যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে
ডিসেম্বর 3, 2011 মন্তব্য দিন
দাম কমেছে :
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটিতে চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে কমেছে বাড়ির দাম। নতুন বাড়ির গড় মূল্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ ডলার। খবর বিবিসির।
গত মাসে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে বার্ষিক বিক্রির হার ৩ লাখ ৭ হাজারে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও বিক্রির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ খাতে পুনর্গঠনের জন্য বার্ষিক ৭ লাখ বাড়ি বিক্রি প্রয়োজন ছিল।
এদিকে দেশটিতে বিক্রিযোগ্য নতুন বাড়ির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। মূল্য হ্রাসের অন্যতম কারণ হলো অবকাঠামো নির্মাণকারীদের অর্থের স্বল্পতা।
এ প্রসঙ্গে ইনসাইট ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিভেন উড বলেন, যখন চাহিদা বাড়তে শুরু করবে তখন স্বল্পসংখ্যক নতুন বাড়ি বিক্রির মধ্য দিয়েই অতি দ্রুত গৃহ বাজার ভালো অবস্থানে যাবে।
এর পরও অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন বাড়ি বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে পুরনো বাড়িগুলোও এখন মূল্য হ্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে পুরনো বাড়ি বিক্রির পরিমাণ বার্ষিক হারের তুলনায় গত মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ লাখ ৭ হাজার। অথচ সম্পত্তির বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য ৬০ লাখ বাড়ি বিক্রি হওয়া দরকার ছিল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০৮ সাল থেকে গৃহ বাজারকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে সুদের হার শূন্যতে নামিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু আমানতের বৃহৎ পরিমাণসহ অনমনীয় ঋণের শর্তাবলীর কারণে ক্রেতারা ঋণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো চলতি বছরের নভেম্বরে বেশ কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে শ্রমবাজারে যে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে অতি দ্রুত উত্তরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বুধবার গৃহনির্মাণ এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে তা প্রকাশ পেয়েছে। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের।
জরিপে দেখানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। এমনকি অতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে তারা অর্থনীতির মন্দা ভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে, এমনটি নিশ্চিত করা হয়েছে এখানে।
এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের আইটিজি ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ স্টিভ ব্লিজ বলেন, ‘গত বসন্তে এবং গ্রীষ্মের শুরুতে প্রবৃদ্ধিতে যে ধীরগতি ছিল তা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি ২ থেকে আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’
তা সত্ত্বেও তিনি বলেন, ‘প্রথমত দেখতে হবে এই সংখ্যাগুলো এটাই প্রমাণ করে কি না যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত বহির্বিশ্বে এখনো ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।’
প্রসঙ্গত ঋণসংকট উত্তরণে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোকে সস্তায় ডলার সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলে এই জরিপে দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হলো ইউরো অঞ্চলের ঋণসংকট, যা এখনো স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভাইস চেয়ারম্যান জেনেট ইলেন বলেন, এ সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিকে আরও শিথিল করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে বলে জানান তিনি।

