগঞ্জেও এই টাউট-বাটপারদের অবাধ বাণিজ্য। এই টাউট-বাটপাররা ক্রমেই গ্রাম ছেড়ে শহরে আস্তানা গড়ে তুলেছে। জন্ম দিচ্ছে হুজুর সাইদাবাদী, সুফিয়া বেগম, জীবন চৌধুরীদের। এদের অবশ্য এই ব্যবসা করতে সরকারের অনুমতি নিতে হয় না। সরকারকে তারা ট্যাক্সও দেয় না। তারা ট্যাক্স দেয় এলাকার মস্তানদের। নিয়মিত মাসোয়ারা দেয় সংশ্লিষ্ট থানাকেও। যে কারণে সগৌরবে চলছে এই প্রতারণার ব্যবসা।

‘মনের কষ্ট আর নয় বনে বনে’ অথবা হতাশ জীবনে অমাবস্যা আঁধারের মাঝে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নাময় পূর্ণিমায় যেন হয় আপনার দর্শন কিংবা ‘জীবনের শেষ দর্শন’ এ রকম বিচিত্র স্লোগান দিয়েই ফাঁদ পাতা হচ্ছে প্রতারণার।

ধর্মীয় অনুভতি কাজে লাগিয়ে লৌকিক-পারলৌকিক ব্যবসা যেসব স্থান থেকে হচ্ছে সেগুলো হলোÑ আল্লাহর দান, বাস্তব কাহিনী, দরবারে পীরানী, দরবারে আশেক, কামরূপ কামাক্ষা, যজ্ঞমন্দির, আলি কাদিরী দরবার শরীফ, দস্তগীর পীরের দরবার, শেষ ভাগ্য নিবাস, আশেকানে সমাধান, দরবারে মুক্তি, দরবারে শান্তি, চন্দ্রমণি, কোরাইশী দরবার শরীফ, দরবারে সুলতান শরীফ, রহমানিয়া দরবার শরীফ, দারুল উলুস মাদ্রাসা ও দরবার শরীফ, জান্নাতি দরবার শরীফ, আল্লার দান দরবার শরীফ, হাজী বিল্লাল মিসরী দরবার শরীফ, পায়রা পাথর ঘর, শারা হারবাল কেয়ার, আল নূর, শেরে আলী দরবার শরীফ, ফুরফুরা খানকা শরীফ, স্বপ্ননিবাস দরবার শরীফ, তদবিরে শেফা, বিস্ময় বালক, কালীমন্দির, দরবারের আল তকদীর, গাউছে পাক দরবার শরীফ, মোহাম্মদীয় পাক দরবার শরীফ, আল আহসানিয়া খানকা শরীফ, মুসলিম পাক দরবার শরীফ, স্বপ্নের দরবার, দিকদর্শন, শেষ দিকদর্শন, শেষ দর্শন, আজমেরী জেমস হাউস, আল ফরিয়াদ, স্বপ্ন বাস্তবায়ন দরবার, বৌদ্ধ বাবুর আশ্রম, ক্ষ্যাপা সাধুর আশ্রম, মণিঠাকুরের আস্তানা, শেষ ভরসা কেন্দ্র, জান্নাতি দরবার, মা কালীমন্দির, সর্পরাজের দরবার, সর্প-সম্রাটের শেষ দর্শন, রুহানী দরবার শরীফ প্রভৃতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে নিয়ে জানা যায়, লৌকিক পারলৌকিক এ ব্যবসার মূল লক্ষ্য পাথর বিক্রয়। ক্ষেত্র বিশেষে এ পাথর কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর বাইরে সাপের মণির নামে নেয়া হয় ১ লাখ টাকা। জারজ সন্তানের হাড় ৫০ হাজার টাকা, কালো কুত্তার দাঁত ৬০ হাজার টাকা। তাবিজ ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। মূলত এগুলো বিক্রি করার জন্যই লোক সংগ্রহ করা হয়। তাদের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন অন্যতম লক্ষ্য।

হারবালের নামে প্রতারণা

রাজধানীতে হারবাল চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। নামে-বেনামে বিভিন্ন স্পটে গড়ে উঠেছে  অর্ধশতাধিক চিকিৎসা কেন্দ্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হারবাল ওষুধের ইউনানি দাওয়াখানার নেই কোনো ট্রেড লাইসেন্স। অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে  যৌনরোগ, পাইলস, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক ও ক্যান্সারসহ অনেক রোগের চিকিৎসার কথা বলে প্রতারিত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যারা এই চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেরই হারবাল বা গাছগাছড়া সংক্রান্ত তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। হারবাল চিকিৎসার দাওয়াখানা দিয়ে কবিরাজ কিংবা হেকিম বনে গেছেন। এসব চিকিৎসক নিজের নামের আগে ও পরে যুৎসই বড় বড় ডিগ্রি, বিশেষজ্ঞ ও বিশেষণ বসিয়ে রোগীদের ফাঁদে ফেলছেন।

বর্তমানে রাজধানীতে একশ্রেণীর মহিলা দ্বারা কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে বাসের যাত্রীদের কাছে যৌন চিকিৎসার বিজ্ঞাপন তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টার পাশাপাশি পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে রোগীরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা কবিরাজের শরণাপন্ন হলেও রোগ থেকে পরিত্রাণ মিলছে না । বরং আরোগ্য না হয়ে আক্রান্ত হচ্ছে নতুন নতুন জটিল  রোগে।

ফর্সা হওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে কারওয়ান বাজারের হাফিজিয়া ম্যানশনের জেনুইন হারবাল। মাত্র ১শ টাকায় রোগীর ত্বক পরীক্ষা করে ফর্সা হওয়ার ওষুধ দিচ্ছে। প্রথম ফাইল ১২শ’ টাকা। প্রয়োজনে সঙ্গে দেন বিশেষ ক্রিম। চিটাগাংয়ের দেওয়ানহাট মোড়ের অ্যাজমা কমপ্লেক্সের ইবনে সিনা হারবাল সেন্টার লিমিটেড লম্বা, মোটা, ফর্সা যা-ই হতে চান তার ওষুধ আছে। বাংলাদেশের যে কোনো প্রাš— থেকে তাদের ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে। তবে এজন্য প্রথমে বিজ্ঞাপনে দেওয়া ৩২০৮০৩২৫ নম্বরে ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফ্লেক্সিলোড করতে হয়। পরে ফোন করে ঠিকানা জানালে সে অনুযায়ী এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সার্ভিস চার্জসহ প্রতি কোর্সের দাম পড়ে মাত্র ১ হাজার টাকা। চিকিৎসালয়ের পরিচালক জানান, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে বা ভুয়া হলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আমরা ব্যবসা করতে পারতাম না।’ ফ্লেক্সিলোড কেন করতে হয়, এর উত্তরে তিনি জানান, এসএ পরিবহনে পার্সেল করার খরচ নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

লম্বা হতে চাইলে মালিবাগ রেলগেটের পাশেই হারবাল সেবা কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে অভিনব দুই ধরনের ওষুধ। এর মধ্যে রয়েছে একটি লোশন যা  প্রতিদিন পায়ের পাতায় দিতে হবে। এছাড়া রয়েছে ট্যাবলেটের ব্যবস্থা, যার জন্য খরচ  হবে ২ হাজার টাকা। নিয়মিত এ চিকিৎসা চালিয়ে গেলে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার নিশ্চয়তা দিলেও উপস্থিত আগন্তুকদের চিকিৎসার উপকারিতা সম্পর্কে কোনো তথ্য কেউই দিতে পারেনি। উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসা নিতে আসা আসলাম জানান, চিকিৎসকের কথামতো ২ হাজার টাকা খরচ করেও তিনি কোনো উপকার পাননি।

তাঁতীবাজার মোড়ের মাদ্রাজ হারবালে যৌন সমস্যার সমাধানে এক রোগীকে ১৫ দিনের ওষুধের জন্য ৫ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করা হয়। এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী অভিযোগ করে  বলেন, যৌন সমস্যার জন্য গত ১৫ দিনে ওষুধ খেয়েও তার কোনো লাভ হয়নি।

নগরীর ফার্মগেট মোড়ে হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, চেম্বার খুলে এক রুমে বসে আছেন ‘ডাক্তার’। পাশের রুমে যৌনরোগ এবং স্তনের চিকিৎসা হয়। এই রুমে রোগী আর ডাক্তার ছাড়া কেউ ঢুকতে পারে না। রোগীদের সঙ্গে রোগীর নিজস্ব কোনো লোককেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে রিসেপশনিস্ট জানান, ডাক্তার কথা বলতে রাজি নন।

এছাড়াও উত্তর জুরাইন পাইপ রাস্তার বিজয় ইউনানি দাওয়াখানা মেদভুঁড়ি কমানোর জন্য বিশেষ ওষুধ দিয়ে থাকে। দরদাম প্রতিফাইল হাজার-১২শ থেকে শুরু।

গুলিস্তান এলাকায় যৌন শক্তিবর্ধক ও বিভিন্ন জটিল রোগের মহৌষধ নামে কথিত বনাজী হালুয়া, তেল ও বটিকা বিক্রি করেন ‘কবিরাজ’ মোঃ মহসিন। জানা যায়, তার  মানিকনগর এলাকায় হালুয়া তৈরির কারখানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল মানুষের কাছে বিভিন্ন চটকদার কথাবার্তা বলে এবং নারী-পুরুষের অশালীন ছবি দেখিয়ে এসব হালুয়া ও বটিকা বিক্রি করে আসছেন। এই হালুয়া ও বটিকা বিষাক্ত কেমিক্যাল সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়। এ ধরনের হালুয়া ও বটিকা খেয়ে মানুষের কিডনি এবং লিভার নষ্টসহ জটিল রোগব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ কয়েকজন চিকিৎসক জানান।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, গুলিস্তান, সদরঘাট, মহাখালী, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্পটে গড়ে উঠেছে নানা নামে হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্র। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রের রোগীদের মধ্যে নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের সংখ্যাই বেশি। আবার যৌন চিকিৎসার জন্য মধ্যবয়সীর চেয়ে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাটা বেশি বলে জানালেন যাত্রাবাড়ী হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রের এক ডাক্তার। জানা গেছে, অবৈধ মেলামেশা করে চুলকানি, ক্ষত এবং যৌন কাজে অক্ষমতাসহ বিভিন্ন রোগের সমাধানের জন্য অনেকেই গোপন চিকিৎসা নিতে আসেন এসব নামসর্বস্ব চিকিৎসা কেন্দ্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানায়, যৌন সমস্যার জন্য যাত্রাবাড়ী শাখা থেকে ওষুধ খেয়ে সে কোনো রকমের উপকার পায়নি। প্রথমে মাত্র সাত দিনে সমস্যা উপশমের কথা বলা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে রোগ উপশম না হওয়ায় তাকে ৬ মাসের কোর্স কমপ্লিট করতে বলা হয়। আর এক সপ্তাহে ওষুধ বাবদ রাখা হয় ২ থেকে ৪ হাজার টাকা। ডাক্তারের ভিজিট বাবদ কোনো টাকা নেয়া হয় না। তবে ওষুধের মাধ্যমে সেই টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে অনেক রোগী।

গত কয়েক বছরে সারাদেশে যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পাতা হাজার হাজার হারবাল ও হোমিও প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠলেও ২০০৩ সালের পর এসবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ২০০৩-এর পরে ঢাকার বাইরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে ড্রাগ কোর্টের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালে ১টি ও ২০১০-এ ৩টি মামলা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী ওষুধ বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী সব প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হয়। উৎপাদনকারী প্রতিটি ওষুধ প্রচারের জন্য নিতে হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন। কিন্তু এসবের কোনো তোয়াক্কা না করে যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পেতেছে কথিত হোমিও এবং হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ থেকে ১৭টি হারবাল প্রতিষ্ঠান এবং ৬০টির মতো হোমিও প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন জানান, ভেজাল ওষুধ প্রমাণের জন্য ড্রাগ প্রশাসন প্রথমে অভিযুক্ত ওষুধটি সংগ্রহ করে থাকে। তারপর ল্যাবে পাঠায়। এরপর রিপোর্ট যাওয়ার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে জবাব মনঃপূত না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ব্যবস্থায় আবার ৩টি ধাপ রয়েছে। প্রথমত অভিযুক্ত ওষুধটির উৎপাদন স্থগিত, দ্বিতীয়ত রেজিস্ট্রেশন স্থগিত, তৃতীয়ত অভিযুক্ত ওষুধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। এরপর মামলার দীর্ঘসূত্রতা। অতঃপর অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়া।

এদিকে ওষুধ বিষয়ক অপরাধের জন্য ১৯৮২ সালে ড্রাগ কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হলেও ভেজাল বা অনুমোদনহীন কোনো ওষুধ অথবা বিজ্ঞাপনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কারো মামলা আমলে নিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট আদালত। আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ হলো ড্রাগ প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মামলা দায়ের করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসনের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এসব জটিল প্রক্রিয়া ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা সংক্ষুব্ধ কেউ মামলা করতে যান না। ড্রাগ কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ কোর্টে ৩০টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে মাত্র ৬-৭টি মামলা মানহীন ও ভেজাল ওষুধের জন্য। বাকিগুলো অননুমোদিত বিজ্ঞাপনের জন্য। তবে ২০১০ সালের পর আর কোনো মামলা এ আদালতে দায়ের করা হয়নি।

২০০৩ সাল পর্যন্ত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঢাকা ও অন্যান্য স্থানের যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সেগুলো হলো চট্টগ্রামের হাকিম শাহ আলম চৌধুরীর মেসার্স জীবনের শেষ চিকিৎসা, হাকিম খায়রুল বশর চৌধুরীর জীবনের শেষ চিকিৎসা, কবিরাজ এয়াকুব আলী চৌধুরীর জীবনের শেষ চিকিৎসা, হাকিম হাজী নূর আহমদ চৌধুরীর জীবনের শেষ চিকিৎসা, ঢাকার মেসার্স মগবাজার চিকিৎসালয়, স্বাস্থ্যই সম্পদ, মেসার্স ঢাকা ইউনানি সেন্টার, মেসার্স দি ইউনানি রিসার্চ সেন্টার, মেসার্স হোমিও হেলথ সেন্টার, নাটোরের মেসার্স জীবন শক্তি হাকিমী ঔষধালয়, মেসার্স সাধক জ্যোতিষী, মেসার্স এফ এ চিকিৎসালয়, মহাখালীর মেসার্স হেলথ অ্যান্ড সেক্স ডেভেলপমেন্ট পয়েন্ট, আর কে মিশন রোডের মেসার্স লাইফ কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, বেইলি রোডের এইচ এম ক্লিনিক পয়েন্ট, মেসার্স হেয়ার লাইফ, মেসার্স চায়না হারবাল হোম, মেসার্স বিডি ল্যাবরেটরিজ, মেসার্স ইবনে সিনা হারবাল সেন্টার, মেসার্স নেচার হিলিং, মেসার্স মঘা ঔষধালয়, মঘা শাস্ত্রীয় দাওয়াখানা, মেসার্স মডার্ন হারবাল রিসার্চ গার্ডেন, মেসার্স তুষিন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আলম ম্যানুফ্যাকচারিং। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৪ ধারা লক্সঘন ও ১৯৯৭ সালের সংশোধিত একই আইনের ২১ ধারা মোতাবেক অননুমোদিত বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মামলা করা হয়েছে। তাদের প্রস্তুতকৃত কোনো ওষুধের জন্য মামলা হয়নি। এসব মামলার মধ্যে মেসার্স হেয়ার লাইফ ও মেসার্স সাধক জ্যোতিষীর নামে অননুমোদিত বিজ্ঞাপনের জন্য, মেসার্স মডার্ন হারবাল রিসার্চ গার্ডেনের বিরুদ্ধে কস্তুরীর জন্য মামলা করা হলেও সেগুলো উচ্চ আদালত স্থগিত করে দেন। এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র মোঃ রুহুল আমিন বলেন, স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়েও তারা কাজ করার চেষ্টা করছেন। জনবল বাড়ানো গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতো। চিকিৎসার নামে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনবল সঙ্কটের জন্য তারা তা করতে পারছেন না।

ড্রাগ কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, রাস্তায় চলার পথে বিভিন্ন হারবাল ও হোমিও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হয়, পুরো দেশ বুঝি যৌন রোগে আক্রান্ত। এসব প্রতিষ্ঠানকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেন, হারবাল ও হোমিও চিকিৎসার আড়ালে যেসব প্রতিষ্ঠান যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পেতে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের ওপর কড়া নজরদারি বা মনিটরিং থাকা দরকার।

মাথায় চুল গজাতে গিয়ে বা ফর্সা হতে গিয়ে অনেকেই ত্বক ক্যান্সারের মুখোমুখিও হতে পারেন আশঙ্কা করে বাংলাদেশ মেডিক্যালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সিরাজুল হক বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনো মেডিসিন নেই। এসবই প্রতারণার জন্য প্রচারণা।’ জাতীয় হƒদরোগ  ইনস্টিটিউটের মেডিসিন ও হƒদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রহমাতুল বারী জানান, ‘এসব চিকিৎসা আদৌ কতটুকু চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে তা বিবেচ্য সবার আগে। কেননা কাউকে ডায়াগনসিস না করে মুখে শুনে চিকিৎসা করা চিকিৎসা বিজ্ঞানবহিভর্ত আচরণ। তাছাড়া যে কোনো ওষুধেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে। হারবাল বলছে কীভাবে নিশ্চিত হবে রোগী এটা হারবাল উপাদানে তৈরি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগী যে কোনো সমস্যা থেকে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়া  জানান, চিকন বা মোটা হওয়ার সব রকমের চিকিৎসাও মেলে এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে। তবে তাৎক্ষণিক এসব চিকিৎসার ওষুধ সেবনে ফল পেলেও পরবর্তী সময়ে কিডনির ক্ষতি করে বলে মনে করেন তিনি। এসব চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা যদি হারবাল ওষুধ দিয়ে সমাধান হতো, তাহলে মানুষ বিদেশে চিকিৎসাসেবা নিত না।

হোমিও চিকিৎসা, ইউনানি ও আয়ুর্বেদির নামে প্রতারণা

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কালো তালিকাভুক্ত অর্ধশত ইউনানি ও আয়ুর্বেদি প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের সঙ্গে একের পর এক প্রতারণা করে যাচ্ছে। সব জটিল রোগের ওষুধ উৎপাদনকারী এসব প্রতিষ্ঠান রাজধানীসহ সারাদেশে ইউনানি ও আয়ুর্বেদি ওষুধের নামে বছরের পর বছর রমরমা বাণিজ্য করছে। ১৯৮২ সালের ওষুধ অধ্যাদেশের ১৪ ধারা অনুসারে যে কোনো ধরনের ওষুধ বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও ওষুধ প্রশাসনকে কোনো তোয়াক্কা না করে কালো তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান অনেক আগ থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে ২৬১টি ইউনানি ও ১৬১টি আয়ুর্বেদি কোম্পানি রয়েছে। এগুলোর রেজিস্ট্রেশন থাকলেও এর বাইরে আরো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রেজিস্টার্ড কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির ওষুধ গুণগত মানের। বাকিগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। আকর্ষণীয় এসব বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ¯^ল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষ প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে।

ইউনানি ও আয়ুর্বেদির পাশাপাশি হোমিও চিকিৎসার নামেও চলছে জমজমাট প্রতারণা। রাজধানীজুড়ে গড়ে উঠেছে এই প্রতারকদের নেটওয়ার্ক। এর সদস্যরা ছোট ছোট কার্ড, লিফলেট বিতরণ করে মানুষ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান অবাধে গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লিফলেট, পোস্টার ও বিজ্ঞাপনের ভাষা অভিন্ন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লিফলেটে ‘কম্পিউটারাইজড হোমিও সেন্টার’ নামে চিকিৎসা করে থাকে বলে উল্লেখ করে। এছাড়া প্রয়োজনে মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় বলেও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতারিত লোকদের রোষানলে পড়ার আগেই রাতারাতি নাম-ঠিকানা পাল্টে ভিন্ন নামে ব্যবসা শুরু করে। মডার্ন ভেষজ কমপ্লেক্স, প্যারিস হারবাল গার্ডেন, জনতা দাওয়াখানা, পপুলার হারবাল মেডিক্যাল হোম, এশিয়া হারবাল মেডিক্যাল, বাংলাদেশ হারবাল মেডিক্যাল, আধুনিক হারবাল, দি হারবাল মেডিসিন সেন্টার, আমেরিকান হারবাল কমপ্লেক্স, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সেবা, এবি কোং, আল রাজী ভেষজ লাইফ, ডক্টরস ভেষজ চেম্বার, হারবাল পয়েন্ট, ইউএ হারবাল সেন্টার, আয়ুর্বেদ ভবন-ঢাকা, গ্রামীণ হারবাল মেডিক্যাল, ইন্ডিয়ান হারবাল মেডিক্যাল, হোমিও থেরাপি অ্যান্ড হেলথ কেয়ার, মডার্ন হোমিও রিসার্চ কমপ্লেক্স, ইন্টারন্যাশনাল হোমিও রিসার্চ, জার্মান হোমিও হেলথ, আমেরিকান হোমিও ক্লিনিক, মাদ্রাজ হারবাল মেডিক্যাল, ন্যাশনাল হারবাল, কলিকাতা হারবাল কেয়ার, আমেরিকা হারবাল মেডিক্যাল, ভিআইপি হারবাল মেডিক্যাল, হেকিমী দাওয়াখানা, ভেষজ হেলথ কমপ্লেক্স, ঢাকা হোমিও ক্লিনিক, দিল্লি হারবাল সেন্টার, ইউনানি হেলথ সেন্টার, পিওর হারবাল সেন্টারসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবাধে প্রতারণামূলক এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরুষত্ব ও নারীর দেহসৌষ্ঠবের আকর্ষণ বৃদ্ধির নামে এরা বিক্রি করে নানা মানহীন, ভেজাল, অকার্যকর ওষুধ।

হারবাল ও হোমিওপ্যাথের লেবেল এঁটে বেশ চাকচিক্যময় মোড়কে তারা এসব পণ্য বিক্রি করছে নির্বিঘেœ। এসব পণ্যের মূল্য ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাতের শক্তি চায়না সেক্স মদক, সেক্স কিং জিনসেং মালিশ, স্পেশাল পিএইচ পাওয়ার অয়েল, এইচএম ৬০ এনার্জি ক্যাপসুল, এইচএম এইচ পাওয়ার অয়েল, নিশি মালতি জেনিট, স্পেশাল এএইচ পাওয়ার অয়েল, বিএইচ পাওয়ার অয়েল, স্পেশাল এইচএম পাওয়ার মালিশ, মদক, সেক্স পাওয়ার মদক, ব্রেস্টআপ লোশন, হর্স পাওয়ার লোশন, টাইগার ক্যাপসুল, সেক্স আম্বর ক্যাপসুল, সেক্স পাওয়ার জেলি, পাওয়ার গোপন লোশন, এইচপি কাপ, এইচপি মদক, খারাতিম লোশন, সেক্স পাওয়ার মালিশ, সেক্স পাওয়ার ক্যাপসুল, সেক্স পাওয়ার মদক, পুরুষত্বের প্রতীক মণিরাজ তেল, নারীর সৌন্দর্যের প্রতীক ডিএইচ ক্রিম, ইউএ মালিশ, ইউএ হারবাল ডাস্ট, ইউএ কুস্তায়ে হালুয়া, ইউএ কাপ, সেক্স পাওয়ার মদক, হর্স পাওয়ার লোশন, টাইগার ক্যাপসুল, নাইট কিং অয়েল, হারবাল জেনিটাল ডিউরেক্স স্পেশাল অয়েলসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে পুরুষ-নারীকে আকৃষ্ট করতে চায় প্রতিষ্ঠানগুলো। ঢাকার ৯৩ নিউ সার্কুলার রোডের লিলি প্লাজায় অবস্থিত হোমিও থেরাপি অ্যান্ড হেলথ কেয়ারের ডা. ওয়াজেদ আলীকে তার লিফলেটে উল্লিখিত পুরুষের বিশেষ অঙ্গ স্ফীত করার বিশেষ পণ্যের ব্যাপারে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের ওষুধ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত জানতে চাইলে তাও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে সন্দেহের কথা তুললে তিনি ‘সন্দেহ থাকলে সন্দেহ নিয়ে বসে থাকেন’ বলে ফোন রেখে দেন। পরে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। এর আগে তার প্রতিষ্ঠানের টিঅ্যান্ডটি ফোনে পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে ‘তিনি (ডাক্তার) দেশে নেই’ বলে জানানো হয়। মহাখালী আমতলী মোড়ের এইচ-২৩ এয়ারপোর্ট রোড তৃতীয়তলায় অবস্থিত জার্মান হোমিও হেলথের চিকিৎসক ডা. এম এন ইসলামের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে কথা বলেন ডা. বীরেন্দ্রনাথ সিকদার নামে এক ব্যক্তি।

তার কাছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত পুরুষের বিশেষ অঙ্গের দুর্বলতা দূর করার স্পেশাল জেনিটাল ও মহিলাদের বিশেষ অঙ্গ বড় করার ক্রিম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো পণ্য নেই। যৌন চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতকৃত তাদের ওষুধ কতটা মানসম্পন্ন এবং এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন কি না জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কথিত ডা. বীরেন্দ্রনাথ সিকদার।

এসব ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনীর উদ্দীন আহমদ জানান, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের কঠোর হওয়া জরুরি। এসব অপকর্ম রোধে ড্রাগ প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাবকে অগ্রণী ভমিকা নেয়ার আহŸান জানান তিনি। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধ নামধারী পণ্যগুলো খেয়ে বা ব্যবহার করে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। বাসে, ট্রেনে বা জনসমাগমে যারা এ ধরনের ওষুধ বিক্রি বা লিফলেট বিতরণ করে তাদের ধরে শাস্তি দেয়া উচিত। এ ধরনের প্রতারণা থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের উচিত ধারাবাহিকভাবে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা।

রূপচর্চায় হারবাল প্রতারণা

ডিজিটাল যুগের ছেলেমেয়েরা রূপচর্চায় খুব বেশি মনোযোগী। সেই সুবাধে রূপচর্চার ক্ষেত্রে   ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের প্রতি একটু দুর্বলতাও বেশি। তাই বাহারি বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে মান যাচাই না করে যুবক-যুবতীরা ব্যবহার করছে এ ধরনের পণ্য। বর্তমানে আমাদের দেশে রূপচর্চার পণ্য উৎপাদনে বেশ কিছু ভালো কোম্পানি এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি নামসর্বস্ব কিছু কোম্পানিও এ পণ্য উৎপাদন করছে। রূপচর্চায় হারবাল পণ্যের প্রতি সাধারণ মানুষের কদর থাকায় অনেকে তাদের কোম্পানির নামের শেষে হারবালজুড়ে দেয়। আবার এদের অনেকেই বিদেশি লেভেন নকল করছে।
জানা যায়, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগেও বেশ কিছু রূপচর্চার হারবাল পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানা যায়, বেশ নিম্নমানের হারবাল কোম্পানিগুলোর একটি পণ্য তৈরিতে সর্বোচ্চ ১৮-২০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এর গায়ে বিক্রয় মূল্য থাকে সর্বনিম্ন ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। এ কোম্পানিগুলো চকবাজারের কিছু পাইকারি দোকানকে ম্যানেজ করে ঢাকার কিছু এলাকা এবং গ্রামগঞ্জের দোকানগুলোতে ওইসব নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। দাম কম হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের এসব পণ্যের প্রতি চাহিদাও একটু বেশি। অন্যদিকে মানহীন এসব পণ্য ক্রয় করে ত্বকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই থাকছেন সাধারণ মানুষ। এসব রূপচর্চার বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হয় স্টিয়ারিক, প্যারাবেন, মিথাইল, জিঙ্ক, চর্বি ও সাইট্রিক এসিড।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেলের চর্ম বিভাগের ডা. মো. শাহজাহান জানান, সাইট্রিক এসিড, চর্বি ও জিংক থাকার ফলে ত্বক খুব অল্পদিনে সুন্দর হয়। কিন্তু হঠাৎ করে এ পণ্য ব্যবহার বন্ধ করে দিলে ব্যবহারকারীকে অধিক বয়স্ক দেখা যায় এবং ত্বকে স্থায়ী কালো দাগসহ অন্যান্য চর্ম রোগ জন্ম নেয়।

সূত্রঃ সাপ্তাহিক ২০০০

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে

যুক্তরাষ্ট্রে কম মজুরিতে দক্ষ কর্মী পাচ্ছে বিএমডব্লিউ

যুক্তরাষ্ট্রে কম বেতনে দক্ষ কর্মী পাচ্ছে জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ। অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসাটা সুবিধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদেশী এ কোম্পানিটির কাছে। জার্মানির একটি কারখানায় কর্মীদের যেখানে ঘণ্টায় ৩৩ ডলার পারিশ্রমিক দিতে হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ ডলারে একই মানের কর্মী পাচ্ছে তারা। তা সত্ত্বেও এটিকে ‘উইন-উইন’ সম্পর্ক হিসেবে দেখছে বিএমডব্লিউ ও তাদের যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। 
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় ১ হাজারেরও বেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয় জার্মান এ প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ নিয়োগ সরাসরি নিজেরা না দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে দেয়ার কথা জানিয়েছে।
 
চলমান মন্দায় যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের কারখানাগুলোয় ছাঁটাইয়ের কারণে হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারায়। এর কবল থেকে বাদ পড়েনি দক্ষ কর্মীরাও। তারা এখন বিদেশী কোম্পানির কারখানায় চাকরির জন্য ধরনা দিচ্ছেন। এমনকি আগের চেয়ে অনেক কম মূল্যে শ্রম বেচতেও প্রস্তুত তারা, যা যুক্তরাষ্ট্রে আগে কখনো দেখা যায়নি।
 
সেন্ট্রার ফর অটোমোটিভ রিচার্সের শ্রম ও শিল্প গ্রুপের পরিচালক ক্রিশ্চিন ডিচেক বলেন, ‘আমরা জার্মানির তুলনায় কম মজুরির দেশে বাস করি এবং এটিই তাদের এখানে কর্মসংস্থান তৈরিতে উত্সাহ জোগাচ্ছে।’
 
শুধু বিএমডব্লিউ নয়, জেনারেল মোটরস ও ক্রাইসলারের মতো কোম্পানিগুলোও এখানে ঘণ্টায় ১৪ ডলার মজুরিতে নতুন কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। এ মজুরি জার্মানির যেকোনো কারখানায় দেয়া মজুরির তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে নিম্ন মজুরিতে হলেও কর্মসংস্থানের এ সুযোগে খুশি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা।
 
আড়াই বছর আগে ইলেকট্রোলাক্সের একটি কারখানা থেকে চাকরিচ্যুত ডেবরা হ্যারিসন বিএমডব্লিউ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি সততার সঙ্গে বলছি, জীবনে যত জায়গায় চাকরি করেছি তার মধ্যে এটিই সেরা কর্মস্থল।’ চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি বিএমডব্লিউতে যোগ দেন।
 
উইন-উইন সম্পর্ক: যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছলেও বিএমডব্লিউ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এখানে কারখানা স্থাপনের ১৬ বছর ধরেই নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আসছে জার্মান এ প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে তাদের ৭ হাজার কর্মী নিয়োজিত। এ ছাড়া গাড়ির যন্ত্রাংশ বিপণন ও সরবরাহ খাতে আরও অনেক অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে তারা।
বিএমডব্লিউ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উত্পাদিত গাড়ির ৭০ ভাগই রফতানি করা হয়। তাদের এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি ওবামা প্রশাসনের বাণিজ্য বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রিক সি ওয়াডে প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যদের জন্য ‘উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সম্প্রতি তিনি বিএমডব্লিউর কারখানা পরিদর্শন করেন।
 
তবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের জার্মানির কারখানার শ্রমিকদের দেয়া সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জার্মান অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রির দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে অন্যান্য সুবিধাসহ প্রতি ঘণ্টার মজুরি হচ্ছে ৪৬ ইউরো, যা যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ ইউরো।

সূত্রঃ
বনিকবার্তা

MRP পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যাবে অনলাইনে

এখন থেকে MRP পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যাবে অনলাইনে

বার্তা কক্ষ মে ১১, ২০১২

গোলাম ফারুক দুলাল :বাংলাদেশে সম্প্রতি চালু হয়েছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি), দেশের বাইরে যেতে বা প্রবাসীদের দেশে ফেরার সময় এয়ারপোর্টের ভোগান্তি এড়াতেই চালু করা হয়েছে এই পাসপোর্ট। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নীতিমালা অনুযায়ী এবছরের এপ্রিল মাস থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট- সংক্ষেপে (এমআরপি) ও ভিসা চালুর বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে। প্রচলিত পাসপোর্টের মতোই দেখতে নতুন এই এমআরপি। কেবল পার্থক্য হলো এই পাসপোর্টে থাকা তথ্য এয়ারপোর্টে থাকা কম্পিউটার পড়তে পারে । তবে, এপ্রিলে চালু করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও যারা আগের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন, তাঁদের পুরোনো পাসপোর্টেই চলবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত।

MRP পাসপোর্টের জন্য আর বেশি ছুটাছুটি করতে হবে না। এটি সহজ করতে সম্প্রতি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে MRP পাসপোর্টের জন্য আবেদন অনলাইনে করা যাবে।  শুধু অনলাইনে আবেদন করে আর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে হাতের ছাপ দিয়ে আসতে হবে। দেশে ও দেশের বাইরে ইন্টারনেট থেকে এই আবেদন করা যাবে।

অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করতে http://www.passport.gov.bd/Default.aspxএই লিংকে প্রবেশ করতে হবে। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে উক্ত লিংক থেকে।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট লস এঞ্জেলেসে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন

পলাতক পুঁজির পাচারকারীরা হচ্ছেন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আমলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

পুঁজি পাচারকারী কোটপিতগিণ!

মইনুল ইসলাম । তারিখ: ১২-০৫-২০১২

২০১১-১২ অর্থবছররে ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবাসী বাংলাদেশীরা মোট এক হাজার ৬১ মোট ৪১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ দেশে পাঠিয়েছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য ৩ মে বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ৩০ জুন অর্থবছর সমাপ্ত হলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ এ বছর ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্সস্ গত ৩০ বছরে এ দেশের অর্থনীতির প্রধান শক্তির উপাদান ও ভরসার স্থলে পরিণত হয়েছে, এটা সবার জানা। কিন্তু সত্যান্বেষী গবেষক হিসেবে এই রেমিট্যান্সের আড়ালের বৈদেশিক অভিবাসনের বিভিন্ন বাহ্যিকতা সম্পর্কেও যেহেতু গভীর অনুসন্ধানের সুযোগ আমার হয়েছে।

বাহ্যিকতা বলতে অর্থনীতিতে বোঝানো হয় এমন সব বাহ্যিক সুবিধা ও অসুবিধা, যেগুলোর দায়ভার ওই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (কিংবা অন্য ধরনের এজেন্টরা) বা ভোক্তারা বহন কিংবা সুবিধা ভোগ করে না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের সতত ইতিবাচক ও নেতিবাচক বাহ্যিকতার অস্তিত্বকে স্বীকার করে পথ চলতে হয়, যদিও বিষয়টির ব্যাখ্যা আমরা বেশির ভাগ মানুষই বুঝি না। (আমার পাশে বসে আরেকজন ধূমপান করলে আমারও ধূমপান করা হয়ে যায়। এটা নেতিবাচক বাহ্যিকতার একটা উদাহরণ।)

সরকারিভাবে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসেবে অবস্থান করছেন। অনাবাসী বাংলাদেশিদের একটা ক্ষুদ্র অংশ অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে, কিন্তু এর বাইরে আরও ৪০ থেকে ৫০ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। এই এক কোটি ১৫ থেকে ২৫ লাখ মানুষের শতকরা ৯৫ জনের সঙ্গেই তাঁদের পরিবার-পরিজন-স্বজনদের নিরবচ্ছিন্ন যাগাযাগ রয়েছে এবং বিশ্বের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-বিপ্লবের কল্যাণে এই যোগাযোগ দিন দিন সুলভ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে। গবেষণার তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, এ দেশের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ (কিংবা তারও বেশি প্রবাসী শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী নিয়মিতভাবে হুন্ডি পদ্ধতিতে তাঁদের পরিবার-পরিজন-আত্মীয়স্বজনদের কাছে অর্থ প্রেরণ করে থাকেন) জাল বিস্তার করে রেখেছে অভিবাসী অর্থ প্রেরণকারীদের বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের জন্য। যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন ক্রমবর্ধমান হারে অবাধ এবং বৈধভাবে বাজারব্যবস্থার অধীনে ন্যস্ত হয়ে গেছে, তাই বিশ্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশে এভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয় বেআইনি নয়। এমনকি বাংলাদেশসহ যেসব দেশে এখনো মুদ্রার বিনিময়যোগ্যতা পুরোপুরি বৈধ করা হয়নি, সেসব দেশেও আনুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের পাশাপাশি বা সমান্তরালে ইনফর্মাল বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের আওতা ও দাপট বেড়ে চলেছে; বরং বলা চলে, লেনদেন ব্যালেন্সের মূলধনি খাতে টাকার বিনিময়যোগ্যতাকে নামকাওয়াস্তে অবৈধ রেখে ফর্মাল-ইনফর্মাল দুই ধরনের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে অপব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কায়েমি স্বার্থকে উৎসাহিত করার জন্য। বিশ্বের দেশে দেশে হুন্ডিওয়ালারা যেসব বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করছে, তার ৯০ শতাংশই রূপান্তরিত করা হয় ডলারে। কারণ, যারা ডলার কিনতে আগ্রহী, তাদের চাহিদা পূরণ করাই হুন্ডিওয়ালাদের মুনাফার প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচ্য। এ জন্য ফর্মাল বাজারের চেয়ে ইনফর্মাল বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর টাকায় দুই, তিন এমনকি পাঁচ টাকা বেশি পাওয়া যায় চাহিদা ও জোগানের ওঠানামা এবং ডলারের মৌসুমি চাহিদাস্ফীতির কারণে।

কারা এই বাজারের প্রধান ক্রেতাগোষ্ঠী? গবেষণায় দেখা গেছে, চোরাচালানিরা এ দেশে হুন্ডি ডলারের বড় ক্রেতার ভূমিকা পালন করে চলেছে। চোরাচালান মানে শুধু চোরাইপথে, রাতের আঁধারে, সবার অগোচরে অবৈধ পণ্য আমদানি বোঝানো হয় না। আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার ইনভয়েসিং, মিথ্যা ঘোষণা, মিথ্যা শ্রেণীকরণ, ওজনে কম-বেশি দেখানো, ভুল ট্যারিফ ভ্যালুর ব্যবর্হাতএসব অবৈধ পদ্ধতি চোরাচালানের রকমফের মাত্র। তাই স্বীকৃত নৌবন্দর, স্থলবন্দর, বিমানবন্দর, শুল্ক স্টেশন বা অভিবাসন পয়েন্টগুলোর মাধ্যমেই চোরাচালানের ৮০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়ে থাকে। চোরাচালানের কেতাবি নাম সে জন্যই ‘অবৈধ আন্তজার্তিক বাণিজ্য’, শুধু গোপন বা চোরাইপথের বাণিজ্য নয়, এ ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক, সারচার্জ, অগ্রিম আয় কর, অন্যান্য কর এগুলো ফাঁকি দেওয়া বা কম দেওয়া যেমন চোরাচালানকারীর উদ্দেশ্য, তেমনি বিভিন্ন পরিমাণগত বাধা-নিষেধ, অশুল্ক বাধা-নিষেধ কিংবা নিষিদ্ধ পণ্য আমদানিও চোরাচালানকে উৎসাহিত করে থাকে। এক শ্রেণীর শুল্ক বা ভ্যাট কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ সদস্য, চাঁদাবাজ-মাস্তান, রাজনৈতিক নেতা-কমীর্ঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট আমলা সবাই চোরাচালানের বিশ্বস্ত অংশীদার হয়ে থাকেন। এ জন্য দিনেদুপুরে রাজপথ দিয়ে চোরাচালানের পণ্য পরিবাহিত হতে অসুবিধে হয় না, যার যার ভাগ যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মর্মে সিগন্যাল আদান-প্রদানের ব্যবস্থাটাই মুখ্য। চোরাচালানের জন্য রাতের আঁধার অপরিহার্য নয়।

১. বাংলাদেশে হুন্ডি ডলারের সবচেয়ে বড় খদ্দের আন্ডার ইনভয়েসিং পদ্ধতি ব্যবহারকারী আমদানিকারকেরা। দেশের আমদানি বাণিজ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল ঠিকই বুঝতে পারবেন, আমদানিকারকদের বৃহদংশই নিয়মিতভাবে কিংবা প্রায়ই আন্ডার ইনভয়েসিং পদ্ধতি ব্যবহার করে শুল্ক, মূসক, সম্পূরক কর, সারচার্জ ইত্যাদি ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি আদায়কারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে। দেশের গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাক-টু ব্যাক এলসি এবং শুল্কমুক্ত গার্মেন্টস পণ্য আমদানির সুযোগের অপব্যবহার করে আন্ডার ইনভয়েসিং পদ্ধতির মাধ্যমে অতিরিক্ত কাপড় আমদানি করার প্রমাণ মিলেছে আমার গবেষণায়। যে কাপড় যথাস্থানে ঘুষ-নজরানা দিয়ে বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ফ্যাক্টরি থেকে বের করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই দুই নম্বরি কারবারেরই আরেক নাম ‘লিকেজ’। গার্মেন্টস মালিকদের বেশির ভাগ এই দুনম্বরি কারবারের কারবারি। এমনিভাবে আন্ডার ইনভয়েসিং কম-বেশি সব পণ্য আমদানিতেই ব্যবহূত হয় শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার জনপ্রিয় পদ্ধতি হিসেবে, আর অতিরিক্ত পণ্যের ‘এক্সট্রা মূল্য’ পরিশোধে প্রয়জন পড়ে হুন্ডি ডলারের। উচহারে শুল্ক-কর থাকলেই আন্ডার ইনভয়েসিং বেশি হয়।

২. হুন্ডি ডলারের আরেক বড় খদ্দের পুঁজি পাচারকারী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আমলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পুঁজি পাচারকে ইংরেজিতে বলা হয় ক্যাপিটাল ফ্লাইট। যেসব ব্যবসায়ী রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের অনার্জিত ও অপ্রদর্শিত কালোটাকার বড় অংশ বিদেশে ঘরবাড়ি-জায়গাজমি কেনার জন্য, বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য, বিদেশে শিলকারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য বা দোকানপাট-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্রয় ও পরিচালনার জন্য পাচার করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এ দেশের ‘পলাতক পুঁজির’ প্রধান গন্তব্য। মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচি এ ক্ষেত্রে নাকি সাম্প্রতিক কালে আকর্ষণীয় টার্গেটে পরিণত হয়েছে। যেসব রাজনীতিক দুনীর্তিগ্রস্ত রাজনীতির কল্যাণে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যান কিংবা যেসব আমলা আমলাতান্ত্রিক দুনীর্তির ফায়দাভোগী, তাঁরা তাঁদের অনার্জিত অর্থের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিদেশে পুঁজি পাচারকে বেছে নেওয়াটাই স্বাভাবিক মনে করেন। হুন্ডি ডলারের চাহিদার সীতি ২০১১ সালে ইনফর্মাল বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম ৯০ টাকার ওপরে নিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ওই সময়ের মহা ধস যেসব রাঘব বোয়াল পুঁজি লুটেরা ঘটিয়েছিল, তাদের লুণ্ঠিত পুঁজি দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছিল ব্যাপক হারে। অনেকেই জানেন না, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়া, দুবাই্ এসব দেশে বাংলাদেশি পুঁজিপতিদের মালিকানাধীন অনেক শিলকারখানা, নির্মাণপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে গত তিন দশকে! হুন্ডি পদ্ধতি ব্যবহার করেই এসব পুঁজিপতি তাঁদের বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন, এটা কি সরকার জানে না? এদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন।

৩. বিদেশে চিকি[ৎ]সা করানোর জন্য হুন্ডি পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়, এটাও ওপেন সিক্রেট। প্রায় লক্ষাধিক বিত্তবান পরিবারের ছেলেমেয়ে বিদেশে লেখাপড়া করছে। তাদের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য হুন্ডি পদ্ধতিরই আশ্রয় নিতে হয়।

৪. মানি লন্ডারিং করার জন্যও হুন্ডি ডলার দেদার ব্যবহূত হচ্ছে। নিচের উদাহরণটা দেখুন:

অবৈধ অর্থ উপার্জনকারী পুলিশ সার্জেন্ট, কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট কিংবা আয়কর পরিদর্শক দেশে বাড়ি বানাতে চাইলে বা অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে চাইলে, বিদেশে অভিবাসী তাঁর ভাই-বেরাদরের সহায়তায় বিদেশ থেকে হুন্ডি ডলার কিনে ফর্মাল চ্যানেলের (ব্যাংক বা অন্যান্য চ্যানেল) মাধ্যমে ওই ডলার প্রেরণ করলে, সেটা আর কালোটাকা থাকে না, বৈধ রেমিট্যান্স হয়ে যায়। তারপর ওই ডলারের সমপরিমাণ টাকা যে ক্ষেত্রেই বিনিয়গ করা হোক, ওই অর্থের উৎস নিয়ে আর প্রশ্ন তোলা যায় না। এ ধরনের লেনদেনই মানি লন্ডারিংকে সহজসাধ্য করে তুলেছে এ দেশে।

এ আলোচনায় উদাহরণসহ যা বলতে চেয়েছি তা হলো, হুন্ডি পদ্ধতির মূল আকর্ষণটা আসছে হুন্ডি ডলারের চাহিদা কাঠামোর ব্যাপকতা ও চাহিদার ক্রমবর্ধমান সীতি থেকে। ডলারে দুই বা তিন বা পাঁচ টাকা বেশি পেয়ে যেসব প্রবাসী হুন্ডি নেটওয়ার্কের জালে ধরা দিচ্ছেন, তাঁদের দোষারোপ করে এ সমস্যার সমাধান মিলবে না। ব্যাংকের মাধ্যমে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণকে যতই সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করা হোক না কেন, হুন্ডি নেটওয়ার্কের দাপট তাতে তেমন কমানো যাবে না। বৈদেশিক অভিবাসনের একটা বড়সড় নেতিবাচক বাহ্যিকতা হিসেবে হুন্ডি পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গেছে। তবে এটুকু বলা যায়, বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে হুন্ডি পদ্ধতির জনপ্রিয়তা অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের চেয়ে অনেক বেশি, যার মূল কারণ নিহিত রয়েছে বাংলাদেশে চোরাচালান, পুঁজি পাচার, মানি লন্ডারিং এবং ইনফর্মাল বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সীতির মধ্যেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ফর্মাল অর্থনীতির পাশাপাশি ‘কালো অর্থনীতি’র সাম্রাজ্য ক্রমপ্রসারমান। দুনীর্তিতে পাঁচ-পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গত পাঁচ বছরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে দাবি করা হলেও তা খুব জোরালো নয়। দুনীর্তির অর্থনীতির চাহিদা মেটানোর প্রয়জনেই ব্যবহূত হচ্ছে হুন্ডি পদ্ধতি। ডলারের তুলনায় টাকার অবচয়ন হতে দিলেই এ সমস্যার সমাধান মিলবে না।

যদি প্রশ্ন ওঠে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ফর্মাল রেমিট্যান্স ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে যে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে তার সঙ্গে ইনফর্মাল চ্যানেলগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহ যোগ করলে প্রকৃত মোট রেমিট্যান্স কত দাঁড়াবে? কারও কাছেই এই হিসাবটা সঠিকভাবে পাওয়া যাবে না বোধগম্য কারণেই। কিন্তু ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার যদি ফর্মাল-ইনফর্মাল রেমিট্যান্সের সম্ভাব্য যোগফল দাঁড়ায়, তাহলে তো অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব উভয়ই প্রধান গুরুত্বের দাবি রাখে। বাজারে মূল্যস্ফীতির আগুন, জমিজমার দামের মহাউল্লম্ফন, হাজারে হাজারে কোটিপতির সংখ্যাবৃদ্ধ্তি এগুলো যেমন এ দেশের বাস্তবতা, তেমনি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পালে যে হাওয়া লেগেছে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

কথা হচ্ছে, লাখ লাখ অদক্ষ, আধাদক্ষ অভিবাসীর রক্ত আর ঘামের বিনিময়ে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল অংশ যেভাবে এ দেশের পুঁজি পাচারকারী, চোরাচালানি, দুনীর্তিবাজ রাজনীতিবিদ এবং আমলারা দখল করে নিচ্ছেন, সেই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের নীতি-প্রণেতারা কেন প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না?

[] ড. মইনুল ইসলাম: প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
সূত্র: প্রথম আলো

আন্তর্জাতিক হুন্ডি ব্যবসা মাড়োয়ারিদের নিয়ন্ত্রণে

সাইফুল ইসলাম তালুকদার, আবুধাবি থেকে
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা এখন হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হলেও সরকার এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন। প্রশাসনের নাকের ডগায় হুন্ডি ব্যবসা এখন ওপেনসিক্রেট হলেও এ ব্যবসা বন্ধের ব্যাপারে তাদের যেন কিছুই করার নেই। পাশাপাশি এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাপকভাবে। প্রতিনিয়ত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের টাকা হাইজ্যাকসহ নানা ঘটনার জন্ম দিচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেটসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদিআরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকাসহ যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বসবাস, সেসব দেশ থেকে কম-বেশি হুন্ডির টাকা প্রেরিত হয় বাংলাদেশে। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, সেসব প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলেছেন লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী। কেননা ব্যাংকিং বা অন্য কোন বৈধ প্রক্রিয়ায় রেমিট্যান্স পাঠালে টাকার যে দর পাওয়া যায়, তা থেকে হুন্ডি চ্যানেলে পাঠালে সে টাকার দর অনেক বেশি বলে প্রবাসী বাংলাদেশী সে পথ অনুসরণ করে চলেছে। অপরদিকে এই হুন্ডি চ্যানেল বন্ধ করতে কোন জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় কোটি কোটি টাকার রেমিট্যান্স আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। আর এই হুন্ডির রমরমা বাণিজ্যের ফলে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে এখন বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের উত্থান-পতনে বড় একটি হুন্ডি সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে বলেও জানা গেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভারতের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন মাড়োয়ারি হুন্ডি ব্যবসায়ী এ সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে হুন্ডির টাকা প্রেরিত হয় সেসব দেশে এসব মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা এজেন্ট বসিয়ে হুন্ডির টাকা সংগ্রহ করে থাকে। জানা যায়, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশী কিছু ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারাও এই হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যে টাকা জমা করে থাকেন, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আবার হুন্ডি চ্যানেলের আশ্রয় নিয়ে সেসব টাকা থেকে অবৈধ আয়ের উৎস বের করে নেন। সৌদিআরব থেকে এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানায়, হুন্ডি ব্যবসা এক সময় বাংলাদেশীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালী মাড়োয়ারি সিন্ডিকেট। বাংলাদেশ চ্যানেলে এ ব্যবসা অধিক লাভজনক হওয়ায়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের ঘাঁটিও অত্যন্ত শক্তিশালী। জানা যায়, এসব মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে বাড়ি, গাড়ি এবং বাংলাদেশী পাসপোর্ট পর্যন্ত করে রেখেছে। তাছাড়া এসব ব্যবসায়ীর বাংলা ভাষায়ও ব্যাপক পারদর্শিতা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে এদের ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত করা অনেক দুরূহ। সূত্র আরও জানায়, এসব মাড়োয়ারির বড় ঘাঁটি রয়েছে সৌদিআরবে। কেননা ওই অঞ্চলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থান বেশি হওয়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ এখানে বেশি। এর পরের অবস্থান হল সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের। এসব দেশে রমরমা হুন্ডি ব্যবসা চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা দিরহাম, রিয়াল, দিনার, ডলার ও পাউন্ডের বিপরীতে টাকার মূল্য বেশ বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে ব্যাংক এবং এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। আবুধাবি থেকে এক প্রবাসী ব্যবসায়ী জানান, আমিরাতের এক দিরহামের বিপরীতে বর্তমানে বাংলাদেশে টাকার মূল্য ২০ টাকা ৭৮ পয়সা। কিন্তু হুন্ডির মাধ্যমে এক দিরহামের বিপরীতে ২১ টাকা ৫০ পয়সা বিনিময় হার দেয়া হচ্ছে। এখানে পার্থক্য দাঁড়ায় ৭২ পয়সা। ফলে কষ্টে অর্জিত পরিশ্রমের টাকা দেশে পাঠাতে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী বেছে নিচ্ছে হুন্ডির মাধ্যম। এভাবে বাংলাদেশ সরকার বঞ্চিত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ রেমিট্যান্স আদায় থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদিআরবের এক হুন্ডি ব্যবসায়ী জানান, তার মাধ্যমে প্রতি মাসে শত কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয় ভারতের মাড়োয়ারি হুন্ডিকর্তাদের সঙ্গে। এভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রায় দু’হাজারের ওপর হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রতি মাসে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা ভারত হয়ে বাংলাদেশে হস্তান্তর হয়ে থাকে। ওই ব্যবসায়ী আরও উলে
¬খ করেন, বিশ্বজুড়ে একাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ী থাকলেও তাদের মূল নিয়ন্ত্রণকারী বা গডফাদার হচ্ছে ভারতের মাড়োয়ারি হুন্ডিওয়ালারা। কেননা এরাই বাংলাদেশে নানাভাবে হুন্ডির টাকা পাচার করে থাকে। সিঙ্গাপুরের অপর এক হুন্ডি ব্যবসায়ী জানান, এ ব্যবসাটি আগে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের লোকজন সমানভাবে নিয়ন্ত্রন করত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে অসংখ্য বাংলাদেশী ও পাকিস্তানি এ ব্যবসা থেকে সটকে পড়ে। ফলে এ সুযোগে ভারতের মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় অধিক লাভজনক এ অবৈধ ব্যবসাটি। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যে ক’জন পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে তাদের নামও অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে। এরা এ হুন্ডি ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে থাকে। বাংলাদেশের পুরান ঢাকা ও চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজারে তাদের অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত। সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে হুন্ডির অর্থ সংগ্রহের পর সর্বপ্রথম এসব অর্থ ভারতে পাচার করে থাকে। পরবর্তীতে ভারত থেকে তারা চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইন, আফিম, গরু ও নানা পণ্য ক্রয় করে বাংলাদেশে পাচার করে। বাংলাদেশে এসব পণ্য বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা হয়। ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে প্রায় ৮০ ভাগ। এভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নাজুক অবস্থায় ফেলতে হুন্ডি চ্যানেল এখন বড় ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থায় সরকার এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি না রাখলে আগামীতে আমাদের অর্থনীতির অবস্থা কোন পর্যায়ে দাঁড়ায় সেটা এখন দেখার বিষয়। সূত্র: বেঙ্গলী টাইমস

আমেরিকায় আমার ছাত্রজীবনঃ

আমেরিকায় আমার ছাত্রজীবনঃ
অল্প-স্বল্প গল্প

কানিজ ফাতিমা সুমাইয়া
অনেক দিন ধরে সিসিবিতে কিছু একটা লেখার তাগিদ বোধ করছি। কিন্তু ব্যস্ত আমেরিকান জীবনে সময় কোথায় একটু স্থির হয়ে বসে মনের মধ্যে ছড়ানো ছিটানো ভাবনাগুলো কাগজে কলমে তুলে ধরার? তবে গত সপ্তাহ থেকে আমার ব্যস্ততা কিছুটা কমেছে। ইউনিভার্সিটিতে কোয়ার্টারব্রেক আর ক্রিস্টমাসের ছুটি একসাথে পড়ায় বেশ বড়সড় একটা ছুটি পেয়েছি এবার। সকালে ৬টার সময়, সূর্য ওঠারও আগে আজকাল উঠতে হয়না। আর রাতে টাইম-টেবিল ধরে ১০টার মধ্যে ঘুমাতেও হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে জীবন বেশ ভালোই কাটছে আমার।

কি দিয়ে লেখা শুরু করবো ভাবতে গিয়ে মনে হলো আমেরিকায় আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের প্রথম কোয়ার্টারের অভিজ্ঞতাটাই শেয়ার করি। গত ফল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাষ্টার্স প্রোগ্রাম শুরু করেছি। আর সবার মত আমিও খুব এক্সাইটেড ছিলাম আমার নতুন ছাত্রজীবন নিয়ে। ক্যাম্পাস কেমন হবে, প্রফেসররা কেমন হবে, সর্বোপরি কারা আমার নতুন বন্ধু হবে এইসব ভেবে। অতঃপর আমার সব কৌতুহলের অবসান ঘটল ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম ক্লাসে। ক্লাসটি ছিল Physical Anthropology and Anatomy। আমি যথারীতি ক্লাস শুরু হওয়ার আধঘন্টা আগেই ক্লাসরূমের গিয়ে উপস্থিত। প্রথম ক্লাস বলে কথা! কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে ছাত্রছাত্রীরা আসা শুরু করলো। যথাসময়ে প্রফেসর গিলবার্ট ক্লাসে ঢুকলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে বন্ধুমহলে কিছু আজব শব্দের প্রচলন ছিল, যেমন খুব সুন্দর অথবা অদ্ভুত কিংবা অন্যরকম কিছু দেখলে সবাই বলতাম ‘টাস্কি খাইছি’। সেদিনও ক্লাসে প্রফেসরকে দেখার পর পাশের ক্লাসমেটটিকে আমার খুব কানেকানে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল “মামা, টাস্কি খাইলাম রে“।

প্রফেসর গিলবার্ট হাফহাতা একটা গেঞ্জির সাথে একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ক্লাসে উপস্থিত! এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেই হাফপ্যান্টের ঝুল কোনভাবেই ৭/৮ ইঞ্চির বেশি হবেনা। শুধু তাই নয়, তার ঝাকড়া দোলানো কটকটে লাল কোকড়া চুলগুলো দেখে সবার প্রথম আমার মনে যে চিত্রটি ভেসে উঠলো সেটি ছিল আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের গহীন জঙ্গলে আবিষ্কৃত ওরাং ওটাং নামের মানুষসদৃশ এক প্রানীর ছবি। ধরে নেওয়া হয়, আধূনিক সভ্য মানবজাতির পূর্বপুরুষ ছিল তারা। কিন্তু পরক্ষণেই তার কপালে তোলা রোদচশমা দেখে আমার বিভ্রম ভাংল যে তিনি আমাদের আধূনিক মানবগোত্রেরই একজন। ইন্ডিয়ানা-ব্লুমিংটনের মত প্রথমসারির একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট প্রফেসরের সেই আজব বেশভূষা এবং পারসোনালিটির প্রেজেন্টেশন আমাকে রীতিমত হতভম্ব করেছিল। শুধু তাই নয়, পুরো কোয়ার্টারে যতদিন আমি তার ক্লাস করেছি, কোনদিনই তার হাফপ্যান্টের ঝুল আর বাড়তে দেখিনি।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রথম দিকে আমি ডঃ গিলবার্টের ক্লাসে খুব অস্বস্তিতে ভুগতাম। তার এই আজব বেশভূষা দেখে আমি প্রায়ই ভাবতাম যে তার মধ্যে কোন পার্সোনালিটি-ডিসওর্ডার আছে, কিংবা বছরের পর বছরে গবেষোপণার জন্য বনে বাদারে শিম্পাঞ্জী আর গরিলাদের মাঝে থাকতে থাকতে তার উপরও এদের আছর পড়েছে। কিন্তু যতই দিন যেতে থাকল, আমি ক্রমান্বয়ে আবিষ্কার করতে থাকলাম তার জ্ঞানের গভীরতা, শেখানোর সহজতর পদ্ধতি আর ছাত্রছাত্রীদের মনে তা’ চিরস্থায়ী করে রাখবার কলা-কৌশল। ছোটবেলা থেকে আমার একটা অভ্যাস ছিল ক্লাসে কোনকিছু বুঝতে না পারলে প্রশ্ন করা। প্রফেসর গিলবার্টের ক্লাসেও আমি বহুদিন বিভিন্ন বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেছি। সত্যকথা বলতে, প্রত্যেকবারই তার চমকপ্রদ এবং যথার্থ উত্তরগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। এবং আমার মনের মধ্যে তার সম্পর্কে গড়ে ওঠা নেতিবাচক ধারণাগুলোকে ভুল প্রমাণিত করেছে। তার ক্লাসে আমি ফিজিক্যাল এনথ্রপলোজী কতটুকু শিখেছি জানিনা। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনে আমরা সচরাচর যেসব ষ্টেরিওটাইপড ধারণা নিয়ে চলি সেগুলো যে কতখানি ভুল তা’ অনুধাবন করতে শিখেছি। যেমন, রাস্তাঘাটে, বাসে, ট্রেনে চলতে ফিরতে আফ্রিকান-আমেরিকান্দের আজগুবি পোষাক-আশাক এবং আচরণ দেখে আগে ভাবতাম এরা বোধহয় স্বাভাবগত কারণেই এমন। কিন্তু আমেরিকায় ওদের নির্যাতনের ইতিহাস এবং ওদের প্রতি Discrimination গুলো জানতে পাড়ায় ওদের প্রতি যে নেতিবাচিক ধারণগুলো ছিল, তা’ ভেঙ্গে গেছে। এখন আমি ওদেরকেও সাধারণ মানুষের মতোই মনে করি।

আমার আরেকটি ক্লাস ছিল Anthropology of Race and Racism.এক কথায় বর্ণ এবং বর্ণবাদ। বাংলাদেশে থাকতে যে ব্যাপারটি নিয়ে কোনদিন আমি মাথা ঘামাইনি সেই বিষয়টি যে আমেরিকান সমাজে এত গুরুত্বপূর্ন সেটা আমেরিকার মাটিতে প্রথম পা’ রেখেই বুঝেছি। নিউইয়র্কের jfk এয়ারপোর্ট এ বিশাল বড় এমিগ্রেশ্ন লাইনে দাঁড়িয়ে আছি হঠাত ইমিগ্রেশন অফিসার আমার পিছনের প্যাসেঞ্জারকে উদ্দেশ্য করে বলল-” the guy behind the brown lady”। এটা ছিল আমেরিকার মাটিতে আমার প্রথম racist অভিজ্ঞতা। খুব অবাক হলাম একজন সরকারী অফিসারের মুখ থেকে এমন একটা কমেন্ট শুনে। সত্যি কথা বলতে কি এর আগে বাংলাদেশে থাকতে আমার গায়ের বর্ণ যে বাদামি এটা আলাদা করে উপলব্ধি করি নাই। বাংলাদেশে আমি শ্যাম বর্ণ বলেই জানতাম যা কিনা শতকরা ৮০% বাংগালীর গায়ের রং। কিন্তু পৃথিবীর আরেক প্রান্তে গিয়ে আমার পরিচয় যে এত ভিন্ন বিষয়টি আমি সেদিন প্রথম jfk এয়ারপোর্ট এ আবিস্কার করলাম।

যাই হোক, আসা যাক আমার আসল গল্পে।- আমার Race and Racism কোর্সের প্রফেসর ছিলেন একজন এশিয়ান মহিলা, নাম Cngin Choar Sin। তার নাম এবং চেহারা দেখে তার আইডেন্টিটি বের করা খুবই মুশকিল। কোর্সটি নেবার আগে তার নাম দেখে আমার ধারণা হয়েছিল তিনি নিশ্চয়ই চাইনিজ অথবা জাপানীজ। কিন্তু ক্লাস করতে গিয়ে প্রথম দিনেই আমি কনফিউজড হয়ে গেলাম। যদিও তার চেহারা দেখতে চাইনিজদের মতো, কিন্তু গায়ের রঙ আমাদের মতো বাদামী। তিনি একই সাথে ইংরেজীর পাশাপাশি তাগালগ (ফিলিপাইনের ভাষা), তামিল, মালে, এবং চাইনিজ বলতে পারেন। একদিন ক্লাসে ষ্টুয়ার্ট হলের Old and New Identities পড়াচ্ছেন, আমি কৌতুহল দমাতে না পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করেই বসলাম, তার আইডেন্টিটি কি? তিনি আমাকে যে উত্তর দিয়েছিলেন তা ছিলোঃ “I was born in Taiwan, but grew up at a Tamil neighborhood in Malaysia, and my father is a Chinese and my mother is a Malaysian Muslim. Now you decide what is my identity”. এখন আপনারাই বলুন আমি বা আমরা তাকে কিভাবে আইডেন্টিফাই করবো?

আমেরিকার স্বাধীনতার পর থেকেই এইদেশে আইডেন্টিটি, এথনিসিটি, ন্যাশনালিটি ব্যাপারগুলো নিয়ে অনেক আন্দোলন এবং লেখালেখি চলছে। এবং প্রফেসর নিং এর মত কনফিউজিং কেস এদেশে অগণিত। খোদ আমেরিকার সরকারও সেনসাসে এই ব্যাপারটাকে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে আলাদা করতে পারেনি। ডঃ নিং এর ক্লাসে আমার বিভিন্ন সহপাঠীদের মুখ থেকে তাদের রেস, এথনিসিটি, ন্যাশনালিটি নিয়ে বিভিন্ন সময় যেসব কনফিউশন তৈরী হয়, তা’ নিয়ে গল্প, আলোচনা এবং বিতর্ক শুনেছি। কখনো দেখতাম তারা একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসতে পারতো, আবার কখনো পারতো না। কিন্তু যেদিন ক্লাস শেষ হলো, সেদিন মনে হয়েছে এই কোর্সটা শুধুমাত্র এন্থ্রোপলোজির ছাত্র-ছাত্রীদের ছাড়াও আর সকল গ্রাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের জন্যই বাধ্যতামূলক করা দরকার।

আমার আরেকটা কোর্স ছিল  Academic Writing and Publishing. প্রফেসর জেমস ব্রাডির তত্বাবধানে পুরো কোয়ার্টার জুড়ে আমাদেরকে গলদঘর্ম হতে হয়েছে মেইনষ্ট্রীম আমেরিকান লেখনী রপ্ত করতে। খোদ আমেরিকায় জন্ম নেওয়া এবং বড় হওয়া ছাত্রছাত্রীরা এই ক্লাসে নাকানি-চুবানি খেয়েছে। সেখানে সদ্য অভিবাসী আমার অবস্থা ছিলো আরো করূণ। প্রায় প্রতিটি এসাইনমেন্টে আমার লেখায় ডঃ ব্রাডি লালকালির অপারেশন চালাতো। আর প্রতিটি ক্লাসেই আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, আমি কি আদৌ ইংরেজী লেখা শিখেছিলাম? দিশেহারা আমি কোন কূলকিনারা না পেয়ে ছোটবেলায় ক্লাস নাইনের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ইংরেজীতে ৯১ পাওয়ার স্মৃতি দিয়ে মনকে স্বান্তনা দিতাম। সেদিন বেলাল স্যার বলেছিলেন তার পনের বছরের শিক্ষকতার জীবনে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ নম্বর! অথচ আজ ডঃ ব্রাডির লালকালির দাপটে আমার এসাইনমেন্টের কালো শব্দগুলো রীতিমত মলিন হয়ে যায়। সবার এসসাইনমেন্ট যেখানে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ড্রাফটেই আপ্রুভ হতো, সেখানে আমার লাগল চার/পাঁচ ড্রাফট। উল্লেখ্য যে, এই ক্লাসে প্রতি সপ্তাহে দুইটা করে এসাইনমেণ্ট জমা দিতে হতো, যা’র কোনটাই সাত থেকে দশ পৃষ্ঠার কম নয়। আর আমার জন্য কষ্টের বোঝা ত’ ছিন এমনিতেই আরো তিনগুণ। আমার মনে হয়, ঢাবি’র চার বছরে যতখানি লিখেছিলাম, এই তিন মাসে তারও থেকে বেশি লিখাছি। এত কষ্টের পর গতপরশু ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে এই ক্লাসের গ্রেডটি ‘এ’ দেখে মনে হলো যে, ‘কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে’ কথাটি যে বলেছে সে আসলেই একটা জিনিয়াস।

সবশেষে একটা বিষয়ে যা’ না লেখলেই নয়। আমাদের অনেকের মনেই আমেরিকা সম্পর্কে নানা বিদ্বেষ, ঘৃণা জমে আছে। এবং সেসবের পেছনে হয়তো অনেক যৌক্তিক কারণও আছে। কিন্তু এখানকার শিক্ষার উচ্চমান নিয়ে আমার মনে হয় কারো মনে কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমার গত এক কোয়ার্টারের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, এদের শিক্ষাব্যবস্থা খুবই বাস্তবমুখী এবং যুগুপোযোগী। সমসাময়িক বিষয়গুলোকে তারা পাঠ্যক্রমের মধ্যে নিয়ে এসেছে। ক্লাসরুমের পাঠদান পদ্ধতিও অনেক উন্নততর যেখানে শিক্ষকের সাথে ছাত্রের অনেক বেশি আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এরফলে ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজস্ব মতামত গঠন করার এবং তা’ তুলে ধরার সুযোগ পায়, সার্বিকভাবে জীবনে সাফল্যের জন্য যেটা খুবই দরকারী।

Source: http://banglabarta.dk/details.php?cid=1&id=2578

আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

On Saturday, community leaders and activists spoke to a packed house at an event in Parkchester commemorating 41 years of Bangladeshi independence from Pakistan. (Photo by Rachel Sapin)

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

নিউইয়র্ক থেকে এনা : স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় আসার পরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপ্যানিক এবং শ্বেতাঙ্গের চেয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে দারিদ্র্যের এ হার দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস রিপোর্টের ওপর পর্যালোচনার পর এশিয়ান-আমেরিকান ফাউন্ডেশন এ তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তা মার্কিন মিডিয়াগুলোতেও ৯ মে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ওপর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশীর ৫৯% অত্যন্ত্ম গরিব। সিটির এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশীদের আর্থিক অবস্থান নবম স্থানে। ২০১০ সালের ওই সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রুকলিনে বাংলাদেশীর সংখ্যা ৬১ হাজার ৭৮৮ এবং ২০০৬ সালে তা ছিল ২৮২৬৯। এশিয়ান আমেরিকান ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে যে, ব্রুকলিনে পাকিস্ত্মানি এবং ভিয়েতনামি ইমিগ্র্যান্টদের অবস্থাও তথৈবচ।

উলেস্নখ্য, ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিরাট একটি অংশ নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বেশকিছু বাংলাদেশী সিটিতে ট্যাক্সি ড্রাইভিং করেন। খুচরা দোকানে সেলসম্যানের কাজও করেন উলেস্নখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী। ফেডারেল, স্টেট এবং সিটি প্রশাসনে কাজ করেন এমন বাংলাদেশীর সংখ্যা নিতান্ত্মই কম। এজন্যই যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে না। কারণ, ইউএস সেনসাস ব্যুরো এ তথ্য সংগ্রহ করে ট্যাক্স রিটার্ন থেকে। অপরদিকে কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশীর বিরাট একটি অংশ অফিসিয়াল কাজ করেন বিধায় তাদের আর্থিক অবস্থান কিছুটা ভালো। এদিকে মন্দার কারণে অসংখ্য বাংলাশীর কর্মঘণ্টা হ্রাস করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনো গতি আসেনি। নির্মাণ ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে কম্যুনিটিতে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। ব্রুকলিনের মতো আরো অনেক এলাকাতেই বাংলাদেশীরা নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখী বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্কে নতুন প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বেশী কাজ মেলে ডানকিন ডোনাট, কেএফসি, ম্যাগডোনাল্ডসহ ফাস্টফুডের দোকানসমূহে। এসব দোকানে প্রতি ঘন্টার জন্য পারিশ্রমিক দেয়া হয় মাত্র ৭ ডলার ২৫ সেন্টস। এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করলে ৪৮ঘন্টায় আয় হয় ৩’শ ৪৮ ডলার। এ হিসেবে মাসিক আয় দাড়ায় ১৩৯২ ডলার। কিন্তু এক বেড, এক ড্রইং রম্নমের একটি বাসার ভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ডলার। একার আয়ে বাসাভাড়া নিয়ে খাওয়ার টাকা থাকেনা। ফলে স্বামী-স্ত্রীরা পালা করে কাজ করেও দারিদ্র ঘোচাতে পারেন না। এ মুহুর্তে সরকারী চাকুরী নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে দু’একটা হলেও মুসলমানদের তাতে নেয়া হয়না। কৌশলে তাদের চাকুরী সা্কক্ষাৎকার এড়িয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতো কষ্টে থাকার পরেও দেশে আত্মীয় স্বজনের কাছে কেউ লজ্জায় কষ্টের কথা বলেন না।

” … Free International Calls: Free mobile calls between 50 countries …”

The Asian community was the fastest growing major population in New York City, increasing by 30% in the past decade. Asians are now 13.9% of the City’s population. In the same period, the population of Asian children grew by 16%, the only major race and ethnic group to show an increase, while the number of seniors in our community grew by 64%, the largest increase among major race and ethnic groups. The report also shows:

  • New York City is home to the largest Bangladeshi and Pakistani population in the U.S.
  • Korean children are twice as likely not to have health insurance than all children in New York City.
  • The poverty rate of Asian seniors increased while other race/ethnic groups declined.
  • Asian seniors were more than twice as likely to have no health insurance coverage than seniors in other populations.
  • Japanese have one of the highest rates of seniors living alone, citywide.
  • While Asians represent 11% of the citizen voting-age population in New York City, Asians were least likely to be registered to vote.
  • Despite having the highest income in the Asian community, Filipinos saw a drop in the median household income and an increase in child poverty rate of 4%.
  • Chinese, Indians and Koreans own 80% of the Asian-owned businesses in our City.
  • Asian workers had the largest jump in unemployment rates.
  • Asian-owned businesses contributed $38 billion worth of sales, receipts or value of shipments to the City’s economy.

Visit us on FaceBook একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

New face of poverty?

Brooklyn’s Bangladeshi community poorer than blacks and Latinos

Nearly 54% of the immigrant group live in poverty, report finds

By / NEW YORK DAILY NEWS

Wednesday, May 9, 2012, 6:21 PM
Mamnunul Haq. - (Susan Watts/New York Daily News)

Susan Watts/New York Daily News / Mamnunul Haq. – (Susan Watts/New York Daily News)

 A new face of poverty is emerging in Brooklyn.

Recent U.S. Census data shows that the borough’s Bangladeshi community is poorer than blacks, whites, or Latinos living in the county.

The Asian American Federation found that 53.9 % of Bangladeshis living in Brooklyn are poor – the highest rate among the city’s eight largest Asian immigrant groups.

The poverty rates for Bangladeshis was nearly double the numbers for blacks, whites, and Hispanics in the borough and citywide, according to stats from 2006 to 2010.

“We want to make sure that the programs that address poverty in the city address the specific needs of these groups,” said AAF’s Census guru Howard Shih.

The report also found high rates of poverty among Pakistanis and Vietnamese reidents in the city.

“They are really, really starting out at the bottom,” said CUNY sociologist Philip Kasinitz of the Banladeshis and other newcomers. “A lot of new (immigrant) groups are growing very rapidly.”

Asians are the fastest growing immigrant group in the city, increasing by one-third in 2010 compared to a decade ago and adding 262,142 new residents, said the AAF.

A large portion of the expansion came from the Bangladeshi community – centered in Kensington – which has doubled in size surging from 28,269 in 2000 to 61, 788 in 2010.

Father of three Mamnun Haq, AGE, moved to Kensington twenty years ago leaving behind a bank officer position in his South East Asian homeland.

Haq scrambled to find a steady paycheck in New York learning that his banking experience was worthless.

So he did what a lot of his friends were doing – drove a yellow cab.

“They are first generation and are trying to find work, mainly doing odd jobs,” said Haq pointing out that many of his friends are either hacks, construction workers, or restaurant employees at Dunkin’ Donuts.

But a passenger stabbed Haq in March 2005 ending his taxi career.

“I had a tough time,” Haq said.

He now runs a health program at NYU centered on teaching Bangladeshis how to eat better. A third of New York’s Bangladeshis suffer from diabetes, said Haq, three times the city’s average rate.

“Their food is too starchy; they eat too much rice,” Haq said.

Haq teamed up with Councilman Brad Lander (D-Kensington) getting more Bengali translators for Kensington public schools and pushing more Bangledeshi to attend community meetings to learn what services the city provides.

“There is still a long way to go,” said Lander. “We haven’t caught up with the growth of the community.”

Some experts pointed out that although many new Asian immigrants are poor, the hard numbers are much higher in the black and Latino communities.

The Community Service Society of New York found that an estimated 315,000 blacks and Latinos live in poverty in Brooklyn.

simonew@nydailynews.com

Read more: http://www.nydailynews.com/new-york/brooklyn/face-poverty-brooklyn-bangladeshi-community-poorer-blacks-latinos-article-1.1075313#ixzz1uVSYHVsu

Asians Lead City In Growth Rate

 By SUMATHI REDDY

While Chinatown’s Asian population declined over the past decade, the Asian footprint widened in far-flung neighborhoods from Sunset Park in Brooklyn to Murray Hill in Queens.

In a report released Friday the Asian American Federation, an advocacy and civic group, zeroed in on the city’s booming Asian population, breaking it down by country of origin, neighborhood and age.

Using U.S. Census data from 2000 and 2010, as well as American Community Survey results, the report tracks demographic changes in the Asian population, which increased 30% between 2000 and 2010, making it the city’s fastest-growing racial and ethnic group. Asians compose 13.9% of the city’s population, versus 10.9% in 2000, according to the report. The group showed growth in every borough.

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

Queens continued to have the largest Asian population, and it exceeding the number of blacks in the borough for the first time. The report predicts that if growth rates continue at the current pace, Asians will become Queens’s largest ethnic group this decade, topping non-Hispanic whites and Hispanics.

Brooklyn’s Asian population grew at the fastest clip, with children fueling much of the increase. The number of Asians in Dyker Heights and Sunset Park East, for example, shot up 83% and 60%, respectively.

The report found an increasing diversity within the Asian population. While Chinese and Indians continue to be the largest groups, the fastest-growing ethnic groups were Hmong, Taiwanese, Bangladeshi and Laotians, all of which more than doubled in size over the past decade, though some had tiny base populations. (The Hmong were the smallest, with 83 people.) Other emerging groups, though still small in number, include Nepalese, Burmese and Bhutanese, many of whom came to the U.S. as refugees in recent years.

Howard Shih, census programs director for the Asian American Federation, said the numbers showed that Chinatown’s 15% decrease in Asians was driven largely by a loss of children, while the boom in Sunset Park and Bensonhurst was fueled by children.

Queens had the largest increase in the number of Asian seniors.

The report noted several shifts in settlement. Koreans seem to be moving out of Jackson Heights and Elmhurst further east to Bayside and surrounding neighborhoods, said Mr. Shi.

Meanwhile, Astoria, Elmhurst and Flushing saw declines in the Indian population but their numbers increased in Richmond Hill, South Ozone Park and Northeast Queens.

One longstanding goal of the Asian community is to help Asian-American candidates win public office. The report showed that while the number of registered Asian voters has doubled, registration rates have remained relatively stable, said Mr. Shih.

“It certainly shows the great potential within the Asian community for being more engaged civically,” said Yang Chen, executive director of the Asian American Bar Association. “It would be a shame if we weren’t able to mobilize because it is an election year and it is a chance for the Asian community to have their voice heard.”

Write to Sumathi Reddy at sumathi.reddy@wsj.com

A version of this article appeared April 21, 2012, on page A17 in some U.S. editions of The Wall Street Journal, with the headline: Asians Lead City In Growth Rate.
http://online.wsj.com/article/SB10001424052702303513404577356153202527234.html?mod=WSJ_article_comments#articleTabs%3Darticle

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 65 other followers