বাংলাদেশের যাবতীয় রপ্তানি আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে

আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য

ড. আবু এন. এম. ওয়াহিদ :: স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ৪১ পেরিয়ে মাত্র ৪২এ পড়ল। এ সময় স্বাধীনতার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে যে কেউ হিসেব নিকাশ করতেই পারেন। এই বিচার-বিবেচনায় ইতিবাচক

এবং নেতিবাচক অনেক কিছুই অলোচনায় উঠে আসতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক। দেশে বিরাজিত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হতাশায় অন্যদের মত আমিও অনেক সময় দেশ ও দেশের ভবিষ্যত সম্মন্ধে শঙ্কিত হই, নেতিবাচক অনেক কিছুই বলে ফেলি, এবং মাঝেমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে লেখালেখিও করি, কাগজে ছাপাই, লোকজন পড়ে, প্রতিক্রিয়া জানায়, কোনো কোনো সময় বাহ্বাও কুড়াই।

তবে আজ বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক দিকে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। স্বাধীনতার ফসল স্বরূপ আর কিছু না হলেও বাংলাদেশ দুটো লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। প্রথমত, প্রায় ১ কোটি পরিশ্রমি জনশক্তি আজ বিদেশের মাটিতে কর্মরত। প্রতি বছর তাঁরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা আয় করে দেশে পাঠাচ্ছেন।

এছাড়া বিরাট আকারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আজকাল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তৈরি পোশাক ছাড়াও আরো অনেক নন-ট্র্যাডিশনাল আইটেম দেশের বাইরে যাচ্ছে। রপ্তানি দ্রব্যের তালিকায় আছে বিভিন্ন ধরণের হিমায়িত মাছ, সামুদ্রিক শেল ফিশ, টিনজাত ফল, ফলের রস, তরি তরকারি, গুঁড়ো মসলা, কালিজিরা চাল, চিঁড়া-মুড়ি জাতীয় শুকনো খাবার, চা, চামড়া, চামড়াজাত দ্রব্য, পাট, পাটজাত দ্রব্য, কুটির ও হস্ত শিল্প জাত দ্রব্য সামগ্রী, সিরামিক টেবিল ওয়েয়ার ও সিরামিক প্রডাক্টস, সাবান, ব্যাটারি, বড়লেখার সুজানগরের আগর-আতর ও সুগন্ধী দ্রব্য, খেলনা, ঔষধ, কীটনাশক রাসায়নিক দ্রব্য, জুয়েলরি, ঘড়ি, নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে সিমেন্ট, পাথর, বালু, এমন কী ইটও ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে রপ্তানি হয় বলে শুনেছি। ইদানীং স্ক্র্যাপ মেটাল ও তা থেকে তৈরি সমূদ্রগামী জাহাজও বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যাচ্ছে। আমেরিকার বাজারে যেসব বাংলাদেশি পণ্য নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি বা পাই তার বয়ানও আমার আজকের আলোচনায় উঠে আসবে।

প্রথমে বলছি বাংলাদেশীয় তৈরি পোশাক শিল্পের বিবর্তন ও তার সাফল্যের সংক্ষিপ্ত পটভূমি। ঊনিশ শ’ আশি সালের গোড়ার দিকে আমি কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র এমএ পাশ করে পিএইচডি শুরু করেছি। এমন সময় আমার বড় ভাইএর সুবাদে আমেরিকায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেয়ে যাই। তার কিছুদিন পরই বস্টনের নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিতে অ্যাডমিশন সহ একটি টিচিং অ্যাসিস্টেন্টশিপের অফার আসে।

অফারটি পেয়ে আগপাছ না ভেবেই ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে সিদ্ধান্ত নিলাম ম্যানিটোবার পিএইচডি প্রোগ্রাম থেকে স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে যোগ দেব পরবর্তী জানুয়ারিতে। উইনিপ্যাগ থেকে বস্টন যাওয়ার পথে নিউ ইয়র্কে বড়ভাইএর বাসায় ছিলাম দু-তিন সপ্তাহ। ওই সময় সেখানে দেখা হয়েছিল এক তরুণ বাংলাদেশি গারমেন্ট উদ্যোক্তার সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি সাহসের সাথে বেশ জোর দিয়ে একটি কথা বলেছিলেন যা আজও আমার মনে আছে। তাঁরই ভাষায়, ‘এবার ব্যবসা লাইনআপ করে গেলাম, ইনশাল্লাহ আগামী বছর এসে মাল্টিমিলিয়ন ডলারের কনট্র্যাক্ট সাইন করে যাব’। তখন ওই গারমেন্ট ব্যবসায়ীর চোখে-মুখে যে আত্মপ্রত্যয় এবং দৃঢ়তার ছাপ দেখেছিলাম তাতে তাঁর কথার বিশ্বাসযোগ্যতায় আমার মনে একটুও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দানা বাঁধতে পারেনি।

এরপর প্রায় দশ বছর কেটে যায়। ইতিমধ্যে জীবনের অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আমি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের চার্লস্টন শহরে ইস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছি। এমনি এক সময় ১৯৯০ সালের শেষ দিকে চার্লস্টনে প্রয়াত ড. মুশফেকুর রহমানের বাড়িতে দেখা হয় বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্টিত এবং সফল পোশাক শিল্পের উদ্যেক্তার সঙ্গে। তাঁর পুরো নাম কী তা জানা হয়নি, তবে সবাই তাঁকে জাকারিয়া স’ব বলে ডাকছিলেন।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠিত একটি বড় এবং সফল গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিক। তাঁর কোম্পানির নাম ছিল ‘জুয়েল গার্মেন্টস’। ওই দিন সবার মুখেই শুনছিলাম পোশাক শিল্পে জাকারিয়া সা’বের সফলতা ও তাঁর ধন দৌলতের কথা। ছেলেমেয়েদের আমেরিকায় পড়াবার জন্য তিনি ওহাইওর ডেইটনে রীতিমত আরেকটি সংসার পেতেছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে কিছুদিন পর ডেইটনে জাকারিয়া সা’বের বাসায়ও আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। যতদূর মনে পড়ে তাঁর ছেলের নাম ছিল জুয়েল এবং মেয়ে দু’টির নাম ছিল নয়ন এবং নূপুর।

অন্য অনেক ব্যবসার সাথে আমার এক মামারও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি আছে। তিনি ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে ঘন ঘন আমেরিকা আসেন। আসলেই দেখেন কোন কোন স্টোরসে তাঁর কোম্পানির তৈরি পোশাক রাখে এবং বিক্রি করে। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ রকমের আত্মতৃপ্তি উপভোগ করেন। আমি এবং আমার স্ত্রী এখানকার ডিসকাউন্ট এবং স্পেশাল্টি স্টোরস সব জায়গাতেই যাই। কোনো সময় কেনা কাটা করতে, কোনো সময় উইন্ডো শপিংএ বা নিছক ঘোরাঘুরি করতে। কম বেশি প্রায় সব দোকানেই আমি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখতে দেখেছি। কোনো কোনো দোকান থেকে মাঝে মধ্যে কিনেছিও। ওয়াল মার্ট, কে-মার্ট, গ্যাপ, ওল্ড নেভী, মেসিজ, গুডিজ, টিজে ম্যাক্স, টার্গেট, সিয়ার্স, ডিলার্ডস, জেসি পেনি, বেল্ক, ডিজনি স্টোরসের র‌্যাকে বাংলাদেশের তৈরি বিভিন্ন জাতের পোশাক হরমামেশাই দেখা যায়।

 

swadesh Ekush News Media Jahan Hassan

Swadesh Restaurant, Los Angeles

বাংলাদেশের রপ্তানিজাত ননট্র্যাডিশনাল আইটেম রাখে আমেরিকার কার্লাইল অ্যান্ড কোম্পানি, বাথ অ্যান্ড বডি ওয়ার্কস, ওল্ড মিল পটারিজ, পটারি বার্ন, বেড বাথ অ্যান্ড বিওন্ড, ডলার ট্রি, ডলার জেনারেল স্টোরস, ইত্যাদি। বাংলাদেশের যাবতীয় রপ্তানি আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এবার দিচ্ছি আমার দেখা আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি দ্রব্যের একটি খতিয়ান। কয়েক মাস আগে আমি এবং আমার স্ত্রী একদিন কাপড় কিনতে গিয়েছিলাম মোটামুটি নামি দামি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরস – মেসিজে। আমার স্ত্রী মেয়েদের কাপড় দেখছিলেন। আমি উপর তালায় ঘোরাঘুরি করছিলাম ডমেস্টিক্স সেকশনে। হঠাত্ চোখে পড়ল বাংলাদেশের সিরামিক প্রডাক্টস।

ডিনার প্লেট, কারি বোল, ফুলদানি, পানির জার বা পিচার, সল্ট অ্যান্ড পেপার শেকার ইত্যাদি, ইত্যাদি। কেনার ইচ্ছে ছিল কিন্তু দাম দেখেই আমার চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। একেকটি ডিনার প্লেটের দাম ৭০ ডলার, একেকটি মাঝারি আকারের কারি বোলের দাম ধরা হয়েছে ৪৫ ডলার করে। এক জোড়া সল্ট অ্যান্ড পেপার শেকারের দাম ৫০ ডলার। ফুলদানি ও পিচারের দামটা সঠিক মনে করতে পারছি না। প্রতিটি প্রডাক্টের কোয়ালিটি এবং ফিনিশিং দেখলাম খুবই উন্নত মানের। আইটেমগুলোর গায়ে ছাপায় লেখা, ‘প্রডাক্ট অফ বাংলাদেশ’ কিন্তু কোন কোম্পানির তৈরি অনেক চেষ্টা করেও তার হদিস বের করতে পারলাম না।

আরো দেখলাম আমেরিকান কাস্টমাররা উত্সাহভরে শেলফে রাখা বাংলাদেশি জিনিসগুলো নাড়াচাড়া করছে, উল্টে পাল্টে দেখছে, প্রাইস স্টিকারের দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছে। হয়ত কিনবে, হয়তবা কিনবে না, তবে কেউ না কেউ তো অবশ্যই কিনবে, নতুবা মেসিজের মত দোকানের ফ্লোরে এগুলো স্থান করে নিতে পারত না। মেসিজের দুতালায় বাংলাদেশের সিরামিক টেবিল ওয়েয়ার দেখে আমার ও আমার স্ত্রীর কাছে সেদিন খুবই ভাল লেগেছিল।

তার কয়েক মাস পর মাত্র সেদিন আমি এবং আমার স্ত্রী গিয়েছিলাম অরগ্যানিক চেইন ফুড স্টোরস – ‘হোল ফুডসের’ দোকানে। হোল ফুডসে গ্রসারি সেরে রাস্তার ওপারে গেলাম তাদেরই সাবসিডিয়ারি বডি কেয়ারের দোকান ‘হোল বডি’ শপে। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম তাতে অভিভূত না হয়ে পারলাম না। অ্যান্ট্রেন্স দরজার সামনে একটি আয়লের মাথায় সেল্ফের নিচে মেঝেতে রাখা তাল পাতার তৈরি কিছু ফ্রুট বাস্কেট এবং লম্বা হাতলওয়ালা মেয়েদের হ্যান্ড ব্যাগ। দোকানে ঢোকার সময় আমার চোখে পড়েনি। বেরিয়ে আসার সময় আমার স্ত্রী আমাকে বললেন, ‘দেখ বাংলাদেশি প্রডাক্টস’।

আমি হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখতে লাগলাম। পড়ে দেখলাম ‘ব্লেসিং বাস্কেট’ নামে একটি এনজিও জিনিসগুলো তৈরি করেছে বাংলাদেশের কোনো এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আঠা দিয়ে সেঁটে দেওয়া একটি কাগজে ‘ব্লেসিং বাস্কেট’ প্রজেক্টের ম্যানেজার মিসেস তেরেসা উইলসনের একটি মূল্যবান কোটেশন শোভা পাচ্ছে প্রতিটি দ্রব্যের গায়ে, পড়ে দেখলাম কাগজের লেভেলে লেখা আছে, ‘দেয়ার ইজ নো হিডেন অ্যাজেন্ডা। উই সিম্পলি ওয়ান্ট টু এন্ড পোভার্টি ফ্রম দি লাইভস অফ দৌজ হু উই সার্ভ’। অর্থাত, ‘আমাদের কোনো গোপন অভিসন্ধি নেই। আমরা যাদের সেবা দিচ্ছি, শুধু তাদের জীবন থেকে দারিদ্র দূর করতে চাই’।

যে সব হস্ত ও কুঠির শিল্পীরা বাস্কেট এবং ব্যাগগুলো তৈরি করেছেন তাঁদের নামও সেঁটে দেওয়া হয়েছে প্রডাক্টের গায়ে কাপড়ের লেভেলে। যাঁদের নাম আমি আজ এখানে লিখব তাঁরা যদি আমার এ লেখাটি পড়েন বা যে পড়েছে তার কাছে শোনতে পান তবে জানি না তাঁদের মনের অনুভূতি কেমন হবে, তবে তাঁদের নাম আজ গর্বভরে লিখতে পেরে আমি নিজেকে খ্বুই ভাগ্যবান মনে করছি।

 

বাংলাদেশের জনগণের কাছে হয়তবা তাঁরা দেশের লক্ষকোটি মা-বোনের মতই একেকজন গ্রাম্য বধু কিংবা বালিকা, কিন্তু আমার কাছে তাঁরা প্রত্যেকেই সুদূর আমেরিকায় একেক জন বাংলাদেশি অ্যাম্বেসেডার। নিজেদের সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে তাঁরা সগৌরবে দেশ মাতৃকা ও তার সুনামকে তুলে ধরেছেন। আমার এই কলামের মাধ্যমে আজ আমি বাংলাদেশের নাম না জানা অখ্যাত অজপাড়াগাঁয়ের এই শিল্পীদের জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব শিল্পীর মন ও হাতের ছোঁয়া নিয়ে কয়েকটি ফ্রুট বাস্কেট এবং হ্যান্ড ব্যাগ আমেরিকার বাজারে সগর্বে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করছে তারা হলেন, স্বর্ণ, পপি, সুচিত্রা, সুষমা, রীতা, ববিতা, এবং মেরি। তাঁদের হাতের তৈরি জিনিসগুলো আমি সেদিন দেখেছি হোল বডি শপের ফ্লোরে আজ হয়তবা সেগুলো শোভা পাচ্ছে কোনো মার্কিন পরিবারের বেডরুমে অথবা বসার ঘরে। বাংলাদেশের এই পরিশ্রমি মানুষগুলোর প্রতি আমেরিকা প্রবাসী প্রতিটি বাংলাদেশি অভিবাসীর পক্ষ থেকে আবারো জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।

লেখক: ড. আবু এন. এম. ওয়াহিদ; অধ্যাপক

সারাদেশে যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পাতা হাজার হাজার হারবাল ও হোমিও প্রতিষ্ঠান

হারবাল প্রতারণা

খোন্দকার তাজউদ্দিন

মানুষ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে গল্প বলতে এবং শুনতে। আর সেটা যদি কিংবদন্তি হয় তাহলে তো কথাই নেই। এ রকমই একটি গল্প শোনাই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত জাদুকর হাওয়ার্ড থর্সটনকে নিয়ে এই গল্পটি প্রথম চালু হয়। থর্সটনের জাদুর অনুষ্ঠান। দর্শকভর্তি হলরুম। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও জাদুকরের দেখা নেই। ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছেন দর্শক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা। এমন সময় মঞ্চে হাজির হলেন জাদুকর। উত্তেজিত দর্শক দেরি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করতেই জাদুকর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন ‘কই’ আমি তো এক মিনিটও দেরি করিনি’। দর্শকরাও নিজেদের হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন, একটু আগে দেখা সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে! বিস্ময়কর এই ম্যাজিকে হলভর্তি দর্শক তুমুল হাততালি দিয়ে স্বাগত জানালেন জাদুকরকে। পরবর্তী সময়ে এই গল্পটি অনেক খ্যাত-অখ্যাত জাদুকরকে নিয়েও শোনা যায়। জুয়েল আইচ বা ডেভিড কপারফিল্ডের জাদু আমাদের বিস্ময়কর জগতে নিয়ে যায়। তাদের জাদু দেখে আমরা মুগ্ধ হই, হই শিহরিত। ধরে নিই এবং বিশ্বাস করি জাদু দিয়ে যে কোনো কিছুই করা সম্ভব।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, উপরে যে জাদুটির কথা বলা হলো, তার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত কোনো দিনই ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দেওয়ার এই জাদু দেখানো হয়নি। তারপরও পিসি সরকারের এমন জাদু নিজে দেখেছেন এমন প্রত্যক্ষদর্শীও এ দেশে আছেন। এটা কী করে সম্ভব? যে জাদু কখনো দেখানো হয়নি সে জাদু দেখেছেন কীভাবে? ওই যে বললাম গল্প বলা এবং শোনা মানুষের সবচেয়ে প্রিয় অভ্যেসÑ তা সে সত্যি-মিথ্যা যা-ই হোক। আসলে আমরা একটি গল্প শোনা বা বলার আগে যুক্তি দিয়ে ভাবি না। একটু শুনে তার সঙ্গে আর একটু যোগ করে গল্পটিকে আকর্ষণীয় করতে ভালবাসি। গল্প বলে সবাইকে চমকে দিয়ে আড্ডার মধ্যমণি হতে চাই। মধ্যমণি হতে গিয়ে কিছু মিথ্যা কুসংস্কারকে সত্যে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করি। অন্যের মুখের শোনা ঘটনাকে নিজের দেখা বলে গর্বের সঙ্গে গল্প করি। এভাবেই তৈরি হয় অতিরঞ্জিত কাহিনী, যা এক পর্যায়ে রূপ নেয় কিংবদন্তির। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে। এক পর্যায়ে অনেক মানুষের মনে করে নেয় বিশ্বাসের আসন।

এক সময় পাহাড়, সমুদ্র, আগুন, নদী, ঝড় সব কিছুকেই মানুষ বসিয়েছিল দেবতার আসনে। চন্দ্র, সূর্য, পৃথিবী, বৃহস্পতি, শনি প্রভৃতি নক্ষত্র এবং গ্রহগুলোকে মানুষ পূজা করত দেবতা হিসাবে। মানুষের জানা ছিল না জীবাণুর অস্তিত্ব সম্পর্কে। অসুখকে মানুষ মেনে নিয়েছে নিয়তি হিসেবে। ভেবে নিয়েছে পাপের ফলই অসুখ। তন্ত্র-মন্ত্র, তেলপড়া, পানিপড়া ঝাড়ফুঁক ¯^প্নে পাওয়া ওষুধের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু এ তো অনেক অনেক যুগ আগের কথা। এখন তো অলৌকিক অনেক কিছুই মানুষের নাগালের মধ্যে। পৃথিবী জয় করে মানুষ এখন বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছে মঙ্গল গ্রহে। এত কিছুর পরও কিছু মানুষ এখনো রয়ে গেছে সেই তন্ত্র-মন্ত্রের যুগে। সে মানুষগুলো যুক্তি নয়, সব কিছু বিচার করে কুসংস্কার আর প্রচলিত ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে। সেই মানুষগুলো আমরা। বিনোদনের জন্য জাদুকর জাদুর খেলা দেখায়। এটা তার পেশা। সেই খেলা দেখে আমরা বিস্মিত হই। আনন্দ পাই। আধুনিক জাদুকরাও বলেন, এগুলো বিশেষ ধরনের কৌশল। চেষ্টা করলে অনেকের পক্ষেই অনেক কিছু আয়ত্ত করা সম্ভব। এর মধ্যে অলৌকিক শক্তির কোনো বিষয় নেই। কিন্তু আমাদের সমাজে একশ্রেণীর মানুষ আছেন, যারা এই স্বাভাবিক লৌকিক ঘটনাগুলোকে অলৌকিক কর্মকাণ্ড হিসাবে আখ্যা দেয়। অল্প শিক্ষিত, শিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করে ধর্মকে। লৌকিক ঘটনাকে বানিয়ে ফেলে পারলৌকিক। নিম্নশ্রেণীর কিছু জাদু দেখিয়ে নিজেরা আয় করে লাখ লাখ টাকা। অসহায় মানুষ তাদের এই অলৌকিক প্রচারণায় মুগ্ধ হয়ে তুলে দেয় তার শেষ সম্বল। হয়ে যায় নিঃস্ব।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য রাজধানী শহর ঢাকায় চলছে লৌকিক-পারলৌকিক এমন অনেক বাণিজ্য। গোপনে নয়, প্রকাশ্যে। এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সাপের মণি। অথচ ‘সাপের মণি’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্বই নেই পৃথিবীতে! আপনার কী বিশ্বাস হয় মানুষ জারজ সন্তানের হাড়ের তাবিজ কেনে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে?!! ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় কালো কুত্তার দাঁতের তাবিজ?!

ঘটনার ভেতরে প্রবেশ করা যাক। যার কথা বলছি তার আসল নাম বলছি না। বলছি না এই কারণে যে, তিনি নাম প্রকাশ করতে চান না। ধরে নিই তার নাম আবদুস সালাম। তিনি একটি স্টেশনারি দোকানের মালিক। শ্বশুরবাড়ির টাকায় এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এক বছরের মধ্যে লোকসান হয়েছে ২ লাখ টাকা। একজনের মাধ্যমে শুনেছেন সাপের মণির আংটি ব্যবহার করলে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে তার সব ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। কেটে যাবে আর্থিক অনটন। ব্যবসায় শুধু থাকবে লাভ আর লাভ। সালাম সাহেবের অবস্থা তখন খুবই খারাপ। শ্বশুরবাড়িতে মুখ দেখাতে পারছেন না। এ অবস্থায় তিনি গেলেন ‘খানকায়ে শেফায়’। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনলেন সাপের মণি। এই সাপের মণি কিনে আনার কাহিনী তার কাছ থেকে শুনলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, বিষয়টি নিজেরই জানতে হবে। পত্রিকায় দেওয়া খানকায়ে শেফার বিজ্ঞাপনটি ভালো করে পড়লাম। এই খানকায়ে শেফার সাধক সুফিয়া বেগম। তিনি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছেন এশিয়া মহাদেশের ভেতরে একমাত্র আধ্যাত্মিক তান্ত্রিক মহিলা। যে কোনো সমস্যা সে যত কঠিনই হোক না কেন তিনি আধ্যাত্মিক ঘটনা ও ক্ষমতার বলে সমাধান দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞাপনে যে সমস্যাগুলোর কথা লিখেছেন সেগুলোর কয়েকটি এমন স্বামী স্ত্রীর অমিল, প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা, যে কোনো লোককে বশ করা, শত্রুকে পরাস্ত করা, মনের মানুষকে কাছে পাওয়া, বিয়ে হয় না, বিয়েতে বাধা, ব্যবসায়ে লোকসান, বানমারা, বান ফেরানো ইত্যাদি। পৃথিবীতে এমন কোনো সমস্যা নেই যে তিনি সমাধান করতে পারেন না। সালাম সাহেবের কল্যাণে বিজ্ঞাপনটি পড়লাম এবং যারপরনাই চমকিত হলাম।

খানকায়ে শেফার অবস্থান মগবাজার রেল ক্রসিংয়ের পাশে। গত ১৬ ফেব্রæয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে হাজির হলাম সুফিয়া বেগমের দরবারে। গ্লাসের দরজা দিয়ে দেখা যাচ্ছে, সোফায় সাদা পাঞ্জাবি লুঙ্গি পরিহিত একটি লোক বসা। বললেন, মা’র সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। সিরিয়ালে নাম লেখালাম। সিরিয়াল নম্বর ৯। অর্থাৎ আমার আগে আজকে আরো ৮ জন এসেছে। পাশ থেকে এক যুবক ধমকের সুরে বললেন ২৫ টাকা দেন। কিসের টাকা? যার সঙ্গে দেখা করার ফি বাবদ ২০০ টাকা। এটা নাম লেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়ার নিয়ম। না দিলে মা কষ্ট পাবে। এতে ক্ষতি হবে। একসময় ডাক এলো। বসলাম সুফিয়া বেগমের সামনে। গদিওয়ালা চেয়ারে বসে আছেন মাথায় ঘোমটা। চোখ বন্ধ, মাথা নিচু করে আছেন। প্রায় এক মিনিট পরে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন আপনার সমস্যা কী বলেন বাবা?

তেমন কোনো সমস্যা নয়। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না।

‘কিসের ব্যবসা’?

বিজ্ঞাপনী সংস্থার।

কী ব্যবসা করেন?

বোঝা গেল তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। বুঝিয়ে বলার পর বললেন, ঠিক আছে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা নেই।

চোখ বন্ধ করে একনাগাড়ে বলে গেলেন আমি আপনার ইমান দেখেছি। আপনি সত্যবাদী ও ইমানদার মানুষ। ইমান শক্তিশালী করার জন্য আমার কাছে এসেছেন। যান এক বোতল পানি নিয়ে আসেন।

বললাম, আমার নিজের যেতে হবে না টাকা দিলে অন্য কেউ কিনে আনতে পারবে?

‘না আপনার নিজেরই যেতে হবে, যান।’ বললেন ধমকের সুরে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ১০ টাকা দিয়ে এক বোতল পানি কিনে আনলাম।

বোতল খুলে ডান হাতের তালুতে একটু পানি নেন।

ডান হাতের তালুতে পানি নিলাম। পানিতে তিনি দুই আঙুল ডুবিয়ে কিছু একটা ঘষতে থাকলেন। মুখে বিড়বিড় করে কিছু একটা পড়ে যাচ্ছেন। বিসমিল্লাহ আল্লাহ, আবদুল কাদের জিলানী খাজাবাবা, মা কালী ইত্যাদি শব্দ বোঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম, ইসলাম ধর্ম মিলিয়ে দোয়া পড়ছেন।

আপনার এই পানি যদি তিতা বা টক হয়, তাহলে আপনার মুশকিল আসান আমি করব না। আর যদি আপনার পানিতে কোনো আল্লাহ হুজুরপাক মা কালীর আশীর্বাদে কোনো কুদরত এসে থাকে তাহলে আপনার মুশকিল আসান আমার মাধ্যমে হবেই হবে। পানিটা এক চুমুকে খেয়ে ফেলুন।’

সুফিয়া বেগম তার ময়লা দুটি আঙুল পানিতে ডুবিয়েছেন। আঙুলে কিছু একটা নিয়ে অনেকক্ষণ ঘষেছেন। ফলে পানিটা ঘোলা হয়ে গেছে। না খেয়ে ইতস্তত করছি। তিনি বলে উঠলেন, তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলেন। না খেলে আপনার অমঙ্গল হবে।

আরো অনেক কিছু জানতে হবে, এ কারণে তীব্র অরুচি এবং অনিচ্ছা সত্তে¡ও পানিটা খেলাম। খেতে গিয়ে অবশ্য ইচ্ছে করে বেশি অংশ ফেলে দিলাম। এতে তিনি কিছুটা বিরক্ত হলেন। ‘পানির স্বাদ কেমন বাবা?’ প্রশ্ন করলেন সুফিয়া বেগম।

মিষ্টি স্যাকারিন দিলে যেমন হয় তেমন মনে হলো।

তওবা আস্তাক ফেরউল্লাহ। এ কথা বলবেন না। আপনার ওপর আল্লাহর রহমত নেমে এসেছে। তাই পানির স্বাদে পরিবর্তন এসেছে। সুস্বাদু হয়েছে।

এরপর প্রায় এক মিনিট বিরতি। কাগজে কিছু একটা আঁকাআঁকি করছেন। কথা বলতে নিলে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলেন। গম্ভীর কণ্ঠে বলতে শুরু করলেন, আপনার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবই আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। আপনি এখন কী ভাবছেন সেটাও দেখতে পাচ্ছি। আপনার ব্যবসার শুরুটা তো খুবই ভালো হয়েছিল। খুবই ভালো। আপনার কাজের শুরুটা ভালো, শেষটা ভালো না, আপনি খুব বড় মনের মানুষ। আপনি সবাইকে দিয়ে খুশি হতে চান। কিন্তু আপনাকে কেউ বুঝতে পারে না। সামনে যে আপনার বন্ধু, পেছনে সেই আপনার পিঠে ছুরি মারতে চায়। কিন্তু আপনি সেটা বুঝতে পারেন না। আপনার ওপর রাহু এবং শনির প্রভাব আছে। এ কারণে বৃহস্পতি দূরে সরে যাচ্ছে। এখনই বৃহস্পতিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাড়াতে হবে রাহু আর শনিকে।

রুমে ঢুকলেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা লোকটি। বসলেন আমার পাশের চেয়ারে। রাহু ও শনি তাড়ানো বিষয়ে আরো অনেক কথা বললেন। আমার সম্পর্কে বললেন আরো অনেক ভালো ভালো কথা। যা শুনতে বেশ ভালোই লাগে। এত ভালো কথা নিজের সম্পর্কে জীবনে শুনিনি। আমাকে প্রায় ফেরেশতার পর্যায়ে নিয়ে গেলেন। আবার কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে গম্ভীরভাবে বলে উঠলেন, ‘দুই হাত মাথার ওপরে উঁচু করে ধরুন। এক হাতে সুখ আর এক হাতে দুঃখ নিয়ে মুঠ করে ধরুন।’

হাত মুঠ করে বসে আছি। সুফিয়া বেগম কাগজে দাগ কাটছেন। স্বাভাবিকভাবে যেটা করার কথা সেটা না করে সুখ-দুঃখ ধরার ক্ষেত্রে আমি উল্টোটা করেছি। বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছেন, বুঝতে পারছি না। জোরে বলে উঠলেন, ‘আপনি ডান হাতে সুখ আর বাম হাতে দুঃখ ধরেছেন। ঠিক বলেছি? বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।’

মানুষের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার রহস্যটা বুঝতে পারছি। স্বাভাবিক বিশ্বাসে যারা সুফিয়া বেগমের কাছে যাবেন তাদের প্রায় সবাই ‘সুখ’ ডান হাতেই ধরবেন, বাম হাতে নয়। সুফিয়া বেগমের কথার সঙ্গে মিলে যাবে। ফলে তার প্রতি বিশ্বাস আরো দৃঢ় হবে।

আপনি কী সাপের মণি নিতে পারবেন?

সাপের মণি কোথায় পাব কীভাবে নেব? বললাম আমি।

এবার তিনি গর্জন করে উঠলেন, এত কথা বলবেন না। আর বেশিক্ষণ সময় নেই। সাপের মণির ব্যবস্থা আমি করব। আপনার সাহস হবে ব্যবসায় উন্নতি হবে। শত্রু আপনার সামনে এসে পা জড়িয়ে ধরে মাফ চাইবে। বড় সাপের মণি নিতে চাইলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগবে।

সাপের মণি কি এখন দেখা যাবে?

না না না। এই জিনিস বাইরে রাখা যায় না। এটা আছে সাপের মাথার ভেতরে। আপনি এখন কিছু টাকা অ্যাডভান্স করে যাবেন। যাদের কাছে মণিওয়ালা সাপ আছে তাদের খবর দিলে সাপ নিয়ে আসবে। আপনি ব্লেড দিয়ে কেটে সাপের মণি বের করে নেবেন। একজন বিভিন্ন সাইজের আংটি নিয়ে এসে আমার হাতের মাপ নিলেন।

‘তা এখন কত টাকা অ্যাডভান্স করবেন বাবা?’

‘এখন আমার কাছে টাকা নেই। কালকে এসে নিয়ে যাব।’

‘আমার কাছে মিথ্যা বলবেন না বাবা। আপনার মানিব্যাগে ৫শ টাকার নোট দেখতে পাচ্ছি।’

ম্যানিব্যাগ আমার আর উনি ৫শ টাকার নোট দেখতে পাচ্ছেন। আসলে আমি যখন ২শ টাকা ফি দিচ্ছিলাম তখন একজন আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার মাধ্যমে খবরটা চলে গেছে সুফিয়া বেগমের কাছে। বললাম, ‘এটা আমার টাকা নয়, অন্যজনের। টাকাটা আজই দিতে হবে। আমি কালকে টাকা নিয়ে আসব।’

‘আজকে কিছু অ্যাডভান্স করে গেলে আপনার মঙ্গল হতো। আচ্ছা ঠিক আছে কালকে আসেন। আপনার মোবাইল নম্বরটা লিখে দিয়ে যান।

বললাম, সাপের মণি নিলে আমার বিদেশ যাওয়া হবে কি না? তিনি বললেন আপনি অনেকবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতি আপনার সঙ্গে ছিল না। আপনি সাপের মণি ব্যবহার করলে একুশ দিনের মধ্যে বিদেশ যেতে পারবেন।

প্রায় ৩০ মিনিট পরে বেরিয়ে এলাম খানকায়ে শেফা থেকে। আমার ক্ষেত্রে যে ঘটনাগুলো ঘটল প্রায় হুবহু গল্প শুনেছিলাম সালাম সাহেবের কাছ থেকে।

সুফিয়া বেগম কতটা আধ্যাত্মিক, কতটা ক্ষমতাবান তা তার কথার মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।

মানুষের নানা কিসিমের গোপন রোগের বিদ্যুৎগতিতে সমাধান দেয়া ও ভাগ্য ফিরিয়ে দেয়ার নামে গড়ে উঠেছে দাওয়াখানা, হারবাল চিকিৎসা ও হোমিও চিকিৎসালয়। এ চিকিৎসায় বিতরণ করা হয় লিফলেট, যা অশ্লীল ও অশ্রাব্য। এসব লিফলেটের নিচে লেখা থাকে বিভিন্ন দাওয়াখানা হারবাল ও হোমিও চিকিৎসালয়ের ঠিকানা। ভাগ্য ফেরানোর কারিগরদের নামের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে অদ্ভুত ধরনের ডিগ্রি ও মেডেল প্রাপ্তির ইতিহাস, যৌন রোগ ও ভাগ্যবদল করার ব্যানারেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো। প্রশাসনের সামনেই এসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তারা নির্বিকার। মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এরা ব্যবসা করে যাচ্ছে দেদার।

ওষুধ প্রশাসনের হেঁয়ালি ও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে এবং মানুষের গোপনীয় ও ব্যক্তিগত দুর্বলতা পুঁজি করে সারাদেশে ভেজাল, অকার্যকর ও মানহীন ওষুধের রমরমা বাণিজ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, ভাগ্য ফেরানোর নামে গড়ে ওঠা দাওয়াখানা, হারবাল ও হোমিও চিকিৎসালয়ের অধিকাংশের ট্রেড লাইসেন্স নেই। তারপরও ওষুধ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

ধর্মকে ব্যবহার করে বাণিজ্য করার প্রবণতা প্রাচীনকাল থেকে। এক দল ধর্মব্যবসায়ী ধর্মের ব্যানারে মানুষের অসহায়ত্ব ও দুর্বলতা পুঁজি করে ধান্ধাবাজি করে। ভণ্ড পীর-ফকিরের ব্যানারে তারা নিয়মিত প্রতারণা করছে। গ্রামগঞ্জেও এই টাউট-বাটপারদের অবাধ বাণিজ্য। এই টাউট-বাটপাররা ক্রমেই গ্রাম ছেড়ে শহরে আস্তানা গড়ে তুলেছে। জন্ম দিচ্ছে হুজুর সাইদাবাদী, সুফিয়া বেগম, জীবন চৌধুরীদের। এদের অবশ্য এই ব্যবসা করতে সরকারের অনুমতি নিতে হয় না। সরকারকে তারা ট্যাক্সও দেয় না। তারা ট্যাক্স দেয় এলাকার মস্তানদের। নিয়মিত মাসোয়ারা দেয় সংশ্লিষ্ট থানাকেও। যে কারণে সগৌরবে চলছে এই প্রতারণার ব্যবসা।

‘মনের কষ্ট আর নয় বনে বনে’ অথবা হতাশ জীবনে অমাবস্যা আঁধারের মাঝে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নাময় পূর্ণিমায় যেন হয় আপনার দর্শন কিংবা ‘জীবনের শেষ দর্শন’ এ রকম বিচিত্র স্লোগান দিয়েই ফাঁদ পাতা হচ্ছে প্রতারণার।

ধর্মীয় অনুভতি কাজে লাগিয়ে লৌকিক-পারলৌকিক ব্যবসা যেসব স্থান থেকে হচ্ছে সেগুলো হলোÑ আল্লাহর দান, বাস্তব কাহিনী, দরবারে পীরানী, দরবারে আশেক, কামরূপ কামাক্ষা, যজ্ঞমন্দির, আলি কাদিরী দরবার শরীফ, দস্তগীর পীরের দরবার, শেষ ভাগ্য নিবাস, আশেকানে সমাধান, দরবারে মুক্তি, দরবারে শান্তি, চন্দ্রমণি, কোরাইশী দরবার শরীফ, দরবারে সুলতান শরীফ, রহমানিয়া দরবার শরীফ, দারুল উলুস মাদ্রাসা ও দরবার শরীফ, জান্নাতি দরবার শরীফ, আল্লার দান দরবার শরীফ, হাজী বিল্লাল মিসরী দরবার শরীফ, পায়রা পাথর ঘর, শারা হারবাল কেয়ার, আল নূর, শেরে আলী দরবার শরীফ, ফুরফুরা খানকা শরীফ, স্বপ্ননিবাস দরবার শরীফ, তদবিরে শেফা, বিস্ময় বালক, কালীমন্দির, দরবারের আল তকদীর, গাউছে পাক দরবার শরীফ, মোহাম্মদীয় পাক দরবার শরীফ, আল আহসানিয়া খানকা শরীফ, মুসলিম পাক দরবার শরীফ, স্বপ্নের দরবার, দিকদর্শন, শেষ দিকদর্শন, শেষ দর্শন, আজমেরী জেমস হাউস, আল ফরিয়াদ, স্বপ্ন বাস্তবায়ন দরবার, বৌদ্ধ বাবুর আশ্রম, ক্ষ্যাপা সাধুর আশ্রম, মণিঠাকুরের আস্তানা, শেষ ভরসা কেন্দ্র, জান্নাতি দরবার, মা কালীমন্দির, সর্পরাজের দরবার, সর্প-সম্রাটের শেষ দর্শন, রুহানী দরবার শরীফ প্রভৃতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে নিয়ে জানা যায়, লৌকিক পারলৌকিক এ ব্যবসার মূল লক্ষ্য পাথর বিক্রয়। ক্ষেত্র বিশেষে এ পাথর কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর বাইরে সাপের মণির নামে নেয়া হয় ১ লাখ টাকা। জারজ সন্তানের হাড় ৫০ হাজার টাকা, কালো কুত্তার দাঁত ৬০ হাজার টাকা। তাবিজ ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। মূলত এগুলো বিক্রি করার জন্যই লোক সংগ্রহ করা হয়। তাদের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন অন্যতম লক্ষ্য।

হারবালের নামে প্রতারণা

রাজধানীতে হারবাল চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। নামে-বেনামে বিভিন্ন স্পটে গড়ে উঠেছে  অর্ধশতাধিক চিকিৎসা কেন্দ্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হারবাল ওষুধের ইউনানি দাওয়াখানার নেই কোনো ট্রেড লাইসেন্স। অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে  যৌনরোগ, পাইলস, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক ও ক্যান্সারসহ অনেক রোগের চিকিৎসার কথা বলে প্রতারিত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যারা এই চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেরই হারবাল বা গাছগাছড়া সংক্রান্ত তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। হারবাল চিকিৎসার দাওয়াখানা দিয়ে কবিরাজ কিংবা হেকিম বনে গেছেন। এসব চিকিৎসক নিজের নামের আগে ও পরে যুৎসই বড় বড় ডিগ্রি, বিশেষজ্ঞ ও বিশেষণ বসিয়ে রোগীদের ফাঁদে ফেলছেন।

বর্তমানে রাজধানীতে একশ্রেণীর মহিলা দ্বারা কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে বাসের যাত্রীদের কাছে যৌন চিকিৎসার বিজ্ঞাপন তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টার পাশাপাশি পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে রোগীরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা কবিরাজের শরণাপন্ন হলেও রোগ থেকে পরিত্রাণ মিলছে না । বরং আরোগ্য না হয়ে আক্রান্ত হচ্ছে নতুন নতুন জটিল  রোগে।

ফর্সা হওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে কারওয়ান বাজারের হাফিজিয়া ম্যানশনের জেনুইন হারবাল। মাত্র ১শ টাকায় রোগীর ত্বক পরীক্ষা করে ফর্সা হওয়ার ওষুধ দিচ্ছে। প্রথম ফাইল ১২শ’ টাকা। প্রয়োজনে সঙ্গে দেন বিশেষ ক্রিম। চিটাগাংয়ের দেওয়ানহাট মোড়ের অ্যাজমা কমপ্লেক্সের ইবনে সিনা হারবাল সেন্টার লিমিটেড লম্বা, মোটা, ফর্সা যা-ই হতে চান তার ওষুধ আছে। বাংলাদেশের যে কোনো প্রাš— থেকে তাদের ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে। তবে এজন্য প্রথমে বিজ্ঞাপনে দেওয়া ৩২০৮০৩২৫ নম্বরে ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফ্লেক্সিলোড করতে হয়। পরে ফোন করে ঠিকানা জানালে সে অনুযায়ী এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সার্ভিস চার্জসহ প্রতি কোর্সের দাম পড়ে মাত্র ১ হাজার টাকা। চিকিৎসালয়ের পরিচালক জানান, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে বা ভুয়া হলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আমরা ব্যবসা করতে পারতাম না।’ ফ্লেক্সিলোড কেন করতে হয়, এর উত্তরে তিনি জানান, এসএ পরিবহনে পার্সেল করার খরচ নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

লম্বা হতে চাইলে মালিবাগ রেলগেটের পাশেই হারবাল সেবা কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে অভিনব দুই ধরনের ওষুধ। এর মধ্যে রয়েছে একটি লোশন যা  প্রতিদিন পায়ের পাতায় দিতে হবে। এছাড়া রয়েছে ট্যাবলেটের ব্যবস্থা, যার জন্য খরচ  হবে ২ হাজার টাকা। নিয়মিত এ চিকিৎসা চালিয়ে গেলে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা হওয়ার নিশ্চয়তা দিলেও উপস্থিত আগন্তুকদের চিকিৎসার উপকারিতা সম্পর্কে কোনো তথ্য কেউই দিতে পারেনি। উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসা নিতে আসা আসলাম জানান, চিকিৎসকের কথামতো ২ হাজার টাকা খরচ করেও তিনি কোনো উপকার পাননি।

তাঁতীবাজার মোড়ের মাদ্রাজ হারবালে যৌন সমস্যার সমাধানে এক রোগীকে ১৫ দিনের ওষুধের জন্য ৫ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করা হয়। এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী অভিযোগ করে  বলেন, যৌন সমস্যার জন্য গত ১৫ দিনে ওষুধ খেয়েও তার কোনো লাভ হয়নি।

নগরীর ফার্মগেট মোড়ে হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, চেম্বার খুলে এক রুমে বসে আছেন ‘ডাক্তার’। পাশের রুমে যৌনরোগ এবং স্তনের চিকিৎসা হয়। এই রুমে রোগী আর ডাক্তার ছাড়া কেউ ঢুকতে পারে না। রোগীদের সঙ্গে রোগীর নিজস্ব কোনো লোককেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে রিসেপশনিস্ট জানান, ডাক্তার কথা বলতে রাজি নন।

এছাড়াও উত্তর জুরাইন পাইপ রাস্তার বিজয় ইউনানি দাওয়াখানা মেদভুঁড়ি কমানোর জন্য বিশেষ ওষুধ দিয়ে থাকে। দরদাম প্রতিফাইল হাজার-১২শ থেকে শুরু।

গুলিস্তান এলাকায় যৌন শক্তিবর্ধক ও বিভিন্ন জটিল রোগের মহৌষধ নামে কথিত বনাজী হালুয়া, তেল ও বটিকা বিক্রি করেন ‘কবিরাজ’ মোঃ মহসিন। জানা যায়, তার  মানিকনগর এলাকায় হালুয়া তৈরির কারখানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল মানুষের কাছে বিভিন্ন চটকদার কথাবার্তা বলে এবং নারী-পুরুষের অশালীন ছবি দেখিয়ে এসব হালুয়া ও বটিকা বিক্রি করে আসছেন। এই হালুয়া ও বটিকা বিষাক্ত কেমিক্যাল সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়। এ ধরনের হালুয়া ও বটিকা খেয়ে মানুষের কিডনি এবং লিভার নষ্টসহ জটিল রোগব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ কয়েকজন চিকিৎসক জানান।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, গুলিস্তান, সদরঘাট, মহাখালী, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্পটে গড়ে উঠেছে নানা নামে হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্র। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রের রোগীদের মধ্যে নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের সংখ্যাই বেশি। আবার যৌন চিকিৎসার জন্য মধ্যবয়সীর চেয়ে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাটা বেশি বলে জানালেন যাত্রাবাড়ী হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রের এক ডাক্তার। জানা গেছে, অবৈধ মেলামেশা করে চুলকানি, ক্ষত এবং যৌন কাজে অক্ষমতাসহ বিভিন্ন রোগের সমাধানের জন্য অনেকেই গোপন চিকিৎসা নিতে আসেন এসব নামসর্বস্ব চিকিৎসা কেন্দ্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানায়, যৌন সমস্যার জন্য যাত্রাবাড়ী শাখা থেকে ওষুধ খেয়ে সে কোনো রকমের উপকার পায়নি। প্রথমে মাত্র সাত দিনে সমস্যা উপশমের কথা বলা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে রোগ উপশম না হওয়ায় তাকে ৬ মাসের কোর্স কমপ্লিট করতে বলা হয়। আর এক সপ্তাহে ওষুধ বাবদ রাখা হয় ২ থেকে ৪ হাজার টাকা। ডাক্তারের ভিজিট বাবদ কোনো টাকা নেয়া হয় না। তবে ওষুধের মাধ্যমে সেই টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে অনেক রোগী।

গত কয়েক বছরে সারাদেশে যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পাতা হাজার হাজার হারবাল ও হোমিও প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠলেও ২০০৩ সালের পর এসবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ২০০৩-এর পরে ঢাকার বাইরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে ড্রাগ কোর্টের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালে ১টি ও ২০১০-এ ৩টি মামলা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী ওষুধ বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী সব প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হয়। উৎপাদনকারী প্রতিটি ওষুধ প্রচারের জন্য নিতে হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন। কিন্তু এসবের কোনো তোয়াক্কা না করে যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পেতেছে কথিত হোমিও এবং হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ থেকে ১৭টি হারবাল প্রতিষ্ঠান এবং ৬০টির মতো হোমিও প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন জানান, ভেজাল ওষুধ প্রমাণের জন্য ড্রাগ প্রশাসন প্রথমে অভিযুক্ত ওষুধটি সংগ্রহ করে থাকে। তারপর ল্যাবে পাঠায়। এরপর রিপোর্ট যাওয়ার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে জবাব মনঃপূত না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ব্যবস্থায় আবার ৩টি ধাপ রয়েছে। প্রথমত অভিযুক্ত ওষুধটির উৎপাদন স্থগিত, দ্বিতীয়ত রেজিস্ট্রেশন স্থগিত, তৃতীয়ত অভিযুক্ত ওষুধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। এরপর মামলার দীর্ঘসূত্রতা। অতঃপর অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়া।

এদিকে ওষুধ বিষয়ক অপরাধের জন্য ১৯৮২ সালে ড্রাগ কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হলেও ভেজাল বা অনুমোদনহীন কোনো ওষুধ অথবা বিজ্ঞাপনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কারো মামলা আমলে নিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট আদালত। আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ হলো ড্রাগ প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মামলা দায়ের করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসনের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এসব জটিল প্রক্রিয়া ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা সংক্ষুব্ধ কেউ মামলা করতে যান না। ড্রাগ কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ কোর্টে ৩০টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে মাত্র ৬-৭টি মামলা মানহীন ও ভেজাল ওষুধের জন্য। বাকিগুলো অননুমোদিত বিজ্ঞাপনের জন্য। তবে ২০১০ সালের পর আর কোনো মামলা এ আদালতে দায়ের করা হয়নি।

২০০৩ সাল পর্যন্ত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঢাকা ও অন্যান্য স্থানের যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সেগুলো হলো চট্টগ্রামের হাকিম শাহ আলম চৌধুরীর মেসার্স জীবনের শেষ চিকিৎসা, হাকিম খায়রুল বশর চৌধুরীর জীবনের শেষ চিকিৎসা, কবিরাজ এয়াকুব আলী চৌধুরীর জীবনের শেষ চিকিৎসা, হাকিম হাজী নূর আহমদ চৌধুরীর জীবনের শেষ চিকিৎসা, ঢাকার মেসার্স মগবাজার চিকিৎসালয়, স্বাস্থ্যই সম্পদ, মেসার্স ঢাকা ইউনানি সেন্টার, মেসার্স দি ইউনানি রিসার্চ সেন্টার, মেসার্স হোমিও হেলথ সেন্টার, নাটোরের মেসার্স জীবন শক্তি হাকিমী ঔষধালয়, মেসার্স সাধক জ্যোতিষী, মেসার্স এফ এ চিকিৎসালয়, মহাখালীর মেসার্স হেলথ অ্যান্ড সেক্স ডেভেলপমেন্ট পয়েন্ট, আর কে মিশন রোডের মেসার্স লাইফ কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, বেইলি রোডের এইচ এম ক্লিনিক পয়েন্ট, মেসার্স হেয়ার লাইফ, মেসার্স চায়না হারবাল হোম, মেসার্স বিডি ল্যাবরেটরিজ, মেসার্স ইবনে সিনা হারবাল সেন্টার, মেসার্স নেচার হিলিং, মেসার্স মঘা ঔষধালয়, মঘা শাস্ত্রীয় দাওয়াখানা, মেসার্স মডার্ন হারবাল রিসার্চ গার্ডেন, মেসার্স তুষিন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আলম ম্যানুফ্যাকচারিং। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৪ ধারা লক্সঘন ও ১৯৯৭ সালের সংশোধিত একই আইনের ২১ ধারা মোতাবেক অননুমোদিত বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মামলা করা হয়েছে। তাদের প্রস্তুতকৃত কোনো ওষুধের জন্য মামলা হয়নি। এসব মামলার মধ্যে মেসার্স হেয়ার লাইফ ও মেসার্স সাধক জ্যোতিষীর নামে অননুমোদিত বিজ্ঞাপনের জন্য, মেসার্স মডার্ন হারবাল রিসার্চ গার্ডেনের বিরুদ্ধে কস্তুরীর জন্য মামলা করা হলেও সেগুলো উচ্চ আদালত স্থগিত করে দেন। এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র মোঃ রুহুল আমিন বলেন, স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়েও তারা কাজ করার চেষ্টা করছেন। জনবল বাড়ানো গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতো। চিকিৎসার নামে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনবল সঙ্কটের জন্য তারা তা করতে পারছেন না।

ড্রাগ কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, রাস্তায় চলার পথে বিভিন্ন হারবাল ও হোমিও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হয়, পুরো দেশ বুঝি যৌন রোগে আক্রান্ত। এসব প্রতিষ্ঠানকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেন, হারবাল ও হোমিও চিকিৎসার আড়ালে যেসব প্রতিষ্ঠান যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পেতে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের ওপর কড়া নজরদারি বা মনিটরিং থাকা দরকার।

মাথায় চুল গজাতে গিয়ে বা ফর্সা হতে গিয়ে অনেকেই ত্বক ক্যান্সারের মুখোমুখিও হতে পারেন আশঙ্কা করে বাংলাদেশ মেডিক্যালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সিরাজুল হক বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনো মেডিসিন নেই। এসবই প্রতারণার জন্য প্রচারণা।’ জাতীয় হƒদরোগ  ইনস্টিটিউটের মেডিসিন ও হƒদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রহমাতুল বারী জানান, ‘এসব চিকিৎসা আদৌ কতটুকু চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে তা বিবেচ্য সবার আগে। কেননা কাউকে ডায়াগনসিস না করে মুখে শুনে চিকিৎসা করা চিকিৎসা বিজ্ঞানবহিভর্ত আচরণ। তাছাড়া যে কোনো ওষুধেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে। হারবাল বলছে কীভাবে নিশ্চিত হবে রোগী এটা হারবাল উপাদানে তৈরি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগী যে কোনো সমস্যা থেকে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়া  জানান, চিকন বা মোটা হওয়ার সব রকমের চিকিৎসাও মেলে এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে। তবে তাৎক্ষণিক এসব চিকিৎসার ওষুধ সেবনে ফল পেলেও পরবর্তী সময়ে কিডনির ক্ষতি করে বলে মনে করেন তিনি। এসব চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা যদি হারবাল ওষুধ দিয়ে সমাধান হতো, তাহলে মানুষ বিদেশে চিকিৎসাসেবা নিত না।

হোমিও চিকিৎসা, ইউনানি ও আয়ুর্বেদির নামে প্রতারণা

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কালো তালিকাভুক্ত অর্ধশত ইউনানি ও আয়ুর্বেদি প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের সঙ্গে একের পর এক প্রতারণা করে যাচ্ছে। সব জটিল রোগের ওষুধ উৎপাদনকারী এসব প্রতিষ্ঠান রাজধানীসহ সারাদেশে ইউনানি ও আয়ুর্বেদি ওষুধের নামে বছরের পর বছর রমরমা বাণিজ্য করছে। ১৯৮২ সালের ওষুধ অধ্যাদেশের ১৪ ধারা অনুসারে যে কোনো ধরনের ওষুধ বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও ওষুধ প্রশাসনকে কোনো তোয়াক্কা না করে কালো তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান অনেক আগ থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে ২৬১টি ইউনানি ও ১৬১টি আয়ুর্বেদি কোম্পানি রয়েছে। এগুলোর রেজিস্ট্রেশন থাকলেও এর বাইরে আরো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রেজিস্টার্ড কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির ওষুধ গুণগত মানের। বাকিগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। আকর্ষণীয় এসব বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ¯^ল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষ প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে।

ইউনানি ও আয়ুর্বেদির পাশাপাশি হোমিও চিকিৎসার নামেও চলছে জমজমাট প্রতারণা। রাজধানীজুড়ে গড়ে উঠেছে এই প্রতারকদের নেটওয়ার্ক। এর সদস্যরা ছোট ছোট কার্ড, লিফলেট বিতরণ করে মানুষ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান অবাধে গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লিফলেট, পোস্টার ও বিজ্ঞাপনের ভাষা অভিন্ন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লিফলেটে ‘কম্পিউটারাইজড হোমিও সেন্টার’ নামে চিকিৎসা করে থাকে বলে উল্লেখ করে। এছাড়া প্রয়োজনে মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় বলেও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতারিত লোকদের রোষানলে পড়ার আগেই রাতারাতি নাম-ঠিকানা পাল্টে ভিন্ন নামে ব্যবসা শুরু করে। মডার্ন ভেষজ কমপ্লেক্স, প্যারিস হারবাল গার্ডেন, জনতা দাওয়াখানা, পপুলার হারবাল মেডিক্যাল হোম, এশিয়া হারবাল মেডিক্যাল, বাংলাদেশ হারবাল মেডিক্যাল, আধুনিক হারবাল, দি হারবাল মেডিসিন সেন্টার, আমেরিকান হারবাল কমপ্লেক্স, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সেবা, এবি কোং, আল রাজী ভেষজ লাইফ, ডক্টরস ভেষজ চেম্বার, হারবাল পয়েন্ট, ইউএ হারবাল সেন্টার, আয়ুর্বেদ ভবন-ঢাকা, গ্রামীণ হারবাল মেডিক্যাল, ইন্ডিয়ান হারবাল মেডিক্যাল, হোমিও থেরাপি অ্যান্ড হেলথ কেয়ার, মডার্ন হোমিও রিসার্চ কমপ্লেক্স, ইন্টারন্যাশনাল হোমিও রিসার্চ, জার্মান হোমিও হেলথ, আমেরিকান হোমিও ক্লিনিক, মাদ্রাজ হারবাল মেডিক্যাল, ন্যাশনাল হারবাল, কলিকাতা হারবাল কেয়ার, আমেরিকা হারবাল মেডিক্যাল, ভিআইপি হারবাল মেডিক্যাল, হেকিমী দাওয়াখানা, ভেষজ হেলথ কমপ্লেক্স, ঢাকা হোমিও ক্লিনিক, দিল্লি হারবাল সেন্টার, ইউনানি হেলথ সেন্টার, পিওর হারবাল সেন্টারসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবাধে প্রতারণামূলক এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরুষত্ব ও নারীর দেহসৌষ্ঠবের আকর্ষণ বৃদ্ধির নামে এরা বিক্রি করে নানা মানহীন, ভেজাল, অকার্যকর ওষুধ।

হারবাল ও হোমিওপ্যাথের লেবেল এঁটে বেশ চাকচিক্যময় মোড়কে তারা এসব পণ্য বিক্রি করছে নির্বিঘেœ। এসব পণ্যের মূল্য ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাতের শক্তি চায়না সেক্স মদক, সেক্স কিং জিনসেং মালিশ, স্পেশাল পিএইচ পাওয়ার অয়েল, এইচএম ৬০ এনার্জি ক্যাপসুল, এইচএম এইচ পাওয়ার অয়েল, নিশি মালতি জেনিট, স্পেশাল এএইচ পাওয়ার অয়েল, বিএইচ পাওয়ার অয়েল, স্পেশাল এইচএম পাওয়ার মালিশ, মদক, সেক্স পাওয়ার মদক, ব্রেস্টআপ লোশন, হর্স পাওয়ার লোশন, টাইগার ক্যাপসুল, সেক্স আম্বর ক্যাপসুল, সেক্স পাওয়ার জেলি, পাওয়ার গোপন লোশন, এইচপি কাপ, এইচপি মদক, খারাতিম লোশন, সেক্স পাওয়ার মালিশ, সেক্স পাওয়ার ক্যাপসুল, সেক্স পাওয়ার মদক, পুরুষত্বের প্রতীক মণিরাজ তেল, নারীর সৌন্দর্যের প্রতীক ডিএইচ ক্রিম, ইউএ মালিশ, ইউএ হারবাল ডাস্ট, ইউএ কুস্তায়ে হালুয়া, ইউএ কাপ, সেক্স পাওয়ার মদক, হর্স পাওয়ার লোশন, টাইগার ক্যাপসুল, নাইট কিং অয়েল, হারবাল জেনিটাল ডিউরেক্স স্পেশাল অয়েলসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে পুরুষ-নারীকে আকৃষ্ট করতে চায় প্রতিষ্ঠানগুলো। ঢাকার ৯৩ নিউ সার্কুলার রোডের লিলি প্লাজায় অবস্থিত হোমিও থেরাপি অ্যান্ড হেলথ কেয়ারের ডা. ওয়াজেদ আলীকে তার লিফলেটে উল্লিখিত পুরুষের বিশেষ অঙ্গ স্ফীত করার বিশেষ পণ্যের ব্যাপারে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের ওষুধ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত জানতে চাইলে তাও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে সন্দেহের কথা তুললে তিনি ‘সন্দেহ থাকলে সন্দেহ নিয়ে বসে থাকেন’ বলে ফোন রেখে দেন। পরে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। এর আগে তার প্রতিষ্ঠানের টিঅ্যান্ডটি ফোনে পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে ‘তিনি (ডাক্তার) দেশে নেই’ বলে জানানো হয়। মহাখালী আমতলী মোড়ের এইচ-২৩ এয়ারপোর্ট রোড তৃতীয়তলায় অবস্থিত জার্মান হোমিও হেলথের চিকিৎসক ডা. এম এন ইসলামের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে কথা বলেন ডা. বীরেন্দ্রনাথ সিকদার নামে এক ব্যক্তি।

তার কাছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত পুরুষের বিশেষ অঙ্গের দুর্বলতা দূর করার স্পেশাল জেনিটাল ও মহিলাদের বিশেষ অঙ্গ বড় করার ক্রিম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো পণ্য নেই। যৌন চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতকৃত তাদের ওষুধ কতটা মানসম্পন্ন এবং এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন কি না জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কথিত ডা. বীরেন্দ্রনাথ সিকদার।

এসব ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনীর উদ্দীন আহমদ জানান, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের কঠোর হওয়া জরুরি। এসব অপকর্ম রোধে ড্রাগ প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাবকে অগ্রণী ভমিকা নেয়ার আহŸান জানান তিনি। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধ নামধারী পণ্যগুলো খেয়ে বা ব্যবহার করে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। বাসে, ট্রেনে বা জনসমাগমে যারা এ ধরনের ওষুধ বিক্রি বা লিফলেট বিতরণ করে তাদের ধরে শাস্তি দেয়া উচিত। এ ধরনের প্রতারণা থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের উচিত ধারাবাহিকভাবে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা।

রূপচর্চায় হারবাল প্রতারণা

ডিজিটাল যুগের ছেলেমেয়েরা রূপচর্চায় খুব বেশি মনোযোগী। সেই সুবাধে রূপচর্চার ক্ষেত্রে   ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের প্রতি একটু দুর্বলতাও বেশি। তাই বাহারি বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে মান যাচাই না করে যুবক-যুবতীরা ব্যবহার করছে এ ধরনের পণ্য। বর্তমানে আমাদের দেশে রূপচর্চার পণ্য উৎপাদনে বেশ কিছু ভালো কোম্পানি এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি নামসর্বস্ব কিছু কোম্পানিও এ পণ্য উৎপাদন করছে। রূপচর্চায় হারবাল পণ্যের প্রতি সাধারণ মানুষের কদর থাকায় অনেকে তাদের কোম্পানির নামের শেষে হারবালজুড়ে দেয়। আবার এদের অনেকেই বিদেশি লেভেন নকল করছে।
জানা যায়, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগেও বেশ কিছু রূপচর্চার হারবাল পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানা যায়, বেশ নিম্নমানের হারবাল কোম্পানিগুলোর একটি পণ্য তৈরিতে সর্বোচ্চ ১৮-২০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এর গায়ে বিক্রয় মূল্য থাকে সর্বনিম্ন ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। এ কোম্পানিগুলো চকবাজারের কিছু পাইকারি দোকানকে ম্যানেজ করে ঢাকার কিছু এলাকা এবং গ্রামগঞ্জের দোকানগুলোতে ওইসব নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। দাম কম হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের এসব পণ্যের প্রতি চাহিদাও একটু বেশি। অন্যদিকে মানহীন এসব পণ্য ক্রয় করে ত্বকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই থাকছেন সাধারণ মানুষ। এসব রূপচর্চার বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত হয় স্টিয়ারিক, প্যারাবেন, মিথাইল, জিঙ্ক, চর্বি ও সাইট্রিক এসিড।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেলের চর্ম বিভাগের ডা. মো. শাহজাহান জানান, সাইট্রিক এসিড, চর্বি ও জিংক থাকার ফলে ত্বক খুব অল্পদিনে সুন্দর হয়। কিন্তু হঠাৎ করে এ পণ্য ব্যবহার বন্ধ করে দিলে ব্যবহারকারীকে অধিক বয়স্ক দেখা যায় এবং ত্বকে স্থায়ী কালো দাগসহ অন্যান্য চর্ম রোগ জন্ম নেয়।

সূত্রঃ সাপ্তাহিক ২০০০

দুনিয়াজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অর্গানিক কৃষিপণ্য

অর্গানিক কৃষিপণ্য : ছয় হাজার কোটি ডলারের বাজারে নেই বাংলাদেশ
মীর মনিরুজ্জামান

দুনিয়াজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অর্গানিক কৃষিপণ্য। বাড়ছে এ পদ্ধতির চাষাবাদও। সত্তরের দশকের আগ পর্যন্ত অর্গানিক চাষেই নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে এ চাষাবাদ। এ দেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু অর্গানিক কৃষির জন্য উপযোগী হলেও অধিকাংশ কৃষক এখন মনে করেন, অর্গানিক চাষ আর লাভজনক নয়। এ পদ্ধতির চাষ বিলীন বলেই ৬ হাজার কোটি ডলারের অর্গানিক পণ্যের বাজারে নেই বাংলাদেশ।
ইউরোপীয় রিসার্চ প্রতিষ্ঠান এফআইবিএলের এক গবেষণায় দেখা যায়, গত এক দশকে অর্গানিক কৃষিপণ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০০ শতাংশ। ২০০০ সালে বিশ্বব্যাপী এ খাতের বাজার ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০০৯ সালে যা উন্নীত হয় ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। ধারণা করা হচ্ছে বর্তমানে তা ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অর্গানিক পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্স। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ বাজার ছিল ২৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ইউরোপে ২৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে জার্মানিতে ৮ বিলিয়ন ও ফ্রান্সে ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার।
কৃষিবিদদের মতে, সত্তরের দশকের আগে অর্গানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশের কৃষি। মূলত সত্তরের দশক থেকে জনসংখ্যা বাড়ার চাপে এ দেশে রাসায়নিক সারের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল শস্যের চাষাবাদ শুরু হয়। এরপর খুব দ্রুতই হারিয়ে যায় অর্গানিক পদ্ধতির আবাদ। সীমিত কৃষিজমি, অবকাঠামো সমস্যা, নীতিমালা ও তদারকির অভাবে এ পদ্ধতি এখন আর লাভজনক নয় বলে মনে করেন অধিকাংশ কৃষক।
জানা গেছে, ধান উত্পাদনে পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থাকলেও অর্গানিক ধান উত্পাদনে কোনো অবস্থান নেই দেশটির। ধানের পাশাপাশি পাট ও তুলার ক্ষেত্রেও একই অবস্থান। কেবল অর্গানিক চা উত্পাদনে কিছুটা এগিয়ে বাংলাদেশ।
২০০০ সালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জেমকন গ্রুপ শুরু করে দেশের প্রথম অর্গানিক চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির তেঁতুলিয়া ব্র্যান্ডের চা এখন লন্ডনের দামি সুপার শপ হ্যারডসে প্রিমিয়াম প্রাইসে বিক্রি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্গানিক সুপার শপ হোল ফুডের ১০০টি আউটলেটসহ নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কুয়েতের বাজারেও বিক্রি হচ্ছে তেঁতুলিয়া চা। হোয়াইট, লেমন গ্রাস, মিন্ট, বেঙ্গল ব্রেকফাস্টসহ ৯টি ফ্লেভারে তেঁতুলিয়া চা দেশের পাশাপাশি বিদেশেও বাজারজাত করছে জেমকন গ্রুপ। চা নিলামের বাজারে গত ৫ বছর সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে এ অর্গানিক চা।
 
জেমকন গ্রুপের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার আসমা-উল রুকসানা এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশে ও বিদেশে অর্গানিক পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে অর্গানিক কৃষির সম্ভাবনাও অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাধা নেই। গুণগতমান বজায় রেখে পণ্য উত্পাদন করলেও এটি একটি লাভজনক পদ্ধতি।
জেমকন গ্রুপের পাশাপাশি প্রশিকা, প্রবর্তণাসহ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অর্গানিক পদ্ধতিতে অল্প কিছু সবজিজাতীয় পণ্য উত্পাদন করে। তবে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা, পাট, তুলা, ধানসহ সবজি চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার পতিত জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বিশ্ববাজারে অবস্থান সৃষ্টি করতে পারে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবদুল লতিফ এ ব্যাপারে বলেন, পাহাড়ি এলাকার পতিত জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য এলাকার জনগণকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি এলাকার মানুষ জৈব সার ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। তারা জুম চাষেই অভ্যস্ত।
তিনি আরও বলেন, দেশে জমি কম কিন্তু মানুষ বেশি। এ কারণে অর্গানিক চাষাবাদেও নীতিমালা হচ্ছে না। তবে জৈব সার উত্পাদনের জন্য প্রকল্প রয়েছে। মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রতিটি বাড়িতে যদি সব ধরনের আবর্জনা দিয়ে জৈব সার তৈরি করা হয়, তাহলে এ চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে।
জানা গেছে, এশিয়ার ৩৬ লাখ হেক্টর জমিতে অর্গানিক চাষ হয়। প্রায় সাড়ে ৭ লাখ উত্পাদননকারী এর সঙ্গে জড়িত। এর বেশির ভাগই চীন ও ভারতে। চীনে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর ও ভারতে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে অর্গানিক চাষ হয়। ২০১১ সালে ইউরোপীয় জার্নাল অব সোস্যাল সাইন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাত্র ১ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়।
এ ব্যাপারে ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশের (এফআইভিডিবি) কনসালটেন্ট ও জৈব কৃষি পরামর্শক ড. শেখ তানভীর হোসেন বলেন, নীতিগত সমস্যার কারণে বাংলাদেশে অর্গানিক কৃষির বিকাশ হচ্ছে না। কৃষক পর্যায়ে সচেতনতার অভাব, অর্গানিক সনদ প্রদানকারী কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকা ও বাজারজাতকরণে সমস্যাসহ কৃষি জমির অভাবে এর বিস্তার নেই। তবে অর্গানিক কৃষি প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। জৈব সার উত্পাদন ও ধানক্ষেতে হাঁস পরিপালন এর একটি বড় দৃষ্টান্ত। কেঁচো কম্পোস্ট সারের সুনাম দেশের বাইরেও রয়েছে। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে ইউরোপে মতো অর্গানিক পদ্ধতিতেও বাংলাদেশে অধিক ফলন সম্ভব।
 
অর্গানিক চাষাবাদে বিশ্বের শীর্ষে ইউরোপ। মোট অর্গানিক চাষের ২৫ শতাংশ হয় এ মহাদেশে। ৯৩ লাখ হেক্টর জমির এ চাষাবাদে আড়াই লাখেরও বেশি ফার্ম জড়িত। স্পেনে ১৩ লাখ, ইতালিতে ১১ লাখ ও জার্মানিতে সাড়ে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে অর্গানিক চাষ হয়। ইউরোপের পাশাপাশি এ পদ্ধতির চাষাবাদে এগিয়ে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকাও। এ অঞ্চলে প্রায় ৮৬ লাখ হেক্টর জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষ হয়। পৃথিবীর মোট অর্গানিক কৃষি জমির ২৩ শতাংশই রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকায়। আর্জেন্টিনায় ৪৪ লাখ ও ব্রাজিলের ১৮ লাখ হেক্টর জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ হয়। আফ্রিকায় ১০ লাখ হেক্টর জমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়। প্রায় ৫ লাখ কৃষক এর সঙ্গে জড়িত। উগান্ডা বছরে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলারের অর্গানিক পণ্য রফতানি করে।

সূত্রঃ বণিক বার্তা রিপোর্ট

Businessmen and bureaucrats migrate to richer countries as investors every year

At the Whim of Politicians

Political instability, lack of resources and corruption have proved to be major obstacles for the business community in Bangladesh for quite a while now. Frustrated with the current scenario, a section of the country is thinking of winding up their businesses at home and looking for opportunities abroad. If this happens on a wide scale, it can have a devastating effect on the economy of the nation.

Naimul Karim

It was in the early 90s that Zakir Hossain, after spending around ten years in the United States, decided to return to Bangladesh. Having been exposed to the market abroad, Hossain wanted to start a new brand of restaurants in Dhaka. He opened a foreign food-joint in the capital and as one of the rare foreign restaurants in the city, Hossain’s venture boomed in the late 90s. This encouraged him to expand his business. He eventually went on to open another restaurant in 2000, this time with an aim to establish a stronger foothold in the market.

An owner of a series of restaurants located across Asia, it was Hossain’s dream to settle in his home-country and further expand his business in Bangladesh. However, the deteriorating political scenario, corruption and the worsening condition of the country’s infrastructure have compelled him to rethink his strategy regarding his ventures in Bangladesh.

“With the way things are going right now, I’m seriously thinking of winding up my business here and migrating to some other country,” he exclaims. “Corruption is at large; government authorities come and harass us for extra money whenever they can. Even after paying the required taxes, authorities come to us for extra money to serve their personal needs and their rate has been increasing every year,” he adds.

Statements made by some of the leading businessmen in the country at a conference organised last month, reveal the unpleasant experiences that Hossain and other members of the business community have to go through. Businessmen claim that many are compelled to ‘buy their protection’ through ‘ransoms’ that keep the political classes happy. A practice they say, that is very common in the business world.

Apart from the disappointing political scenario, frequent power-cuts and a shortage in gas supply add to Hossain’s problems. “Load-shedding has no doubt increased my expenditure. What’s even more frustrating is that during hartals, I struggle to run the generators in my restaurants since it’s a hassle to transport petrol from pumps,” he explains.

The 54-year-old entrepreneur, who has businesses set-up in Kuala Lumpur and Bangkok, claims that the current scenario is extremely discouraging for businessmen. “The political instability has created a grotesque situation . I am planning to sell my business here and move to another place in the next couple of years.”

An unstable atmosphere has compelled several other members of the business community in the capital, to think like Hossain. Some of them have started looking at available options outside the country.

“As long as there is tension at home, everyone will try to keep their options open. If people can take a minimum amount of money outside and live a comfortable life abroad, they’ll naturally do so,” explains Dr Mustafa K Mujeri, former Chief Economist, Bangladesh Bank.

Md Nurul Islam, who deals in the real estate sector, has a similar story to narrate.

Having finished his studies abroad, Islam, despite being advised to live overseas, by his friends, returned to Dhaka and started his business. “Ten years ago, many of my friends went to Canada as investors since it was a very easy thing to do back then, but I thought otherwise,” he recalls. As the real estate sector developed over the years, so did Islam’s business. The growth in the housing arena helped his cause. However, Islam claims that the uncongenial atmosphere for business in the city has been taking its toll since last year.

“It’s the over-all situation that affects my business. Starting from the hour-long traffic jams and the lack of resources to the political rivalry and hartals; when everything adds up, it provides a frustrating scenario,” exclaims Islam. He says that while it’s not a common phenomenon for the richer members of the business community to feel the heat, constant political and financial problems in the last couple of years have begun to affect them as well.

“One usually expects hartals or changes in the share market to affect the less affluent businessmen since they don’t have the capacity to recover from their losses. They run on strict budgets. However, frustration amongst richer businessmen is a bad sign for the economy,” explains a desperate Islam, who himself is in search of the opportune moment to leave the country.

Like Islam several other people have been desperately seeking a way out. A recent report published in The Daily Star states that several businessmen and bureaucrats migrate to richer countries as investors every year. It further states that people are willing to shell out huge amounts of money in order to become investors. For instance, a person has to transfer at least 500,000 Canadian dollars (Tk 4.13 crore) to migrate to Canada as an investor or an entrepreneur.

The Malaysia My Second Home (MM2H) programme requires a person to make a fixed deposit of approximately 90,000 dollars with a Malaysian bank in order to get a residential permit for 10 years. Reports suggest that more than 1,800 Bangladeshis have been enrolled for the MM2H programme which led to a transfer of roughly $280 million (about Tk 2,300 crore), between 2002 and 2010, to Malaysia. Clearly the government’s restraint on the amount of money being taken abroad isn’t working as people have found alternative routes to transfer their cash.

Immigration to richer countries is definitely not a new concept in Bangladesh. However, if shutting down businesses and leaving the country, due to the worsening political scenario, becomes a trend, it can have an adverse affect in the near future. “In the world of globalisation, capital flow or flow of labour is very much possible. Money will naturally flow to places where it is possible to live. If there is a net outflow, then it’s bound to affect us,” says Dr Mujeri.

Former advisor to the caretaker government, Dr Hossain Zillur Rahman is of the opinion that while the migration of businessmen might not immediately affect, the economy, it may however, cause severe problems in the future. “Power crisis and political instability,along with hartal, force people to look for second homes outside. The government has to become aware of the reasons for which businessmen and others are going out,” says Dr Rahman.

As a result of the growing concern , the country’s top business leaders, in a meeting this month, condemned the ‘destructive programmes’ and urged the political parties to settle their disputes through dialogue. The leaders decided to draft separate proposals to both the Prime Minister and the leader of the opposition.

Describing the various problems that the business community faces during hartals, Mir Nasir Hossain, former president of the Federation of Bangladesh Chambers of Commerce and Industry (FBCCI), says, “The current political scenario has affected both the domestic and export market over here. We face a lot of problems. Our goods don’t reach in time because of the hartals and other political problems.”

Commenting on the issue of various entrepreneurs leaving town, he says,”A business person will always look for innovative ways to earn, and it won’t be a surprise if someone looks to go abroad to start a chain or move a section of their business . This is how globalisation started. The government should provide us with an environment where we can do business.”

Contemplating on how serious the issue can get in the near future, Dr Mujeri lists the various factors that need to be considered. “If entrepreneurs face problems due to political instability and other reasons, they’ll still try to work it out for a while, but if it continues, they will look for an alternative way. Now if there is an opportunity for them to start a business elsewhere, they might think about it. But moving a business from one place to another also has a cost; there are different factors involved. Until and unless they are forced to shift, they won’t move along. We have to take care of that aspect, and encourage them to invest here,” he says.

It is a known fact that brain drain has affected almost all the important fields in the country. Media reports suggest that more than 65 per cent of all newly graduated doctors seek jobs abroad and that the country loses 200 doctors from the government sector each year– political influence in the medical job scenario being one of the main reasons behind the appalling statistic.

The government’s negligence has also affected the agricultural sector, with a large number of agricultural scientists leaving the country every year. An insider from a government organisation states lack of innovative measures, early retirement policy and lack of benefits as the main reasons behind the migration of scientists.

The engineering field has also seen its share of migrants. With promotions and jobs given mostly on political consideration, it marginalises the non-political yet worthy candidates. These are some of the reasons that encourage students with good academic track records to go outside the country.

Despite the unfriendly conditions, the fact that the nation’s economy has managed to fare well is a wonder. In the words of Finance Minister, AMA Muhith, it indeed, is, an ‘incredible economy’. In the last fiscal year, when the world was going through a financial crisis, Bangladesh was one of the few countries that saw a positive export growth in the last fiscal year. Young entrepreneurs are entering the business world, every year, with fresh ideas that contribute to the economy.

Yet with no attempts by the major parties to solve the present political stalemate along with untenable levels of corruption and increasing threats to physical security, many members of the business community are getting anxious, enough to leave the country. The political parties must pay heed to these warning signs and create a stable environment for business to survive and flourish.
Source: http://www.thedailystar.net/magazine/2012/05/02/cover.htm

কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশী দুই নাগরিকের মাস্টার কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের কেনাকাটা করা হয়েছে ঢাকায়

মাস্টার কার্ড জালিয়াতি
সাকিব তনু

কানাডা-প্রবাসী বাংলাদেশী দুই নাগরিকের মাস্টার কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের কেনাকাটা করা হয়েছে ঢাকায়। প্রবাসী দুজন হলেন রহমান মোল্লা ও তার মেয়ে ফারজানা বেগম। জালিয়াতির কাজটি করেছে ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের ইমরান জুয়েলার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
রহমান মোল্লা ও ফারজানা বেগম কানাডার ব্যাংক অব মনট্রিয়লের টিডি ভিসা কার্ড এবং এমবিএনএ মাস্টার কার্ড ব্যবহার করেন। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রহমান মোল্লার কার্ডে ইমরান জুয়েলার্স ও বাটার ফ্লাই মার্কেটিং ঢাকা অফিস থেকে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে ২৩ হাজার ১১৫ কানাডিয়ান ডলারের পণ্য কেনা হয়। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি ফারজানা বেগমের কার্ডে একই জুয়েলার্স থেকে ১১টি লেনদেনের মাধ্যমে ৪০ হাজার ৬৯৭ কানাডিয়ান ডলারের পণ্য কেনা হয়। অথচ তারা সে সময় দেশে ছিলেন না।
বাংলাদেশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে এ লেনদেন হয়। লেনদেন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইমরান জুয়েলার্সের প্রায় ২০ লাখ টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আটকে দিলেও তা তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করেনি ব্যাংকটি। যদিও মানি লন্ডারিং আইন, ২০০৯-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট করার বিধান রয়েছে।
পরে প্রতারিত এ দুই গ্রাহকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মাস্টার কার্ডের বিধান অনুযায়ী তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘন করার কারণে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাছে জবাব চাওয়া হবে ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বায়তুল মোকাররমে একসময় ইমরান জুয়ালার্স থাকলেও বর্তমানে এ নামে কোনো দোকান নেই। ইমরান জুয়েলার্সের কর্ণধার নুরউদ্দিন ইমরান পরে বুলবুল ও একতা জুয়েলার্স নামে দুটি নতুন দোকান চালু করলেও সম্প্রতি বুলবুল জুয়েলার্স ছেড়ে দিয়েছেন। এখন তিনি একতা জুয়েলার্স ও ইমরান আর্মস নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। গতকাল ইমরান আর্মসের ম্যানেজার পরিচয় দেয়া জিতু জানান, নুরউদ্দিন ইমরান ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে আছেন। কবে ফিরবেন তা তার জানা নেই।
জানা যায়, কানাডিয়ান ব্যাংক দুই গ্রাহকের কাছে যখন আর্থিক বিবরণী পাঠায়, তখন তাদের কাছে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ভুক্তভোগীরা আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাছে গ্রাহকের আন্তর্জাতিক মাস্টার কার্ড ও ভিসা কার্ডের লেনদেনের বিবরণী চেয়ে পাঠান। ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকেও অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইমরান জুয়েলার্সের কর্ণধার নুরউদ্দিন ইমরানের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল শাখায় একটি হিসাব রয়েছে (নম্বর ১০১.১১০.২৮১৩১)। এ হিসাবের আওতায় তিনি ব্যাংকটির কার্ড ডিভিশনের মার্চেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং কার্ডে অর্থ পরিশোধের ইলেকট্রনিক মেশিন বা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেন।
২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রহমান মোল্লার কার্ড থেকে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে ইমরান জুয়েলার্স। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২ শতাংশ হারে কমিশন কেটে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ইমরান জুয়েলার্সের হিসাবে ক্রেডিট করে সেদিনই। একই দিন ইমরান জুয়েলার্স এটিএমের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা ও চেকের মাধ্যমে ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা তুলে নেয়।
২০ ফেব্রুয়ারি ইমরান জুয়েলার্সে ১১টি লেনদেনের বিপরীতে ফারজানা বেগমের কার্ড থেকে ২৬ লাখ ২ হাজার টাকা কেটে রাখে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। একই বছরের ৩ মার্চ ২ শতাংশ হারে কমিশন কেটে ইমরান জুয়েলার্সের হিসাবে ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪২ টাকা ক্রেডিট করে। একই দিন আবার ভুল বিক্রি দেখিয়ে ২০ লাখ ১৫ হাজার ৭৬২ টাকা ওই হিসাব থেকে ডেবিট করে ব্যাংকটি। ওই দিনই ইমরান জুয়েলার্স ৫০ হাজার ও পরদিন ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা তুলে নেয় তার হিসাব থেকে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১১টি সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ ব্যাখ্যার জন্য ইমরান জুয়েলার্সকে ১০ মার্চ একটি ই-মেইল পাঠায়। ইমরান জুয়েলার্স আজ অবধি এর কোনো জবাব দেয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইমরান জুয়েলার্স হিসাব খোলার ফরমে ঘোষণা দেয়, তার সর্বোচ্চ জমা ২ লাখ এবং সর্বোচ্চ উত্তোলন ৩ লাখ টাকা হবে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি লেনদেনে ঘোষিত সীমা অতিক্রম করলেও ব্যাংকটি গ্রাহকের কাছে এর কোনো ব্যাখ্যা চায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এসএম মুনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তারাই দেখছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রাহকও যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, তাও দেখা হচ্ছে।
ইদানীং মাস্টার কার্ড জালিয়াতির ঘটনা বেড়েছে। বিদেশী একটি চক্র এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অনেকের ধারণা। এতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ই পড়ছেন বিপাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের অনাস্থাও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা জড়িয়ে পড়ছেন আইনি জটিলতায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই মাস্টার কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এ জন্য ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনকে আরও মনোযোগী এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে। মাস্টার কার্ড বীমা থাকাটাও ভালো। এতে গ্রাহক সহজেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।
প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু বলেন, এ ধরনের ঘটনা রোধ বেশ কঠিন। আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেও কম। তবে মোটেই যে ঘটছে না, তা বলা যাবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে এ জালিয়াতি রোধে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে ফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


বিশ্ববাজারে টানা ৩ মাস স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী

স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশা ডয়চে ব্যাংকের

 ফেব্রুয়ারি মার্চ ও এপ্রিলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। ২০০১ সালের পর টানা তিন মাস স্বর্ণের বাজার নিম্নমুখী। তবে স্বর্ণের বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশা করছে জার্মানভিত্তিক ডয়চে ব্যাংক। ব্যাংকটির পণ্যবাজারবিষয়ক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। খবর কমোডিটি অনলাইনের। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৯২০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। তবে এখন তা কমে ১ হাজার ৬৫০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংগুলোর ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকের ধারণা ধীরগতিতে আরও কমবে। আবার অনেক বিশেষজ্ঞই স্বর্ণের দাম অচিরেই বাড়তে পারে বলে আশাবাদী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিমার্চ ও এপ্রিলে স্বর্ণের দাম কমেছে। তবে ডয়চে ব্যাংকের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬০০ ডলার হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে তা ১ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। চতুর্থ প্রান্তিকে এ দাম রেকর্ড পরিমাণ ২ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ায় তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জার্মানির এ ব্যাংকটি মনে করে। কেন্দ্রীয়ব্যাংকগুলো এখন বৈদেশিক রিজার্ভের জন্য স্বর্ণের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে তারা আরও বেশি স্বর্ণ মজুদ করছে। স্বল্পমেয়াদে বাজার চাপের মুখে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক হবে বলে ডয়চে ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপ ও অ্যামেরিকায় ব্যাংকটির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। এ ছাড়া তারা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।

বিশ্ববাজারে টানা ৩ মাস স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী

স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের জন্য চলতি বছর তেমন ভালো যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। ২০০১ সালের পর প্রথমবারের মতো এর দাম টানা ৩ মাস নিম্নমুখী হয়েছে। খবর কমোডিটি অনলাইনের।
ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলোর ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকের ধারণা, স্বর্ণের দাম ধীর গতিতে আরও কমবে। আবার অনেক বিশেষজ্ঞই স্বর্ণের দাম অচিরেই বাড়তে পারে বলে আশাবাদী। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ায় তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৯২০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। তবে পরবর্তীতে তা কমে ১ হাজার ৬৫০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। ‘আনকন্ট্রোলড রিস্ক’এর লেখক মার্ক উইলিয়াম অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক কলামে বলেন, স্বর্ণের দাম ১৯৮০ সালের শেষ দিকে শেষবারের মতো ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। পরবর্তী ২০ বছরে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি ধারা বজায় ছিল। ২০১১ সালে আবারও স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করে। এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ৭০০ মার্কিন ডলার কমেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৬৫০ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে। মার্কের পূর্বাভাস সঠিক হলে তা আরও কমবে। ২০১২ সালের প্রথম ৪ মাসে স্বর্ণের বৃহত্তম ভোক্তা দেশ ভারত স্বল্প পরিমাণে স্বর্ণ আমদানি করে, যা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বর্ণ আমদানির ওপর দেশটির সরকার শুল্ক বৃদ্ধি করায় জুয়েলারি দোকানে টানা ২০ দিনের বেশি ধর্মঘট অব্যাহত রাখা হয়। পরে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্বর্ণের আমদানি বাড়েনি।

স্বর্ণের দাম কমল
০৬-০৪-২০১২: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
ঘোষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের দাম এখন ভরিপ্রতি দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। আজ শুক্রবার থেকে স্বর্ণের এই নতুন দর কার্যকর হবে। জুয়েলার্স সমিতি গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
বাজুস ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক হাজার ৫১৬ টাকা কমে হয়েছে ৫৭ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা কমে হয়েছে ৫৪ হাজার ৮৭৯ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৮৩ টাকা কমে ৪৭ হাজার পাঁচ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এক হাজার ৪০০ টাকা কমে ৩৫ হাজার ৬৯১ টাকা হয়েছে।
পাশাপাশি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম ভরিপ্রতি ৫৮ টাকা কমে হয়েছে এক হাজার ৫১৬ টাকা।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Update: May 09,2012

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল আউন্সে ৪২ ডলার

 এক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৪২ ডলার। গতকাল বুধবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে আসে ১ হাজার ৫৮৭ ডলারে। ৮ মে প্রতি আউন্স স্বর্ণের সর্বশেষ বিক্রয় মূল্য ছিল ১ হাজার ৬২৯ ডলার। বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও তা পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল সর্বশেষ দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দেড় হাজার টাকা কমানো হয়। ২২ (ক্যাডমিয়াম) ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭ হাজার ৪২৫ টাকায়।
জানা যায়, গত প্রায় মাসখানেক ধরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী। বিশ্ববাজারে গতকাল প্রতি আউন্স (২ দশমিক ৬৬ ভরি) স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৮৭ ডলারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত মার্কিন অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের মূল্যমান বাড়ায় স্বর্ণের বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তা ছাড়া এরই মধ্যে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ স্বর্ণের মজুদ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এসব কারণেই স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে।
জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, বিশ্ববাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে সব সময়ই দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়। বৈঠকের মাধ্যমে দাম সমন্বয় করা হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজ মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
দেশে বর্তমানে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ৫৪ হাজার ৮৬০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪৬ হাজার ৯৯০ টাকা এবং সনাতনী স্বর্ণ ৩৫ হাজার ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫১৬ টাকায়।

Cheap International Calls


অপরাধ ব্যবসা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি

জাতিসংঘের ভাষ্য : প্রধান ২০ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ১টি অপরাধমূলক ব্যবসা

বিশ্বের প্রধান ২০টি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি হচ্ছে অপরাধ-সম্পর্কিত ব্যবসা। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিচার কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) ২০০৯ সালের বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
এ তথ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হুমকি বলে মনে করেন ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেদোটোভ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অপরাধ ব্যবসা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ অর্থনীতির কাতারে চলে এসেছে। এখন তা প্রধান ২০টি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি।
অপরাধ দমন ও বিচার-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিসিপিসিজে) সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তব্য রাখার সময় ফেদোটোভ জানান, এ পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করার আগে আরও বিশ্লেষণের কথা জানান তিনি।
ফেদোটোভের মতে, দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর ৪ হাজার কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর। আবার আদম পাচারের মতো অবৈধ ব্যবসা থেকে অপরাধীরা আয় করছে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মতো।
অন্য এক বক্তব্যে ফেদোটোভ বলেন, ‘এক হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ২৪ লাখ মানুষ আদম পাচারের শিকার হচ্ছে। এ হচ্ছে আধুনিক দাসত্বের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।’
তিনি জানান, অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলেও বিশাল অঙ্কের অর্থ আয় করছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল)’ অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে সংঘটিত অপরাধ, অবৈধ আদম ব্যবসা, উগ্রবাদ ও দুর্নীতি। ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের দরিদ্রতম মানবগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসন ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আরেকটি সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্রায়ান নিকোলাস জানান, আইনের ফাঁকফোকর বের করে নিজেদের টিকিয়ে রাখা ও মুনাফা লোটার নিত্যনতুন উপায় বের করতে অপরাধীদের জুড়ি নেই। তিনি বলেন, আগের দিনের পারিবারিকভাবে নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীভিত্তিক অপরাধীদের সঙ্গে এখনকার অপরাধ চক্রগুলোর কোনো মিল নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বদলে এখনকার অপরাধচক্রগুলো শিথিল ও অপ্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত। এখনকার অপরাধীরা নিজেদের সুবিধামতো উপায়ে যোগাযোগ করে আর তাদের কার্যপরিধিও অনেক বিস্তৃত।’
নিকোলাস অবশ্য ইউএস ব্যুরো অব ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিকস অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গেও যুক্ত।
তিনি জানান, এখনকার সন্ত্রাসী দলগুলোও অর্থায়নের জন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। নিকোলাস বলেন, এমনও দেখা গেছে, নিজেদের সুবিধার জন্য সন্ত্রাসীরা অপরাধ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে।
[বণিক বার্তা ডেস্ক]
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


http://www.unodc.org/documents/data-and-analysis/Studies/Illicit_financial_flows_2011_web.pdf
April 23, 2012 11:03 AM

U.N.: Crime
is one of world’s “top 20 economies”

(CBS/AP)

(CBS/AP) VIENNA – Criminality worldwide generates proceeds in the trillions of dollars each year, making crime one of the world’s “top 20 economies,” a senior U.N. official said Monday

With the scope of global crime — and particularly organized crime — threatening emerging economies and fomenting international instability, Yury Fedotov called for concerted world action to combat the trend.

“We need to recognize that the problem requires a global solution,” Fedotov, the head of the U.N. Office on Drugs and Crime, told reporters outside an international conference focused on preventing the exploitation of illegal migrants and other crimes linked to human trafficking. “No country can handle this problem alone.”

Fedotov said that “criminal business” earns those behind it $2.1 trillion — nearly 1.6 trillion euros — a year, which he said is equivalent to nearly 7 percent of the size of the global economy.

Complete speech by Yury Fedotov, Executive Director, UNODC

In a recent UNODC report, global gross proceeds were calculated from such illicit activities as money-laundering (US$1.6 trillion in 2009) and cocaine trafficking (US$84 billion for 2009).

Other criminal enterprises which added to UNODC’s $2.1 trillion estimate were counterfeiting; human trafficking; and trafficking in oil, wildlife, timber, fish, art and cultural property, gold, human organs, and small and light weapons). (Criminal proceeds within a national sector, such as burglaries, fraud, loan sharking or protection racketeering, were not included.)

Transnational crime threatens Millennium Development Goals (UNODC)

In separate comments inside the meeting, Fedotov said that as many as 2.4 million people may be victims of human trafficking worldwide at any given time, calling it “a shameful crime of modern-day slavery.”

Corruption is another concern of the meeting. Fedotov told the opening session that estimates put the amount of money lost through corruption in developing countries at $40 billion annually.

U.S. delegate Brian A. Nichols said the changed face of organized crime makes prosecution more difficult than in the past.

“Today, most criminal organizations bear no resemblance to the hierarchical organized crime family groups of the past,” he told the meeting.

“Instead, they consist of loose and informal networks that often converge when it is convenient and engage in a diverse array of criminal activities, including the smuggling of counterfeit goods, firearms, drugs, humans, and even wildlife to amass their illicit profits.”
http://www.cbsnews.com/8301-202_162-57418890/u.n.-crime-is-one-of-worlds-top-20-economies/

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে

দাম কমেছে :

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটিতে চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে কমেছে বাড়ির দাম। নতুন বাড়ির গড় মূল্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ ডলার। খবর বিবিসির।
গত মাসে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে বার্ষিক বিক্রির হার ৩ লাখ ৭ হাজারে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও বিক্রির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ খাতে পুনর্গঠনের জন্য বার্ষিক ৭ লাখ বাড়ি বিক্রি প্রয়োজন ছিল।
এদিকে দেশটিতে বিক্রিযোগ্য নতুন বাড়ির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। মূল্য হ্রাসের অন্যতম কারণ হলো অবকাঠামো নির্মাণকারীদের অর্থের স্বল্পতা।
এ প্রসঙ্গে ইনসাইট ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিভেন উড বলেন, যখন চাহিদা বাড়তে শুরু করবে তখন স্বল্পসংখ্যক নতুন বাড়ি বিক্রির মধ্য দিয়েই অতি দ্রুত গৃহ বাজার ভালো অবস্থানে যাবে।
এর পরও অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন বাড়ি বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে পুরনো বাড়িগুলোও এখন মূল্য হ্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে পুরনো বাড়ি বিক্রির পরিমাণ বার্ষিক হারের তুলনায় গত মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ লাখ ৭ হাজার। অথচ সম্পত্তির বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য ৬০ লাখ বাড়ি বিক্রি হওয়া দরকার ছিল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০৮ সাল থেকে গৃহ বাজারকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে সুদের হার শূন্যতে নামিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু আমানতের বৃহৎ পরিমাণসহ অনমনীয় ঋণের শর্তাবলীর কারণে ক্রেতারা ঋণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে

 যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো চলতি বছরের নভেম্বরে বেশ কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে শ্রমবাজারে যে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে অতি দ্রুত উত্তরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বুধবার গৃহনির্মাণ এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে তা প্রকাশ পেয়েছে। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের।
জরিপে দেখানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। এমনকি অতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে তারা অর্থনীতির মন্দা ভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে, এমনটি নিশ্চিত করা হয়েছে এখানে।
এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের আইটিজি ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ স্টিভ ব্লিজ বলেন, ‘গত বসন্তে এবং গ্রীষ্মের শুরুতে প্রবৃদ্ধিতে যে ধীরগতি ছিল তা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি ২ থেকে আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’
তা সত্ত্বেও তিনি বলেন, ‘প্রথমত দেখতে হবে এই সংখ্যাগুলো এটাই প্রমাণ করে কি না যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত বহির্বিশ্বে এখনো ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।’
প্রসঙ্গত ঋণসংকট উত্তরণে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোকে সস্তায় ডলার সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলে এই জরিপে দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হলো ইউরো অঞ্চলের ঋণসংকট, যা এখনো স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভাইস চেয়ারম্যান জেনেট ইলেন বলেন, এ সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিকে আরও শিথিল করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে বলে জানান তিনি।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি ওয়াল স্ট্রিট বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি রেকর্ড করেছে। খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পণ্যে মূল্য হ্রাস ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণে সফল হওয়ায় গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ হিসাবে এ বছর বিক্রি ১ হাজার ১৪০ কোটিতে পৌঁছেছে এবং এটিই দেশটিতে ব্ল্যাক ফ্রাউডে উপলক্ষে সবেচেয়ে বেশি বিক্রি বলে শিকাগোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান শপার ট্রাক জানায়। খবর এএফপি ও ইয়াহু নিউজের।

কেনাকাটা উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর নভেম্বরের শেষ শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডে হিসেবে পালন করা হয়। বিক্রি বাড়ার ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তিন দিনে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে তা গত বছর অর্জিত প্রবৃদ্ধির অর্ধেক বলে জানা যায়। একই সঙ্গে খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রেতাদের জন্য এটি বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার দিনও ছিল। এর আগে গত বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে দেশটির চলতি বছর এ দিবসটির বিক্রি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে বলে দ্য ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন প্রত্যাশা করেছিল।

ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এ টি কিয়ার্নির অংশীদার লরা গুরস্কি বলেন, ‘প্রত্যেকে একই ক্রেতা আকর্ষণে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ এ ক্রেতাদের একজন হলেন এলিসন সার্টরেন্ড। বোস্টনভিত্তিক এ হিসাবরক্ষক টাইম স্কয়ারে কাপড়ের দোকান অ্যারোপোস্টালে গিয়েছিলেন কেনাকাটার জন্য। তিনি বলেন, একমাত্র কম দাম ও ভাল সুযোগ পেলেই আমি কেনাকাটার জন্য দোকানে যাই।

এদিকে অ্যারোপোস্টাল ইনকরপোরেশন তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, শনিবারের ব্লুআউটের জন্য আমাদের সবকিছুর দাম ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে গ্যাপ ইনকরপোরেশনের শনিবারের বিশেষ কেনাকাটা উপলক্ষে সব ধরনের পোশাকের ওপর ৬০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয় বলেও জানা যায়। পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্স এলএলপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড বাসোক বলেন, এ খেলার নাম হচ্ছে— উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। তারা সামনেও একে ধরে রাখতে চায়। প্রসঙ্গত,
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এ দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটনের স্থানীয় দোকানগুলোয় গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি অপেক্ষাকৃত ভালো হলেও গত শুক্রবার অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের বিক্ষোভকারীদের কারণে বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি বন্ধ ছিল। এর মধ্যে লস এঞ্জেলেসে ওয়ালমার্টের একটি শাখায় সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। তার পরও স্মার্টফোনের মতো পণ্যগুলোর দাম তুলনামূলক কমিয়ে দেয়ায় দোকানটিগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। সিয়ার্স হোল্ডিংয়ের রিটেইল সার্ভিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যামিই বুকস রয়টার্সকে বলেন, এ মৌসুমের পুরো সময়ই আমরা এ ধরনের কর্মসূচি চালু রাখব। তবে একটি দিবস উপলক্ষেই আমরা আমাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব না।

এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো শুরু করেছে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ম্যাকিস ইনকরপোরেশন তাদের পণ্যের প্রচারণার জন্য তরুণ সঙ্গীতশিল্পী জাস্টিন বিবারকে বেছে নিয়েছে। জেসি প্যানি কোম্পানি ইনকরপোরেশনের নির্বাহী মাইক থিলম্যান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা।

সফটওয়্যার ও খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান আইবিএম স্মার্টার কমার্স জানায়, থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে অনলাইনে বিক্রির পরিমাণ ৩৯ দশমিক ৩ ও ব্ল্যাক ফ্রাইডে উপলক্ষে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজার পেয়েছে মোবাইল ফোনসেট ও ট্যাবলেট কম্পিউটার। প্রসঙ্গত, বড়দিন উপলক্ষে কেনাকাটার প্রস্তুতি মূলত শুরু হয় এ ব্ল্যাক ফ্রাইডের মধ্য দিয়েই। ফলে এ দিনগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে বড় চেইন শপ ও সুপার মার্কেটগুলো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা ব্যয় দেশটির অর্থনীতির ৭০ শতাংশ হওয়ায় বর্তমান এ মন্দাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ক্রেতাদের গতিবিধির ওপর।
বণিক বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ ২০১১ : শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ

মীর মনিরুজ্জামান
বিশ্ব অর্থনীতির অনেক মানদণ্ডেই বাংলাদেশ উজ্জ্বলতম অবস্থানে নেই। কিন্তু এক দশক ধরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স দেশের জন্য নিয়ে এসেছে এক অসামান্য আশীর্বাদ। এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্সগ্রহীতা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের আউটলুক ফর রেমিট্যান্স ২০১২-১৪ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ বার্তা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব বসন্ত ও বিশ্বমন্দা রেমিট্যান্সপ্রবাহে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। মিসর, সিরিয়া ও লিবিয়াসংকটের কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ফিরে এলেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০১১ সালের ১০ মাসের ভিত্তিতে (জানুয়ারি-অক্টোবর) পুরো বছরের যে প্রক্ষেপণ তারা করেছে, তাতে বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এ বছর বাংলাদেশ ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করবে।

প্রতিবেদনে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে ভারত, চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম, মিসর ও লেবানন। ২০১১ সালে শীর্ষ ১০টি দেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহের পরিমাণ ২২০ বিলিয়ন ডলার, যা উন্নয়নশীল দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ। ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করে ভারত তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করেছে। ৫৭ বিলিয়ন নিয়ে চীন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে মেক্সিকো ২৪ বিলিয়ন ডলার, চতুর্থ অবস্থানে ফিলিপাইন ২৩ বিলিয়ন, পঞ্চম অবস্থানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ১২ বিলিয়ন, ষষ্ঠ অবস্থানে নাইজেরিয়া ১১ বিলিয়ন, সপ্তম অবস্থানে ভিয়েতনাম ৯ বিলিয়ন, অষ্টম অবস্থানে মিসর ও লেবানন ৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রথম ৯ (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) মাসে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রবৃদ্ধি হয় ৩৭ শতাংশ। এ সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়ে। এ খাতে দেশটি প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ ধরে রেখেছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ পথে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার পরও জনশক্তি রফতানিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রতিবেদনে লিবিয়া থেকে ৩৮ হাজার শ্রমিক ফেরত আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনকে কিছুটা রক্ষণশীল হিসাব বলে মনে করছেন প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাবের চেয়ে বেশি জনশক্তি রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া রেমিট্যান্স খাতেও অর্জন বেশি। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াও অন্যান্য চ্যানেলে পর্যাপ্ত রেমিট্যান্স আসে। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে জনশক্তি রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত জনশক্তি রফতানি হয়েছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার, এ বছর নভেম্বর পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার। ডিসেম্বরে আরও ৪০ হাজার মানুষ যাবে। সব মিলে এ বছর ৬ লাখ জনশক্তি রফতানি হবে। ওমান ও সংযুক্ত আবর আমিরাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক রফতানি হওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংকট না থাকলে এ বছর আরও জনশক্তি রফতানি হতো বলে মনে করেন সচিব ড. জাফর আহমেদ।

তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সভাপতি মো. আবুল বাশার মনে করেন, কূটনৈতিক তত্পরতার দুর্বলতার কারণে জনবল রফতানি এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। তিনি বলেন, জনশক্তি রফতানির প্রধান বাজার সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার এখনো বন্ধ আছে। সরকার যদি কূটনৈতিক তত্পরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব দেশের শ্রমবাজারে জনশক্তি রফতানি আবার চালু করতে পারত, তবে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ত।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ছয়টি উন্নয়নশীল অঞ্চলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়েছে। আমেরিকা, জাপান ও ইউরোপের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরও উন্নয়নশীল দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। ওই সব দেশের প্রবাসীরা ব্যক্তিগত খরচ কমিয়ে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, উন্নয়নশীল দেশে ২০১২ সালে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭ দশমিক ৯ এবং ২০১৪ সালে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ হারে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে।
তবে প্রতিবেদনে বেশ কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোর চলমান ঋণসংকট দীর্ঘায়িত হলে এবং আমেরিকাসহ উন্নত অর্থনীতির দেশে বেকারত্ব বাড়লে তা প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক দেশ প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ অথবা সংকোচন করতে পারে। কোনো কোনো দেশ নিজের ঘর সামলাতে শ্রমিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাকেন্দ্রের গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, ইউরোপসংকট দীর্ঘায়িত হলেও তা বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে না। কারণ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট ঘনীভূত হলে রেমিট্যান্সে বড় সমস্যা হবে। সে ক্ষেত্রে শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন ড. জায়েদ বখত।

বায়রা সভাপতি মো. আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ লাখ লোক কাজের জন্য তৈরি হয়। এদের অধিকাংশের জন্য কাজের কোনো ব্যবস্থা দেশে নেই। এই শ্রমশক্তিকে যত বেশি বিদেশে পাঠানো যাবে, দেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহ তত বাড়বে। এ ব্যাপারে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 65 other followers