`বিয়ে করবেন নাকি তাড়াতাড়ি মরবেন`

বিয়েতে কি লাভ? হার্টের কার্যকর ওষুধ!

বিডিঅনলাইন ডেস্ক, ১৯  মার্চ -বিয়েতে কি লাভ?-এমন প্রশ্নের জবাবে বিবাহিতরা বলেন, “করেই দেখ না“।

তারকারা বলেন, “জীবনে শৃঙ্খলা আসে। এই যে অগোছালো আমি বিয়ে করার পর পুরোপুরি ডিসিপ্লিন্ড হয়ে গেছি। জীবনের দর্শন বদলে গেছে। ইত্যাদি, ইত্যাদি“।

তারপরও যারা চিন্তিত বিয়ে করা নিয়ে তাদের জন্যই সুখবর।

গবেষকরা বলছেন, হার্টের শক্তিশালী ওষুধ বিয়ে। সমপ্রতি দ্য জার্র্নাল অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণা প্রতিবেদন।

এতে বলা হয়েছে, হার্টের বাইপাস সার্জারির পর তিন মাস পর্যন্ত বিবাহিতদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অবিবাহিতদের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

তাছাড়া এই তিন মাস আক্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি সার্জারির পর পাঁচ বছর পর্যন্ত বিবাহিতদের হার্টের সুরক্ষামূলক প্রভাব কার্যকর থাকে।

গবেষণাটির মূল গবেষক ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী এলেন ইডলার বলেন, সার্জারি পরবর্তী সঙ্কটজনক সময়ে বিবাহিতদের সারভাইভ করার অনুপাত একটা নাটকীয় ব্যাপার।

এলেন আরও বলেন, বিয়েটা এক্ষেত্রে একটি সফল অনুঘটক। রোগী পুরুষ হোক বা মহিলা এতে কোন ভেদাভেদ নেই।

নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সর্বোপরি অবিবাহিতদের মৃত্যুর অনুপাত বিবাহিতদের চেয়ে দ্বিগুণ। গবেষণায় স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময় স্বামী-স্ত্রী’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা তুলে ধরা হয়।

এলেন বলেন, এক্ষেত্রে স্ত্রী’র মতো স্বামীও ভাল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দীর্ঘজীবন পাওয়ার উপায় হিসেবে স্বীকৃত ১৮৫৮ সাল থেকে।

ওই সময় উইলিয়াম ফার প্রমাণ করেছিলেন, ফ্রান্সে কম বয়সে মারা যাওয়ার প্রবণতা রোধ করছিল বিয়ে। গবেষণাটিতে বলা হয়- বিধবা, চিরকুমার ও ডিভোর্সিদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি।

এলেন বলেন, আমরা ৫শ’ সার্জারি ও ইমারজেন্সি রোগীর উপর গবেষণা করে এটি তৈরি করেছি। কেন বিয়ে সঙ্কটময় মুহূর্তের ঝুঁকি কমিয়ে আনে তাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, বিবাহিতরা সার্জারিতে অনেক বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যায়।

যা অবিবাহিতরা পারে না। ব্যথা সহ্য করা, আরাম ছেড়ে কষ্ট তুলে নেয়া ও সার্জারি সম্পর্কে দুশ্চিন্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে- বিবাহিতরাই ইতিবাচক জবাব দেয়।

এতে বলা হয়, অবিবাহিতরা সার্জারির পর ৫ বছরের মধ্যে ৭০ ভাগ পর্যন্ত মারা যায়। যেটা বিবাহিতদের ক্ষেত্রে অনেক কম। এতে বিবাহিত জুটিদের মধ্যে ধূমপান কম হওয়ার কথাও বলা হয়। যেটা একটা উপকারী দিক।

সব শেষে পরামর্শ দেয়া হয় বিষয়টি যখন হার্ট সংক্রান্ত, বিয়েই হবে শক্তিশালী ওষুধ।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে, “বিয়ে করবেন নাকি তাড়াতাড়ি মরবেন“।

‘দি গডফাদার’ : অ্যাল পাচিনো

জীবন্ত এক কিংবদন্তী: অ্যাল পাচিনো

আব্দুল্লাহ জায়েদ
২৫ এপ্রিল ২০১২, এই দিনেই হলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেতাদের একজন- অ্যাল পাচিনো পা দিলেন জীবনের ৭২ তম বছরে। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার জন্মদিনে তার জীবনের গল্প নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের ফিচার। লিখেছেন আব্দুল্লাহ জায়েদ।

অভিনয় জীবনের রঙ্গীন পর্দায় তার অভিষেক ১৯৬৯ সালের ‘মি. নাটালি’ মুভিটিতে ছোট্ট একটি চরিত্র দিয়ে। এরপর দর্শক আর সমালোচক উভয়ের মন কাড়েন পর্দা কাঁপানো হলিউডি গ্যাংস্টার মুভি ‘দি গডফাদার’-এর মাইকেল করলিওনি চরিত্রটিতে অভিনয় করে। এরপর ‘স্কারফেস, ডগ ডে আফটারনুন, ডিক ট্রেসির মতো একের পর এক হিট মুভিতে অভিনয় করে কিংবদন্তীর খাতায় নিজের নামটি পাকাপোক্তভাবে লিখিয়ে নেন তিনি। অস্কার আর গোল্ডেন গ্লোবের মতো অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন তিনি একাধিকবার। নাম লিখিয়েছেন পরিচালকের খাতায়, মঞ্চেও পড়েছে তার পদধূলী। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হলিউডের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেতা আর কেউই নন বরং স্বয়ং ‘দি গডফাদার’ আলফ্রেড জেমস পাচিনো, যাকে সবাই চেনেন অ্যাল পাচিনো নামে।

গডফাদার সিনেমাটির গল্পের সঙ্গে বাস্তব জীবনের অ্যাল পাচিনোর ছিল অনেক মিল। ইটালিয়ান-আমেরিকান বংশোদ্ভ’ত পাচিনোর জন্ম নিউ ইয়র্কের ইস্ট হার্লেম-এ। কিন্ত তার নানা-নানী এসেছিলেন সিসিলির সেই করলিয়ন থেকে। ছোটবেলাতে বন্ধুদের মাঝে তার প্রচলিত ডাক নামটি ছিল ‘সনি’। পাচিনোর বাবা ছিলেন সালভাতোর পাচিনো এবং মা রোজ। পাচিনোর বয়স যখন মাত্র দুই তখনই আলাদা হয়ে যান তার বাবা মা। এরপর সেই সিসিলিয়ান নানা নানীর কাছে থেকেই বড় হয়ে ওঠে ছোট্ট ‘সনি’।

পাচিনো পড়াশোনা করেন ফিওরিলিও এইচ লাগুয়ের্ডা হাই স্কুল এ। প্রথমে একজন বাস্কেটবল খেলোয়ার হতে চাইলেও মাত্র ১৭  বছর বয়সেই বন্ধুমহলে ‘দ্যা অ্যাক্টর’ ডাক নাম পাওয়া অ্যাল পাচিনো স্কুল ছাড়েন অভিনয়ের নেশায়। ছেলের এমন স্বিদ্ধান্তে যারপরনাই আশাহত হন মা রোজ পাচিনো। শেষ পর্যত মা’র সাথে ঝগড়া করে ঘড় ছাড়েন অজানার পথে।

টিনএজ বয়সেই মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন তিনি। কিন্তু কিশোর পাচিনোর অভিনয় প্রতিভাকে বুঝি ঠিক সময়ে উপলব্ধি করতে না পেরেই ‘একে দিয়ে হবে না’ বলেই ফিরিয়ে দিয়েছিল নিউ ইয়র্কের অ্যাক্টর্স স্টুডিও। এরপরও আশাহত না হয়ে অভিনয়ের পেছেনে লেগে ছিলেন তিনি, আর অভিনেতা হওয়ার সেই আশা বুকে নিয়েই তিনি যোগ দেন হারবার্ট বারগফ স্টুডিওতে। সেখানেই তার পরিচয় অভিনয়ের শিক্ষক চার্লি লগটনের সাথে। এই লগটনই ছিলেন পাচিনোর অভিনয় গুরু, আর সময়ের সাথে সাথে গুরু শিষ্য সম্পর্ক ছাড়িয়ে পাচিনোর সব থেকে কাছের বন্ধু হিসেবেও যায়গা করে নেন চার্লি লগটন। এ সময়টায় অ্যাল পাচিনো স্বপ্নের পথে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলেও পথটি ছিল বন্ধূর। অভিনয় করবেন বলে ঘড় ছাড়া পাচিনো অনেক রাতই পার করেছেন কোন এক জনশূন্য থিয়েটার বা বন্ধুর বাসায় ঘুমিয়ে। এমনও রাত গেছে পথেই রাতটি কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। অনেকদিনই কাটিয়ে দিয়েছেন না খেয়ে। এতো কষ্টের পরও নিজের ভালোবাসা অভিনয়কে কখনোই ছাড়েননি অ্যাল পাচিনো। সিসিলিয়ান বলেই বুঝি প্রতিজ্ঞাটি ছিল ইস্পাত কঠিন।

কিংবদন্তীসম এই অভিনেতার জনপ্রিয়তা হলিউডী মুভিগুলো দিয়ে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরলেও শুরুটা কিন্তু মঞ্চেই। টানা চার বছর হারবার্ট বারগফ স্টুডিওতে কাটানোর পর আবার নিউ ইয়র্কেও পেশাদারী অভিনেতাদেও সংগঠন অ্যাক্টর্স স্টুডিওতে অডিশন দেন পাচিনো। আর এবার সেখানে সহজেই টিকে যান তিনি। অ্যাক্টর্স স্টুডিওতেই নিজ অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় গুরু অ্যাক্টিং কোচ লি স্টার্সবার্গ এর স্বংস্পর্শে এসে মেথড অ্যাক্টিং শেখেন অ্যাল। নিজ অভিনয় জীবনে এই দুই গুরুর অবদান যে কতোটা তা বার বার বলেছেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। শুধু তাই নয় ‘দি গডফাদার’ ট্রিলজির দ্বিতীয় মুভিতে অভিনয় গুরু লি স্টার্সবার্গেও সঙ্গেও অভিনয় করলেন তিনি। আর অভিনয় জীবনের শুরুতে যে অ্যাক্টর্স স্টুডিও ফিরিয়ে দিয়েছিল সেই স্টুডিওর একজন কো-প্রেসিন্ডেন্টও এখন তিনি।

১৯৬৭ সালের বড় একটা সময় অ্যাল পাচিনো বস্টনের চার্লস প্লেহাউসে ক্লিফোর্ড অডেট এর ‘অ্যাওয়েক এন্ড সিং’ এবং জন ক্লড ভ্যান ইটালির ‘আমেরিকা, র্হুরাহ’ মতো মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন। এখানেই পরিচয় হয় অভিনেত্রী জিল ক্লেবার্গের সাথে। আর পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই প্রেম। এরপর দুজন মিলে একসাথে নিউ ইয়র্কে ফেরেন পাচিনো-ক্লেবার্গ জুটি। ১৯৬৮ তে ইসরাইল হরোভিটজ এর মঞ্চনাটক ‘দি ইনডিয়ান ওয়ান্টস দি ব্রঙ্কস’ এ অভিনয় করে ওবেরয় অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন পাচিনো। আর এতে পাচিনোর অনবদ্য অভিনয় দেখে এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন পেশাদার আর্টিস্ট ম্যানেজার মার্ক ব্রেগম্যান যে স্বেচ্ছায় পাচিনোর ম্যানেজারের গুরু দায়িত্বটি কাধে তুলে নেন তিনি। আর এই ব্রেগম্যান এর কথায়ই গডফাদার, সারপিকো এবং ডগ ডে আফাটানুন মুভিগুলোতে অভিনয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন পাচিনো। ১৯৬৯ সালে ব্রডওয়ে অভিষেকেই ডন পিটারসন এর ‘দাস এ টাইগার ওয়্যার এ নেকটাই’ মঞ্চনাটকে অভিনয় করে মঞ্চের অস্কার বলে খ্যাত ‘টোনি অ্যাওয়ার্ড’ জেতেন তিনি। পরের বছরও মঞ্চে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও ‘টোনি অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নেন ‘রিচার্ড থ্রি আর ‘দ্যা বেসিক ট্রেনিং অফ পাবলো হামেল’-এ অভিনয় করে। এরপর টানা ত্রিশ বছর ধরে মঞ্চে তার উপস্থিতি আর সাফল্য হয়ে ওঠে যেকোন সমসাময়িক অভিনেতার জন্য ঈর্ষণীয়।

ষাটের দশক এর শেষ দিকে আর সত্তর এর শুরুতে মঞ্চ কাঁপানো অভিনয় দিয়ে সমালোচক আর দর্শক উভয়ের মন জয় করলেও আর্থিক কষ্টের কারণে তখনো দিনগুজরান মুশকিল ছিলো তার জন্য। কিন্তু সবকিছুই বদলে যায় ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ব্লকবাস্টার মাফিয়া মুভি দি গডফাদার এ মাইকেল করলিওনি চরিত্রে অভিনয় করে। মাইকেল চরিত্রটির জন্য অ্যাল পাচিনোর প্রতিদ্বন্দী ছিলেন রবার্ট রেডফোর্ড, ওয়ারেন বেটি আর রবার্ট ডি নিরোর মতো ‘হেভি ক্যালিবার’ তারকারা। কিন্তু ভ্যাগদেবীর আশীর্বাদ আর প্রতিভার জোরে সবাইকে পিছনে ফেলে পরিচালক কপোলার দৃষ্টি কেড়ে নেন তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ অ্যাল পাচিনো। আর এর পরের টুকু যেন স্বর্ণাক্ষরে লেখা ইতিহাস। মাইকেল চরিত্রটির জন্য অস্কারে শ্রেষ্ঠ সহঅভিনেতার পুরস্কারটির জন্য নমিনেশন পান। কিন্তু শ্রেষ্ঠ অভিনেতার চরিত্রে নমিনেশন পাওয়া মার্লোন ব্র্যান্ডোর থেকেও বেশি সময় পর্দায় উপস্থিতির পরও ঐ ক্যাটাগরিতে নমিনেশন না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে সেবারের অস্কার বয়কটই করেছিলেন অ্যাল পাচিনো। মজার ব্যাপার হচ্ছে মার্লোন ব্র্যান্ডোও বয়কট করেছিলেন সেবারের অস্কার, তবে সেটি ভিন্ন কারণে।

Source: http://glitz.bdnews24.com/details.php?catry=12&showns=1975

মাইক্রোওয়েভে রান্না

মাইক্রোওয়েভে ঝটপট রান্না

ঢাকা, মে ২০– বিভিন্ন উৎসবে ব্যস্ততার শেষ থাকে না। সারা দিন মাংস কাটা, বণ্টন আর নানা পদের রান্না। এরই মধ্যে অতিথিকে খাবার পরিবেশন করতে হয়। অনেক সময় ঈদের দিনে অতিথির সঙ্গে বসে গল্প করার সময় থাকে না। স্বল্প সময়ে সব পদও রান্না করা যায় না। এই সময়টাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে আধুনিক জীবনের অন্যতম সঙ্গী মাইক্রোওয়েভ ওভেন। সামর্থ্য থাকলে ঈদের আগে কিনে নিতে পারেন এটি। এখন ঈদের দিনে কী কী রান্না করবেন এতে? সময়ই বা বাঁচাবেন কী করে? সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন উপস্থাপক শারমিন লাকী।

শারমিন লাকী বলেন, ঈদের দিনে রান্নার কোনো শেষ থাকে না। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে। মাংসের কত পদ তৈরি করতে হয়! অন্যান্য রান্না তো রয়েছেই। আগে থেকে তো আর রান্না করে রাখার সুযোগ থাকে না।

সে কারণে চুলার পাশাপাশি কিছু রান্না যদি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে করা যায়, তাহলে সময় বাঁচবে, রান্নাও দ্রুত হবে; নিজের জন্য খানিকটা সময় বের করতে পারবেন গৃহিণী। তিনি আরও বলেন, চুলায় যদি মাংস রান্না করেন তাহলে ওভেনে খিচুড়িটা রান্না করতে পারেন।

সব ধরনের উপাদান মিশিয়ে ওভেনে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা দিয়ে দিন। সবজিও রান্না করতে পারেন। অনেকে গরু বা খাসির মাংসের পাশাপাশি মুরগির নানা পদ তৈরি করেন। আগের রাতে ভালো করে মুরগির মাংস মাখিয়ে রাখুন। পরদিন ওভেনে সহজেই রান্না করতে পারবেন। তবে খিচুড়ি বা পোলাও যা-ই রান্না করুন না কেন, ন্যূনতম আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। মাছের কোপ্তা করলেও একই নিয়ম মেনে চলুন। আগে থেকে মাছটা মিহি করে নিন। এ ছাড়া ফিরনি-পায়েসও ওভেনে রান্না করা যায়। ঈদের আগে ভেবে রাখুন কোন পদগুলো রান্না করবেন। তা হলে সেই অনুসারে কাজ করলে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না।

মাইক্রোওয়েভ ওভেনে মাংস রান্না করলে অবশ্যই সেটি কয়েক ঘণ্টা আগে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। মাংসের হাড় তাপ পরিবাহী হওয়ায় হাড়যুক্ত মাংস হাড়বিহীন মাংসের চেয়ে দ্রুত রান্না হয়। বললেন রন্ধনশিল্পী রাহিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, ‘হাড়বিহীন মাংস রান্না করতে চাইলে পাতলা স্লাইস করে নিন। এতে তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হবে। যেকোনো মাংস, সবজি রান্নার সময় একবার উল্টে দিন। যাতে এগুলো সমানভাবে রান্না হতে পারে। এ ছাড়া মাংসগুলো কাঁটাচামচ বা টুথপিক দিয়ে ছিদ্র করে নিলে সহজে সেদ্ধ হবে।

মাইক্রোওভেনে রান্নার আগে মাংসের টুকরোগুলো সমান করে কেটে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, একসঙ্গে বেশি পরিমাণে রান্না করবেন না। তাহলে সব খাবার সমান রান্না হবে না। ভাগ করে নিতে হবে। মাংস বা সবজিতে পানি থাকলে তা ঝরিয়ে নিলে রান্না দ্রুত হবে।

ডিম, পনির বা ক্রিমজাতীয় খাবার তৈরি করার সময় তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব উপাদানের খাবার সাধারণ চুলার চেয়ে কম তাপমাত্রায় মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করতে হবে। গরম মসলা, লবণ বা গোলমরিচের গুঁড়া ওভেনে রান্নার ক্ষেত্রে কম পরিমাণে ব্যবহার করুন; যাতে এসবের গন্ধ কম ছড়ায়।’

‘ঈদের দিনে মোরগ পোলাও, তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি সহজেই রান্না করা যায়। এই ঈদে মাংসের রান্নাই বেশি। তাই আপনি গরুর মাংসের ভুনা, খাসির রেজালা, কলিজা ভুনা, মগজ ভুনা, শিককাবাব তো করতেই পারবেন মাইক্রোওয়েভ ওভেনে। এসবের পাশাপাশি মুরগিরও বিশেষ পদ রান্না করা যেতে পারে। চিকেন তন্দুরি, কোরমা, চিকেন শাসলিক দ্রুত রান্না করে পরিবেশন করুন। এ ছাড়া মিক্সড ভেজিটেবল সালাদসহ চমৎকার সব সালাদ তৈরি করতে পারেন ওভেনে।

এতে করে একসঙ্গে কয়েকটা পদ তৈরি হয়ে যাবে। যেহেতু ঈদের দিনে ঝক্কি-ঝামেলা বেশি হয়, তাই মিষ্টিজাতীয় খাবার আগের রাতে তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন।’ জানান রাহিমা সুলতানা।

পরিষ্কার করার নিয়ম
ওভেনের প্লাগটি খুলে নিন এবং ভেতরের ট্রে বা টার্নটেবিল বের করুন।

দুটি পাত্রে পানি নিয়ে দুটি স্পঞ্জ বা সুতির নরম কাপড় নিন। একটি পাত্রে গলানো সাবান নিয়ে তাতে স্পঞ্জ চুবিয়ে বাড়তি পানিটা ফেলে দিয়ে ওভেনের ভেতরের চারপাশ ভালো করে মুছে নিতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানির মধ্যে অপর স্পঞ্জ চুবিয়ে ভালো করে কয়েকবার মুছে নিতে হবে। এখন সুতি কাপড় দিয়ে ওভেনের ভেতরটি ভালোভাবে মুছে নিন, যেন গায়ে পানি লেগে না থাকে। তারপর ওভেনের ট্রে ভেতরে বসিয়ে প্লাগ লাগিয়ে দিন।

গন্ধ দূর করার জন্য এক কাপ পানিতে এক চা-চামচ শিরকা বা লেবুর রস মিশিয়ে এক মিনিট মাইক্রো পাওয়ার হাইতে গরম করলে গন্ধ দূর হবে।

গ্রিল বা কনভেকশন ওভেনে ব্যবহারের পর ওভেন ঠান্ডা হয়ে এলে পরিষ্কার করার কাজ করুন।

মনে রাখুন

  • ওভেনপ্রুফ তৈজসপত্র ব্যবহার করতে হবে। যা-ই রান্না করুন না কেন, ঢেকে দিতে ভুলবেন না।
  • রান্নার সময়টা ঠিকমতো পরীক্ষা করে নিতে হবে।
  • মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ডুবোতেলে কোনো খাবার রান্না করবেন না। এতে তেল ফুটে ও ছিটে খাবার পুড়িয়ে দেবে। সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

বেদানার রস কাজে মন বসায়:উচ্চ শিক্ষা আয়ু বাড়ায়

বেদানার রস কাজে মন বসায়: বৃটিশ গবেষণা রিপোর্ট

 

৬ জুন ২০১২ঃ কাজের চাপে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিংবা কাজ দেখলেই বিরক্তি লাগছে এমনটি মনে হলে এক গ্লাস বা পাঁচশ মিলি বেদানার রস খেয়ে নিন। তাহলে কাজকে আর চাপ বা বিরক্তিকর বলে মনে হবে না। একটি সমীক্ষায় এমনটিই দেখতে পেয়েছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। এক দল স্বেচ্ছাসেবী এ জরিপে অংশ গ্রহণ করেন এবং দু’সপ্তাহ ধরে তারা নিয়মিত বেদানার রস খেয়েছেন। এ সমীক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বৃটেনের এডিনবাগের কুইন মার্গারেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. এমাদ আদ দুজাইলি।। বৃটেনের দৈনিক মেইল জানিয়েছে, এ জরিপের ভিত্তিতে বলা যায়, যাদেরকে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় তারা বেদানার রস নিয়মিত খেতে পারেন। তাতে দেহের শ্রান্তি দূর হবে এবং সহজেই চাঙ্গা ভাব তৈরী হবে। ডা. এমাদ আরো বলেন, বেদানার রসের নানা ধরনের গুনের কথা ক্রমেই প্রকাশিত হচ্ছে এবং এ নিয়ে আরো গবেষণা দরকার।

উচ্চ শিক্ষা আয়ু বাড়ায় : নতুন সমীক্ষার ফলাফল

 

১৬ মে২০১২ : উচ্চ শিক্ষা আয়ু বাড়ায়। সুইডেনে প্রায় ১২ লাখ মানুষের ওপর চালানো এক সমীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, যেসব ছাত্র আট বছরের বদলে নয় বছর শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের মধ্যে ৪০ বছরের পর মৃত্যুর হার তুলনামূলক কমে গেছে।
নতুন এ সমীক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চালানো গবেষণার তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সুইডেন একই বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়েছিল। উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জোরদার করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সমীক্ষা চালানো হয়।
যে ১২ লাখ মানুষের ওপর নতুন সমীক্ষা চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আট বছরের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং কেউ গ্রহণ করেছেন ৯ বছরের শিক্ষা। সুইডেন সরকার ১৯৬২ সালে যে নতুন শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে তার ব্যাপক সুফল এতে দেখতে পাওয়া গেছে।
কিন্তু, নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ শিক্ষা ব্যবস্থার আরো সুফল রয়েছে। গবেষকরা ১৯৬১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ডেথ রেকর্ড খতিয়ে দেখেন। এতে তারা দেখতে পান যে, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব ছেলে-মেয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে ৪০ এবং ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে। বিশেষ করে ক্যান্সার, ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমেছে। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগার এবং জেনি টোরসান্ডার এ গবেষণা চালিয়েছেন আর তা প্রকাশিত হয়েছে প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস এ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা দেয়া হলে তাতে ছাত্রদের নিজেদের সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের মনোভাব গড়ে ওঠে এবং এ কারণে তাদের মৃত্যু হার কমে যায়। এ ধরনের ছাত্রদের আয়ু ভালো হয়, তারা মদ ও ধূমপান কম করে এবং নিজেদের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।

কেন সবকিছু ভূ্লে প্রবাসে পড়ে থাকি?

প্রবাসীর ক্রন্দন
(ধারাবাহিক)
রুহুল আমিন রুহেল

প্রবাসী জীবনের সুখ দুঃখের কথা লিখতে গেলেই মনটা কষ্টে ভরে উঠে, কলম যেন থেমে যেতে চায়।বুকের মধ্যখানে অজানা এক শুন্যতা আসন করে বসে, পুরনো স্মৃতির খাতার প্রতিটি পাতা নতুন করে চোখের সামনে ভেসে উঠে নিজের অজান্তে চোখ থেকে অনাখাংখিত কিছু জল ঝরে পড়ে।

নিজেকে বড় একা মনে হয়, পাওয়া আর না পাওয়ার হিসেব মিলাতে পারি না।অবহেলা আর অনাদরের এই প্রবাসী জ়ীবনের ইতিবৃত্ত জানি না কোথা থেকে শুরু করবো। চেষ্টা করবো আমাদের যন্ত্রনা গুলো সবার সাথে ভাগাভাগী করে নিতে, জানি সম্ভব নয় তবুও চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কি। স্ব্প্নে্র প্রবাস বাস্তবে বিশাল আকারের এক দানব বললে ভূ্ল বলা হবে না। প্রবাস নামক দানবের কাহিনী লিখতে বসেছি তাই কিছু ভয় কিছু কস্ট আমাকে পিছনে আকড়ে ধরেছে।

আজ আমি সব কিছু উপেক্ষা করে পাঠকের সামনে প্রবাস জীবনের যন্ত্রনা তুলে ধরার আপ্রান চেষ্টা করবো, যা অনেকের কাছে নতুন এবং অবিশ্বাস্য বলে মনে হতে পারে। আমি যা লিখবো তার এক একটি অক্ষর বাস্তব সত্য।  যাহা বাস্তব, তাহা সহজে শ্রুতি মধুর হয় না, সুখের শেষ সীমায় নিয়ে যায় না। স্বপ্নের সাজানো প্রবাস আর বাস্তবের এই প্রবাসের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যাবধান।বিষেশ করে আমার এই লেখার সাথে স্বপ্নের প্রবাসের কোন যোগসূ্ত্র নেই।

আমরা যারা প্রবাসী তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে অনাখাংখীত হাজারো কাহিনী যা আমাদের আপনজন  দেশবাসী জানেন না, আজ আমি প্রবাসের বাস্তব রূপ দেখাবো। আজ আমি প্রবাসীর ক্রন্দন শুনাবো।

অনেকদিন থেকে এই ধরনের একটি লিখবো লিখবো করে লিখা হয়ে উঠেনি। কষ্টের কথা গুলো নিয়ে লিখতে গেলে কষ্ট বাড়ে বই কমে না, আমাদের যন্ত্রনা হাহাকার শুনিয়ে আমাদের ভালোবাসা প্রান মানুষের চোখে জল ঝরিয়ে কি লাভ? যাদেরকে আমরা প্রবাসীরা এতো ভালোবাসি ওদেরকে বেদনার সাগরে ভাসানো কি ঠিক হবে?

হয়তো অতিরিক্ত কষ্ট থেকে নিজেকে মুক্তি দেয়ার জন্য এই নিরবতা পালন করছি। কিন্তু এখন সময় এসে গেছে তাই বুকে পাথর রেখে হলেও আমাকে লিখতে হবে। আমাদের অজানা কষ্ট পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জানা উচিৎ।আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমার যন্ত্রনা আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখবো কাউকে কোনদিন কিচ্ছু বলবো না, আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত কথা রাখতে পারলাম না।আমি আমার বিবেকের কাছে হার মেনেছি, আমার বিবেক আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বিবেকের এই দংশন থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় অবলম্বন করতে হলো।

আজ আমি অনাখাংখীত বিষয় নিয়ে লিখবো, আমি যা জেনেছি আমি তা সবাইকে জানাবো,

আমি যা দেখেছি তাই লিখবো, আমি যা শুনেছি তা লিখবো না। আমার এই লিখার সত্যতা যাচাই করবে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী ভাই বোন।

এই লিখা কোন রোমান্টিক উপন্যাস নয়, কারো একজনের জীবন কাহিনী নয়।এই লেখাগুলো আমার মতো লক্ষ লক্ষ প্রবাসী ভাই বোনের প্রতিদিনের কাহিনী, চোখের জল দিয়ে লেখা এই কাহিনী।

আমি জানি এবং বিশ্বাস করি আমার এই লেখা ভালোবাসা প্রান আপন মানুষকে অন্তরে অন্তরে কাদাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

পৃথিবীর ওজন থেকে আরো বেশী ওজনের কষ্ট বুকে নিয়ে আমরা যে বেঁচে আছি তা আজ আমাকে লিখতে হবে। সবাইকে পরিচয় করে দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

ভাগ্য পরিবর্তে্র দৌড় ঝাঁপ দিতে গিয়া প্রবাসীরা কতবার মৃত্যুবরন করে আর কতবার বেঁচে উঠে তার হিসাব কে রাখে?

ভালোবাসার কাংগাল, একটু আদরের কাংগাল চোখের জল চোখেই শুকায়,  যাদের বুকের আশা বুকেই শুকিয়ে কাঠ হয় যা স্বচোক্ষে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে কারন আমি ছিলাম তাদের একজন।

এসব রূপকথার পল্প নয়, সাজানো কোন কাহিনী নয় যা আমি আমার ইচ্ছেমত কাগজের বুকে আঁচড় কেটে কল্পনার রঙ দিয়ে সাজিয়েছি।

এক সময় প্রবাস সম্পর্কে আমারও অন্য রকম ধারনা ছিল যা আজ আর নেই। বাস্তবতার সাথে পরিচিত হবার পর আমার ক্কপল্পনায় সাজানো প্রবাসের প্রানকাড়া ছবিটি তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে গেল। দেখতে দেখতে সারাজীবনের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্ব্প্ন মরুভূমির আকার ধারন করতে এতটুকু সময় লাগে নি। কল্পনায় যে কোন কিছুতে রঙ দেয়া যত সহজ বাস্তবে তা কিন্তু অনেক সময় হয়ে উঠে না।

আমরা যাহা ধরতে পারি না, যাহা নাগালের বাহিরে থাকে না এই ধরনের বিষয়বস্তুকে খুবই প্রাধান্য দিয়ে থাকি এবং ধরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি। মনে মনে সফলতার একটা চিত্র দাঁড় করে নিজে নিজেই তৃপ্ত হই, যেমন প্রবাস জীবন।

যারা প্রবাসের সাথে এখনও পরিচিত হবার মত সুযোগ হয় নি বা তেমন সম্ভাবনা নেই তাদের বেলায় এই ধরনের সুখস্ব্প্ন দেখা খুবই সাভাবিক।

স্ব্প্ন দেখা অন্যা্য নয়, প্রতিটি মানুষের জীবনে সুন্দর কিছু স্ব্প্ন থাকে এবং এই স্ব্প্নকে বাস্তব রূপ দেয়ার সহজ উপায় হল প্রবাস গমন। জীবনকে নানা রঙ্গে সাজাতে হলে স্ব্প্ন দেখা খুবই জরুরী, স্বপ্ন ছাড়া এই জীবন তো আর সাজানো যায় না, তাই স্ব্প্নকে সম্বল করেই আমাদেরকে এগুতে হয়।

স্বপ্নকে যত সুন্দর করে সহজে সাজানো যায় বাস্তবকে এত সহজে হাতে নাতে ধরে কাছে বসানো যায় না। স্বপ্নের সাথে বাস্তবের এই বিবাদ আজীবন থেকেই চলে আসছে যা অশ্বিকার করার কোন উপায় নেই। আকাশের তারা দেখে আমরা কত ধরনের আশা পোষন করে থাকি। “আহারে যদি ঐ তারার দেশে যেতে পারতাম” সত্য কিন্তু অন্য কথা বলে। তারার বুকে বাস করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় কারন তারাকে মানুষের বাসযোগ্য করে সৃষ্টি করা হয় নি।এত কিছু জানার পরও তারার দেশে যাবার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায়। তার একটি মাত্র কারন আর তা হলোঃ যাহা লাগালের বাহিরে তাহা নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার একান্ত চেষ্টা আর এরই নাম হল স্বপ্ন।


আমরা যারা প্রবাসী সবার মনে এই তারার দেশের সুন্দর একটা স্বপ্ন ছিল ভাগ্যক্রমে এই তারার দেশের স্বপ্ন সত্য হলো। তবে যেভাবে স্বপ্নকে সাজিয়ে অপেক্ষমান
 ছিলাম ঠিক সেভাবে  স্বপ্ন ধরা দেয় নি। অনেকটা সবুজ রঙের বিষের মতো। বিষের রঙ দেখতে খুবই সুন্দর তবে পান করে প্রান বাঁচনো যায় না, হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলে হাত পোড়ে যায়। স্বপ্ন সব সময় বাস্তব থেকে একটু দূরে থেকেই যায়।

মানুষ যখন কাংখীত জীবনের স্বপ্ন দেখে তখন বেহিসেবী স্বপ্ন সাজাতে এতোটকু কার্পন্য করে না।স্বপ্নের পর  স্বপ্ন সাজিয়েছি, বাড়ী হবে গাড়ী হবে জায়গা জমি কাঁচা টাকা সহ পরিপুর্ন সুখী হবার জন্য যতকিছু প্রয়োজন সব। ভূ্ল করেও মা মাটির বিরহের কথা মনে আসে নি। জীবনে যাহা বাস্তব হয় নি অনুমান করে তা বুঝে নেয়া সহজ বিষয় ছিল না। আমরা শুধু সুখটাকে হিসেব করেছি দুঃখটাকে হিসেব করি নি কারন অজানা ভূবনের সাথে আমাদের কোন পরিচয় ছিল না।


প্রবাসের মাটিতে পা দিতেই শুরু হয়ে যায় মা মাটির বিরহ, স্বজনের বিরহ
  যা স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি। মনে হতো প্রবাসে যাবো আর দুহাত ভরে টাকা রোজগার করবো, অবস্থার পরিবর্তন হবে জীবনে আর কোন  স্বপ্ন আশা আকাঙ্ক্ষা অপুরন থাকবে না। মাত্র কিছু দিনের ব্যা্বধানে চোখের জল শুন্য হতে শুরু করলো অন্তরের চারপাশে নতুন যন্ত্রনার জন্ম হলো। শত সুখ শত স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেখেও আমাদের অশান্ত মন শান্ত হয় না। ফেলে আসা কুঁড়ে ঘরের কথা বার বার মনে পড়ে। মায়ের হাসি কান্না সন্তানের বাবা ডাক শুনার জন্য প্রান হু হু করে বেলায় অবেলায় কেঁদে কেঁদে মরে। এই বিরহের কান্না থেকে আমাদের এক মূহুর্তের জন্য মুক্তি নেই। প্রবাসীর বুকে এই কষ্ট সব চেয়ে বেশী জায়গা দখল করে বসে আছে।অথচ আমাদের বুকের এই যন্ত্রনাকে দেশের মানুষ বড় করে দেখে না এমনকি কেউ জানতেও চায় না।  

বাস্তব সব সময় একটু তেতো হয়ে থাকে,তবুও আমাদের এই ভাগ্য অন্নেষনের দৌড় ঝাঁপ চলতেই আছে এবং চলবে।

প্রবাসীর ক্রন্দন 2
প্রবাসীদের সম্পর্কে দেশের মানুষের ধারনা অন্য রকম, অনেকটা রূপকথার কাহিনীর মত। কোন এক সময় আমিও ঐ রূপকথায় বিশ্বাসী ছিলাম তাই সহজেই অনুমান করতে পারি।
একটানা ১৫ বছর দেশে যাবার সুযোগ হয় নি অনেক চেষ্টা ও তদবির করার পর দেশের মাটিতে যাবার সৌভাগ্য হয় এবং অনেক অজানা সত্য ও তথ্য জানতে পারি যা অনেক সময় কষ্টের কারন হয়।আবার কখনও হাসির খোরাক।

প্রবাসী বলতে একটা সুখী মানুষকে ইঙ্গিত করা হয়। যাদের নেই কোন অভাব।

পকেট ভর্তি টাকা আর না চাইতে হাজার সুখের ফুলঝুরি আমাদের চারপাশে চরকার মত ঘোরতে থাকে। চাহিবা মাত্র সবকিছু আমাদের সামনে এসে হাজির।
এই কথা গুলো যখন সবাই বলাবলি করে আমি একা একাই হাসতে বাধ্য হই। না হেসে কি উপায় আছে? প্রবাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর এই কথা যখন কানে আসে তখন নিজেকে নিয়েই হাসি। সত্য কথা গুলো বলতে ইচ্ছে হয় কিন্তু বলা হয় না কারন আমার এই বস্তা পঁচা কথা কেউ শুনবে না তা আমি ভালো করেই জানি। ভূ্ল করে যদি কারো কাছে প্রকাশ করা হয় তখন আমাদেরকে নিয়ে অন্য কথা বলা হয়, রহস্যময় চোখ দিয়ে আমাদেরকে বার বার পরখ করা হয়।

দেশের মানুষের বিশ্বাস আমরা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছি, ফাঁকি দেবার জন্য কাহিনী রচনা আর কি। দেশের মানুষের ধারনার সাথে আমাদের কোন মিল নেই যা আমার মতো প্রবাসীরা এক বাক্যে স্বীকার করবেন। দেশের অধিকাংশ মানুষ আমাদেরকে স্বার্থ্পর হিসাবেই জানে। আমরা নাকি আমাদেরকে নিয়েই ব্যাস্ত। আমরা যদি সত্যি সত্যি স্বার্থ্পর হই তাহলে কেন বার বার দেশের মাটিতে ফিরে যাই? কেন আমাদের চোখের জল শুকায় না?

কেন সবকিছু ভূ্লে প্রবাসে পড়ে থাকি? আমাদেরকে বলা হয় স্বার্থ্পর! হায়রে মানুষ একি হলো তোমাদের? কেন এত বড় অপবাদ দাও? লক্ষ লক্ষ প্রবাসীরা যদি স্বার্থ্পর হতো তাহলে এই বাংলার অন্য এক রূপধারন করতো।

বিশ্বে্র বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াবার মতো সুযোগ হতো না। আমাদের বদান্যতায় আমাদের সাহায্য সহযোগীতায় এই সোনার বাংলা স্বদর্পে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যার প্রমান বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যমান। আমাদের কষ্টার্জিত এক একটি পয়সা দেশের মানুষের সুখের পিছনে ব্যা্য হচ্ছে তা কি কেউ অশ্বিকার করতে পারবে?

এই বাস্তব সত্য বেশীর ভাগ মানুষ বিশ্বাস করে না। না জেনে না বুঝে আমাদেরকে দোষ দেয়া হয়, আমাদেরকে ভূ্ল বুঝে অপবাদ দেয়া হয়, আঘাত করা হয়। যাদের মঙ্গল কামনায় আমাদের আমাদের শরীরের রক্ত ঘাম হয়ে ঝরে পড়ে ওরা যখন বলে প্রবাসীরা স্বার্থ্পর এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। এই কষ্ট প্রবাসীরা না পারে সইতে না পারে প্রকাশীতে নিশিদিন অন্তরে অন্তরে কেঁদে নিজেই নিজেকে শান্ত্বনা দিতে হয়।

আমাদের সম্পর্কে যা বলা হয় বাস্তবের সাথে মিল রেখে বলা হয় না তাই কষ্ট হয়। আমাদের কষ্ট হয় কি না হয় তাতে কেরো কিছু যায় আসেনা। লক্ষ লক্ষ প্রবাসীদের প্রতি দেশের মানুষের ভূল ধারনাকে প্রমান করার জন্য লিখতে বসি নি। আমাদের বুকের যন্ত্রনার সাথে সবাইকে পরিচিত করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করবো।  আমরা তো আপনাদেরই একজন আমাদের বুকের যন্ত্রনা হাহাকার আপনাদেকে ছোঁয়ে যায় না? একবারও কি মনে হয় না এই মানুষ গুলো আপনাদের আপনজন?

আমাদের কি ইচ্ছা হয় না আপনাদের মতো দেশের মাটিতে বসবাস করি, সবার সাথে হাসি কাঁদি, মা মাটির আলো বাতাসে বেড়ে উঠি, মায়ের কোলে মাথা রেখে সস্থির নিঃশ্বাস নেই?  আমাদেরও ইচ্ছে হয় দেশের মাটিতে খেয়ে না খেয়ে পড়ে থাকি, মা মাটির বিরহে আমাদেরও বুক ফাটে হু হু করে হাহাকার যন্ত্রনা সারাদিন অগ্নিগিরির মত জ্বলতে থাকে। প্রান চায় সব কিছু পিছনে ফেলে রেখে দেশের মাটিতে পড়ে থাকি যেখানে কেটেছে আমাদের শৈশব কৈশর, যে মাটিতে ঘুমিয়ে আছে আমাদের রক্ত বাঁধনের অপনজন কিন্তু পারি না।

আপনাদের মুখে হাসি ফোটাবার দায়িত্ব যে নিয়েছি তাই নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।আমাদের চাওয়া পাওয়ার কোন মুল্য নেই। আমাদের জীবন আমাদের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য
স্বার্থপরের মত এই সুখ ভোগ করতে পারি নি বলেই আজ আমাদেরকে বলা হয় স্বার্থ্পর। আঁড়চোখে দেখা হয় আঘাত করা হয়, চপেটাঘাত করা হয় ভালোবাসার নিষ্পাপ চেহারায়।

কষ্ট প্রকাশ করা ও এক মহাকষ্ট, এই কথা গুলো লিখতে গিয়ে বুকের মাঝে চিন চিন করে একটা ব্যাথা অনুভব করছি। দুটি চোখ ঝাপসা হয় আসে। হউক যত যন্ত্রনা, অঝোর ধারায় ঝরে পড়ূক লবনাক্ত বিষের জল তবুও আমাকে লিখতে হবে, প্রবাসীর কান্না পৃথিবীর ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তুলে শুনাতে হবে। ভূ্ল ধারনা ভাঙ্গাতে হবে নইলে বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ থেকে যাবো। প্রবাসীরা কষ্টের কথা সহজে প্রকাশ করে না।

আমি প্রবাসীর পক্ষ হয়ে লিখছি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি কোটি বাংলাভাষী প্রবাসীর হয়ে লিখছি।

যাদের যন্ত্রনা প্রকাশের ভাষা নেই আমি তাদের হয়ে লিখছি।

আমাদের প্রতিদিনের কষ্ট, প্রতি ক্ষন মূহুর্তে ঝরে পড়া আমাদের এক এক ফোটা নয়ন জলের হিসাব জানুক এই পৃথিবীর মানুষ, একটু সহানুভূতির স্ব্রে বলুক “হে প্রবাসী ভাই বোন তোমাদের কষ্ট আমাদের বুকে বাজে, তোমাদের ত্যাগ তোমাদের ঋন শোধ হবার নয়” 

প্রবাসীর ক্রন্দন 3
প্রবাসীর বুকে কষ্টের আগুন বিরহের আগুন,এই কষ্টের অসহ্য যন্ত্রনা প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।আমাদের প্রতিদিনের কষ্ট কাহিনী অনেকেই জানে না, বেশীর ভাগ সময় আমরা নিজেই প্রকাশ করতে সাচ্ছন্দ বোধ করি না কারন কষ্টের কথা যন্ত্রনার কথা প্রকাশ করাও এক ধরনের কষ্ট।

আমাদের বুকের যন্ত্রনা প্রতিটি ক্ষন মূহুর্তে অন্তরে অন্তরে অবলীলায় আমাদেরকে কাঁদিয়ে যায়। আমাদের চোখের জল চোখেই শুকায়, কেউ আদর করে মুছে দেয় না। বেঁচে থাকার জন্য, ভালো থাকার অভিনয় করে নিজেই নিজের সাথে ছলনা করি। দেশের পরিবার পরিজন যাহাতে ভালো থাকতে পারে এই চিন্তা মাথায় রেখেই আমাদেরকে অভিনয় করে হলেও সুখী মানুষের মত অভিনয় করতে হয়। একজন প্রবাসী আরো একজন প্রবাসীর সাথে যেভাবে জীবনের দুঃখ যন্ত্রনা ভাগাভাগি করে আপন পরিবার পরিজনের সাথে এই ভাবে প্রান খোলে কথা বলতে পারে না। কারন মাত্র একটা “পিছনে রেখে আসা মানুষ গুলো সুখে থাকুক আমাদের কষ্ট যেন ওদেরকে স্পর্শ করতে না পারে” দেশের মানুষ শুধুই আমাদের সুন্দর সাস্থ্য আর হাসি মাখটাই দেখে, তাই আসল সত্যটা হাসি আর চোখে দেখা সুখের আবরনে ঢাকা পড়ে যায়।আর এক ধরনের ভূ্ল ধারনা বদ্ধমূ্ল হয়। প্রবাসের বাস্তব চিত্র আমি যেভাবে দেখেছি তার সাথে দেশের মানুষের অনেক দ্বিমত থাকতে পারে, তবে যা দেখেছি তা কাগজ কলমের সাহায্যে আপনাদের কাছে প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। তির্থের কাকের মত আশায় চেয়ে থাকা প্রবাসী জীবনের এক একটি দিন যা কাউকে সহজে বুঝাতে পারি না।

প্রবাসে টাকা আছে তবে সুখ যে নেই তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সবার ধারনা প্রবাস মানেই হলো সুখ আর সুখ। বাস্তব সত্য হলো আমরা নামে মাত্র শুধু বেঁচে থাকি তবে বেঁচে থাকার স্বাদ আমাদের ভাগ্যে নেই। ভালোবাসাহীন জীবন নিয়ে বুক ভরা কষ্টের পাহাড় নিয়ে সুখের আশে পাশেও যাবার ভাগ্য হয় না আমাদের। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা বেঁচে নেই যাকে বলে জিন্দা লাশ। আমরা প্রবাসীরাও এক একটা জিন্দা লাশ। যে সুখের আশায় রক্ত বাঁধনের মানুষ গুলোকে পিছনে রেখে একদূর পথ পাড়ী দিলাম কিন্তু সুখের মুখ দেখা হলো না। বুক ভরা শুন্যতার শুন্যস্থান সঠিক ভাবে পুর্ণ হলোনা। কষ্ট আর হাহাকার বুকে নিয়ে সুখের আশায় বৃথা এই দৌড় ঝাঁপ দিতে দিতেই আমাদের জীবনে প্রদীপ নিভে যায়। (প্রবাসে কিছু মানুষ আছে যারা আমাদের মত অসুখী নয়, তাদের টাকা পয়সা সবই আছে তবে ওরা সংখ্যায় খুবই কম ওদের কথা আলাদা। আবার এই সুখী মানুষের অসুখের কাহিনীরও শেষ নেই) টাকা পয়সা সব সময় অসুখীর মূল বষ্য নয়। জীবনে টাকার প্রয়োজন তা আমি অস্বীকার করবো না, জীবনে টাকার প্রয়োজন আছে, জীবনকে সুন্দর ভাবে সাজাতে হলে টাকা অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে। টাকা যে আবার সব সমস্যার সমাধান তাও স্বীকার করবো না। যেখানে মানুষের প্রয়োজন সেখানে টাকা একেবারে অর্থহীন হয়ে যায়। জীবনে সুখী হবার জন্য হিসাবের কিছু বিষয় আছে আমাদের জ়িবনে প্রতিফলিত না হলে আমরা সুখের মুখ দেখতে পাই না। প্রবাসীরা কোন সময় পরিপূর্ন সুখী হবার স্বপ্ন দেখে না।

আমাদের চাহিদা একেবারে সিমীত, পরিবার পরিজন নিয়ে এক চিলতে হাসি ভাগাভাগি করে একই ছাদের নিচে হাতে হাত ধরে বসবাস করা। সুখে দুঃখে ভালোবাসার মানুষের বুকে মাথা রেখে আগামীদিনের স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ আমরা প্রবাসী, হিসাবের সুখটুকু আমাদের ভাগে আর পড়ে না। কাংগালের মত মানুষের সুখ দেখে দেখেই বেঁচে থাকতে হয়, চোখের জলে বুক ভাসাতে হয় দিনের পর দিন রাতের পর রাত। অনিশ্চয়্তার মাঝে কেটে যায় আমাদের জীবনের এক একটি দিন রাত বড়ো অবহেলায় বড় অনাদরে। বুকের মাঝে সমাহীত কষ্ট গুলো বুকের মাঝেই কেঁদে কেঁদে মরে। আমাদের চারপাশে শান্তনা দেবার কেউ নেই, আমাদের মা নেই ভাই বোন কেউ নেই যার সাথে এক দুঃখ কষ্টের কথা বলবো। সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে যখন শুন্য চার দেয়ালের মধ্যে রাত পোহাতে হয় তখন শুরু হয় কাংখীত জীবনের চুলছেড়া হিসাব কিতাব। যোগ বিয়োগের হিসাব আর মিলে না, বড় ধরনের গড়মিল দেখা দেয়, হাহাকার ভরা অশান্ত মন হু হু করে কেঁদে উঠে গন্ড বেয়ে যন্ত্রনার বিষাক্ত জল ঝরতে থাকে। যন্ত্রনা ভূ্লে থাকার এই সহজ উপায় প্রতিটি প্রবাসী ভাই বোন বেশ ভালো করে রপ্ত করেছেন যা অনেকেই জানে না

প্রবাসীর ক্রন্দন 4
বুক ভরা অগনিত না বলা চাপা কষ্ট মিথ্যা হাসি দিয়ে ঢেকে রাখি আমরা প্রবাসীরা। এক একটি ক্ষন মূহুর্ত আমরা নিজের সাথে ছলনা করেই বেঁচে থাকি যাহা আমার মত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী এক বাক্যে মেনে নিতে দ্বিমত থাকার কথা নয়। যারা আমার মত প্রবাসের স্বরূপ দেখেছেন শুধু ওরাই আমার কথার সত্যতা স্বীকার করবেন।

কল্পনা আর বাস্তবের মাঝে কত যে ব্যাবধান তা ভূক্তভোগী ছাড়া আর কেহ অনুমান করা সম্ভব নয়। প্রবাস বলতে আমরা শুধু কষ্টকে বুঝি। প্রবাস বলতে আশা আকাঙ্ক্ষার মৃত্যকে বুঝি। প্রবাস বলতে এক মহা সমুদ্র সমান যন্ত্রনেকে বুঝি। প্রবাস বলতে নতুন এক অজানা পৃথিবীকে বুঝি যেখানে মা নেই বাবা নেই স্ত্রী নেই সন্তান নেই। আছে শুধু হাহাকার আর না পাওয়ার অসংখ্য লাল কালো কষ্ট। আমাদের কষ্টের কোন সীমা পরিসীমা নেই।যেদিকে দুচোখ যায় অশান্তি আর নিরাশাই দেখতে পাই। দেশে বিদেশে আমরা বিভিন্ন ভাবে কষ্টের সাথে পরিচিত হই। রক্তের টানে নাড়ীর টানে প্রবাসীরা যখন দেশের মাটিতে পা রাখে, আমাদেরকে বলা হয় “তোমরা বৃটিশ” কেউ কেউ হেসে হেসেই এই কথা গুলো বলতে থাকেন, আবার অনেকেই আছেন এই কথা গুলো শুনার পর গর্ব অনুভব করেন, মুচকি হাসেন। তবে আমার কষ্ট হয়, অনেক কষ্ট হয়। এই দেশ আমার এই দেশের আলো বাতাস আমার একান্ত আমার। প্রয়োজনের তাগিদে আমি প্রবাসী, আমি এই দেশের এই বাংলা মায়ের সন্তান। আমার একটি মাত্র পরিচয় আমি বাংলাদেশী। আমার আর কোন পরিচয় নেই, আমি আর কেউ নই আমি সব সময় বাঙ্গালী।

 আমার রক্ত মাংসে চলবে বলনে আমি বাঙ্গালীত্ব ধরে রেখেছি। আমাদেরকে কেন বৃটিশ বলে খোঁচা দেয়া হয়? কেন বাঙ্গালী বলে মেনে নিতে পারে না আমার দেশের অপন মানুষ গুলো? আমরা যখন দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা প্রকাশ করি, তাচ্ছিল্যের স্বরে অনেকেই বলে থাকেন “দেশের প্রতি যাদের প্রেম আছে ভালোবাসা আছে তারা দেশ ছেড়ে কোনদিন পালাবে না” তাই আমার আরো বেশী কষ্ট হয়। কথায় আছে যার জন্য চুরি করি সে বলে চুরা। এই ধরনের কথার উত্তর যে কতবার দিয়েছি তার কোন হিসাব নেই। দেশের বাইরে আসার পরেই সত্যিকারের দেশ প্রেম জন্ম নেয়। দেশে থাকলে দেশ সেবার সুযোগ বেশী তাতে আমার দ্বিমত নেই; তবে বিদেশে থেকে দেশ সেবা করা যায়না, দেশ প্রেম জন্ম নেয় না এটা ভুল ধারনা। তাৎক্ষনিক ভাবেও এই প্রবাসীরা অনেক কিছুই করতে পারে যার প্রমান আমরা বারবার দিয়েছি। প্রবাসীর ঋন অস্বী্কার করার কোন উপায় নেই।

 একটা উদাহরন দিয়ে বলা যায়। আপনি যদি একটা ঘরের ভিতরে সারাজীবন বন্ধী থেকে যান তাহলে কি আপনি ঘরটির প্রকৃত স্বরূপ বোঝতে পারবেন? তা বোঝতে হলে আপনাকে ঘরের বাইরে এসে দূর থেকে দেখতে হবে। এটা মনে হয় দেশের বেলায়ও সম্পুর্ণ না হলেও কিছুটা মাত্রায় সত্য। তাই দেখা যায় দেশের বাইরে গেলে সবার মধ্যে হটাৎ করে দেশ-মাতৃকার জন্য একটা প্রচন্ড ভালোলাগার জন্ম নেয়, কাছে থেকেও যাকে তেমন করে অনুভব করা হয়নি কোনোদিন। তাকেই বড়ো বেশি করে মিস করা শুরু করে সবাই। তাই প্রবাসীরা অতিমাত্রায় হটাৎ করে স্বদেশপ্রেমী হয়ে উঠে, তারা নিয়মিত প্রবাসজীবনে উদযাপন করতে চায় স্বদেশীয়ানাকে। দেশ সেবায় প্রবাসীরা পিছিয়ে নেই। দেশে থেকে দেশ সেবার সুযোগ থাকলেও ক’জন দেশ সেবা করছে? প্রতিদিন দেশের জন্য আমরা ক’টা কাজ করি? যারা দেশকে ভালবাসে তারা বিদেশে থেকেও দেশ প্রেমকে জিইয়ে রাখতে পারে।

 বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শ্রমিক বিদেশ থেকে দেশের রেমিটেন্স বাড়াচ্ছে তা সম্পর্কেক কজন অবগত? সেটা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কি প্রভাব ফেলছে তা কি দেশের মানুষ জানেন না? যে ছেলেটার তেমন শিক্ষা নেই, সে তার শ্রম দিয়ে দেশের জন্য তার পরিবারের জন্য যে অবদান রাখছে তাতে তাদের প্রতি কজন শ্রদ্ধায় অবনত হয়। সে কি খুব সুখে আছে? বাবা মা ভাই বোন বন্ধু আত্মীয় পরিনজকে ছেড়ে এত দূর দেশে তার কি কষ্ট হয়না? শ্রমিকদের কথা বাদ দিলাম। এবার আসি মেধাবীদের কথায়।পশ্চিমা দেশ গুলো তাদের স্কলারশিপ দিয়ে নিয়ে আসছে আমার দেশের মেধাবী ছাত্র ছাত্রী। তাদের দেশের উন্নতি হচ্ছে ঠিক কিন্তু তাতেও কি আমার দেশ কিছু পাচ্ছে না? যে কোন ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের কথা যদি বলি; সবাই দেশের বাইরের কোন ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে আমাদের শিক্ষায় বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছেন। বিদেশে একটা এক্সপেরিমেন্টে যে খরচ করা হয় তা আমার দেশের সাধ্যের বাইরে।

 এখানে সারা পৃথিবীর যে কোন রাইটারের ব্ই পড়তে পারছি। সেটা কি দেশে থেকে সম্ভব হত? তাহলে কি যে এক্সপেরিয়েন্স হচ্ছে তা থিওরেটিকাল এন্ড প্রাকটিক্যাল নলেজ বাড়াতে সুবিশেষ ভুমিকা রাখছে না? প্রবাসীদের এক্সপেরিয়েন্স দেশের সরকার কি কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে না? এই প্রবাসীর অবদান আছে বলেই আজ বাংলাদেশ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রবাসীদের প্রতি দেশের মানুষের অনেক ভুল ধারনা আছে যাহা আমি সহজে মেনে নিতে পারি না আমার কষ্ট হয়। দেশ প্রেম বলতে কি বুঝায়? কাজ কর্মহীন বেকার জীবন নিয়ে ধুকে ধুকে মরে যাওযার নাম কি দেশ প্রেম? শুধু কি লাল সবুজের পতাকা নিয়ে জয় ব্বাংলা জয় বাংলা শ্লোগান দেয়ার নাম দেশ প্রেম?দেশকে ভালোবাসি বললে তো আর হবে না! ভালোবাসার প্রমান দিতে হবে যাহা আমরা প্রবাসীরা প্রতিদিন প্রমান দিয়ে যাচ্ছি। দেশে বাস করার নাম দেশ প্রেম নয় আর যদি তাই হয়ে থাকে আমি তা বিশ্বাস করি না। গত চল্লিশ বছরে যে চিত্র আমরা দেখেছি তা যদি বিচার করি তাহলে কি দেখি? হাতেগুনা কিছু মানুষ ছাড়া বাকি সবাই শুধু নামে মাত্র বাংলাদেশী, দেশ প্রেমিক নয়। দেশ প্রেমের স্বরূপ দেখতে হলে একজন প্রবাসীকে দেখুন। প্রবাসীরা হলো দেশ প্রেমের জলন্ত প্রমান

প্রবাসীর ক্রন্দন 5
আমার যতদুর মনে পড়ে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বাংলার দামাল ছেলেরা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ার যে গুরুদায়িত্ব স্কন্ধে নিয়েছিল তারই ফলশ্রুতিতে ভাই ভাইকে, পিতা সন্তানকে, আত্মীয় আত্মীয়কে এবং বিশ্বস্ত পড়শী পড়শীকে এনওসি জোগাড় করে সম্পূর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরী জোগার করে দিতে লাগল।

 এসব ক্ষেত্রে সরকারের কোনো সাহায্য সহযোগীতা ও সহানুভূতি ছিল না।
দেশকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য প্রবাসীরা সব সময় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে ।

আমাদের নিম্নবিত্ত ও প্রান্তজনের ছেলেরা মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাকরী করে মাতৃভুমিতে কাড়ি কাড়ি টাকা পাঠাচ্ছে  পৃথিবীর মানুষ আশ্চর্য হয়ে যায় বাঙালী সন্তানদের ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখে। এতো অত্যাচার, জুলুম প্রতারনা ভোগান্তির স্বীকারের পরেও তারা প্রবাসে যাবেই। নানান অনিয়ম  অব্যবস্থাপনা ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েও বাঙালী সন্তানেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে তাদের রক্ত জল করা পয়সা দেশে পাঠাচ্ছে ও এদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করে রেখেছে। বর্তমানে প্রায় এক কোটির উপর বাঙালী প্রবাসে আছে এবং তাদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ দেশের সর্বমোট প্রবৃদ্ধিও ৩০% এবং সত্যি বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা সোনার ছেলে হয়ে এদেশে মুঠো মুঠো সোনা পাঠাচ্ছে।

আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা শুধু যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রক্তশূন্যতাকে দূর করছে তা নয়, আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণঘাতি সমস্যায় নিজেদের অজান্তেই বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছেন, যার আর্থিক হিসাব-পরিসংখ্যান শুনলে পিলে চমকে উঠবে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীরা কর্মস্থলে নানান সরকারী বিধিনিষেধ ও নিজেদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবার পরিজন নিয়ে একসঙ্গে থাকার সুযোগ পায় না। আর যারা এসব সমস্যা মোকাবেলা করে প্রবাসে পরিবার নিয়ে থাকেন তাদের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য ৫%। বাকী ৯৫% পরিবার দেশেই থাকে। প্রবাসীরা অর্থ বাঁচাবার জন্য কয়েক বছর পর পর স্বদেশে আসেন। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রতি বছর লক্ষাধিক অনাকাঙ্খীত শিশুর আগমন বন্ধ থাকে। এতে করে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে পিষ্ট বাংলাদেশ কোনো রকম জন্মনিরোধক সেবাপ্রদান ছাড়াই এক লক্ষ birth abort করতে সমর্থ হয়। একটি রক্ষণশীল হিসেবে দেখা যায়, একটি জন্ম নিরোধ করতে পারলে পরিবার ও সরকারের সতেরো লক্ষ টাকা সাশ্রয় হয়। এখন ভেবে দেখুন একটি birth abort-এ যদি সতেরো লক্ষ টাকা সাশ্রয় হয় তাহলে এক লক্ষ birth abort করলে সাশ্রয় হয় এক লক্ষ সত্তর হাজার কোটি টাকা যা বাংলাদেশের দুই বৎসরের বাজেটের সমান। প্রবাসীদের এই কৃতিত্ব অর্জনের জন্য শুধু সাধুবাদ দেওয়াই কি যথেষ্ট? তাদের প্রেরিত রেমিটেন্সের সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনার এই ব্যয় সাশ্রয় যোগ করলে বছরে দাঁড়ায় তিন লক্ষ হাজার কোটি টাকা যা কিনা বিগত এক যুগে বিশ্বের বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, দাতা দেশের দান-অনুদান ও ঋণের সমপরিমাণ অর্থ গ্রহণের সমান। সুতরাং বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে বাংলাদেশের যেটুকু প্রবৃদ্ধি ও আর্থক স্বচ্ছলতা তা একান্তই বাংলাদেশের প্রবাসী ভাইদের অবদান। এখন আমাদের সরকারের উচিৎ প্রবাসীদের কল্যাণে ও তাদেরকে এদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে যথাযথ মূল্যায়ন করা। অথচ আমরা প্রবাসীরা হিসাবের ধন্যবাদটুকু পাই না।

সরকারী হিসাব মতে বর্তমান  প্রবাসীর সংখ্যা ৮০ লাখ এর মত। এটা সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক। কেননা সরকারি পরিসংখ্যান কোনোদিন সত্য প্রকাশ করে না। আমাদের হিসাব মতে কম করে হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের এক কোটির উপর মানুষ প্রবাসে আছেন। এদের পাঠানো গত দশ বছরের গড় রেমিটেন্সের পরিমাণ মাসে সত্তর কোটি এবং বছরে আটশত চল্লিশ কোটি ডলার। যার অর্থ বাংলাদেশী মুদ্রায় পঞ্চাশ হাজার চারশ কোটি।

এই লিখা থেকে কি বুঝা যায় না যে প্রবাসীদের দান অতুলনীয়? দেশ প্রেমের সংজ্ঞা প্রবাসীদেরকে বুঝাতে হবে না। দেশকে সমৃদ্ধি করার জন্য প্রবাসীরা সব স্বার্থ ত্যাগ করে পড়ে থাকে অজানা অচেনা দেশে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ। আমাদের অনুদান দেশের মানুষ যদিও ভুলে যায় তবে ইতিহাস আমাদেরকে ভুলবে না, ইতিহাসের পাতায় প্রবাসীদের নাম স্বর্নাক্ষরে লিখা থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আমাদের এক এক ফোটা চোখের জল শুধুই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য প্রবাহিত হয়ে থাকে। আমাদের বেদনা বিঁধুর চেহারায় যদি এক চিলতে হাসি ফুটে থাকে তাও দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য।
দেশ প্রেম বলতে কি বুঝায় তা প্রবাসী ছাড়া সহজে কেউ উপলব্দি করতে পারবে না।

দেশের প্রতি প্রবাসীদের ভালবাসার আরো একটি প্রমান,
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নারিকেলতলা গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কিছুদিন আগেও ভালো কোনো রাস্তা ছিল না। স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হতো। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে নৌকা লাগত।
গ্রামবাসীর এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখে আহত হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রিজিয়া চৌধুরী। ২০০৬ সালে দেশে আসেন তিনি। সেই থেকে গ্রামবাসীর কল্যাণে কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন।
রিজিয়া চৌধুরীর একার চেষ্টায় নির্মিত রাস্তা দিয়ে গ্রামের লোকজন এখন উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। ছেলেমেয়েরা সাঁকোর বদলে সেতু দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শতভাগ স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে গ্রামে একাধিক নলকুপ স্থাপন করেছেন তিনি।
রিজিয়া চৌধুরী ছোটবেলায় যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৬ সালে সেখানকার রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
আশরাফুর রহমান বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে আমরা প্রতিশ্রুতির বাণী শুনেছি। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। রিজিয়া চৌধুরীর বদৌলতে দুই বছরে তিনটি কাঁচা সড়ক, দুটি সেতু নির্মিত হয়েছে। গ্রামে শতভাগ স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।
  এর পরও কি বলবেন প্রবাসীর বুকে দেশ প্রেম নেই!!!

প্রবাসীর ক্রন্দন 6
প্রবাসীর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে অনেক কথা বলেছি কারন আমি দেশ বাসীকে আমাদের আত্মত্যাগের স্বরূপ পরিস্কা্র ভাবে তুলে ধরতে চাই। আমাদের দেশ প্রেমের সাথে কোন কিছুর তুলনা হয় না।আমরা দিনের পর দিন বাঁচা মরার লড়াই করে দেশকে উজ্জ্বল ভবিষ্যেতের দিকে নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু দুর্ভাগা প্রবাসীর এই প্রতিদান কেউ ভূল করেও মূল্যায়ন করে না।

প্রবাসীরা দেশের মানুষকে আলোদিতে দিতে এক সময় নিভে যায়, হারিয়ে যায় চিরদিনের মত তাদের হিসাব কেউ রাখে না। আবহেলায় অনাদরে মত প্রান ঝরে তার একটা হিসাব কিছুদিন আগে প্রথম আলো ব্লগে পড়েছিলাম। আপনাদের সুবিধার্তে তা সংযোজন করে দিলাম।

দেশে রেমিটেন্স (প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ) প্রবাহ নাকি মে মাসে সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এককভাবে কোনো মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৮৯ কোটি ৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে মে মাসে। ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। জীবনযাত্রা সচল রাখতে ডলারের এ প্রবাহ বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক ভরসাস্থল। তাই শাসকদের জন্য এ ঘটনা খুবই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এ ডলারের বেদিমূলে প্রতিনিয়ত নিঃশব্দে কত প্রবাসী শ্রমিকের জীবন বলি হচ্ছে তার কি কোনো খোঁজ আছে? অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এ সংখ্যাটা দুই-দশ নয়, এমনকি শতকের ঘরেও নয়, সহস্রের কোটা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ, রেমিটেন্সের পরিমাণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রবাসী শ্রমিকের লাশের সংখ্যা।

প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স নিয়ে যত উচ্ছ্বাস, বিদেশে যেনতেনভাবে শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে যত তৎপরতা লক্ষ করা যায় – প্রবাসে তাদের কাজ ও জীবনের নিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা নিয়ে কি সরকার কি অন্য কারো সে অনুপাতে কোনো উদ্বেগ বা তৎপরতা আছে বলে মনে হয় না। যদি তাই হতো তাহলে গত কয়েক বছর ধরে এভাবে প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ত না।
গত ৫ বছরে বিদেশ-বিভূঁইয়ে নিহত প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত ৪ মাস ৯ দিনে ৯০৪ জন প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে পৌঁছেছে। শুধু মে মাসের প্রথম ৮ দিনেই এসেছে ৬৪ জনের লাশ, যার মধ্যে ৩২ জন নারী শ্রমিক। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৮ জন করে শ্রমিকের লাশ এসেছে। এই ৯০৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩৯১ জন মৃত্যুবরণ করেছে হৃদরোগে (কার্ডিয়াক এ্যরেস্ট), কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬৮ জনের, ৬২ জন সড়ক দুর্ঘটনায়, বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় মারা গেছে ১১৫ জন।

এখানে আরো উল্লেখ করা দরকার যে শ্রমিক-মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। হৃদরোগে মৃত্যুবরণকারী ৩৯১ জনের ১১৯ জন মারা গেছে সৌদি আরবে, মালয়েশিয়ায় ৮২ জন, ৭২ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতে, ৩৫ জন কুয়েতে, ওমানে ১৬ জন, কাতারে ১০ জন, বাহরাইনে ১০ জন, সিঙ্গাপুরে ৭ জন এবং লেবাননে ২ জন। (ডেইলি স্টার, ১৩ মে ২০০৯) দৈনিক সমকালে ৮ মে ‘০৯ তারিখে প্রকাশিত হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, তখন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৮৮১ জন প্রবাসী শ্রমিকের লাশ। এদের ২৫৪ জন মারা গেছে সৌদি আরবে, মালয়েশিয়ায় ১৫৭ জন, দুবাই-তে ১০০ জন, কুয়েতে ৫৫ জন, ওমানে ৩৪ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ জন, আবুধাবি-তে ২৪ জন, কাতারে ২১ জন, বাহরাইনে ১৭ জন, যুক্তরাজ্যে ১৬ জন, ইতালি-তে ১৫ জন, দ: আফ্রিকায় ১১ জন, লেবাননে ৬ জন, পাকিস্তানে ৬ জন, গ্রিসে ৫ জন এবং অন্যান্য দেশে ৫২ জন।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০০৪ সালের পর থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষত, ২০০৭ সালের তুলনায় ২০০৮ সালে সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৭ সালে যেখানে এ সংখ্যাটা ছিল ১ হাজার ৬শ’ ৭৩ জন, ২০০৮ সালে এসে সেটা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২শ ৩৭ জনে! ডেইলি স্টারের তথ্য মতে, ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৭৮৮ জন, ২০০৫ সালে ১ হাজার ২শ’ ৪৮ জন এবং ২০০৬ সালে ১ হাজার ৪শ’ ২ জন।

মালয়েশিয়ার কারাগারে ও পুলিশী হেফাজতে গত ৬ বছরে মারা গেছে ১ হাজার ৩শ’ প্রবাসী শ্রমিক যার একটা বড় অংশ বাংলাদেশি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ এদের গ্রেফতার করে জেলখানা বা থানা হাজতে আটকে রাখে। মালয়েশিয়ার মানবাধিকার সংস্থা সুহাকাম-এর মতে, এদের মৃত্যুর মূল কারণ সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া। এ সংস্থা আটককৃত অবৈধ শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে বলেছে, কারাবন্দিদের চিকিৎসা সুবিধা না দেওয়াটা একটা অমানবিক কাজ, মানবাধিকারের লঙ্ঘন। পাশাপাশি পুলিশী নির্যাতনে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুসহ সকল মৃত্যুর স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে এ সংস্থা।

একেবারে খোলা চোখেই বোঝা যাচ্ছে, প্রবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ভয়াবহ। একটা অত্যন্ত দুর্বিষহ অসহায় জীবন তারা যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। আসলে তাদের দুর্ভোগ শুরু হয় দেশের মাটি থেকেই। সরকার নির্ধারিত ফি’র তুলনায় আট/দশগুণ পর্যন্ত টাকা তাদের খরচ করতে হয়। এ খরচ যোগাড় করার জন্য অনেককেই ভিটেবাড়ি-জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। কিন্তু এই ম্যানপাওয়ার বিজনেস বা আদম ব্যবসা বলে পরিচিতি সেক্টরটিতে প্রতারক এবং দালালদের এতটাই প্রাদুর্ভাব যে প্রতিবছর শত শত বিদেশ গমনেচ্ছু সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়, তাদের টাকা নিয়ে প্রতারকচক্র লাপাত্তা হয়ে যায়। যারা কোনো ক্রমে বিদেশে যেতে পারেন, তখন শুরু হয় তাদের দ্বিতীয় দফা দুর্ভোগ। যে কাজের কথা বলে নেওয়া হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সে কাজে নিয়োগ পান না। যে পরিমাণ বেতনের কথা বলা হয়, সে বেতনও তারা পান না। সবচেয়ে অমানবিক, পরিশ্রমসাপেক্ষ, কষ্টকর কাজগুলো জোটে তাদের কপালে। সে তুলনায় বেতন নামমাত্র। কেউ কেউ মাসের পর মাস বেতনের মুখও দেখেন না। কারো কারো কপালে দুর্ভোগের পরিমাণ আরো বেশি থাকে। দেখা যায় তাদের কাগজপত্র জাল। ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে তারা পালিয়ে বেড়ান, অনেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে দিনের পর দিন বন্দি হিসাবে বিদেশের কারাগারগুলোতে কাটিয়ে দেন। এই হল বাংলাদেশ থেকে শ্রম বিক্রি করতে যাওয়া লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষের
জীবনের বাস্তব চিত্র। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে মৃত্যুর ঘটনা।

মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে হৃদরোগ (কার্ডিয়াক এ্যরেস্ট) এবং অন্যান্য অসুস্থতা। প্রশ্ন উঠেছে, যে শ্রমিকরা বিদেশে যান তাদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪০। অর্থাৎ তারা সকলেই তরুণ। দেশ থেকে যাবার সময় প্রতিটি শ্রমিকেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিক্যাল সার্টিফিকেট) করা হয় এবং তাদের সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তাহলে ঠিক কি কারণে তারা বিদেশে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন? এখানে বলে রাখা ভাল যে বিদেশে যাওয়ার সময় শ্রমিকদের যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তা প্রায়শই নামমাত্র, কাগজে-কলমে। টাকার বিনিময়ে গুরুতর অসুস্থ মানুষও সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়ে যান। কিন্তু বিদেশে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার এটাই মূল কারণ নয়। ডাক্তারদের মতে এর মূল কারণ হল কাজের অনিশ্চয়তা, বেতনের অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ। আগেই বলা হয়েছে, যে কাজের কথা বলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় অনেকেই সে কাজ পান না। একই ব্যাপার ঘটে বেতনের ক্ষেত্রেও। নিজেদের সব সহায়-সম্বল বিক্রি-বন্ধক দিয়ে যখন বিদেশে পাড়ি জমান সেখানে কাজ না পাওয়া, বেতন না পাওয়ায় তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সীমা-পরিসীমা থাকে না। বৈধ কাগজপত্রের অভাবে যাদের পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয় তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ থাকে না। সহায়-সম্বল তো সবই গেছে। যারা কাজ পান তাদের সে কাজ আজ আছে তো কাল নেই। যারা হাড়ভাঙা পরিশ্রমে রক্ত পানি করে সামান্য দু’চার পয়সা দেশে পাঠান তাদের শুরু হয় নতুন দুঃশ্চিন্তা। টাকাটা ঠিকভাবে দেশে পৌঁছবে তো? আত্মীয়-স্বজনরা পাবে তো? এর সাথে আরো একটি বিষয় তাদের দুঃশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। প্রবাসীদের পাঠানো টাকা অনেকক্ষেত্রেই আত্মীয়-স্বজনরা নানা ভোগ-বিলাসের আয়োজনে এবং গাফিলতি করে উড়িয়ে দেয়। এ খবরটিও প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃশ্চিন্তার বোঝা বাড়িয়ে দেয়। দেশে ফিরে এসে কোন অথৈ সাগরে পড়বেন সেটা ভেবেই তারা দিশেহারা হয়ে যান। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে কার্যকর সহযোগিতা দূরে থাক, একটু বল-ভরসাও কেউ যোগায় না।

(দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকা থেকে তথ্য ও হুবহু কিছু লিখা সংরহ। প্রবাসীর দেশ প্রেম বুঝাবার জন্য এই মূল্যবান লেখা ও তথ্যের আশ্রয় নিয়েছি। আমার দেশ, সমকাল, ইত্তেফাক, প্রথম আলো, যুগান্তর, সময়, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ)

প্রবাসীর ক্রন্দন 7

যারা প্রবাসে বসবাস করেন, যাদের অবদান অনুদান সাহায্য সহযোগিতায় এই বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটে আমি শুধু সেই দেশ প্রেমিক বাংলাদেশীর একজন, আমি জানি না বাংলাদেশের মানুষ প্রবাসীর দুঃখ কেউ বুঝবে কি বুঝবে না, না বুঝারই কথা তবে আমার উচিৎ সত্য প্রকাশ করা আমি সেটাই করে যাচ্ছি। আমি চাই সবাই জানুক আমাদের এক একটি দিন রাত কেমন করে কাটে। কেমন করে এই প্রবাসী মানুষগুলো নিরাশার মাঝে বেঁচে থাকে। যে দেশে জন্ম নিলাম, যে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তের আশায় আমরা প্রতিদিন যুদ্ধ করে যাচ্ছি, নিজে খেয়ে না খেয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য দিন রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলি সেই দেশের মানুষ আমাদেরকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে মেনে নিতে পারে না। বাংলাদেশের সরকার আমাদের অবদান স্বী্কার করলে কি আর না করলেই বা কি! সারা বিশ্বে্র মানুষ জানে প্রবাসী বাঙ্গালীর অবদান। ইতিহাস আমাদের কথা বলে, ইতিহাস আমাদের কর্মের সাক্ষী। আপন মানুষগুলো যখন আমাদের ঋন আস্বীকার করে তখনি কষ্ট হয়, এই কষ্ট আমাদেরকে মৃত্যু যন্ত্রনার মত এত শক্ত করে ধরে যেন হাউ মাউ করে কাঁদতে হয় । আজ পর্যন্ত আমাদেরকে ভোটের অধিকার দেয়া হয় নি। বাংলাদেশে সরকার আমাদের সাথে বিমাতা সুলব আচরন করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ তাই এই সব ভোটের অধিকার নিয়ে ভাবনার সময় নেই তবে ভাবতে গেলেই কষ্ট পেতে বাধ্য। ভোট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অন্য এক সময় লিখবো, আজ দেশবাসীকে আরো কিছু অজানা কষ্টের সাথে পরিচয় করে দিতে চাই। আমরা না পারি দেশ ছাড়তে না পারি দেশে থাকতে। বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে যেমন বিলেতী বলে ডাকতে ভালোবাসে ঠিক তেমনি ইংরেজরা আমাদেরকে ইন্ডিয়ান বলে ডাকতে পছন্দ করে। (বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের তেমন কোন ধারনা নেই, তাই গায়ের রঙ দেখে আমাদেরকে ইন্ডিয়ান বলে থাকে) আমরা আসলে কেউ নই,য়ামাদের কোন নাম নেই, আমাদের কোন দেশ নেই, আমাদের সব থেকেও কিছু নেই। আমাদের চোখের জল ছাড়া আমাদের নিজস্ব বলতে আর কিছুই নেই। আমরা অবহেলিত চির অবহেলিত প্রবাসী। আমরা হলাম অনাথ। প্রবাসীদের জীবন হলো নীড়হারা পাখির মত। আমাদের কোন কিছু স্থায়ী নয়। আমাদের বুকের যন্ত্রনা বুঝার মত মানুষ নেই যে যেখানে গেলে আমাদের যন্ত্রনা কারো সাথে ভাগাভাগি করবো? আমাদের কষ্ট হয় বা আমাদের চোখে জল ঝরে এই বিষয়গুলো অনেকেই বিশ্বাস করে না। আমাদের সব সুখ সবার জন্য তবে দুঃখের ভাগ শুধু আমাদের, এই দুঃখ কেউ নিতে চায় না। বিলেতে দুই প্রকার প্রবাসীরা আছেন। ১। যারা পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন। ২। যাদের কেউ নেই। যাদের কেউ নেই আমি তাদের কথাই লিখবো। ওরা বড় একা,বড় অসহায়। এই ভালবাসা বঞ্ছিত মানুষের কষ্ট আমি অনেক কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে কারন এক সময় আমি তাদের খুবই কাছাকাছি ছিলাম। দায়িত্বের পাহাড় মাথায় করে যারা বয়ে বেড়ায় দিনের পর দিন, অবহেলা অনাদরে যাদের নয়ন জল অবিরাম ধারায় ঝরে পড়ে তারা আমার অতি আপনজন এই অবহেলিত মানুষগুলোকে আমি বড় বেশি ভালবাসি। যে যন্ত্রনা একদিন আমার বুকে ছিল, যে কষ্ট আমি সহ্য করেছি বছরের পর বছর, এই কষ্টের সাথে কাউকে লড়াই করতে দেখলেই প্রানটা নিজের অজান্তে কেঁদে উঠে। এই কান্না আমি অনেক কেঁদেছি। প্রবাসের এক একটি মুহুর্ত যখন অনিশ্চয়তার মাঝে কাটে তখন জীবনকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়। স্বজনের বিরহ, মাটির বিরহ পৃথাবীর সব কষ্টের চেয়ে বড় কষ্ট। এই যন্ত্রনার সাথে যার পরিচয় হয় নি আমি বলবো জীবন সম্পর্কে তার কোন ধারনাই নেই। আপনজনের বিরহ কত যে যন্ত্রনার তা প্রবাসী জীবনের সাথে পরিচয় হবার পরই জানতে পারি। বাবা মা ভাই বোনের বিরহ অনুমান করে বুঝার কোন উপায় নেই। কাজ শেষ করে ক্লান্ত শরির যখন ঘুমের কোলে আশ্রয় নেবার কথা ঠিক তখনই শুরু হয় বিরহের পালা। মায়ের কথা মনে পড়ে। মায়ের ভালবাসার জন্য বুক জুড়ে হাহাকার শুরু হয়। মনে পড়ে মায়ের আদরের এক একটি ক্ষন মুহুর্ত। বাবাকে ফাঁকি দিলে কেমন করে কাটগড়ায় দাড়াতে হত সব কিছু চোখের সামনে ভেসে উঠে। বাবার রাগি রাগি চেহেরাটা দেখতে ইচ্ছে হয়। বুকের পাজর আস্তে আস্তে গরম হয় আবার ঠান্ডা হয়। জোর করে চোখের জল চোখে ধরে রাখা যায় না। অবাধ্য চোখের জল শত বাঁধা উপেক্ষা করে গন্ডবেয়ে গড়িয়ে পড়ে ইচ্ছেমত। চোট ভাই বোনের আদর, ওদের নিস্পাপ মুখের আদল দেখার জন্য হৃদয় মন বদ্ধ খাঁচার পাখির মত চটপট চটপট করতে থাকে। প্রবাসীর জীবন কান্না আর বিষাদে ভরা, আমাদের জীবন কষ্ট আর বিরহ দিয়ে গড়া। আমরা কষ্ট নামক দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের কথা কী ভাল করে জানে না। কেউ আমাদের কথা জানতে চায় না।

প্রবাসীর ক্রন্দন 8
একজন মানুষ যখন এই পৃথিবী থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে যায়, আমরা কিছুদিন কান্না কাটি করে এক সময় শান্ত হয়ে যাই। হারিয়ে যাওয়া সেই স্বজন বা পরিচিত মুখের কথা কোন এক সময় আমরা ভূ্লে যেতে পারি। চিরতরে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ভূ্লে যেতে যতেষ্ট সময় লাগে না। যারা এই পৃথিবী থেকে চলে যায় তাদেরকে ভূ্লে যাবার জন্য হৃদয় মন এক ধরনের প্রস্তুত হয়েই থাকে বলা যায়। ঠিক একই ভাবে আমরা যারা প্রবাসী আছি তাদের কথা দেশের মানুষ ভূ্লে যায়, প্রযোজন ছাড়া আমাদের সুখ দুঃখের কথা কেউ জানতে চায় না। জানি অনেকেই আমার এই লেখা পাঠান্তে কষ্ট পাবেন তবে বাস্তবকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি, দেশের মানুষকে ছোট করার জন্য এই কথা গুলো লিখিনি।

প্রবাসীদের কষ্ট বুঝাবার জন্য লিখছি। গত ২৬ বছরের প্রবাস জীবন আমাকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছে। দেশ বিদেশের মানুষকে এক কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে বলে এই কথা গুলো জানতে পেরেছি।

একজন প্রবাসী যখন অকেজো হয়ে যায় তখনই পরিবার পরিজনের আসল রূপ প্রকাশ হয়, এর আগে নয়।

দুহাত ভরে যতদিন দেবার সামর্থ থাকবে ঠিক ততদিন পরিবারের সবার কাছে প্রিয়। আমাদেরকে সুখের মাইল ফলক হিশাবে দেখা হয়। দুঃখ কষ্ট যন্ত্রনা আমাদের নিত্যদিনের সংগি। খোলা চোখে যা দেখা যায় তা দিয়েই আমাদেরকে সুখি মানুষ হিশাবে গন্য করা হয়, অথচ আমাদের বুখে জনমের শুন্যতা। একাকীত্ব প্রবাসী জীবন আমাদেকে মৃত্যুর আগে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে বাধ্য করে, এই যন্ত্রনা কাউকে বুঝানো যায় না, কষ্টের পাহাড় বুকে ধরে রেখেছি আমরা। সুখটা কি শুধু কাড়ি কাড়ি টাকার মাঝেই সীমাবদ্ধ? কোন এক সময় আমিও তাই ভেবেছি যে টাকা পয়সা হাতে আসবে, নিজের মত করে জীবনকে সাজাবো, কষ্ট ভরা জীবনে আর কোন কষ্ট থাকবে না। সুখী সুন্দর একটা জীবনের জন্য টাকার প্রযোজনীয়তা অস্বী্কার করা যায় না তবে টাকাই যে সব সুখের মুলের মুল তা অনেকটা ভুল প্রমানিত হয়ে গেল। শুধু টাকা দিয়েই সুখী সুন্দর জীবন রচনা করা যায় না। আমার মত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী এক বাক্যে এক মত হবেন, টাকাই সব সমস্যার সমাধান নয়। বিশেষ করে প্রবাসী জীবনের বাস্তবতা তো এই কথা বলে না। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে দেখা স্বপ্নের সাথে আজকের এই প্রবাসের কোন যোগসূ্ত্র নেই।

কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যখানে আকাশ পাতাল ব্যাবধান, কল্পনার রাজ্যে বেহিসাবী হতে কোন বাধা নিষেধ নেই, স্বপ্ন দেখতে কোন টাকা পয়সা লাগে না তাই ইচ্ছেমত কল্পনার টাকার মাঝে জীবনের সব সুখ খুঁজেছি। টাকা পয়সা ছাড়া একটা সুতাও হয় না তাও জানি তবে টাকার মাঝেই যে সব সুখ লুকিয়ে থাকে তাও সত্য নয়। 

স্ব্পন আর বাস্তবের ব্যাবধান না বুঝে সংসারের জন্য একটু সুখ আর হাসি কিনতে গিয়েই আমাদের জীবনের প্রতিটি সুখ প্রবাসের মাটিতে কেঁদে কেঁদে মরে যায় যা কেউ জানতে পারে না।

দেশের আপনজনকে এই কষ্টের কথা এই যন্ত্রনার কথা জানতে দেই না, যাদের সুখের জন্য এত ত্যাগ এত অবহেলা অনাদর সহ্য করেছি সেই ভালবাসার মানুষগুলোকে কেমন করে কষ্টের কথা বলা যায়? কষ্ট আর যন্ত্রনার কথা বুক ভরা আশা নিয়ে বসে থাকা আপনজনকে বলা যায় না। যে সুখের জন্য এত দৌড় ঝাঁপ দিলাম, মা মাটি ছেড়ে অন্য এক ভূবনের বাসিন্দা হলাম, সেই সুখ নামের সোনার হরিণ তো আমাদের জীবনে এলোনা। হিসাবের কিছু সুখ যাহা অবশিষ্ট ছিল তাও আস্তে আস্তে হাতছাড়া হয়ে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় এই জীবনটা থেমে গেছে, এই যন্ত্রনা কাউকে বুঝানো যায় না। দিনরাত হাড়ভাংগা খাটুনি খেটে ঘরে ফিরে নিজেকে বড় আসহায় লাগে। এতটুকু আদর ভালবাসার জন্য মন চটপট করে মরে। আমাদের বেশির ভাগ প্রবাসীর মা নেই বাবা নেই আপনজন বলতে তেমন কী নেই যে আমাদেরকে একটু ভালবাসার কথা বলবে আমাদের কষ্টের সময় একটু সহানুভূতি দেখাবে।

একাকীত্বে্র বেদনায় আমাদের নয়নে যখন জল ঝরে কেউ আদর করে কাছে ডেকে এই জল মুছে দেয় না। নয়নের জল নয়নেই শুকায়। প্রবাসী যান্ত্রিক জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আমরা প্রানে বেঁচে থাকি তবে এই বাঁচাকে বেঁচে থাকা বলা যায় না। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনের এক একটি মূহুর্ত অসম্ভব বেদনাদায়ক।

এই কষ্ট বেদনা বিরহ সহ্য করে, আমাদেরকে নতুন ভাবে শক্তি সঞ্চয় করে, অনিচ্ছাকৃ্ত এই প্রবাস জীবনের সাথে সন্ধী করে বেঁচে থাকতে হয় কারন এক ঝাক ভালবাসার মানুষ আমাদের পানে চেয়ে আছে। আমাদের ত্যাগ আপনজনকে সুখী সুন্দর কিছু মূহুর্ত দিতে সক্ষম তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া তাই সব দুঃখ যন্ত্রনা ভূ্লে দায়িত্ব পালনে মরিয়া হয়ে উঠি। ভাইয়ের আবদার বোনের আবদার পূ্রন করতে গিয়ে নিজের পানে চেয়ে দেখার সময় থাকে না। মাসের শেষে দেশে টাকা পাঠাতে হয়, যতক্ষন বেঁচে থাকবো এই দায়িত্ব থেকে মুক্তির কোন উপায় নেই। অনেক সময় মাসের শেষে টাকা পাঠানো সম্ভব হয় না দেশ থেকে চিঠি আসে চিঠি ভর্তি শুধু কষ্টের কথা, প্রান হু হু করে কেঁদে উঠে, ধার দেনা করে সংসারের শান্তি ফিরিয়ে আনতে হয় যা একমাত্র প্রবাসীরাই জানেন।

প্রবাসীর ক্রন্দন 9
দীর্ঘ্য প্রবাস জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা থেকে এই লিখনীর উৎপত্তি সম্মানিত পাঠক হয়ত ভাবছেন আমি দুঃখ বিলাসী।

প্রবাসীরা দুঃখ বিলাসী হবার কোন অবকাশ নেই কারন আমরা তো একটু সুখের আশায় পাড়ি দিয়েছি অজানার দেশে, আমাদের দুটি চোখ এক চিলতে সুখ দেখার জন্য অপলকে চেয়ে আছে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর। দুঃখ নিয়ে বিলাসীতা করার সুযোগ আমাদের নেই। দুঃখ নিবারন করার ইচ্ছা নিয়ে মা মাটি ছেড়ে অজানা অচেনা এক দেশের মাটিতে আমরা আশার ঘর বেঁধেছি, আমরা দুঃখ বিলাসী নই, আমরা সুখের কাংগাল। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুখ খুঁজে বেড়াই।

দুঃখ বিলাসী ওরাই হয় যাদের জীবনে সুখের ছোঁয়া লাগে, যাদের জীবনে সুখ শান্তির নেই কোন অন্ত নেই কোন অভাব।

আমি তাদের কেউ নই, আমি এতটুকু সুখ সন্ধানী একজন খেটে খাওয়া মানুষ আমার জীবনে সুখের ছোঁয়া লাগে নি, প্রবাসী নিঃসংগ জীবনে সুখ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। সুখ খুঁজতে গিয়ে অবশিষ্ট সুখটুকু আমি হারিয়ে ফেলেছি।

হাজারে একজনের ভাগ্যে যদি সুখ থাকে ৯৯৯ জন বুক ভরা হাহাকার নিয়ে এই প্রবাসে ধুকে ধুকে মরছে, আমি ৯৯৯ জনের একজন তাই আমি আমার কথা বলবো ৯৯৯ জনের কথা বলবো। দু একজনের সুখের কাহিনী নাইবা শুনলেন। আমাদের কথা শুনুন এবং জেনে রাখুন যারা প্রতিদিন জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার লড়াই করে, যারা সুখের তরে সুখ হারায় ওদের কথা জেনে রাখা খুবই জরুরী কারন ওদের ত্যাগ তিতিক্ষার ফসল হল দেশবাসী আপনজনের মুখের নির্মল হাসি।

সত্যি কথা বলতে কি, প্রবাসীর কষ্ট প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বুঝে না। অনুমান করে সব কষ্ট বুঝা যায় না। অনুমান করে যদি প্রবাসীদের কষ্ট বুঝা যেত তাহলে এই লেখার প্রয়োজন হতোনা। আমি এসব কেন লিখছি? কেন প্রবাসীদের প্রতি আমার এই দুর্বলতা? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হল আমি তাদের একজন।

দেশে বিদেশে আমাদের অসহনীয় কষ্ট যা লিখার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের কষ্টের একটি নমুনা সংযোজন করে দিলাম।

একজন ইতালি প্রবাসীর খোলা চিঠি – চিঠিটি লিখেছেন : খান লুৎফর রহমান

আমি অর্থনীতিতে এমএ পাস করে দেশে চাকরি না পেয়ে প্রবাসী হই। আমি একজন ইতালি প্রবাসী। ইতালি প্রশাসনের সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন যেমন পৌরসভা এবং রিজিওনাল সন্মানিত কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করে আসছি। ওখানে যতবার বিদেশ বিষয়ক আইন হয়েছে সবক’টি আইনের মেম্বার হিসেবে দায়িত্ম পালন করেছি। বিগত বামপন্থি সরকারের সময় যখন সন্মানিত লিভিয়া তুর্কা ইমিগ্রেশন মন্ত্রালয়ের মন্ত্রী থাকাকালে আমি ইতালির পার্লামেন্টের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং এ ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা আছে।

আমি ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসার পরপরই রাজমণি সিনেমা হলের সামনে থেকে একটি গ্রুপ আমাকে হাইজ্যাক করে নিয়ে যায় এবং একটি কাগজে লিখে নেয় তারা আমার কাছে ২০ লাখ টাকা পাবে। না দিতে পারলে তাদের প্রতি মাসে ২০% সুদ দিতে হবে। তারা এখনও মাঝে মধ্যে আমাকে টাকা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি, যার নং-৩২৯, তাং ০৪-০৩-০৯ ইং।

দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে মোহাম্মদপুরে ৮-০৪-০৯ ইং তারিখে আমার স্ত্রীসহ একটি বাসা থেকে দাওয়াত খেয়ে ফিরছিলাম আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টায়। একটি সাদা গাড়ি আমাদের রিকশাকে আটক করে এবং গাড়ি থেকে রামদা নিয়ে তিনজন নেমে আসে। আমাদের কাছে কিছু না থাকায় আমার স্ত্রীকে ওরা কোপ দিতে আসে। ওটা আমি ঠেকানোর চেষ্টা করি। তাতে আমার বাঁ হাতে দুটি কোপ লাগে। আমার হাতের আঙুল কেটে পড়ে যাওয়ার মতো হয়। ইস্টার্ন হাসপাতালের ডাক্তার পারভেজ আমার হাতের চিকিৎসা করেন।

তৃতীয় ঘটনা ঘটে ১৬-০৫-০৯ ইং তারিখে আমি বাড়ি থেকে আসছিলাম। মিরপুর টেকনিক্যাল নামার পর বাসায় আসার জন্য একটি সিএনজি নিই। শ্যামলী শিশুপল্লী আসার পর ড্রাইভার সিএনজি নষ্ট হয়েছে বলে আমাকে জানায়। সঙ্গে সঙ্গে অচেনা তিন ব্যক্তি সিএনজিতে উঠে পড়ে এবং আমার চোখে মলম জাতীয় কিছু দিয়ে দেয় আর বুকে পিস্তল ধরে মুখে কিছু ঢুকিয়ে দেয়। এতে আমি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আমি আর কিছু জানি না। জ্ঞান ফেরার পর একটি রিকশা নিয়ে বাসায় ফিরি। তারা আমার কাছ থেকে অনেক টাকা, স্বর্ণের চেইন, আংটি এবং একটি ব্যাগ নিয়ে যায়। যার মধ্যে আমার প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্র ছিল।

আমার সর্বশেষ অভিজ্ঞতা ২২-৫-০৯ ইং তারিখে আমি মোহাম্মদপুর থানায় এজাহার দিতে যাই। টাকার অংক বেশি হওয়ায় আমাকে ধমক খেতে হয় এবং মিথ্যাবাদী সাজতে হয়। এতে আমি একজন প্রবাসী হিসেবে ভীষণ লজ্জা পাই এবং ডিউটি অফিসারের কাছে ক্ষমাও চাই। এ অবস্থায় আমি বিভিন্ন থানায় ঘুরে আবার মোহাম্মদপুর থানায় আসি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বসে থেকে রাত ৯টায় আমি আমার এজাহারের কপি পাই। অসুস্থ একজন প্রবাসী এভাবে হয়রানির শিকার হওয়ায় সাধারণত খারাপ লাগে। ইউরোপের কোনো দেশেই এ রকম ডায়েরি করতে কিংবা এজাহার দিতে ৩০ মিনিটের বেশি লাগে না। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। যে দেশে প্রচুর সম্ভাবনা আছে সে দেশের সম্ভাবনাকে যদি নষ্ট করে দেওয়া হয়, তাহলে দেশ যাবে কোথায় ?

এই চিঠি পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো জানি না তবে একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে যায় তা হলো আমরা যারা প্রবাসী তাদের নিরাপত্তা না আছে দেশে না আছে বিদেশে। এই কষ্ট কেউ বুঝে না হয়ত কেউ বুঝবে না কোনদিন।

প্রবাসীর ক্রন্দন 10

আজকের প্রসঙ্গ একটু ভিন্ন, কষ্টের কথা আজ লিখব না। কষ্টের কথা না হয় আগামী সপ্তাহে লিখবো, আজ কিছু আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার চেষ্টা করবো।

গত ১৩ তারিখ আমার প্রিয় বন্ধু বাইস কাদিরের চিত্র পদর্শনী দেখতে লন্ডনের ব্রাডি সেন্টারে গিয়েছিলাম এবং শিল্পীকে কথা দিয়েছিলাম সময় করে কিছু লিখবো তাই আজকের এই লেখার সূচনা।

সামনে বসে কারো প্রসংশা করা আমার রুচিবিরুদ্ধ, নিজেকে কেমন গোপাল ভাঁড় গোপাল ভাঁড় টাইপ বলে মনে হয়। যাক সে সব কথা।

যারা খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলে, যাদের চিন্তা চেতনায় মানুষের সুখ দুঃখের চিত্র ফুটে উঠে আমি তাদেরকে শুদ্ধ সঠিক এবং সাদা মনের মানুষ বলে মনে করি।বাংলাদেশে যে ক’জন হিসেবের চিত্রশিল্পী আছেন(এই প্রজন্মের) বাইস কাদির মাধ্যে অন্যতম। যার তুলির আচঁড়ে ফুটে উঠে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জিবন্ত ছবি, অন্যায় অবিচারের নগ্নরূপ। বাংলার বাউলের উদাসী ভাব, হিংসুটে আত্মার কদাকার চেহারা, ভুল ধারার রাজনিতীর অন্ধকার বিভিন্ন দিক, এক’ই সাথে নির্যাতিত মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার প্রতিটি শিল্পকর্মে।

রঙ তুলির সাহায্যে মানুষের বিবেক জাগিয়ে তোলার অসাধ্য সাধন করে চলেছেন বাইস কাদির। মানুষের বিবেক জাগিয়ে তোলার যে মাধ্যম তিনি সাধন করেছেন তা প্রসংশনীয়।

তার এক একটি চিত্র মানুষের কষ্টের কথা বলে, বুকফাটা কান্নার হাহাকার বেজে উঠে যা আমাকে বার বার মুগ্ধ করে। এত সুন্দর এবং সাবলীল ভাবে মনের অনুভুতি গুলো ফুটিয়ে তুলেছেন তার একটা উদাহরন না দিলে বিষয়টা পরিস্কার হবে না। “চিন্তা” নামক চিত্রটি আমাকে অসম্ভব ভাবিয়ে তুলেছে।

এত সচ্ছ এবং সত্যমন্ডিত চিত্রকর্ম সচরাচর দেখিনা। আমরা যখন বাস্তবতাকে ফাকি দিয়ে কল্পনায় আরো একটা জগত সৃষ্টি করে নিজের ইচ্ছেমত বসবাস করি তার জলন্ত এক ছবি দেখতে পেলাম এবং পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চিত্র আশে পাশে পড়ে থাকতেও দেখলাম। এত দূ্রদর্শী চিন্তা অনেক চিত্র কর্মেই ঝলমল করে তার দূ্রদর্শী চিন্তা চেতনার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বার বার।

কল্পনায় মানুষ নিজের ইচ্ছেমত সুখ খুজে নিতে পারে, যার কোন সীমা পরিসীমা নেই। কল্পনার আর বাস্তবের মাঝামাঝি যে ব্যাবধান তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন।

বাইস কাদির আমাদের কল্পনাকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসতে খুব বেশি জায়গা নষ্ট করেন নি। ছোট্ট পরিসরে জীবনের এক একটি দিক এত সহজ এবং সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়, এবং প্রতিটি চিত্রকর্ম সহজবোধ্য।

একজন বাঙ্গালী হয়ে দেশে বিদেশে আমাদের জন্য সন্মান বয়ে নিয়ে আসার জন্য চিত্রশিল্পী বাইস কাদিরকে আমি অভিনন্দন জানাই।

সোনার বাংলার সোনার ছেলে বলতে যা বুঝায় বাইস কাদির হলে ঠিক তাই। ভদ্র নম্র ব্যাবহারের জলন্ত প্রমান আমাদের এই সোনার বাংলার সোনার ছেলে।

চিত্রশিল্পী বাইস কাদির ভবিষ্যতে আমাদেরকে আরো অনেক কিছুই দিতে সক্ষম যার প্রমান আমরা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছি।এমন একজন গুনী মানুষের সাথে পরিচিত হবার পর নিজেকে অসম্ভব ভাগ্যবান বলে মনে হচ্ছে। আমি এই গুনী শিল্পীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত কমনা করছি। আমার বিশ্বাস এমন একদিন আসবে যেদিন শিল্পী বাইস কাদিরের পরিচিতি আমাদেরকে সন্মানের চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে যাবে। চলবে…………………………
সূত্রঃ আমাদের প্রতিদিন


 

দাম্পত্য জীবনে প্রেম-দরকার তৃপ্তিময় যৌনতা

ভালোবাসা এবং যৌনতা

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক

অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

দাম্পত্য জীবনে প্রেম-দরকার তৃপ্তিময় যৌনতা
প্রেম এমন এক শব্দ এটা বলতে যতটা সহজ মনে হয় কাজের বেলা কিন্তু ঠিক ততটা কঠিন। সাধারণত কম বয়সে নারী-পুরুষ দুজনের মাঝেই আসে প্রেম। প্রেম কখনো শরীরভিত্তিক, কখনো আবার মন-মানসিক ও শারীরিক অবদান দুটোই সমান্তরালভাবে থাকে। আমাদের দেশে প্রেম প্রথম আসে মানসিক দিক থেকে, তারপর সেটা পরিপূর্ণতা পায় শারীরিক অবস্থায়। কিন্তু পাশ্চাত্যের প্রেমে শারীরিক প্রাধান্য থাকে মুখ্য। সেখানে শারীরিক মিলনের মাধ্যমেই শুরু হয় প্রেম-প্রীতি। অল্প বয়সেই ছেলেমেয়েরা তাদের শারীরিক চাহিদা পরিপূর্ণ করতে সচেষ্ট হয়। এটা তাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট। তাদের কথায়, শারীরিক আবেদন যদি ঠিক থাকে তবে মানসিক আবেদন সেখানে পূর্ণতা লাভ করবে। তাই পাশ্চাত্য প্রেমে বিয়ে অত্যন্ত গৌণ। পাশ্চাত্যে প্রায় ৯৫% প্রেমে বিয়ে হয় না। কিন্তু তারপরও তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবন যাপন করে থাকে। একই ছাদের নিচে তারা বসবাস করে। এই লিভ টুগেদারের ফলে অবৈধ সন্তান হচ্ছে। সন্তানের পরিচয় হচ্ছে সেই বয়ফ্রেন্ডের পরিচয়ে। তবে আমাদের দেশে এমন অবস্থা নেই। আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তা সমর্থন করে না।

প্রেম যে রকমেরই হোক না কেন তাতে কমবেশি শারীরিক প্রাধান্য থাকেই। কারণ শরীরকে বাদ দিয়ে তো আর মানুষ নয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রেম না থাকলে সুখময় সেক্স থাকবে না। আবার সেক্স না থাকলে স্বর্গীয় প্রেম থাকবে না। তাই যে কোনো সংসার জীবনে প্রেমটাকে বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন চমৎকার যৌনতা। যৌনতা নারী-পুরুষকে দূর থেকে কাছের করে ফেলে। যে দম্পতিদের মাঝে চমৎকার যৌনমিলন নেই তাদের মাঝে বনিবনাও খুব একটা লক্ষ করা যায় না। তাই প্রতিটি নারী-পুরুষকেই তাদের প্রেম-প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য যৌনতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান রপ্ত করতে হবে। জানতে হবে যৌনতার গোপন রহস্য, মধুর রহস্য। কয়েকটি যৌন সমস্যা দাম্পত্য জীবনের প্রেমকে পানসে করে দিতে পারে, আর সেগুলো হলো-

  • অকালে বীর্যস্খলন
  • যন্ত্রণাদায়ক যৌনতা
  • যৌনমিলনে ইচ্ছার অভাব
  • মিলন-ভীতি
  • অসুস্থতা ইত্যাদি।

অকাল বীর্যপাত যৌনজীবনকে বিষিয়ে তুলতে পারে। প্রায় দেখা যায় স্বামীর অকাল বীর্যপাতের ফলে স্ত্রী স্বামীর প্রতি প্রেম-প্রীতি হারিয়ে ফেলেন, সেখানে তৈরি হয় বিরক্তিবোধ ও অস্বস্তি। স্বামী যদি তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে সুখী করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি বা তার স্ত্রী কেউ যৌনসুখে সুখী হতে পারবে না। এতে করে দুজনার মধ্যে বিস্তার লাভ করবে হতাশা। আর হতাশা দুজনার মনে সৃষ্টি করবে জ্বালা-যন্ত্রণা, বিষণ্নতা।

অনেক পুরুষকেই দেখা যায় যৌন উত্তেজনায় পাগল হয়ে ওঠে। মনে হয় যেন কী থেকে কী করে ফেলবেন কিন্তু করতে তো কিছুই পারেন না। পরে অনুশোচনায় ও লজ্জায় ভেঙে পড়েন। দেখা যায় স্ত্রীর যোনিতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বীর্যপাত হয়ে যায়। এতে করে যৌনসুখ শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই এক্ষেত্রে স্বামীকে হতে হবে সজাগ, সতর্ক ও অভিজ্ঞ।

স্বামীকে মিলনের সময় ব্যস্ত হওয়া চলবে না, হতে হবে শান্ত, ধৈর্যশীল, ধীরে ধীরে Step by Step  যৌনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। এ সময় প্রচণ্ড উত্তেজিত না হয়ে বরং প্রিয়তমা স্ত্রীকে উত্তেজিত করতে হবে, স্ত্রীর উত্তেজনা জাগানোর কাজে নিজেকে নিয়োগ করতে হবে। স্ত্রীকে আদর, সোহাগ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে, চুমো দিয়ে তাকে জাগাতে হবে। যখন মিলনের সময় আসবে তখন ধীরে ধীরে গোপনাঙ্গ স্ত্রীর গোপনাঙ্গে প্রবেশ ঘটাতে হবে, মিলন শুরু করতে হবে ধীরগতিতে। যখনই বীর্যপাত হবে বলে মনে হবে তখনই কিছু সময়ের জন্য লিঙ্গ চালানো বন্ধ করতে হবে। এ অবস্থায় স্ত্রীকে চুমো দেয়া যেতে পারে, স্ত্রীকে সোহাগ করা যেতে পারে। এভাবে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর আবার লিঙ্গ চালনা শুরু করতে হবে। আবার শেষ মুহূর্তের আগে থেমে যেতে হবে, আবার শুরু করতে হবে-আর এটাকেই বলে ‘স্টপ স্টার্ট টেকনিক’। এ টেকনিক বেশ কিছু দিন ধরে নিয়মিতভাবে প্র্যাকটিস করতে থাকলে তা একসময় সুফল বয়ে নিয়ে আসবে এবং ইচ্ছামতো তখন যৌনসঙ্গমের সময়কাল কমবেশি করা যাবে। এতে করে স্বামীও হবে যৌনসুখে সুখী, স্ত্রীও পাবে সেক্সের মন মাতানো স্বাদ। আর এভাবে দুজনার মাঝে প্রেম তৈরি হবে, বজায় থাকবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে।

যৌনতায় অকাল বীর্যপাত ঠেকাতে স্বামী আরও কিছু পদ্ধতি চর্চা করতে পারেন, যেমন-চূড়ান্ত মুহূর্তে উপনীত হওয়ার সময় স্ত্রীকে বলবেন যে সে যেন তার আঙুল দিয়ে আপনার পুরুষাঙ্গকে চেপে ধরে। এতে করেও সফলতা আসে। তবে তা একদিনেই হবে না। এ পদ্ধতি ভালোভাবে জানার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করলে আরও ভালো হবে।

যাদের সহজেই বীর্যপাত হয়ে যায় তারা মিলনের সময় বিভিন্ন আসনে মিলন করতে পারেন। আসন পরিবর্তনও যৌনতার উৎকর্ষতা সৃষ্টি করে থাকে। তবে যাই হোক অন্তত একবার অভিজ্ঞ ডাক্তারের সুপরামর্শ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ডাক্তারের পরামর্শ দাম্পত্য জীবনের প্রেমকে মজবুত হতে সহায়তা করতে পারে।

যৌনমিলনে নারীর অসহ্য ব্যথা
যৌনমিলনে যেমন মন মাতানো সুখ আছে তেমনি কারও বেলায় তা আবার কষ্টের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। যেমন নারীদের কথাই ধরা যাক। কিছু কিছু নারী আছে যারা যৌনমিলনকালে ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠেন। তখন দেহমিলন তাদের কাছে হয়ে ওঠে যাতনার। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করানোর পর কিছু কিছু নারী তাদের যৌনাঙ্গে মিলনকালীন মাঝারি থেকে প্রচণ্ড মাত্রার ব্যথা অনুভব করে থাকে। সেক্স করতে সক্ষম এমন বয়সের যে কোনো নারীর বেলায় এ ঘটনাটি বা সমস্যাটি বারবার চক্রের মতো হতে পারে। নারীর এ সমস্যাটি শারীরিক বা মানসিক কারণে বা উভয় কারণে হতে পারে। সঙ্গমকালীন নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার ঝুঁকি যাদের বেশি তারা হলেন-

  • সামপ্রতিক শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত
  • মানসিক অসুস্থ
  • মনোশারীরিক চাপ
  • মদ্যপান
  • দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা বা ক্লান্তি ইত্যাদি। এ সমস্যায় দেহের যে অংশ জড়িত তা হলো-
  • যোনির মাংসপেশি
  • সতীচ্ছদ বা হাইমেন
  • জরায়ু বা ইউটেরাস
  • মস্তিষ্ক

মিলনকালীন যৌনাঙ্গে 
ব্যথার মানসিক কারণ

  • যৌনপুলকের ঘাটতি
  • যৌনসুখ ও শিহরণের অভাব
  • যৌনতা বা সেক্স সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অভাব
  • যৌনাঙ্গে আঘাত পাওয়ার প্রতি ভয় বা ফোবিয়া
  • গর্ভাবস্থায় যৌনমিলন
  • গর্ভবতী হওয়ার ভয়
  • শৈশবে যৌন অত্যাচারমূলক অভিজ্ঞতা বা সেক্সুয়াল অ্যাবিউস
  • সাইকোলজিক্যাল বা মেন্টালি আঘাত
  • সেক্স সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা
  • যোনি পিচ্ছিল না হওয়া বা যোনির শুষ্কতা অর্থাৎ মানসিকভাবে যৌনক্রিয়ায় পর্যাপ্ত উত্তেজনার অভাব বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারা
  • সঙ্গী বা সাথীর মাঝে কোনো ব্যাপারে বনিবনা বা ভুল বোঝাবুঝি অথবা প্রেম-ভালোবাসার অভাবেও এ সমস্যার উদ্ভব হতে পারে

মিলনকালীন যৌনাঙ্গে ব্যথার দৈহিক কারণ

  • জরায়ুতে টিউমার যেমন-ফাইব্রয়েড
  • নারীর ইউরেথ্রাতে সংক্রমণ
  • যোনির শুষ্কতা
  • যোনিতে ক্ষত/ইনফেকশন যেমন-হারপিস
  • যোনির সারভিক্স, ডিম্বনালি বা ফেলোপিয়ান টিউব অথবা গর্ভাশয়ে ইনফেকশন
  • শ্রোণিচক্রের বা পেলভিসের প্রদাহজনিত ব্যাধি
  • অপারেশন-পরবর্তী কোনো জটিলতায় যোনি দেয়ালে চাপ অনুভূতির কারণে
  • এন্ডোমেট্রিওসিস
  • সন্তান প্রসব-পরবর্তী যোনির অপারেশনের জটিলতা
  • হঠাৎ করে সতীচ্ছদ ছিন্ন হওয়া
  • নারীর যোনির পর্দা বা সতীচ্ছদ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মোটা হওয়া
  • মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির পরে যোনি দেয়াল শুষ্ক ও পাতলা হয়ে যাওয়া
  • জন্মনিরোধক ফোম, কনডম বা ডায়াফ্রাম অথবা জেলির কারণে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া

মিলনকালীন নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার লক্ষণ ও উপসর্গ

  • পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করাতে গেলে যোনিতে ব্যথা সৃষ্টি হয়
  • সঙ্গমকালীন যোনি অঞ্চলে দারুণ ব্যথা পাওয়া
  • যৌনতার বা সেক্সের বিভিন্ন ভঙ্গিতেও যোনি এরিয়ার ব্যথা-বেদনা হতে থাকা
  • যৌনমিলন বা সেক্স করার সময় সামান্য নড়াচড়াতেই ব্যথা তীব্র হয়ে যাওয়া
  • মিলনের সময় নারী যোনিতে Discomfort অনুভব করতে থাকে
  • যৌনমিলন নারীর কাছে ঘৃণা বা অতৃপ্তি অথবা যাতনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
  • নারী বিরক্ত হয়ে ওঠে
  • যৌনমিলনে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে, ফলে তার মাঝে তৈরি হয় Sen phobia
  • নারী স্বামীর সান্নিধ্য থেকে পালিয়ে বেড়ায় বা দূরে দূরে থাকে

জটিলতা

  • এ সমস্যায় নারীর আত্মসম্মানবোধ হ্রাস পায়
  • যৌন অনুভূতিবোধ বিকৃত হয়ে যায়
  • ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়
  • মানসিক সমস্যা দেখা দেয় (কোনো কোনো ক্ষেত্রে)

এ রোগে করণীয়
অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে রোগীর পুরো মেডিকেল ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ইনভেস্টিগেশন করাতে হবে। উপসর্গগুলোর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। প্যাপ স্মিয়ারসহ যোনির যে কোনো অ্যাবনরমাল ক্ষরণের কালচার টেস্ট করাতে হবে। আসল রোগ, আঘাত বা ইনজুরি অথবা যোনির গঠনগত ত্রুটি থাকলে সেগুলোর উপযুক্ত ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করাতে হবে। মানসিক কারণ দায়ী থাকলে
 Sen Education ও মনোবিশেষজ্ঞের কাউন্সিলিং বা সাইকোথেরাপির দরকার হবে। সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা ধারণা অর্জন করতে হবে এবং যৌনতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পরিহার করে ইতিবাচক ধারণা ও মনোভাব রোগীকে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথার চিকিৎসা

  • যোনির শুষ্কতা বেশি হলে পিচ্ছিলকারক K Y লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে
  • ইনফেকশন থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে
  • উষ্ণ গরম পানিতে প্রতিদিন ৩-৪ বার যোনি ধুতে হবে
  • যৌনাঙ্গ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • দুশ্চিন্তা বা টেনশনকে যথা সম্ভব এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়তে হবে। প্রয়োজনে সেক্সোলজিস্ট বা সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

যৌনবিকৃতি ও আচরণ
যৌনতার কোন আচরণটি স্বাভাবিক আর কোন আচরণটি অস্বাভাবিক তা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মতান্তর। যৌনতার আচরণ একেক দেশে একেক রকম। এক দেশে যা স্বাভাবিক অন্য দেশে তা অস্বাভাবিক। আবার এক দেশে যা অস্বাভাবিক অন্য দেশে তা স্বাভাবিক। যে যৌনতা স্বাভাবিকতার শেষ সীমানা অতিক্রম করে তা বিকৃত যৌনতা। বিকৃত যৌনতার কারণ-

  • স্বাভাবিক যৌনসঙ্গীর অভাব
  • প্রয়োজনীয় যৌনশিক্ষার অভাব
  • বিকৃত ও অস্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ
  • স্বাভাবিক ও যৌন আচরণের দীর্ঘমেয়াদি অভাব, বঞ্চনা
  • বিকৃত ও স্বাভাবিক যৌন আচরণের পার্থক্যকরণে অসামর্থ্যতা
  • বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভীতিকর অভিজ্ঞতা
  • শৈশবকালীন যৌন আচরণের প্রত্যাবৃত্তি
  • শৈশবের অনাকাঙ্ক্ষিত ও তিক্ত যৌন অভিজ্ঞতা।

এবার যৌন বিকৃতিমূলক
কিছু যৌন আচরণ উল্লেখ করা হলো

  • পিপিংটম
  • ট্রান্সসেক্সুয়ালিটি
  • ট্রান্সভেসটিজম
  • শ্লীলতাহানি
  • এক্সবিশনিজম
  • হোমোসেক্সুয়ালিটি/সমকামিতা
  • ফেটিসিজম
  • পায়ুমেহন
  • বহুগামিতা
  • নিম্ফোম্যানিয়া
  • হস্তমৈথুন/মাস্টারবেশন
  • জেরেন্টোফিলিয়া ইত্যাদি

পিপিংটম
যে মানুষ অন্যের গোপন ব্যাপার বা যৌনক্রিয়া দেখার জন্য জানালা বা দরজার ফুটো দিয়ে উঁকি মেরে যৌনতা বা যৌনক্রিয়া বা নগ্ন শরীর দেখে বেড়ায় সেটা বোঝাতে পিপিংটম শব্দ ব্যবহার করা হয়। কেউ কেউ আবার জানালা বা ছাদে দাঁড়িয়ে দুরবিন দিয়ে অন্যের গোপন কাজগুলো অবলোকন করে মজা পায় তাও পিপিংটমের পর্যায়ে পড়ে। এ ধরনের বিকৃত যৌনচারীরা অন্যের যৌনাঙ্গ বা অন্যের যৌনমিলন/যৌনক্রিয়া দেখার জন্য ঘরের যে কোনো ফুটোয় চোখ রেখে আড়াল থেকে এ ধরনের দৃশ্য অবলোকন করে সেক্স উত্তেজনা অনুভব করে। কেউ কেউ এ সময় এ দৃশ্য দেখার পাশাপাশি হস্তমৈথুনও করে থাকে। এ ধরনের মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তি এ ধরনের অপকর্মে মজা পায়, তৃপ্তি পায়, উত্তেজিত হয়।

ট্রান্সসেক্সুয়ালিটি
এ ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যক্তির বিপরীত লিঙ্গে রূপান্তরিত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মে। কোনো কোনো লোককে দেখা যায় যে এ ধরনের বাসনায় সে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির মতো যৌন আচরণ করে বেড়ায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রয়োজনে আধুনিকতম হরমোন থেরাপি বা সার্জারি করেও বিপরীত লিঙ্গে রূপান্তরিত হয়ে যায়।

ট্রান্সভেসটিজম
বিপরীত লিঙ্গের পোশাক-পরিচ্ছদ বা অলংকার পরিধান করতে পছন্দ করে আবার বিপরীত লিঙ্গের মতো আচরণ ও পেশায় তাদের মতো হতে চেষ্টা করে। আধুনিক যুগের অনেক ফ্যাশনও এই ট্রান্সভেসটিজমের আওতায় পড়ে যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েদের বেলায়।

এক্সিবিশনিজম
এক্সিবিশনিজমের অর্থ দাঁড়ায় প্রদর্শন করা। এক্সিবিশনিজম বলতে বোঝায় যখন কোনো পুরুষ বা নারী অনেক লোকের সামনে তার যৌনাঙ্গ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে উন্মোচিত বা প্রদর্শন করে যৌন আনন্দ লাভ করে বা অন্যের যৌনাকর্ষণের চেষ্টা করে। এ ধরনের যৌন বিকৃতি অনেক সময় অনেক অঘটন ঘটাতে পারে। তাই এক্ষেত্রে পরিবারকে সজাগ হতে হবে।

হোমোসেক্সুয়ালিটি/লেসবিয়ানিজম
এটি হলো আরেক ধরনের যৌন বিকৃতি। এ ধরনের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা পৃথিবীতে অনেক! এ ধরনের যৌন বিকৃতিতে দুজন পুরুষ বা দুজন ছেলে অথবা দুজন মহিলা বা মেয়ের মধ্যে ঘটে থাকে যৌন ক্রিয়ামূলক আচরণ। এ ধরনের আচরণে দুজন ব্যক্তিরই সমান সম্মতি থাকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজনের নাও থাকতে পারে। যারা এ ধরনের বিকৃত যৌন আচরণে অভ্যস্ত বা আসক্ত হয়ে যায় তাদের আর বিপরীত লিঙ্গের কাউকে ভালো লাগে না বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সেক্স জাগে না এবং বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে বিয়ে করতেও রাজি হয় না। এ ধরনের সমকামী নারী বা পুরুষ তাদের অন্য ধরনের সেক্স ওয়ার্ল্ড তৈরি করে নেয় এবং সেটাতে তারা প্রায় সময়ই বিচরণ করে বেড়ায়।

পায়ুমেহন
এতে দুজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে পায়ুপথে যৌনমিলন হয়। বালকদের এ কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ উদ্দেশ্যে বালকদের পাচারও করা হয়ে থাকে। এ ধরনের যৌনাচার সাধারণত কারাবন্দি, মিলিটারি ব্যারাক, হোস্টেলে হয়ে থাকে। হিজড়াদের সাথেও এ ধরনেরপায়ু পথে যৌন কাজ করা হয়ে থাকে। যারা অনেক দিন যাবৎ নিজের পরিবার বা স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে তাদের মাঝেও কোনো কোনো সময় এ ধরনের যৌন বিকৃতি হতে দেখা যায়। এ ধরনের যৌন আচরণ মোটেও ঠিক নয়। তাই এ ধরনের আচরণে অভ্যস্ত হওয়া উচিত নয়।

যৌন বিকৃতি বা অস্বাভাবিকতা যে রকমভাবেই দেখা যাক না কেন তা একটি সুস্থ সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে পরিবার থেকে শুরু করে সবারই সজাগ হওয়া প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে একজন মনোবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

“May is Mental Health Month” আপনার জয় এবং পরাজয় পরিমাপক আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রাখুন

ভালো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ২২টি টিপস

দক্ষতা বাড়ানো এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য নিচে উল্লেখিত উপসর্গগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমি এটা একজন জ্ঞানী লোকের নিকট থেকে জেনেছি কিন্তু তার নাম আমি এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। এ উপায়গুলো আপনার ওপর কতটুকু প্রভাব ফেলছে তা বোঝার জন্য কিছু সময় ব্যয় করুন।

১.    কে দায়ী এবং কিসের জন্য দায়ী। আমার সীমানা অতিক্রমযোগ্য কিন্তু দৃঢ়। বেশিরভাগ সময় আমরা নিজেদের দোষারোপ করি, দায়ী না হয়েও কিন্তু অনেক সময় কোনো কাজের জন্য দায়ী হতে হয় আবার দায়ী হওয়া হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় তা স্বীকার করি না। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন ‘আসলে কে দায়ী?’ দেখুন আপনার মনোবল এবং শক্তি আপনাকে কী কাজ দিচ্ছে এবং এটি সঠিক কিনা?

২.    সতর্কতামূলক দুশ্চিন্তা পরিহার করুন এবং এটি ক্ষতিকারক হলে ত্যাগ করুন। আমরা দুশ্চিন্তা করে অনেক সময় নষ্ট করি যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। আপনি যদি আপনার দুশ্চিন্তাকে সতর্কতামূলক কাজে পরিণত করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেন তাহলে আপনি ভালো থাকবেন। আপনি যদি তা না পারেন তবে দুশ্চিন্তা ত্যাগ করুন এবং আপনার শক্তিকে কাজে পরিণত করুন। আপনি যদি সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা করেন তবে তা আপনাকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করবে। তাই আপনার কর্মক্ষমতাকে অন্য কাজে ব্যয় করুন।

৩.    আমাদের সবার জানা উচিত সূর্য যেমন পূর্ব দিকে ওঠে এবং পশ্চিমে অস্ত যায় ঠিক সেই নিয়মে আমাদের জীবনে মৃত্যুও অবধারিত। তাই আমাদের কাজের জন্য দ্রুত হাঁটা উচিত। আমরা যন্ত্রমানব নই, আমরা মানুষ। তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের লক্ষ স্থির রাখতে হবে এবং সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে, কর্মশক্তিকে যোগ্য কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু আমরা অনেকেই তা না করে উদ্দেশ্যহীনভাবে এগিয়ে যাই এবং চিন্তা করি অগোছালোভাবে। আমরা এখানে সেখানে দৌড়িয়ে অনেক সময় নষ্ট করি যা ফলপ্রসূ হয় না। একটু বেশি সময় নিন এবং ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে দেখুন আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না।

৪.    হগ প্রেথার বলেছেন ‘একটি পুরানো প্রবাদ আছে কোনো কিছু যদি আপনাকে নিঃশেষ করে তবে তা থেকে বেরিয়ে আসুন।’ মানসিক যন্ত্রণাশক্তিকে কাজে পরিণত করার পথে একটি বাণিস্বরূপ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। সমস্যাকে জীবন পরিবর্তনের চাবিকাঠি হিসেবে নিন। কষ্টের মুখোমুখি হোন। যদি আপনার জীবনে উন্নতি না হয় তবে ব্যবহার অথবা পরিস্থিতির পরিবর্তন করুন।

৫.    বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এক সপ্তাহে ১৬৮ ঘণ্টা থাকে। আমাদের কাছে এর বেশি বা কম সময় নেই। এটা আমাদের কাজের উৎস। যদি আপনি সময়মতো চলতে পারেন আপনার জীবনও সময়মতো চলবে। কিন্তু আপনি যদি সময় অপচয় করেন আপনার জীবনেরও অপচয় ঘটবে। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

৬.    পছন্দের বা শখের কথা ভাবুন। এটি আপনাকে মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। আমাদের প্রত্যেকের শখের বিষয় রয়েছে। আমাদের সাথে যা ঘটে তার ওপর বেশিরভাগ সময় আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু আমরা সেই সময়ে সেই কাজের প্রতি যত্নশীল থাকি এবং এটা আমরা স্বেচ্ছায় করতে পারি। শখ এবং অনুভবের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের নিজেদের প্রতি নিয়ন্ত্রণের একটা নির্দিষ্ট ও আশানুরূপ মাত্রা রয়েছে। তাই শখের প্রতি বা পছন্দের কাজের প্রতি গুরুত্ব দিন।

৭.    মানসিক যুক্তিগুলো অভ্যাস করুন। সত্য এবং অবিঘ্নিত কাজের মধ্যে খুব অল্পই দূরত্ব রয়েছে। অধিকাংশ সময় আমরা অঙ্কের জ্যামিতির মতোই সরাসরি না বলে কিছু কথা ঘুরিয়ে বলে থাকি। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি অভ্যাস করা প্রয়োজন। আমরা অধিকাংশ সময়ই এটি করে থাকি এবং এটি আমাদের মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন।

৮.    সহজ উপায়ে কাজ করুন। এই ছোট বাক্যটি এ কথাই মনে করে দেয় যে, অনেক সময় আমরা কাজ কঠিনভাবে করি যা আমরা সহজভাবেও করতে পারতাম। তাই পরবর্তী সময়ে আমাদের জীবনে চলার পথে মনে রাখব কঠিনভাবে কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে সহজভাবে করব।

৯.    শুধু কাজ করার চেয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করা ভালো। কোনো ব্যক্তির সাথে কাজের ব্যাপারে দ্বন্দ্ব থাকলে আন্তরিকভাবে কাজ করুন, শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনের কথা না ভেবে। আন্তরিক মুখোমুখি বা সম্ভাষণ আপনার সমস্যাকে মিটিয়ে দেবে এবং দুইপক্ষই ভালো অনুভব করবেন। প্রায় সব সময়ই শুধু কাজ করার ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন লাভ করে এবং অন্যজন লোকসান করে। তাই এক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে তৈরি হয় লোকসানের ভয়, লাভের তীব্রতা এবং রাগ ও হতাশার ক্ষেত্র। এই অনুভূতিগুলো ক্ষতিকর। তাই ভাবুন কীভাবে আপনি শুধু জেতার কথা না ভেবে দুপক্ষের কথা আন্তরিকভাবে চিন্তা করে কাজটি সমাধা করতে পারেন।

১০.    নিজেদের প্রতি সতর্ক থাকুন কিন্তু সচেতন নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি চেষ্টাই হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। এটা সিদ্ধান্ত নিতে এবং নিজের অনুভূতিকে বিশ্বাস করার জন্য সহায়ক। আত্মসচেতনতা অনেক সময় অন্যরা কী ভাবল তার প্রতি গুরুত্ব দিতে শেখায়। যারা আত্মসচেতন তারা সিদ্ধান্ত নিতে এবং কাজে পদক্ষেপ নিতে দুশ্চিন্তায় ভোগে। তারা অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধে বেশি ভোগে। অন্যদিকে আত্মসতর্কতা কাজ করার ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ও দুশ্চিন্তাহীন মানসিকতার পরিচয় দেয়।

১১.    ভুল হলে খারাপবোধ করুন কিন্তু অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধে ভুগবেন না। এটা পূর্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যখন আপনি খারাপবোধ করবেন তখন ভালো থাকার চেষ্টা করুন। এটা নিজেকে নিয়ন্ত্রণের একটা ভালো পদ্ধতি। অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধের জন্য বাহ্যিক কারণ থাকে। যখন আপনি অপরাধবোধ করবেন তখন আপনি চিরকালের জন্য অপরাধী হয়ে যাবেন। লজ্জা আপনার আত্মোপলব্ধিকে নষ্ট করবে। আপনি খারাপবোধ করতে পারেন এবং গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। যথাযথ ব্যবহার করুন এবং দেখুন এটা আপনাকে ভালো রাখতে সাহায্য করছে কি না।

১২.    অন্যের মন-মানসিকতার কথা চিন্তা করুন। পরার্থবাদিতা এমনই ব্যবহার যা আপনি অন্যের জন্য যেমন করবেন তা নিজের জন্যও সেই মানসিকতা নিয়েই করবেন। আত্মসতর্কতা, আত্মসম্মানবোধ, আত্মদায়িত্ববোধ এবং আত্মজ্ঞান পরার্থবাদিতার ভিত্তি যেমন টেবিলের পায়ার বা ভালোবাসার মতো। যখন আপনি নিজের জন্য কাজ করবেন তখন আপনি অন্যের জন্য, পৃথিবীর জন্য অবদান রাখতে পারবেন। আমরা তখনই অন্যের জন্য কাজ করতে পারি যখন আমরা নিজে ভালো থাকি এবং নিজের যত্ন নিতে শিখি। আপনার কাছে কিছু না থাকলে আপনি অন্যকে কিছুই দিতে পারবেন না।

১৩.    সাময়িকভাবে নিজেকে থামান। এইচ (H) হচ্ছে ক্ষুধার প্রতিচ্ছবি। আপনি আপনার জীবনে কোন বিষয়টির জন্য ক্ষুধার্ত। এ (A)বসবে রাগের জন্য। এটা আমাদের অনেক সময় এবং শক্তি নষ্ট করে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করার উপায় বের করুন। এল (L) বসবে একাকীত্বের জন্য। অন্য মানুষের সাথে আপনি কী রকম সম্পর্কযুক্ত, আমরা জানি মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য নির্ভর করার মতো বন্ধুর প্রয়োজন। আপনি কি আপনার অনুভূতি ভাগ করার মতো লোক বা বন্ধুর জন্য সময় ব্যয় করছেন? টি (T) বসবে ক্লান্তির জন্য। কী এবং কে আপনাকে ক্লান্ত করছে? আপনার ক্লান্তি দূর করার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত ওই সময়ে? যখন আপনি এই (HALT) পদ্ধতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, আপনি আপনার সামর্থ্যের সর্বাধিক কাজ করতে পারবেন।

১৪.    সত্যিকার দৃঢ় সম্পর্ক আপনার নিজের সাথে গড়ে তুলুন। অন্তত একজন ব্যক্তির সাথে হলেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলুন। ঘনিষ্ঠতা মানুষের অভিজ্ঞতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময় নিয়ে ভাবুন আপনার নিজের প্রতি আপনি কতটা দায়িত্বশীল। অস্বীকার করা বা নিজেকে বঞ্চিত করা ইজিপ্টের নদীর মতো কোনো নদী নয়। প্রত্যেকটা জিনিসকে পরিষ্কার করে দেখা এবং গ্রহণ করার মতো মানসিক প্রস্তুতি থাকা এবং শেখা উচিত, তবেই আমরা পৃথিবীতে শান্তিতে বসবাস করতে পারব। আমরা নিজেরা নিজেদের দেখি কখনো সাধারণ আবার কখনো অসাধারণভাবে। আমাদের মধ্যে অন্তত একজন মানুষ থাকা উচিত, যে আপনাকে পরিপূর্ণভাবে চিনবে। সেই রকম বিষয় এবং মানুষ চেনার জন্য এবং নিজেকে সেরকম তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং ব্যবস্থা নিন।

১৫.    সবচেয়ে ভালো কাজ করার চেয়ে যতটুকু পারেন ততটুকু করার চেষ্টা করুন। যখন আপনি আপনার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন তখন আপনার দুটো চোখই থাকবে কাজের প্রতি অর্থাৎ সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে কাজের প্রতি। কিন্তু আপনি যখন সবচেয়ে ভালো করার চেষ্টা করেন তখন আপনার একটি চোখ থাকবে মানের দিকে অন্যটি থাকবে কাজের প্রতি। যখন আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকে কাজের প্রতি তখন কে কী ভাবল তা যদি না ভেবে থাকেন তবে কাজ ভালো হবে। আসলে আমরা প্রতি মুহূর্তে নিজের সাধ্যকে অতিক্রম করি। বাস্তবে আমরা যখন নিজের সাধ্যমতো কাজ করার চিন্তা করি, তখন দিনদিন কাজ সন্তোষজনক হতে থাকবে। এভাবে আমাদের কাজ প্রতিদিন এক ধাপ করে উন্নত হতে থাকবে। তাই চেষ্টা করুন নিজের সাধ্যমতো কাজ করতে। সব সময় মনে রাখবেন আপনি আপনার চারপাশের অবস্থাকে কখনই অতিক্রম করতে পারবেন না।

১৬.    রেলস্টেশন অতিক্রম করার নিয়ম যেমন সে অনুযায়ী জীবনে চলার চেষ্টা করুন। মনে করুন এবং স্মরণ করুন আমরা রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় কী করি-থামুন, দেখুন, শুনুন এবং সতর্কতার সাথে সামনে অগ্রসর হোন। যখন আমরা কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে যাই চিন্তা করুন যা আমরা করছি তা যদি বন্ধ করে দিই তাহলে কী হবে, অন্যজনের প্রতি মনোযোগ দিলে কী হবে, তারা কী বলতে চায় তা শোনা বা বোঝার চেষ্টা করুন এবং যখন আপনার কথা বলার সুযোগ আসবে আপনি বলুন কী বলতে চান এবং সতর্কতার সাথে এগিয়ে যান। সম্পর্ক গড়া তখন অনেক নিরাপদ এবং উষ্ণ হবে।

১৭.    ভুল স্বীকার করার মতো সাহসী হোন। আমাদের সবারই অনেকের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। আমরা সবাই কমবেশি ভুল করে থাকি এবং সমালোচনার ভয়ে তা অস্বীকার করি। প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক বলেছিলেন আমরা দোষ বা ভুলকে গোপন করার জন্য যে সময় ব্যয় করি তা না করে যদি ভুলকে স্বীকার করে তা সংশোধন করার জন্য সময় ব্যয় করি তবে আমরা সফল হবো এবং আমাদের মধ্যে মানবিকতা গড়ে উঠবে।

১৮.    আপনার জয় এবং পরাজয় পরিমাপক আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রাখুন। আমাদের মন সব সময়ই আশপাশের পরিবেশকে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে এবং ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা চিন্তা করে আমরা বেশিরভাগ সময় নেতিবাচক দিক নিয়ে বেশি ভাবি। প্রত্যেকদিন কিছু ভালো সংবাদ থেকে আনন্দ পেতে শিখুন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় থেকে আনন্দ পেতে শিখুন। এক সমীক্ষণে দেখা যায় যারা এ অভ্যাসটি রপ্ত করতে পারেন তারা ভালো থাকেন এবং অধিক মনোবল পান।

১৯.    দুটি অভ্যাস গড়ে তুলুন। এক. তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভাববেন না। দুই. সব কিছুই তুচ্ছ বিষয়। আমরা আমাদের জীবনে এক বিরাট অংশ ব্যয় করি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে যা আমরা এক সময় ভুলে যাই। তাই কিছুক্ষণ বসুন এবং চিন্তা করুন কোনটি আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কোনটি নয়।

২০.    আমরা প্রায় কোনো কিছু সম্পন্ন করার জন্য বা কোনো কাজকে সফল করার জন্য কাজ করি। মানুষের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে খেলার জন্য সময় ব্যয় করার প্রয়োজন হয়। যখন আমরা খেলা করি আমাদের মস্তিষ্ক সকল প্রকার চিন্তামুক্ত থাকে। এটা নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ভালো উপায়। সপ্তাহের যে কোনো দিন এমন কাজে ব্যস্ত থাকা ভালো যা আপনাকে আনন্দ দেবে। এটা একা হতে পারে কিংবা অন্য কারো সাথে, ঘরে বা বাইরের কারো সাথে। এটা শারীরিক খেলা বা শখ হতে পারে। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত এই বিষয়ে কিছু সময় ব্যয় করার জন্য।

২১.    অন্য মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা মানুষের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন মানুষের সংস্পর্শে থাকার অভিজ্ঞতা। উষ্ণ অভ্যর্থনা মানুষের সাথে মানুষের মিলনকে সুন্দর করে তোলে। তাই মানুষের সাথে আপনার সম্পর্ককে প্রাণবন্ত করে তুলুন।

২২.    আপনার চোখে অধিক ক্ষমতাবানের প্রতি বিশ্বাস রাখুন। সমীক্ষণে দেখা গেছে যারা ঈশ্বর বা আল্লাহ বা ধর্মের প্রতি অনুগত তারা বিপদের সময় তা কাটিয়ে উঠতে দৃঢ় মনোবল পান। তাই শত কাজের ভিড়েও সকল ক্ষমতার যিনি উৎস তাঁর প্রতি কিছু সময় ব্যয় করুন।

অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক সাইকিয়াট্রিঃ দি রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড
 
সার্জনস অব দি ইউএসএ

Mental Health America is proud to continue its tradition of celebrating “May is Mental Health Month,” which began in 1949 to raise awareness of mental health conditions and mental wellness for all.

This year, we are addressing these important issues through two themes:

Do More for 1 in 4 is a call to action to help the 1 in 4 American adults who live with a diagnosable, treatable mental health condition and the fact that they can go on to live full and productive lives. Download the Do More For 1in4 Toolkit.

The second theme, Healing Trauma’s Invisible Wounds, focuses on the impact of traumatic events on individuals and communities.  It centers around asking the person-based question: “What happened to you?” Download the Healing Trauma’s Invisible Wounds Toolkit.

 
 

জীবন আর সুখ দুটি শব্দই তো গভীর সমুদ্রের মতো বিশাল একটা কিছু

সুখ ভাবনা

সাগর চৌধুরী

‘আমি কি সুখী’?-প্রশ্নটি জীবনচলার পথে প্রায়ই আমাদের মনে উঁকি দেয়। ব্যস্ত জীবনে ব্যস্ত মনে এর উত্তর কি কখনো কেউ খুঁজে পেয়েছে? পাবেই বা কী করে? প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর তো সরল অঙ্কের মতো এক এবং অভিন্ন নয়। আর উত্তর খুঁজে পাওয়ার মতো আমাদের অবসরটাই বা কোথায়? সবাই তো জীবনযুদ্ধের সম্মুখ সেনা। এতটুকু বিশ্রাম নেয়ার সময় কারো নেই। আর এ যুদ্ধ তো আমরণ। মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি যেন এক যুদ্ধে অবতীর্ণ। মায়ের পেটের অভ্যন্তরেই তো ছিল সুখ, ছিল শান্তি আর ছিল নিরাপত্তা। জন্মলাভের শুরুতেই কান্নার শিঙা বাজিয়ে আমরা যুদ্ধ শুরু করি। প্রথমে যুদ্ধ হয় নতুন এক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার, তারপর বেড়ে ওঠার। যুদ্ধের প্রতিটি ধাপ কতই না কঠিন! তবু পেরিয়ে যেতে হয় একের পর এক সব বাধা, সব বিপত্তি।
সেদিনের শিশু যখন তার শিশুত্ব শেষ করে তাকায় কৈশোরের দিকে, তখন সে ভাবে কৈশোরেই বুঝি তার সব সুখ। এরপর সময় পেরিয়ে সে যখন কৈশোরে পা রাখে, তখনো যুদ্ধ শেষ হয় না। তাকে আরো জানতে হবে, শিখতে হবে, বেড়ে উঠতে হবে। যৌবনকে কাছে পেতে তার কতই না চেষ্টা, কতই না যুদ্ধ। সময় যেন যেতেই চায় না। একদিন সে হাজির হয় যৌবনের দোরগোড়ায়। সাহসী সৈনিকের মতো খড়গ উঁচিয়ে এগিয়ে চলে নতুন উদ্যমে। জয় করতে চায় সব বাধা, বিপত্তি ও চ্যালেঞ্জকে। শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যুদ্ধ। নিজ পায়ে দাঁড়ানোর যুদ্ধ।
 
সময়ে সময়ে ক্লান্ত মনে তাকিয়ে থাকে সে সামনের পানে। ওই তো সীমান্ত, যেখানে তার দৌড় শেষ হবে। কিন্তু জীবন দৌড় তো আর ম্যারাথন দৌড় নয় যে, ২৭ মাইল পরেই লাল ফিতা ছুঁয়ে সমাপ্ত হবে সব। এ যে অনন্তকালের দৌড়। এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় সে নিজেকে আবিষ্কার করে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে। চারদিকে তাকিয়ে বীরের মতো হুংকার করে ওঠে সে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে মনে করে সে। কিন্তু সামনে তাকিয়ে কিছুটা হতাশ হয়, তাকে তো আরো এগোতে হবে, অনেকটাই। আবারো শুরু হয় জীবন-দৌড়। এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে নিজের অজান্তেই এক সময় সে হাজির হয় লাল ফিতার অনেকটা কাছাকাছি। পেছন ফিরে তাকিয়ে সে দেখে ফেলে আসা পথটিকে, স্মৃতির পাতায়। সত্যিই কি সে প্রৌঢ়ত্বে এসে গেছে! এবার সে আবারো হতাশ হয়। মন মানতে চায় না। ফিরে যেতে ইচ্ছা করে যৌবনে, কৈশোরে এবং শৈশবে। কিন্তু তা কী করে হয়! লাল ফিতা তো এখনো ছোঁয়া হয়নি। তাই অনেক কষ্টে এগোতে হয় তাকে জীবনটাকে সঙ্গে নিয়ে। এবার সে বড়ই ক্লান্ত। দীর্ঘ দৌড়ের পর তার নানা অসুবিধা। ভাঙা গাড়ির মতো এগিয়ে চলা। তবু চলছে এটাই সান্ত্বনা। একেবারে থেমে যেতেও কেন জানি ভয় হয়। তাই দৌড়ের কোনো বিকল্প খুঁজে পায় না সে। এ দৌড় যেন থামছে না। মাঝে মাঝে আবারো সেই প্রশ্ন- আমি কি সুখী? বাকি সব সাথীর অনেক সুখী মনে হয়। মনে হয় কত সুখেই, কত স্বাচ্ছন্দ্যেই ওরা দৌড়ে চলেছে। তবে আমি এত ক্লান্ত কেন? আমি কি তবে অসুখী? এবারে অঙ্কের মতো কোনো উত্তর খোঁজা যাবে না।

তবু উত্তরটা কেন যেন স্বচ্ছ মনে হচ্ছে না। স্বচ্ছ মনে হবেই বা কেন? জীবন আর সুখ দুটি শব্দই তো গভীর সমুদ্রের মতো বিশাল একটা কিছু। আর সুখ জিনিসটা মাপার কোনো যন্ত্র তো আজও আবিষ্কার হয়নি, হয়তো হবেও না কোনো দিন। পুরো জিনিসটাই তো মনের ব্যাপার। আর মানুষের মন তো অদ্ভুত একটা জিনিস। পারিপার্শ্বিকতা, পরিস্থিতি আর সময়ের সঙ্গে তার নানারূপ। তাই চিরন্তন সুখ আর চিরন্তন সুখী বলে কোনো জিনিসকে খোঁজা ঠিক হবে না। কখনো তাই নিজেকে খুব সুখী মনে হলেই দেখা যায় এমন এক ঘটনা বা এমন এক পরিস্থিতির উদ্ভব হলো যে, সেই একই মানুষ আবার নিজেকে সুখের বাইরে আবিষ্কার করল। সুখ আর দুঃখ তাই যেন একই পথের দুটি পাশ। সমান্তরালেই তাদের এগিয়ে চলা। পৃথিবীতে দুঃখ না থাকলে হয়তো সুখের তৃপ্তিটা আমরা কেউ উপলব্ধি করতে পারতাম না। সেই হিসেবে দুঃখের গুরুত্বও কম নয়। এ যেন আলো আর অন্ধকারের খেলা। আলোর গুরুত্ব অন্ধকারেই আর অন্ধকারের গুরুত্বও আলোতেই।

সুখ আর দুঃখের গুরুত্ব যা-ই হোক না কেন, মানুষ মাত্রেই সুখের অন্বেষণে ব্যস্ত। আর এই ব্যস্ততার মধ্যে সুখ সম্পর্কে নিজের ধারণা স্বচ্ছ না হলে সুখের কাছে যাওয়া কি সম্ভব? ব্যক্তিজীবনে আমরা সবাই হন্যে হয়ে সুখকে কাছে পেতে চাই। তবে অস্বচ্ছ ও আপেক্ষিক এবং মনসম্পর্কিত এই সুখ সম্পর্কে আপাত স্বচ্ছ একটা ধারণা বোধহয় আমাদের থাকা দরকার। তা না হলে সুখের পেছনে দৌড়ানোটা বোধহয় অরণ্যে রোদনের মতোই ব্যাপার হবে। অনেক দিন হলো আমি নিজের মধ্যে সুখের এক সংজ্ঞা খুঁজে পেয়েছি। যা দিয়ে আমার কিছুটা কাজ হয়েছে। নিজেকে এখন আর তেমন দুঃখী মনে হয় না। তিনটি প্রশ্নের উত্তরে আমি সুখী কি না তা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

এক. আমি যা খাচ্ছি তার সঠিক স্বাদ কি আমি পাচ্ছি? উত্তর যদি হয় হ্যাঁ, তবে নিজেকে সুখী ভাবতে হবে। ভেবে দেখুন তো সেই সব মানুষের কথা, যাদের মুখের স্বাদ সৃষ্টিকর্তা তুলে নিয়েছেন। তাদের থেকে আপনি কি অনেক বেশি সুখী নন?

দুই. আপনি যখন ঘুমাতে চান, তখন কি ঘুমাতে পারেন? হ্যাঁ হলে অবশ্যই আপনি সুখী। ক্লান্ত শরীর ও মন নিয়ে বিছানায় শুয়ে প্রহর গুনছেন। কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। শুধু ছটফট করছেন। আর বিনিদ্র রজনী পার করছেন। তখনই বুঝবেন ঘুমের গুরুত্ব। ঘুম যেন পৃথিবীতে স্বর্গসুখেরই এক স্বাদ। তাই ঠিকমতো ঘুমাতে পারলে পরের দিনটি হয় নির্মল, কর্মক্ষমতা থাকে প্রখর এবং মন ও মেজাজ থাকে ভালো। তাই তো সঠিকভাবে ঘুমাতে পারাটা সুখেরই বিষয়।

তিন. পৃথিবীতে সত্যিকার বন্ধু হিসেবে আপনার কি একজন কেউ আছে? হতে পারে সে আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন বা স্বামী-স্ত্রী বা অন্য কেউ। যার কাছে আপনি আপনার দুঃখ অকপটে আর নিঃসংকোচে প্রকাশ করতে পারেন। যদি সংখ্যায় একজনও কেউ থাকে এমন বন্ধু, তাহলে আপনি সুখী ভাবতে পারেন নিজেকে। আর এই তিন প্রশ্নের প্রতিটিই যদি আপনার উত্তর হয় হ্যাঁ, হ্যাঁ এবং হ্যাঁ, তাহলে সত্যিই আপনি সুখী। তবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে কেউ কেউ সন্দিহান হতে পারেন। আর হওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। বন্ধু অনেকেরই একের অধিক হতে পারে। কিন্তু দেখা যাবে কারোর সঙ্গেই মনের দুঃখ সবটুকু শেয়ার করা যাচ্ছে না। আবার মানুষের কিছু কথা থাকে যা সে কারোর সঙ্গেই ঠিকমতো শেয়ার করতে পারে না বা করতে চায় না।

নিতান্তই গোপনীয় কিছু ব্যাপার। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু বা বন্ধুত্বের পরিবর্তনও ঘটতে পারে। আজ যাকে সবচেয়ে প্রিয় বা বিশ্বস্ত বন্ধু ভাবা হচ্ছে, সে-ই হয়তো কিছুদিন পর প্রিয় বন্ধু নাও থাকতে পারে। মনের মিল বা বন্ধুত্ব ঘটতে সময় বেশি লাগলেও বন্ধুত্বে বা মনের  অমিল ঘটতে কিন্তু দেখা যায় বেশি সময় লাগে না। সে যা-ই হোক, বন্ধু বিনে মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষ সুখী হতে পারে না। শুধু মানুষ কেন, একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে পৃথিবীর সব প্রাণীই বন্ধুবৎসল। একই খাঁচায় বন্দি দুই হিংস্র প্রাণীর মধ্যেও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। হয়তো বা বেঁচে থাকার তাগিদেই। আর মানুষ তো সামাজিক জীব। মানুষ বন্ধু ছাড়া বাঁচবে কী করে! সুখ তো আরো পরের কথা। লক্ষ করলে দেখা যায়, উপরের তিনটি প্রশ্নের সঙ্গেই মানসিক ব্যাপারটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

মনই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। গাড়ির গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে যেমন স্টিয়ারিং হুইলের গুরুত্ব, মনও তেমনি মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই আমরা যদি আমাদের নিজ নিজ মনকে সঠিক পথে চালনা করতে পারি, তাহলে হয়তো বা দুঃখের বোঝাভার কমিয়ে আমরা সুখের কাছাকাছি থাকতে পারব। না পাওয়ার দুঃখ ভুলে আমরা যা পেয়েছি, যদি সেই সুখে মত্ত থাকি তাহলে সবাই আমরা বেশি বেশি সুখী হতে পারতাম।

আমাদের একটা বড় দোষ অন্যের সুখকে বড় করে দেখা। অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে যাওয়ায় আমাদের গলতি রয়েছে। তুলনা করা ভালো তবে তার দিক সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। একটা কথা আছে, ‘তুমি তোমার নিচের দিকে তাকাও।’ নিচে তাকাতে শিখলে আমরা বুঝব কত উপরে আমরা দাঁড়িয়ে আছি অথচ এই দৃষ্টিই যদি একবার ঊর্ধ্বমুখী করে ফেলি, তাহলে না পাওয়ার দুঃখ আমাদের ধীরে ধীরে ছেয়ে ফেলবে। তাই আমাদের সব অর্জনকেই বড় করে দেখতে হবে। সব ব্যর্থতা আর না পাওয়াকে গৌণ ভেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সুখ, দুঃখ, পাওয়া আর না-পাওয়ার কোনো বিষয় নয়-এটা ধনী-গরিবেরও কোনো বিষয় নয়। প্রকৃত বিষয়টিই হচ্ছে মানসিক। পাওয়ার আনন্দকে বড় করে দেখা, আর না-পাওয়ার বেদনাকে উপশম, মন ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই মনই সুখের কেন্দ্রস্থল বা রুট।

সেই রুটের সঠিক পরিচর্যায় আমাদের যত্নশীল হতে হবে। এই পরিচর্যার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষার। শিক্ষা বলতে এখানে শুধু পুঁথিগত শিক্ষার কথা বলছি না। শিখতে হবে আমাদের প্রকৃতি, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে। মনে রাখতে হবে, আমরা সবাই একটাই জীবন পেয়েছি। আর যে সময় আমরা প্রতিটি মুহূর্তে পার করছি তা আমাদের জীবনে আর কখনো ফিরে আসবে না। তাই নিজেকে সুখী করার, সুখী ভাবার জন্য এখনই কাজ করতে হবে। বেশি কিছু পাওয়ার আশায় বর্তমানকে আমরা যেন অবহেলা করে কাটিয়ে না দিই। অতীত তো গেছেই। তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মধ্যে বর্তমানই যেন একমাত্র সম্বল। তাই উচিত হবে অতীতের দুঃখকে বড় করে না দেখা, আর ভবিষ্যতের সুখের জন্য সুন্দর বর্তমানকে পুরোপুরি জলাঞ্জলি না দেয়া। সময়কে সঙ্গে নিয়ে চলুন, মনকে সঠিক নিয়ন্ত্রণ করুন, দেখবেন জীবনটা অর্থবহ মনে হবে। নিজেকে অনেক সুখী মনে হবে।

রোমান্সে ভেসে যাওয়ার একগাদা টিপস্‌

রোমান্সে ভেসে যাওয়ার একগাদা টিপস্‌

তামিম আবদুল্লাহ

আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদ দিনে…
ড্রয়িং রুম, বুক সেলফ, ওয়ারড্রব কিংবা গ্যারেজ সাফসুতরো করতে পারেন। এসব কাজ করা কোনো ব্যাপার নয় যদি দুজন একসঙ্গে করা যায়। এক্সারসাইজ করতে পারেন। চলে যান কোনো সুইমিং ক্লাবে সাঁতার কাটতে কিংবা স্রেফ বৃষ্টিতে হাঁটাহাঁটি করেও উপভোগ করতে পারেন সময়। ম্যারাথন মুভি দেখতে বসে যান। আশপাশের ভিডিও শপ থেকে একগাদা মুভি আনুন, সেই সঙ্গে খাবার-দাবার। সারাটা দিন মুভি ক্রিটিক হিসেবেই কাটিয়ে দিন।

কোনো একটা আর্ট গ্যালারি ঘুরে আসুন। আপনার এলাকায় বা এর আশপাশে হচ্ছে এমন কোনো একজিবিশন ঘুরে দেখুন দুজন।

সময়কে পিছিয়ে নিন, ঘুরে আসুন মিউজিয়ামে। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা আছে যেগুলো কেবল দর্শনীয় হিসেবেই খ্যাত নয় বরং সেখানে ঘুরে কিছু শেখাও সম্ভব।

দুজনের স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটাতে পারেন। অনলাইনে মেমোরি টেস্টের বিভিন্ন প্রোগ্রাম থেকে। দিনজুড়ে দুজন দুজনার মনে রাখার ক্ষমতা যাচাই করতে পারেন।

নিজেদের আবিষ্কার করুন। বইয়ের দোকান কিংবা ইন্টারনেটে আজকাল অনেক ধরনের পারসোনাল প্রোফাইল টুলস পাওয়া যায় যেগুলো আপনাদের ব্যক্তিত্বের ধরন, আপনাদের আইকিউ অথবা আপনাদের রিলেশনশিপ স্টাইল খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

কিছু তৈরি করতে পারেন। হতে পারে একটা টি-টেবিল, কোনো সেলফ, পটারি ডিশ, ফ্লাওয়ার ভাস, চেহারার ভাস্কর্য, ক্যান্ডল ইত্যাদি। ক্রাফট শপে গেলে এ ধরনের শত শত আইডিয়া পাবেন।

ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা দেখে আসতে পারেন, যদিও খেলাধুলা খুব একটা ধাতে সয় না আপনার তবু পরিবেশের একটা প্রভাব তো আছেই। যাওয়ার আগে পত্রিকার পাতায় ফিকশ্চার লিস্ট দেখে নিন।

সন্ধ্যাটা নিজেদের ব্যাপক পছন্দের আইটেম দিয়ে সাজান। টিভি প্রোগ্রামের তালিকায় চোখ বুলিয়ে নিন আর বিনোদনে ভরপুর একটা রাত তৈরি করুন।
মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুঁটি…
দুজন মিলে হাঁটতে বেরুতে পারেন যে কোনো জায়গায়। হাইকিংয়ে বের হতে পারেন। হাইকিং হলো পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ। আশপাশে কোনো পাহাড়ি পথ থাকলে দুজনে হাঁটা ধরুন, দেখুন ক্লান্ত হয়ে কে আগে বসে পড়ে।

অভ্যাস থাকলে সাইকেল রাইডিংয়েও বেরিয়ে পড়তে পারেন দুজনে। হাঁটার মতো সাইকেলও এনার্জেটিক ও চমৎকার। হাঁটা বা সাইকেল দুই ক্ষেত্রেই মানসিক চাঙ্গা ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আপনার স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে।

বোট ভাড়া করতে পারেন। নৌকা বাইতে বাইতে নদী বা লেকের এলোমেলো হাওয়ায় চুল উড়িয়ে একটা রোমান্টিক নৌকা ভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন। পার্কে ঘুরে আসুন। দোলনায় দোল খেয়ে সময় কাটাতে পারেন বা খেলতে পারেন টেনিস।

রিকশা করে ঘুরতে অনেকেরই পছন্দ। লম্বা খোলা রাস্তায় ঘণ্টা চুক্তিতে রিকশা ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন অজানার উদ্দেশে।
গ্রামের বাড়িতে বেড়িয়ে আসুন। আপনার নিজের মায়ার বাঁধনে বাঁধা নিড়ে ফিরে কিছুটা প্রেরণা নিয়ে আসুন নিজের মধ্যে।

নিজেদের পশুসুলভ প্রবৃত্তিকে মেনে নিয়েই ঘুরে আসুন চিড়িয়াখানা বা কোনো বড় ফার্ম হাউসে। পার্কের এদিক-ওদিক ঘোরার সময় রিলাক্স থাকুন। আর মাকড়সা কিংবা সাপকে যদি আপনি অপছন্দ করেন তবে বানরের খাঁচার কাছে গিয়েও কাটাতে পারেন সময়।

পিকনিকের কথা ভুলবেন না। ওপরের আইডিয়াগুলোকে আরো আনন্দদায়ক করে তুলতে সঙ্গে মজার মজার খাবার নিতে ভুলবেন না কিন্তু।
সপ্তাহ শেষ, কী করা যায়

নিজের শহর থেকে বের হয়ে ঘুরে আসতে পারেন আশপাশের কোনো শহর বা গ্রামাঞ্চলে।

বেড়িয়ে আসতে পারেন আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের বাসায়। ভিন্ন অঞ্চলের মানুষজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। তারা যদি রাতে আপনাদের থাকার ব্যবস্থা না করতে পারে সে ক্ষেত্রে নিজেদের থাকা আর সকালের ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা নিজেরাই করুন।

কোনো হেলথ ক্লাবে নিজেদের পুরো সময়টা ব্যয় করতে পারেন।
আপনাদের বাসার যে কোনো একটি রুম বেছে নিয়ে সেটিকে ঢেলে সাজাতে পারেন।
পুরো বাসাটাকে একেবারে ঝেড়েমুছে ফেলুন কিংবা বাগানটিকে নতুন কোনো শেপ দিতে পারেন।

বাচ্চারা এখন বিছানায়…
খেলাধুলা করতে পারেন, হতে পারে সেটা ক্যারম, কম্পিউটার গেমস, কার্ডের গেমস বা কোনো দুষ্টুমি খেলা…
মাথা খাটানোর কাজে সময় কাটাতে পারেন, জিগস পাজল, ক্রস ওয়ার্ড বা কুইজ বুক। আপনাদের আইকিউর ধারটা কার কেমন সেটা পরখ করে দেখুন। নিজেদের মধ্যে কিছুটা বাড়তি প্রশ্রয় দিতে পারেন, আপনার পার্টনারকে হালকা ম্যাসাজ, ম্যানিকিউর বা প্যাডিকিউর দিন। আমাদের সবারই কিছু সময় বাড়তি প্রশ্রয়ের দরকার হয়।

আপনাদের রুচির সঙ্গে ম্যাচ করে কোনো ফিল্ম ভাড়া করে আনতে পারেন, হতে পারে সেটা কমেডি, কান্নাকাটি, রোমান্টিক বা হরর মুভি।
ইচ্ছামতো খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।

দুজনে মিলে রোমান্টিক একটা ডিনার উপভোগ করতে পারেন, মোমবাতিগুলো জ্বালান, হালকা মিউজিক ছেড়ে দিন, দামি ক্রোকারিজ বের করে ফেলুন। হাজার হোক সময়টাকে ভোগ করার একটা অজুহাত চাচ্ছেন আপনারা। বাগানে বা ছাদে বসেই পিকনিক সারতে পারেন।

সোফা বা ইজি চেয়ারগুলোকে টেনে বাইরে আনুন। দুই কাপ হট চকোলেট নিয়ে আরাম করে সময় কাটান দুজনে।
দুজনে মিলে একই বই বা গল্প পড়ুন, এরপর বইটি সম্পর্কে দুজনের নোট তুলনা করতে পারেন।

পুরনো ফটো অ্যালবামগুলো নিয়ে বসুন। রাতটা উপভোগ করতে পারেন নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। বা এর সঙ্গে নিজেদের আরো সম্পৃক্ত হতে চাইলে আপনাদের পোরট্রেইটগুলোকেই বেছে নিন না কেন?

দুজন মিলে নতুন কোনো রেসিপি তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। জিভের গোড়ায় থাই, ইন্ডিয়ান, চায়নিজ যেটাই চান তার একটা স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
দুজনে মিলে ল্যাঙ্গুয়েজ প্র্যাকটিস করতে পারেন। বাংলা, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ যে কোনো ভাষাই হতে পারে সেটা।

ইন্টারনেট শপিং করতে পারেন। আর এটা দিয়ে দুজনেই কিন্তু পারেন দুজনকে সারপ্রাইজ দিতে। অনলাইনে জিনিসটা কিনুন তারপর অপেক্ষা করুন সেটা পৌঁছানোর জন্য।
দুজন মিলে একটা কবিতা বা গল্প লিখতে পারেন, নিজেদের মধ্যে সুরের মূর্ছনা অনুভব করলে লিখে ফেলতে পারেন একটা গানও।

বিকেলটা বাইরে কাটাতে চাইলে

থিয়েটারে চলে যান।

কিছুক্ষণ এক্সারসাইজ করুন। যেতে পারেন জিমে কিংবা সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে অথবা ব্যাডমিন্টন বা স্কোয়াশ খেলতে পারেন।

আজকাল আশপাশে অনেক বোলিং ক্লাব হয়েছে। যোগ দিতে পারেন আপনার কাছাকাছি কোনো বোলিং ক্লাবে।

শহরের কোথাও কনসার্ট হচ্ছে কি? কিংবা গজলের আসর? ভিন্নধারা কিছু উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়ুন দুজনে।

আলসেমিতে ভরা একটা ডিনার সারতে পারেন। এটা হতে পারে কম দামি ও আনন্দদায়ক কিংবা গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে। বাধাহীন কথোপকথনের এ সুযোগ উপভোগ করুন।

চলে যান সিনেমা হলে। পেছনের সারির সিট দখল করে সামপ্রতিক কোনো ব্লক বাস্টার মুভি উপভোগ করুন। দেখুন আপনার এলাকায় কী মুভি চলছে।

হাতে সময় মাত্র এক ঘণ্টা
কথার বদলে বালিশ দিয়েই একটা ফাইট হয়ে যাক। আরো ভালোবাসার জন্য কাতর হয়ে পড়েছে মন? নিজেদের মধ্যে খানিকটা ভালোবাসার স্পর্শ হলে মন্দ কি?
সাবানের ফেনায় ভরপুর একটা গোসল সেরে ফেলুন।

সকালের নাশতা হোক আর যাই হোক, বিছানাতেই সেটা সেরে ফেলুন। হাতে যখন সময় কম, তাহলে প্ল্যান করে ফেলুন, পুরো বিকেলটা যখন পাবেন নিজেদের হাতের মুঠোয় কী করবেন।
আপনাদের পারিবারিক বংশধারা নিয়ে গবেষণা শুরু করতে পারেন, এরপর ঘণ্টাখানেক সময় হাতে পেলেই তাতে নতুন করে কিছু আইটেম যোগ করুন। একটা কেক বা এমন কিছু তৈরি করুন যা দুজন মিলে একসঙ্গে খেতে ভালো লাগবে।

কোনো ফিটনেস ভিডিও চালিয়ে দিয়ে দুজনে অ্যারোবিকস, পাইলেটস বা যোগব্যায়াম প্র্যাকটিস করতে পারেন। 
অনলাইন কুইজ সেরে ফেলতে পারেন এক ঘণ্টায়।

রোমান্টিক ভঙ্গি
বলুন, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ। একবার আলিঙ্গনে বাঁধুন নিজেদের। ভালোবাসার একটা নোট ছেড়ে যেতে পারেন ব্রিফকেসের ওপর বা টিভি স্ক্রিনে। কিংবা রেডিওতে লাভসং রিকোয়েস্ট করতে পারেন। একটি চুমো দিতে পারেন বা ভয়ংকর রকমের প্রণয়-চাপল্যও প্রকাশ করতে পারেন। ফুল দিন। যোগাযোগ রাখুন। যখন দুজনে আলাদা আছেন মেসেজ, ই-মেইল কিংবা ফোনে তার খবর নিন। লিপস্টিক দিয়ে আয়না বা অন্ধকারে ভেসে থাকে এমন চক দিয়ে দেয়ালে লিখতে পারেন- আই লাভ ইউ।

 

মাইকেল গুরিয়ান দু-দশক ধরে সম্পর্কিত নারী-পুরুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কিভাবে তাদের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন। তিনি রোমান্সের অনুভূতিগুলোকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। রোমান্সের প্রথম পর্যায়টি শুরু হয়, যখন দু-জন নারী-পুরুষ পরস্পরের কাছাকাছি আসে। তখন তাদের মস্তিষ্কের ভেতর এক ধরনের সংকেত অনুভূত হয়, যা অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা যখন পরস্পরের সান্নিধ্যে আসে, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এই আলোড়নের ফলে তারা ভাবতে থাকে যে, তাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ এক হয়ে গেছে; কোনো প্রলয়কারী ভূমিকম্পও এই অস্তিত্বকে ছিন্ন করতে পারবে না।

অক্সিটোসিন নামের একটি হরমোন, যেটিকে বলা হয় সম্পর্কের হরমোন (বন্ডিং হরমোন), সেটির উপস্থিতি তখন প্রিয়জনের মধ্যে যে বিরক্তিকর বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলোকে তাদের দৃষ্টির ও অনুভূতির বাইরে সরিয়ে রাখে। আর সে জন্যই, দু-জনকে দুজনের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়। তখন তারা পরস্পরের সামান্য ছোঁয়াকেও স্বর্গীয় সুখ মনে করে। তবে এই স্বর্গীয় সুখ বেশিদিন চিরস্থায়ী হয় না। সর্বোচ্চ বছর খানেক পর মস্তিষ্কের ক্রিয়া বা সংকেত পরিবর্তিত হতে থাকে, এবং মস্তিষ্কের বিষেশ একটি অংশ থেকে এমন একটি বার্তা আসে, তা হচ্ছে “আমার প্রিয়ার মধ্যে অনেক অসামজ্ঞস্য রয়েছে”।

এর ফলে তারা রোমান্সের প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশ করে। ফলে তাদের পরস্পরের প্রতি ক্ষোভের সৃষ্টি হতে থাকে। এই ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে; ফলে একজনের আচরণ অপরজনের কাছে ক্রমশ বিরক্তিকর ও সন্দেহজনক মনে হতে থাকে। বিরক্তি ও সন্দেহ ক্রমশ বাড়তে বাড়তে এমন এক অস্বস্তিকর অবস্থায় পৌছায় তখন একজন আরেকজনের ওপর মানসিক অথবা শারীরিক অথবা মানসিক-শারীরিক জোর খাটাতে থাকে। আর তখনই তারা রোমান্সের দ্বিতীয় স্তর থেকে তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করে। তার তখনই শুরু হয় সহ্যহীন ও বিরামহীন ভুমিকম্প।

সূত্র : মন ও মানসিকতা — মেহতাব খানম


 

ধরে রাখুন আপনার ‘তারুণ্য’

ধরে রাখুন আপনার ‘তারুণ্য’

তারুণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জুড়ি মেলা ভার। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার থাকতে হবে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য এবং নানা ধরনের রোগ আমাদের কাছ থেকে শত হাত দূরে থাকবে।

প্রাচীনকাল থেকে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ চেয়েছে তার রূপ-লাবণ্য বাড়ানোর পাশাপাশি তারুণ্য ধরে রাখতে। বিজ্ঞানের এই অত্যাধুনিক যুগে এসেও এর বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম ঘটেনি। বরং রুপালি পর্দার তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই চায় বয়স যতই বাড়ুক না কেন তারুণ্যের ছোঁয়া থাকুক সব সময়।

জাদু আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে
তারুণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জুড়ি মেলা ভার। আমাদের শরীরে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ষিত থাকে। কিন্তু বর্তমান লাইফস্টাইল, যেমন-ফাস্ট ফুড খাওয়া, স্ট্রেস, মাত্রাতিরিক্ত টেনশন, ধূমপান, কায়িক পরিশ্রমে অনীহা ইত্যাদি আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক অক্সিডেন্টকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার থাকতে হবে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য এবং নানা ধরনের রোগ আমাদের কাছ থেকে শত হাত দূরে থাকবে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণে করণীয়
ফলমূল, শাকসবজি ইচ্ছামতো গ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ নেই। যতটা ইচ্ছে খেতে পারেন। তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ট্যাবলেট খেতে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলমূল, শাকসবজি গ্রহণে যেখানে ১০০ শতাংশ সুফল পাওয়া যায়, সেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ হয় ট্যাবেলেট বা ক্যাপসুলে।

পোড়া তেল নিষিদ্ধ
কোনো কিছু ভাজার পর পোড়া তেল অনেকে তুলে রেখে দেন পরদিন রান্না করার জন্য। এটা করা উচিত নয়। কারণ পোড়া তেল শরীরের জন্য মারাত্মক কুফল বয়ে আনে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরির সহায়ক এনজাইমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রান্না যতখানি সম্ভব সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত। এভাবে খাদ্যগুণ বজায় থাকে এবং হজমে সহায়তা হয়।

মাছ-মাংস কম খাওয়া ভালো
এটা শুধু বড়দের বেলায় প্রযোজ্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ-মাংস কম খাওয়া উচিত। রেডমিট যেমন গরু, খাসির মাংস বেশি খেলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বেড়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রক্রিয়া বিনষ্ট করে।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট 
শরীর ও মনের ক্ষতি করতে স্ট্রেসের জুড়ি নেই। কিন্তু এটা থেকে দূরে থাকতে হবে। বলা যত সহজ, দূরে থাকাটা ততই কঠিন। তাই কীভাবে একে ম্যানেজ করা যায়, সেটা ভাবাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে স্ট্রেস সৃষ্টি হলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন গ্ল্যান্ড থেকে এক ধরনের হরমোন বের হয়, যা শরীরে টক্সিন ছড়ায়। এটা রক্তনালিকে সরু করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ বাড়ে, মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে তার সুদূর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ত্বক খসখসে হওয়া, চুল উঠে যাওয়া, বুড়োটে ভাব ইত্যাদি শারীরিক সমস্যাগুলোও এর ফলে উদ্ভব হয়। স্ট্রেস কমানোর প্রয়োজন তাই সবাই অনুভব করে। নিজের পছন্দমতো কোনো কাজ করা বা ছবি থাকলে, যেমন-জীবজন্তু পোষা, বই পড়া, গান শোনা, নিয়মিত খোলা জায়গায় বেড়ানো ইত্যাদিতে মনের ভার অনেকখানি লাঘব হয়।

পজিটিভ থিংকিং
রূপের দুনিয়ায় বর্তমানে নতুন একটা মতবাদ প্রায়ই শোনা যায়। আর তা হচ্ছে পজিটিভ থিংকিং। সহজ কথায় ইতিবাচক চিন্তা। দুশ্চিন্তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব প্রায় পারমাণবিক বোমার মতোই। এর প্রভাবে ত্বক, চুল বিনষ্ট হয়ে যায়, এমনকি শরীরের প্রধান প্রধান অঙ্গ, যেমন-হৃৎপিণ্ড, কিডনি, লিভার ইত্যাদির ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। জীবনে সুখ-দুঃখ তো থাকবেই। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার মাঝে যে ব্যক্তি সাহসে বুক বেঁধে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, যৌবনের আশীর্বাদ আর বরমালা দুই-ই তার ভাগ্যে জোটে। সব সময় হাসিখুশি থাকলে নিজের জীবনটা যেমন স্বস্তিদায়ক হয়, তেমনি চারপাশের পরিবেশও আনন্দপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানেই যৌবনের সার্থকতা।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার তালিকা
ফল
ক্যারোটিনসমৃদ্ধ ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যেমন-পাকা কলা, পাকা পেঁপে, পাকা আম, পাকা পেয়ারা ইত্যাদি।
দুগ্ধজাত খাবার
দই, ছানা, দুধ, ডিম ইত্যাদি।
টাটকা শাকসবজি
আমাদের পরিচিত শাকসবজি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের এক অপূর্ব ভাণ্ডার। যেমন-পালংশাক, লাউশাক, ঢেঁড়স, গাজর, বাঁধাকপি, পাকা কুমড়া, টমেটো, তরমুজ ইত্যাদি। ক্যান্সার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় টমেটো এবং তরমুজে। ত্বকের সুস্থতা এবং সজীবতা ধরে রাখতে টাটকা শাকসবজি এক অব্যর্থ ওষুধ।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 65 other followers